ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

সামিট পাওয়ার: শেয়ারের দাম কমলেও কারণ জানে না কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
সামিট পাওয়ার: শেয়ারের দাম কমলেও কারণ জানে না কর্তৃপক্ষ
সামিট পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ারের শেয়ারের মূল্য হ্রাসের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক চিঠির জবাবে এই তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

সম্প্রতি আরও কয়েকটি কোম্পানির মতো সামিট পাওয়ারের শেয়ারের বেশ দরপতন হয়। এটি বাজার মূলধনে অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ারের সামান্য দরপতন ডিএসইর মূল্যসূচককে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই কোম্পানিটির কাছে জানতে চায়, সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না। উত্তরে কোম্পানিটি জানায়, কোম্পানির পরিচালনা ও মুনাফাসংক্রান্ত অপ্রকাশিত কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই।

তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ মে সামিট পাওয়ারের শেয়ারদর ছিল ২২ টাকা ২০ পয়সা। যা ১৩ জুন লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩০ পয়সায়। অর্থাৎ গত ১ মাসে শেয়ারটির দর কমেছে ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

সাম্প্রতিক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮২ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ৭৬ পয়সা। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রথমার্ধে সামিটের আয় হয়েছে ১৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ১৬৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে ৯ শতাংশ বেশি। এই হিসাবে অর্ধবার্ষিক ইপিএস ১ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিটির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ২ টাকা ২১ পয়সা।

সামিট পাওয়ার সিঙ্গাপুরভিত্তিক হোল্ডিং কোম্পানি সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে তাদের ১৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানা আছে। এদিকে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (এসপিএল) ২০২৩ হিসাব বছরে মুনাফা কমেছে ৪৬ শতাংশ। একই হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসাবে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ ১ টাকা করে পাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা। 

এদিকে সামিট পাওয়ার জানিয়েছে, মূলত তিনটি কারণে তাদের মুনাফা কমেছে। প্রথমত, প্রতিকূল বিনিময় হারের কারণে জ্বালানির দামের তুলনায় এটি সংগ্রহে ব্যয় বেশি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে দেরিতে বিল পাওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া চলতি মূলধন সহায়তার বিপরীতে নিট আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে। তৃতীয়ত, বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া প্রকল্প অর্থায়নের কিস্তির অর্থ প্রতি প্রান্তিকে পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রাজনিত ক্ষতি বেড়ে গেছে। এসব কারণে কোম্পানিটির মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সামিট পাওয়ার জানিয়েছিল, ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পাশাপাশি বিপিডিবি কর্তৃক বিদ্যুতের মাসিক বিল দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড (এসওএসসিএল) তীব্র অর্থসংকটে ভুগছে। এসওএসসিএল সামিট পাওয়ারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য হেভি ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) আমদানি ও সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসওএসসিএলকে অতিরিক্ত তহবিল সহায়তা প্রদানের অনুমোদন নিয়েছিল।

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারজনিত বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সঙ্গে মিলে এরই মধ্যে বিপিডিবি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে সামিট পাওয়ার। বিল জমা দেওয়ার তারিখ ও বিল পরিশোধের তারিখের মধ্যে বিনিময় হারে ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে লোকসান হয় সেটির ক্ষতিপূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামিট পাওয়ার বিপিডিবির কাছে সম্পূরক বিল জমা দিয়েছে। 

সামিট পাওয়ার লিমিটেড ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। তাদের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১০৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৯ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৬৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সামিট পাওয়ারের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্র তিনটি আশুলিয়া, মাধবদী ও চান্দিনায় অবস্থিত। প্রতিটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১০ মেগাওয়াট।

কেন্দ্র তিনটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির মেয়াদ গত বছরের (২০২৩) ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে যায়। নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর ফলে সরকার এসব কেন্দ্র থেকে আগামী পাঁচ বছর বিদ্যুৎ কিনবে। তবে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে কেন্দ্র তিনটি পরিচালিত হবে। অর্থাৎ যখন সরকারের প্রয়োজন হবে, কেবল তখনই কেন্দ্র তিনটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা হবে। আর শুধু ওই বিদ্যুতের বিলই পাবে কেন্দ্র তিনটি।

