ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

ময়মনসিংহে অসহনীয় সবজির বাজার, কাঁচা মরিচ ৩০০ ছুঁইছুঁই

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম
ময়মনসিংহে অসহনীয় সবজির বাজার, কাঁচা মরিচ ৩০০ ছুঁইছুঁই
ময়মনসিংহের শহরতলির শম্ভুগঞ্জ বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি না থাকলেও বিক্রেতারা সরবরাহ কম বলে চড়া দামে সবজি বিক্রি করছেন। ছবি: খবরের কাগজ

বাজারে গেলে ময়মনসিংহের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের লোকজন কোনোভাবেই হিসাব মেলাতে পারছেন না। সবজির দাম হুহু করে বেড়ে যাওয়ায় অনেকে চাহিদার তুলনায় কিনছেন কম। কাঁচা মরিচের দাম প্রায় ৩০০ টাকা ছুঁইছুঁই। বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি না থাকলেও বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ কম।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেলে শহরতলির শম্ভুগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সবজিরর কোনো ঘাটতি নেই বাজারে। প্রচুর পরিমাণ সবজি নিয়ে বিক্রেতারা বসে থাকলেও দাম রাখা হচ্ছে বেশি। ক্রেতারা দামাদামি করলে সরবরাহ কম থাকার কথা বলছেন বিক্রেতারা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা কেজিতে। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এ ছাড়া বেগুন ৮৫, পুলতা ৬০, কচুরমুখী ৮০, করলা ৫০, শসা ৮০, গাঁজর ১৭০, টমেটো ১৬০, লতা ৫০, ঢ্যাঁরশ ৫০, কাঁচা পেপে ৫০, পটোল ৬০, কাঁকরোল ৫০ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা হালি দরে। শুধু যে সবজির দাম বেড়েছে তা নয়; দাম বেড়েছে মাছ মাংসেরও। মাছের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে। সিলভার কার্প ২৮০, দেশি পুঁটি ৬০০, কৈ ২০০, দেশি শিং ৪০০, শোল ৮০০, মাঝারি আকারের রুই ৪০০, বড় পাঙাশ ২২০, তেলাপিয়া ২২০, ট্যাংরা ৪০০, পাবদা ৪৮০, মলা ৭০০, কাতলা ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস গত সপ্তাহে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ ও ব্রয়লার মুরগি অপরিবর্তিত অবস্থায় ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল আহাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘যে পরিমাণ সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় কম। ফলে বেশির ভাগ সবজির দাম বাড়ছে। সদরের কিছু নিম্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। এতে কৃষকদের অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কমেছে সরবরাহ, বেড়েছে দাম।’

আসলেই সরবরাহ কমেছে কি না তা জানতে কথা হয় সদরের বোররচর ইউনিয়নের কৃষক ইকরামুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কিছু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমেছে। তাই বলে সবজি খুব একটা নষ্ট হয়নি। এখনো ফসলি জমিতে ব্যাপক ফলন রয়েছে। ধীরে ধীরে এসব ফলন বাজারে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে বিক্রেতারা বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।’

বাজার করতে এসেছিলেন ক্রেতা আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘সবজির, মাছ-মাংসসহ সবকিছুর দামই বেড়েছে। বাজারে তদারকি না থাকার কারণে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দামে বিক্রি করে তাদের পকেট ভারী করছেন। ফলে বাজারে এসে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের লোকজন হিসাব মিলাতে পারছে না।’

রিপন মিয়া নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘দাম এতটা বেড়ে যাওয়ার যুক্তিসংগত কারণ নেই। এর পেছনে খুচরাসহ পাইকারি বিক্রেতাদের কারসাজি রয়েছে। প্রতিবারই তারা কীভাবে দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটা যায় সেই ধান্দা-ফিকিরে থাকেন।’
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘দাম বেশি বাড়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। বাজার মনিটরিং করা হবে, অভিযান চালানো হবে। কারসাজি করে দাম বাড়ানো হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতে সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৭ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৭ পিএম
ভারতে সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ফের বেড়েছে সোনার দাম। এক দিনেই বেড়েছে প্রায় ১ হাজার রুপি। বুধবার (২৪ জুলাই) কলকাতায় ১০ গ্রাম সোনার (২৪ ক্যারেট) দাম দাঁড়ায় ৭৫ হাজার ২০০ রুপি, আগের দিন মঙ্গলবারের তুলনায় যা ৯০০ টাকা বেশি। আর জিএসটি যোগ করলে তা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৬ রুপিতে। স্বর্ণশিল্প মহলের একাংশের মতে, এ‌ ধারা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণ কিনতে গিয়ে আরও চাপে পড়বেন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে গহনার ব্যবসায়ীরা তথা কারিগররাও। 

