তুমি কি কখনো রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে অনেকগুলো তারা একসঙ্গে জ্বলতে দেখেছ? মনে হয় যেন আকাশে অসংখ্য হীরার টুকরো ছড়িয়ে আছে। আসলে আমরা সবাই মিলে এক বিশাল তারার শহরে বাস করি, যার নাম আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি।
আকাশগঙ্গা কত বড়?
ভাবো, তুমি যদি একটা সুপার-ফাস্ট রকেটে চরো, যেটা আলোর গতিতে ছুটে চলে (আলোর গতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার), তবুও আকাশগঙ্গার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ! এক আলোকবর্ষ মানে হলো- আলো এক বছরে যত দূর যায়। এবার ভাবতে পারছ, আকাশগঙ্গা কত বিশাল?
আমরা কোথায় থাকি?
আকাশগঙ্গা হলো এক বিশাল গোলাকার চাকতির মতো, যেটা একটা সর্পিল (স্পাইরাল) ঘূর্ণির মতো দেখতে। এর চারপাশে হাতের মতো বাঁকা বাহু আছে। আমাদের পৃথিবী আর সূর্য সেই বাহুগুলোর একটিতে অবস্থিত, যার নাম অরায়ন আর্ম। এটা ঠিক যেন বিশাল শহরের এক কোণে ছোট্ট একটা রাস্তার মতো। আমরা সেই ছোট্ট রাস্তায় বাস করি, কিন্তু শহরটা এত বড় যে আমরা শুধু ছোট্ট অংশটাই দেখতে পাই।
আকাশগঙ্গায় কী আছে?
আকাশগঙ্গা শুধু তারায় ভরা নয়, এর ভেতরে আছে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন তারা! (মানে ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি তারকা!) পাশাপাশি অসংখ্য গ্রহ, যাদের মধ্যে কিছু হয়তো আমাদের পৃথিবীর মতোও হতে পারে। এ ছাড়া আছে বিশাল গ্যাস আর ধুলার মেঘ, যেখান থেকে নতুন তারা জন্ম নেয়। আর আছে রহস্যময় ব্ল্যাক হোল।
আকাশগঙ্গার মাঝের রহস্য
আকাশগঙ্গার ঠিক মাঝখানে আছে এক সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল, যার নাম স্যাজিটারিয়াস এ স্টার। এটা এত শক্তিশালী যে, আলো পর্যন্ত এতে আটকা পড়ে যায়। তবে ভয় নেই, আমরা ওই ব্ল্যাক হোল থেকে অনেক দূরে আছি।
আকাশগঙ্গা কেমন কাজ করে?
আকাশগঙ্গা আসলে এক বিশাল ঘূর্ণি খেলনার মতো ঘুরছে। আমাদের সূর্যও সেই ঘূর্ণির সঙ্গে ঘুরছে। কিন্তু একবার পুরো গ্যালাক্সি ঘুরে আসতে সূর্যের সময় লাগে প্রায় ২৫ কোটি বছর! অর্থাৎ ডাইনোসরের যুগ থেকে এখন পর্যন্ত সূর্য একবারও পুরো গ্যালাক্সি ঘুরে আসতে পারেনি।
মজার কিছু তথ্য
রাতে আকাশে যে দুধের মতো সাদা আলোর লম্বা রেখা দেখা যায়, সেটাই আসলে আকাশগঙ্গার অংশ। যদি তুমি প্রতিদিন একটার পর একটা তারা গুনতে থাকো, সব তারকা গুনতে কয়েক মিলিয়ন বছর লেগে যাবে! বিজ্ঞানীরা বলেন, আকাশগঙ্গা একা নয়। এর পাশেই আছে আরও গ্যালাক্সি, যেমন অ্যান্ড্রোমিডা। একদিন অনেক দূরের ভবিষ্যতে আকাশগঙ্গা আর অ্যান্ড্রোমিডা একসঙ্গে মিশে যাবে।