আশুলিয়া, মাধবদী ও চান্দিনায় অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০০৩ সালে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং কুমিল্লা পল্লীর সঙ্গে ১৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) অধীনে স্বাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আইপিপি) হিসেবে স্থাপিত হয়। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে গেলে কোম্পানিটি তা নবায়নের জন্য আবেদন করলে আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদন পায়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং নেগোসিয়েশন কমিটি কর্তৃক স্পন্সর কোম্পানির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করে তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ৫ বছর বৃদ্ধির জন্য সামিট পাওয়ার লিমিডেটের সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৮২ টাকা হিসাবে নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা
ছবি : খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জের গহনা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি জেলার দ্বিতীয় পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পেল।

এর আগে গোপালগঞ্জের রসগোল্লা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

শুক্রবার (১২ জুলাই) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ১২ মার্চ জেলা প্রশাসক জিআই পণ্যের অর্ন্তভূক্তির জন্য বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে যাচাই-বাছাই করে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনা নিবন্ধনের জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩ এর ধারা ১২ অনুসারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জার্নাল প্রকাশ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই অর্জন ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত কারিগরদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ব্রোঞ্জ শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এলাকার আর্থ-সামজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।’

এ অর্জনে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গহনার জিআই ভুক্তিকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত জেলা প্রশাসন ও মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা এবং ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (ইডিসি) কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

চলতি বছরের ১২ মার্চ জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার জিআই পণ্যের স্বীকৃতি চেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়। 

ব্রোঞ্জ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সুভাষ বৈদ্য খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডেই ব্রোঞ্জের গহনা তৈরির পল্লী প্রায় ১০০ বছর আগে গড়ে ওঠে। পরে এটি সারা জলিরপাড় ইউনিয়নের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ পল্লীকে কেন্দ্র করে এখানে ব্রোঞ্জ মার্কেট প্রতিষ্ঠত হয়। তখন জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনার সুখ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এটি বিদেশের বাজারে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এ শিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। তাই সম্প্রতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্রোঞ্জের গহনা আমাদের বাজারের প্রায় ৫০ ভাগ দখল করে দিয়েছে। তারপরও জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গহনা তৈরি শিল্প সগৌরবে শতাধিক পরিবার টিকিয়ে রেখেছে। জলিরপাড় ব্রোঞ্জ মার্কেটে এখনো ৪৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে এখনো ব্রোঞ্জের গহনা বিক্রি করা হয়।’

জলিরপাড় গ্রামের গহনা প্রস্তুতকারক জগদীশ শীল বলেন, ‘ব্রোঞ্জ গহনা তৈরির তামা, দস্তা ও পিতলের দাম বেড়েছে। সহজ প্রাপ্যতা কমেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের ব্রোঞ্জ গহনার রং খুব চকচকা। আমাদের গহনার রং তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। দামী সুদৃশ্য, মনোহর ও সৌখিন গহনার বাজার ভারত ও চীনের দখলে চলে গেছে। তাই যেসব গহনার চাহিদা রয়েছে এমন সব গহনা আমরা তৈরি করি। সরকার এ শিল্পকে অধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও সব ধরনের সহযোগিতা করলে আমরা ব্রোঞ্জ গহনার শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারব। এখানে এখানো মানসম্পন্ন কারিগর রয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সমন্বয়ে তাদের কাজে লাগিয়ে আমরাও দামী গহনা তৈরি করতে পারি। তা হলেই শ্রমিক, মালিক ও ব্যবসায়ীরা অধিক উপার্জন করতে পারবেন। এ শিল্প দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করবে।’

বাদল/ইসরাত চৈতী/

পেঁয়াজ-বেগুনে আগুন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১১:৩৪ এএম
পেঁয়াজ-বেগুনে আগুন
ছবি : সংগৃহীত

যতই দিন যাচ্ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ঠেকানো যাচ্ছে না এর দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা। বেগুনসহ প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। আদার দামও কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, আগুন লেগে গেছে বাজারে। শাকের দামও বাড়ছে। ২০ টাকায় কোনো শাকের আঁটি পাওয়া যায় না। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকা ভেসে গেছে। সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম চড়া। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) মোহাম্মদপুরের কৃষিমার্কেট, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

পেঁয়াজের কেজি ১৩০ টাকা

রাজধানীতে বিভিন্ন দোকানে পেঁয়াজের মজুত বাড়লেও দাম কমেনি খুচরা বাজারে। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। মোহাম্মদপুর কৃষিমার্কেটের সবজি বিক্রেতা সবুর খবরের কাগজকে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আড়তে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আড়তেই পাবনার ভালো পেঁয়াজ ১১০ টাকায় কেনা হয়েছে। বাছাই করতে কিছু কম দামে বিক্রি করতে হয়। গত সপ্তাহে ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অন্যান্য বাজারেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। 