সোনার দামের এই লাফের পেছনে আমেরিকায় সুদের হার কমার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠাকে দায়ী করছেন স্বর্ণশিল্প-সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধিও এতে জ্বালানি জুগিয়েছে বলে মনে করছেন তারা। উল্লেখ্য, আমেরিকায় জুন মাসে মূল্যবৃদ্ধি মে মাসের ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। 

মূলধনি বাজারে জোর গুজব, এর ফলে সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই সুদ কমাতে চলেছে সে দেশের শীর্ষ ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। যেটা হলে লগ্নিকারীরা আরও বেশি করে সোনার দিকে ঝুঁকবেন। আর সেটাই বাড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্ববাজারে পাকা সোনার দামকে, এদিন যা প্রতি আউন্সে পৌঁছেছে ২৪৭২ দশমিক ২০ ডলারে। গতকালের থেকে ৪৭ দশমিক ২০ ডলার বেশি। 

বুলিয়ন মার্চেন্ট সংস্থা জে জে গোল্ডের এমডি হর্ষদ অজমেড়া বলেন, আমেরিকায় সুদ কমলে লগ্নির ক্ষেত্র হিসেবে জৌলুস হারাবে স্থায়ী আমানত। সেটা আঁচ করে লগ্নিকারীরা এখন থেকেই সোনায় টাকা ঢালছেন, যা বাড়াচ্ছে দাম। অনেকে ডলার থেকে লগ্নি তুলেও সোনায় ঢালছেন বলে খবর রয়েছে।

সোনার দাম আগামী দিনে রকেট-গতিতে বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শ্যাম মেহরা। তিনি বলেন, মনে করা হচ্ছে চলতি বছরেই আমেরিকায় দুই দফায় সুদ কমানো হবে। তার জেরে দ্রুত বাড়বে সোনায় লগ্নি। হিসাবমতো দেওয়ালির সময়েই ১০ গ্রাম পাকা সোনা ৮০ হাজার রুপিতে ঠেকতে পারে।

এই খবরে কপালে ভাঁজ গহনা ব্যবসায়ীদেরও। সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি শুভঙ্কর সেন বলেন, রথযাত্রা ইতাদি উৎসবের হাত ধরে কিছু দিন আগে পর্যন্ত গহনার চাহিদা ছিল ভালোই। কিন্তু অল্প সময়ে দাম এতটা বাড়ায় বিক্রি কিছুটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। একই উদ্বেগের কথা জানিয়ে বনগাঁর গহনা ব্যবসায়ী বিনয় সিংহ বলছেন, ‘দর ৭০ হাজার রুপির আশপাশে থাকাকালে বিক্রি ভালো হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তা বাড়ছে শুধু নয়, এদিন তো প্রায় এক ধাক্কায় ১ হাজার রুপি উঠল। ফলে বেশ চিন্তায় আছি।’

গহনার ছোট ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সংগঠন বঙ্গীয় স্বর্ণ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক টগর পোদ্দারের আবার আশঙ্কা, ছোট দোকানে চাহিদা আগে থেকেই কম ছিল। এই অবস্থা চললে আরও কমবে। কারিগরদের কাজ পেতে সমস্যা হবে। তবে ব্যবসায়ী মহলের অন্য অংশের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেভাবে বড় উৎসব নেই। ফলে এখনই বিশাল প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। কিন্তু পুজো বা ধনতেরসের সময়েও দর চড়া থাকলে কী হবে সেটাই চিন্তার। সূত্র: আনন্দবাজার

পশ্চিমবঙ্গে আলু ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে আলু ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তিন দিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আলু ব্যবসায়ীরা। বুধবার (২৪ জুলাই) হুগলির হরিপালে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না। বৈঠকে সমঝোতা হয়। এর পরই ধর্মঘট তুলে নেওয়ার কথা জানান ব্যবসায়ীরা। খবর আনন্দবাজারের।

আশা করা যাচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যে আলুর জোগান আবার স্বাভাবিক হবে। ফলে আলুর ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে, তা থেকে এবার রেহাই মিলবে।

রাজ্যের সীমান্তগুলোতে পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে গত সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। এ জন্য হিমঘর থেকে আলু বেরোনো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আড়তগুলোতে আলুর জোগান কমে যায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। গতকাল রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে চন্দ্রমুখী আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে। জ্যোতি আলু বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এ অবস্থায় ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই তাকিয়ে ছিলেন গতকালের বৈঠকের দিকে।

হরিপালে বৈঠকের পর ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, জট খুলেছে। গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন হিমঘর থেকে আলু বের করার কথা ছিল। এর মধ্য দিয়ে আবার বাজারে আলুর জোগান স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মঘট তুলে নেওয়া হলো। 

