ধরো, তুমি একদিন এমন একটি পাহাড়ে উঠলে, যেখান থেকে পুরো শহরটা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়ায় আছে সাদা পাথরের বিশাল বিশাল বাড়ি, মন্দির আর ভাস্কর্য। মনে হবে, যেন কোনো রূপকথার রাজ্যে চলে এসেছ! এরকমই এক জায়গার নাম আক্রোপোলিস। এটি ইউরোপের দেশ গ্রিসের রাজধানী এথেন্স শহরে অবস্থিত।
আক্রোপোলিস শব্দটির মানে হলো ‘উঁচু শহর’। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিসের মানুষ এ পাহাড়ের ওপর তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও স্থাপনা বানিয়েছিল। কারণ তারা ভাবত, পাহাড়ের চূড়ায় থাকলে দেব-দেবীরা খুশি হন এবং শত্রুদের আক্রমণ থেকেও সহজে বাঁচা যায়।
আক্রোপোলিসের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনাটি হলো পার্থেনন। এটি ছিল দেবী অ্যাথেনার মন্দির। অ্যাথেনা ছিলেন বুদ্ধি, জ্ঞান আর সাহসের দেবী। এথেন্স শহরের নামও তার নাম থেকেই এসেছে। পার্থেননের চারদিকে লম্বা লম্বা স্তম্ভ আছে, যেগুলো দেখলে মনে হয় বিশাল কোনো রাজপ্রাসাদ। ভাবো তো, এত বছর আগে কোনো আধুনিক যন্ত্র ছাড়াই মানুষ কীভাবে এমন নিখুঁত স্থাপনা বানিয়েছে!
আক্রোপোলিসে আরও আছে এরেকথিয়ন নামের একটি মন্দির। এ মন্দিরের বারান্দায় ছয়টি মূর্তি আছে, যেগুলো দেখতে মেয়েদের মতো। এ মূর্তিগুলোকে বলা হয় কারিয়াটিড। তারা যেন মাথায় করে ছাদটা ধরে রেখেছে- এটা দেখে শিশুরা খুব অবাক হয় এবং অনেকেই বলে, ‘ওরা কি ক্লান্ত হয়ে যায় না?’
একসময় আক্রোপোলিস শুধু পাথর আর মন্দিরের জায়গা ছিল না। এখানে উৎসব হতো, মানুষ গান গাইত, দেবীদের কাছে প্রার্থনা করত। চারদিকে রঙিন পোশাক, হাসি আর আনন্দে ভরে থাকত পাহাড়টা। আজ যদিও সব মন্দির অক্ষত নেই, তবু ভাঙা পাথরের মধ্যেও লুকিয়ে আছে হাজার বছরের গল্প।
আজও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আক্রোপোলিস দেখতে আসে। শিশুরা এখানে এসে ইতিহাসের বইয়ের পাতা নয়, বরং সত্যিকারের ইতিহাসকে চোখে দেখতে পারে। আক্রোপোলিস আমাদের শেখায়- মানুষের কল্পনা, পরিশ্রম আর শিল্পবোধ একসঙ্গে হলে সময়কে হার মানানো যায়।