কারওয়ান বাজারের মাতৃভাণ্ডারের শেখ শহিদুল বলেন, গতকাল পেঁয়াজ ১০৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল সর্বোচ্চ ৯৭ টাকা। তবে ফরিদপুরের পেঁয়াজ পাইকারিতে কিছুটা কমে ৯৪ টাকায় কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ জন্য খুচরা বাজারেও কম দামে ১০০-১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা জানান।

কমেনি আলুর দাম

ব্যাপক উৎপাদনের পরও আলুর দাম কমছে না। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে অনেক এলাকা ডুবে গেছে। তাই আলুর ওপর চাপ পড়েছে। দাম বাড়ছে এ জন্য।

বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, পাইকারিতে মুন্সীগঞ্জের আলু ৫৫-৫৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একটু দূরেই খুচরা বাজারে তা ৬৫ টাকা। তবে বগুড়া ও দিনাজপুরের আলু একটু কম দামে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

পেঁয়াজের মতো এ সপ্তাহে আদার দামও কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২০০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল তা ২৮০-৩০০ টাকায় চড়েছে। তবে রসুনের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগের মতো ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

২০ টাকার নিচে মেলে না শাকের আঁটি

বর্ষার অজুহাতে কমছে না কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহের মতোই ২৫০ গ্রাম ৭০-৮০ টাকা বা কেজি ২৮০-৩০০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগের সপ্তাহের মতো বৃষ্টির কারণে প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বেগুন ৯০-১৩০ টাকা, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দুল ৫০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, লেবুর হালি ২০-৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০-৭০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০ টাকা, লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৭০-১০০ টাকা। কচুরলতির কেজি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি। সবজির মতো শাকের দামও চড়ে গেছে আঁটিতে ৫-১০ টাকা। গত সপ্তাহের ৩০ টাকার লাউয়ের ডগা ও পুঁই শাকের আঁটি ৪০ টাকা হয়ে গেছে। লাল শাক, পাট ও কচু শাকের আঁটিও ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। 

চাল আগের মতোই চড়া 

বর্ষার অজুহাতে গত সপ্তাহে আটাশ ও মোটা চালের দাম খুচরা বাজারে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এ সপ্তাহেও চড়া রয়ে গেছে। আগের মতোই মিনিকেট ৬৮-৭২ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডায়মন্ড, মোজাম্মেলসহ অন্য কোম্পানির চালের দাম ৭০-৭২ টাকা। আগের সপ্তাহের মতো আটাশ চাল ৫৫-৫৮ টাকা ও মোটা চাল ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

কমেনি মসলার দাম

গত সপ্তাহে ঈদের পর জিরার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ সপ্তাহে তা কমেনি। আগের মতোই ৮০০-৯০০ টাকা কেজি জিরা, এলাচি ৩৪০০-৪০০০ হাজার টাকা, গোলমরিচ ১১০০, লবঙ্গ ১৬০০-১৮০০ টাকা কেজি। আগের মতোই ছোলা ১১০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা, পাঁচ লিটার ৭৯০-৮১০ টাকা, খোলা আটার কেজি ৪০ টাকা, ২ কেজি আটা ১০০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১৩০, প্যাকেট চিনি ১৩৫ টাকা, দেশি প্যাকেটজাত চিনি ১৭০ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজার, কৃষিমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে আগের মতো ১৫০ টাকা ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন পাড়ার দোকানে এখনো ১৫৫-১৬০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করে জানান। 

স্থিতিশীল মুরগি, কমেছে গরু-খাসির দাম 

আগের সপ্তাহের মতো গতকাল পোলট্রি মুরগি ১৬৫-১৭৫ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি বলে কৃষিমার্কেটের পদ্মা পোলট্রি হাউস ও কারওয়ান বাজারের আদর্শ পোলট্রি হাউসের বিক্রয়কর্মীরা জানান। অন্য খুচরা বিক্রেতারাও জানান, গত সপ্তাহ থেকে বাড়েনি মুরগির দাম। কোরবানির ঈদের পর গরু খাসির মাংসের দামও কিছুটা কমেছে। কেজিতে ২০-৫০ টাকা কমেছে। গতকাল কৃষিমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস ৭৩০-৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১০০০-১০৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

