চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেল, চিনি ও সবজির দাম আরও নিম্নমুখী হয়েছে। চলতি মাসে দুই দফা কমেছে ভোজ্যতেল ও সবজির দাম। এদিকে এক মাসের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি মণ চিনিতে দাম কমেছে ১০০ টাকা। সরবরাহ বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারি দরে বিক্রি হয় ভোজ্যতেল ও চিনি। বাজারে গত মাসের ৩ নভেম্বর প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৬ হাজার ৮৫০ টাকায় (লিটারপ্রতি বিক্রি হয় ১৭১ টাকা) এবং পাম অয়েল ৬ হাজার ৪৪০ টাকায় (লিটারপ্রতি দাম ১৬১ টাকা) বিক্রি হয়। গত ২০ নভেম্বর দাম কমে প্রতি মণ সয়াবিন তেল ৬ হাজার ৫০০ টাকা (প্রতিলিটার ১৬২ দশমিক ৫ টাকা) ও পাম অয়েল ৬ হাজার ৩৪০ টাকায় (লিটারপ্রতি ১৫৮ দশমিক ৫ টাকা) বিক্রি হয়।
তবে সরবরাহ বাড়ায় আরও কমে গেছে ভোজ্যতেলের দাম। বর্তমানে প্রতি মণ সয়াবিন তেল ৬ হাজার ২০০ টাকা (লিটারপ্রতি ১৫৫ টাকা) ও পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩০ টাকায় (লিটারপ্রতি ১৫০ টাকা)।
এদিকে পাইকারি এই বাজারে গত ২৯ অক্টোবর প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি ৪ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসের ব্যবধানে ১০০ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩০০ টাকায়।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেল ও চিনির পাইকারি ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, সরবরাহ না থাকায় ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির ছিল। বর্তমানে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তাই ভোজ্যতেলের দামও নিম্নমুখী। পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে চিনির বাজার খুব একটা চড়া হয়নি। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আশা করছি এসব পণ্যের দাম আর বাড়বে না।
চট্টগ্রামে পাইকারি দরে সবজি বিক্রি হয় রিয়াজুদ্দিন বাজারে। এখান থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সবজির সরবরাহ করা হয়। রিয়াজুদ্দিন বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, নরসিংদী, চট্টগ্রামের চকরিয়া ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান থেকে সংগ্রহ করেন।
প্রতিটি ট্রাকে ১৪ টন সবজি থাকে।
পাইকারি বাজারটিতে গত ৮ নভেম্বর প্রতি কেজি ফুলকপি ৬৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩৬ টাকা, পেঁপে ২৭ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, পটোল ৪২ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, আলু ৫৯ টাকা ও লাউ ২৫ টাকায় বিক্রি হয়।
গত ২২ নভেম্বর দাম কমে প্রতি কেজি ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ২৮ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, আলু ৬৬ টাকা ও লাউ ২৫ টাকায় বিক্রি হয়।
বর্তমানে দাম আরও কমে প্রতি কেজি ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ টাকা, বরবটি ৪৫ টাকা, পটোল ৩২ টাকা, মূলা ২৮ টাকা, আলু ৬৫ টাকা ও লাউ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই। বর্তমানে রিয়াজুদ্দিন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা ও পেঁপে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজুদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী খবরের কাগজকে বলেন, গত আগস্টে দেশে ভয়াবহ বন্যা হয়। এ কারণে দেশের অনেক অঞ্চলের সবজি মাঠেই নষ্ট হয়। এরপর গত অক্টোবর মাসে আবারও সবজি চাষ করেন কৃষকরা। ওই সবজিগুলো আসতে শুরু করায় সরবরাহও বেড়েছে। তাই সবজির দাম নিম্নমুখী। বন্যা না হলে সাধারণ ভোক্তারা আরও আগে থেকেই কম দামে সবজি কিনতে পারতেন। আশা করছি সবজির দর আর বাড়বে না।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভোগ্যপণ্যের দাম কমে এলে আমাদের সাধারণ ক্রেতারা একটু স্বস্তি পান। তবে কয়েক মাস পর রোজা আসছে। অসাধু চক্র নানা অজুহাতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে চাইবে। তাই জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারসহ অন্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের আমদানিকারক,
আড়তদার, পাইকার থেকে খুচরা সব পর্যায়ে সমান নজরদারি রাখতে হবে। সিন্ডিকেট কারা করে- তাদের চিহ্নিত করতে হবে।