আলু ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মঘট তুলে নেওয়া হলো। আমরা সরকারের পাশে আছি। তবে রাজ্য থেকে যে আলু বাইরে যায়, সেই রপ্তানির বিষয়টিও যেন সরকার খেয়াল রাখে। মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। বিবেচনা করে দেখবেন বলেছেন। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া লিখিতভাবে সরকারের কাছে জানাচ্ছি।’ 

এদিকে বৈঠক থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী বেচারাম বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে যা যা সাহায্য করা যায়, সেটা বলেছিলাম। সরকারের পক্ষ সাড়া দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরাও কর্মবিরতি তুলে নিচ্ছেন।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আলু ব্যবসায়ীরা যদি কথা রাখেন, তা হলে আমরা ৩০ টাকার নিচে আলু খাওয়াতে পারব রাজ্যবাসীকে।’

ভারতে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ টানার প্রস্তাব

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩১ পিএম
ভারতে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ টানার প্রস্তাব
ভারতের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। ছবি: সংগৃহীত

চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই বেড়েছে। এ অবস্থায় রপ্তানি বাজারে দখল বাড়াতে সে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতে টেনে আনার পক্ষে মত দিয়েছে আর্থিক সমীক্ষা। সে জন্য চীন নীতি ফিরে দেখার দাবি জানিয়েছেন মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন।

তিনি বলেছেন, প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি পেতে জোর দেওয়ার কথা। 

সমীক্ষা জানাচ্ছে, চীনের সংস্থাগুলো এ দেশে লগ্নি করলে গতি পাবে উৎপাদন শিল্প। তাদের মাধ্যমে ভারতে তৈরি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো যাবে। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা জিটিআরআইয়ের মতে, এতে স্বল্প মেয়াদে লাভ হলেও পরে দেশের আর্থিক সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব ধাক্কা খেতে পারে। উল্টো চীনের সংস্থাগুলোর ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে ভারত। বন্ধ হতে পারে বহু দেশীয় সংস্থা। কাজ হারাবেন কর্মীরা।

২০২০ সালে করোনার লকডাউনের মধ্যেই চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছিল দুই দেশের সম্পর্ক। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত থাকা দেশগুলো থেকে লগ্নি আসার আগে লাগবে কেন্দ্রের সায়। চীনা পণ্য আমদানিতে বসে নিয়ন্ত্রণ। তবে তারপরেও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।

এই অবস্থায় ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতি থেকে মূলত দুভাবে লাভবান হওয়ার বার্তা দিয়েছে আর্থিক সমীক্ষা। বলা হয়েছে, প্রথমত, বিশ্ববাজারে চীনের জায়গা দখল করতে পারে ভারত। দ্বিতীয়ত, সে দেশ থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নিতে উৎসাহ দিতে পারে নয়াদিল্লি। এর মধ্যে দ্বিতীয়টিই সুবিধাজনক। কারণ তাতে চীনের সংস্থাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে পারবে ভারতের শিল্প।

চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনে তেল যাবে ঢাকায়

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনে তেল যাবে ঢাকায়
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় তেল নিয়ে যাওয়ার জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে । ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্বল্প খরচে অতিদ্রুত তেল নিয়ে যাওয়ার জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে ঢাকার ডিপোতে তেল সরবরাহ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বিশ্বের নানা দেশ থেকে আমদানি করা জ্বালানি তেল চট্টগ্রামে খালাস করা হয়। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পর পরিশোধন করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। এ ছাড়া আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের একটি অংশ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডিপোতে প্রাথমিক অবস্থায় মজুত রাখা হয়। 

জ্বালানি তেলে অপচয় কমানো ও সময় বাঁচাতে ২০১৮ সালে শুরু হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ। শুরুতে পাইপলাইন প্রকল্পটির ব্যয় ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ধরা হয়। পরে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রায় সাড়ে ৫ বছরে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ শতাংশ।  

প্রকল্পটির কাজ আরও দুই বছর আগে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় বিলম্ব হয়েছে। এতে বিপুল টাকার পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে। তেল চুরিসহ সিস্টেম লসের কবল থেকেও বহুলাংশে মুক্তি মিলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও গেছে, জ্বালানি তেলের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ টন জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়। ওই তেলের ৪০ ভাগ ব্যবহার হয় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায়।  চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, নৌ ও রেলপথে জ্বালানি তেল পরিবহনে সরবরাহ করা হয়। পরিবহনে সরবরাহকালে বিভিন্ন জায়গায় তেল লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

সড়ক ও রেলপথে তেল চুরির সংবাদ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। সিস্টেম লসের নামে এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কোটি কোটি টাকার ক্ষতির কবলে পড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহরের প্রকল্প নেওয়া হয়।

নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০১৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদলাইন ও ফতুল্লা পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতা ও করোনাকালে কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয়নি। 

চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) আমিনুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘সব কিছু ঠিক থাকলে পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী বছরের শুরুতেই ঢাকায় জ্বালানি তেল যাবে। পাইপলাইনের কাজ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এ প্রকল্পের কাজ বর্তমানে ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে ঢাকায় তেল সরবরাহ শুরু হলে এটি হবে দেশের জন্য ঐতিহাসিক একটি ঘটনা। 

বিপিসির দাবি, প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোটি কোটি টাকার সাশ্রয় হবে। সিস্টেম লস কমে যাবে। সাগরের তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করার সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহের এই পাইপলাইন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে বড় ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 

এদিকে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র থেকে ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমবারের মতো গভীর সমুদ্রের মুরিং থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্ল্যান্টে অপরিশোধিত তেল পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়। যা গভীর সমুদ্র থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি ডিপোতে তেল আসছে। 

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান বলেন, ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের অধীনে দুটি সমান্তরাল পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। যার একটি অপরিশোধিত তেলের জন্য, অন্যটি ডিজেলের জন্য। গভীর সমুদ্রে একটি ভাসমান মুরিং পয়েন্ট এবং মহেশখালীতে একটি স্টোরেজ ট্যাংক টার্মিনাল রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিবহন হচ্ছে। অপর পাইপলাইনে ডিজেল এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য তেল পরিবহন করা হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন করার কারণে জ্বালানি তেল পরিবহন সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি অপচয় বন্ধ হবে।’

এখন ছোট ছোট লাইটার জাহাজ ব্যবহার করে গভীর সমুদ্র থেকে ১ লাখ টন তেল খালাস করতে ১০-১১ দিন সময় লাগে। পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবহনে সময় লাগবে মাত্র দুই থেকে তিন দিন। কখনো কখনো সমুদ্র উত্তাল হলে জাহাজ থেকে তেল আনলোড করতে সমস্যা হতো, যা এখন হবে না। বিপিসি ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে ৭ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। 

মিশ্র ফল চাষে সফল বাবা-ছেলে

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
মিশ্র ফল চাষে সফল বাবা-ছেলে
ছবি: খবরের কাগজ

মিশ্র ফলের বাগান করে সফলতা পেয়েছেন সৌদিফেরত বাবা-ছেলে। বর্তমানে তাদের বাগানে আগাম জাতের আম্রপালি, কাটিমন আম, ব্যানানা আম, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন, পেঁপে, নারিকেল রয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের সৌদিফেরত বাবা সৈয়দ আহাম্মদ ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম এলাকায় নিজস্ব দুই একর জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন।

সৈয়দ আহাম্মদ জানান, তিনি জীবিকার জন্য সৌদি আরব যান। সেখানে একটি কৃষি খামারে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে তার বড় ছেলে সাইফুলও সৌদিতে যান। পরে তারা দেশে ফেরেন, নিজের জমিতে সৌদির খুরমা খেজুর চাষ শুরু করেন। খেজুর চাষে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, সেই স্বপ্ন তাদের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তাদের ওই খেজুর চাষে ২৫ লাখ টাকা লোকসান হয়। 

পরে বাগানের সব খেজুর গাছ কেটে ফেলেন। ওই জমিতে আবার মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। প্রথমে জমির চারপাশে নারিকেলগাছ রোপণ করেন। বর্তমানে ওই বাগানে ১৫০টি নারিকেল গাছ রয়েছে। পরে বাগানে ড্রাগন, আম, মাল্টা, কমলা লেবুসহ বিভিন্ন ফলের চাষ শুরু করেন। 

এসব ফল গাছের ফাঁকে ফাঁকে পেঁপের চাষ করেন। গত চার বছরে এসব ফল চাষে তারা অনেক টাকা আয় করেছেন। ব্যবসায়ীরা বাগানে এসে ফল কেনে নিয়ে যান। ফরমালিনমুক্ত ফল হওয়ায় এসব ফলের চাহিদা দিন দিন বেড়েছে।

সৈয়দ আহাম্মদ আরও জানান, তিনি পড়ালেখা জানেন না। তার ছেলে (সাইফুল) ইউটিউবে ভিডিও দেখে এসব ফলের চাষ করেছেন। তিনিও ছেলের সঙ্গে বাগানের কাজে সহযোগিতা করেন। এসব ফল চাষে কৃষি অফিস বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। এ ছাড়া কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) নামে একটি এনজিও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। গত বছরে তারা বাগানের ফল বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা আয় করছেন। চলতি বছর ৮ লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে জানা গেছে। 

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি অফিসের উপ-পরিচালক সোহেল মো. সামছুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘এর মধ্যে সাইফুলকে জেলার শ্রেষ্ঠ ফলচাষির পুরস্কার দিয়েছে কোডেক। কৃষি বিভাগ তাকে সহায়তা ও পরার্মশ দিচ্ছে। সাইফুলদের মতো যারা ফল চাষ করবেন, তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে।’