মাছের দাম বাড়তি

মুরগির দাম কমলেও মাছের দাম চড়া। বিক্রেতারা জানান, আগে কম দামে বিক্রি করা হলেও বর্তমানে বন্যার ফলে নদীর মাছ কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। তারা জানান, রুই, কাতলা ৩৫০-৭০০ টাকা কেজি, চাষের চিংড়ি ৫৫০-৭০০ টাকা, নদীর চিংড়ি ১২০০-১৬০০ টাকা কেজি। পাবদা ৫০০-৭০০ টাকা, শিং, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। চাষের ট্যাংরা ৬০০-৭০০, দেশি ট্যাংরা ১০০০-১২০০ টাকা, কাচকি ও মলা মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, বাতাসি ৭০০ টাকা-১২০০ টাকা কেজি। পাঙাশ ও তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা কেজি। পানি না কমলে মাছের দামও কমবে না বলে বিক্রেতারা জানান।

সবুজ কারখানার সনদ পেল আরও ৪ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০৯:২২ পিএম
সবুজ কারখানার সনদ পেল আরও ৪ প্রতিষ্ঠান
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশের চারটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ পেয়েছে, যা দেশের টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধিতে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এতে বাংলাদেশে পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ২২৪টি। এর মধ্যে ৮৮টি প্লাটিনাম, ১২২ গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার। খবর বাসসের। 

নতুন সনদ পাওয়া কারখানাগুলো হলো- বিগ বস করপোরেশন লিমিটেড, অনন্ত জিন্সওয়্যার লিমিটেড, বেসিক শার্ট লিমিটেড ও অ্যাপটেক ক্যাশওয়ার।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ১০০টি সর্বোচ্চ রেটপ্রাপ্ত শীর্ষ এলইডি সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৯টি এখন বাংলাদেশে।

সবুজ কারখানার স্বীকৃতির বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এই মাইলফলক সবুজ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরবে। এটা পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং টেক্সটাইল ও গার্মেন্টশিল্পের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন’ বা লিড সনদ দেয়। সংস্থাটি বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িসহ অন্য স্থাপনার ক্ষেত্রেও সনদ দেয়। তবে শিল্প কারখানার ভবন নির্মাণ থেকে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত সব পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সর্বোচ্চ মানের কারখানাকে এ সনদ দেয় তারা।

কুষ্টিয়ার মোকামে আবারও বেড়েছে চালের দাম

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:৩১ পিএম
কুষ্টিয়ার মোকামে আবারও বেড়েছে চালের দাম
কুষ্টিয়া চালের মোকামে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ মোকাম কুষ্টিয়ায় আবারও বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। গত এক সপ্তাহে মিলগেট থেকে প্রায় সব রকম চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মোকাম থেকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের, তাই বিক্রিও বেশি দামে না করে কোনো উপায় নেই। আর চালকলের মালিকরা বলছেন, প্রতিদিন বাড়ছে ধানের দাম। সে কারণে বাড়াতে হচ্ছে চালের দাম। তাই মিলগেটে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত চালের দাম বেড়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধির ওপরও নজরদারির দাবি তুলেছেন বিক্রেতারা। 

বাজার সূত্রে জানা গেছে, নানা অজুহাতে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে চিকন চালসহ অন্যান্য চালের দাম কেজিতে বেড়েছিল ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আমন মৌসুম শেষে খুচরা বাজারে আবারও সব ধরনের চাল কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আবারও ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। তবে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বাসমতি চালের দাম। এ নিয়ে চার দফায় কুষ্টিয়ায় চালের দাম বাড়ল।

কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৬৪ টাকার মিনিকেট চাল এখন বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬৭-৬৮ টাকায়। কয়েক দিন আগেও ৫৯ টাকায় বিক্রি হওয়া কাজল লতা চাল এখন ৬১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর বাসমতি চাল বছর ধরেই বিক্রি হচ্ছে ৮৬ টাকা।

পৌর বাজারের চাল ব্যবসায়ী তাইজাল হোসেন জানান, ‘বেশি দামে মোকাম থেকে চাল কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে। বাসমতি চালের ২৫ কেজি বস্তার বর্তমান বাজার মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা। সর্বশেষ যা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৭৫ টাকা বস্তা, সপ্তাহ আগেও যার মূল্য ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। কাজল লতা প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৩০ টাকা, যা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৮০ টাকায়। মোটা চাল বর্তমানে পাওয়া যায় না। মোটা চালগুলোই অটো মেশিনে আবার চিকন হয়ে বাজারে আসে। খুচরা বাজারে গেল এক সপ্তাহে প্রতি বস্তায় চালের দাম বেড়েছে গড়ে ৫০ টাকা।’ এই ব্যবসায়ী জানান, মোকাম থেকে প্রতি বস্তা চাল বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। 

বাজার সূত্রে জানা গেছে, ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে অক্টোবর মাসের শেষের দিকে চিকন চালসহ অন্যান্য চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। তার এক মাস আগেও সব ধরনের চাল কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছিল। অন্য সব নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে চালের বর্ধিত দাম নাভিশ্বাস তুলেছে ভোক্তাদের। তাদের দাবি, এর আগেও প্রশাসন যখন তৎপর হয়েছে, তখনই চালের দাম কমেছে কিংবা বৃদ্ধি বন্ধ হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পৌরবাজারের আরেক খুচরা ব্যবসায়ী নিশান আলী বলেন, ‘এই সময় চালের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই। তারপরও মিলমালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা যেভাবে কিনি তার থেকে কেজিতে ২ টাকা লাভে চাল বিক্রি করি। তা ছাড়া খুচরা বাজারে কোনো সিন্ডিকেট থাকে না। আবার কর্মকর্তাদের নজরও এখানেই থাকে। তাই খুচরা ব্যাবসায়ীদের কোনো কারসাজি করার সুযোগ থাকে না। মিলাররা বাড়ালে চালের দাম বাড়ে আর মিলাররা কমালে চালের দাম কমে যায়।’

এদিকে চাল কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, ব্যবসায়ী ও মিলমালিকরা বরাবরের মতো আবার সিন্ডিকেট করে চাল মজুত রেখে দাম বাড়াচ্ছে। এতে তাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাজারে সবকিছুরই দাম বেশি, তার ওপরে যদি চালের দাম বেড়ে যায় তা হলে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

চালের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো রাইসমিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি ওমর ফারুক জানান, সরু চালের জন্য প্রসিদ্ধ কুষ্টিয়ার মোকামে ধানের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে মিলগেটে চালের দাম কেজিতে কমপক্ষে ৩ টাকা বেড়েছে। প্রায় সব রকম চালই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর মাস থেকে ধানের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ঈদের পর থেকে সব ধরনের ধানের দাম প্রতি মণে ১৫০ টাকা বেড়েছে। এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধান কিন্তু কৃষকের কাছেও নেই, মিলারের কাছেও নেই। অবৈধ মজুতদাররা সিন্ডিকেট করে ধান মজুত করে রেখেছে। তাদের ইচ্ছেমত দামে বাজারে বিক্রি করছে।’ ধানের দাম বেশি হলে চালের দাম বাড়াবে এটাই স্বাভাবিক মন্তব্য করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘১ মণ ধানে ২৬ কেজি চাল হয়। ধানে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বাড়লেও চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে যায়।’ 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুজাত হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর থেকে প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মনিটরিং করছি, কোনো ব্যবসায়ী যদি কোনো অনৈতিক কাজ করে বাজারে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভৈরবে নৈশহাটে কোটি টাকার কাপড়  কেনাবেচা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:২৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ০২:২৪ পিএম
ভৈরবে নৈশহাটে কোটি টাকার কাপড়  কেনাবেচা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভৈরব নৈশহাটে কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হয়। ছবি: খবরের কাগজ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব নৈশহাটে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মিনি পিকআপ ভর্তি কাপড় নিয়ে আসেন বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ঐতিহ্যবাহী এই হাট সপ্তাহে বুধবার এক দিন বসলেও এখন সপ্তাহে দুই দিন মঙ্গলবার ও বুধবার বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, গাজীপুর, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা লাখো মানুষ এই নৈশহাটে কেনাবেচা করেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বৃহত্তর বড় এ হাটে বিভিন্ন ডিজাইনের তৈরি করা কাপড় কেনাবেচা হয়। সড়ক, নৌ, রেলওয়ে জংশন যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় দেশব্যাপী কিশোরগঞ্জের ভৈরব বন্দরের সুনাম রয়েছে। জানা যায়, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই হাট চলছে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় এ হাট পরিচিত হয়েছে।

প্রথম দিকে এ হাট বুধবার বসত। বর্তমানে ব্যবসার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু করে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে। জিল্লুর রহমান শহর রক্ষা বাঁধ রোড, বাগানবাড়ি, বাদামপট্টি, নদীরপাড়, সায়দুল্লাহ মিয়া ঘাট, লবণপট্টিসহ অলিগলিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ পাইকার বসেন তাদের কাপড় নিয়ে। রাত যত গভীর হয় ততই জমে উঠে কেনাবেচা। এভাবেই বছরের পর বছর চলছে ভৈরব সাপ্তাহিক কাপড়ের হাট। মঙ্গলবার বিকেল থেকে পরদিন বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এতে প্রায় কয়েক কোটি টাকার কাপড় কেনাবেচা হয়। 

অপর দিকে বুধবার ভোর থেকে ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া, জামে মসজিদ রোড, কাচারি রোড়, কুড়াপট্টি এলাকায় রাস্তার দুই পাশে রং বেরঙের বাচ্চাদের জামা, টি-শার্ট, জিন্স, শার্ট, জার্সি, লুঙ্গি, গামছা, গেঞ্জি, বোরকা, থ্রি পিস, ওড়না, পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক নিয়ে ফুটপাত দখল করে বসে ব্যবসায়ীরা। কাপড়গুলোর মূল্য পাইকারি ও খুচরা দাম সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকার মধ্যে। এ কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির নারী ক্রেতার সংখ্যা এখানে বেশি আসে। এই বাজারে বুধবার ভোর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বসে প্রায় ৭০০ দোকানি। তাদের বেচা-বিক্রি আছে প্রায় ১ থেকে ২ কোটি টাকার মতো।

ব্যবসায়ীরা জানান, নরসিংদী, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জসহ হাওর এলাকার দোকানদাররা পাইকারি কাপড় কিনতে আসেন। তারা আরও জানান, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকার বিভিন্ন ছোট বড় গার্মেন্টসে তৈরি এসব কাপড় ভৈরবের এই হাটে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়।

কাপড় ব্যবসায়ী হাছান জানান, আমার দাদা এই হাটে কাপড় বিক্রি করতেন। পরে বাবা করেছেন। এখন আমি করছি। প্রতি সপ্তাহে হাটে আসি। ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার কেনাবেচা হয়। এখানে কেনাবেচা ভালো হওয়ায় কাপড় বিক্রির জন্য আসেন বলে জানান তিনি। আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান জনান, ১৪ বছর যাবৎ এ হাটে ব্যবসা করি। আগে হাটটা অনেক ছোট ছিল। লোকজন অনেক কম আসত এখন মানুষ আসে বেশি। দোকান বেড়েছে বহুগুণ।

প্যান্ট কারখানা মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কেরানিগঞ্জ থেকে মাল নিয়ে আসছি। বিভিন্ন সাইজের প্যান্ট বিক্রি করছি। ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার প্যান্ট রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসে। এসে দামাদামি বেশি করে তাই মূল দাম পাওয়া যায় না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের ব্যবসায়ী কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘মঙ্গলবার মাগরিবের সময় আসি। সারা রাত মালামাল সংগ্রহ করি। সকালে চলে যাই। ভৈরব থেকে মালামাল নিয়ে অনেক লাভবান হওয়া যায়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে আসা মো. রাজু আহমেদ বলেন, ‘দামি কম দামি সব ধরনের পোশাক পাওয়ায় এ বাজার থেকে যা কিনে নিয়ে যাই সব কিছুতে লাভ করা যায়।’

আরেক ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে যে কাপড় পাওয়া যায় সেই কাপড় ভৈরবে স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায়। বিভিন্ন বাজার থেকে কাপড় কিনি এ বাজার থেকে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনেকটাই কাছে তাই এখান থেকে কিনে নিয়ে যাই। সব মূল্যেরই পণ্য এই হাটে পাওয়া যায়।’

সুনামগঞ্জের রতন চন্দ্র বলেন, ‘এখানে সুলভ মূল্যে কাপড় পাওয়া যায়। আমি অনেক আনন্দিত এখানে সব ধরনের কাপড় পাওয়ায়। কাপড়ের কোয়ালিটি অনেক ভালো।’

আমির উদ্দিন বলেন, হবিগঞ্জ সিলেট থেকে আসি কম দামে কাপড় নিতে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো। দামে কম ও গুণগত মানও ভালো। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। নিত্যনতুন সব ধরনের মালামাল পাওয়া যায় এই হাটে।’

ভৈরব পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. ইফতেখার হোসেন বেনু বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধার জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ভৈরব বাজার সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে ভৈরবের চুরি, ছিনতাই নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এটি ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী বাজার, এই ঐতিহ্য কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না।’