সরকার শুল্ক প্রত্যাহার করায় ভারত থেকে প্রচুর চাল আসছে দেশে। অধিকাংশ দোকানে আগের মতোই চালে ভরা। সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। খুচরা পর্যায়ে ভারতের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। তবে সাগর, রশিদসহ বিভিন্ন দেশি কোম্পানির মিনিকেট চাল ৮০ বা ৮৫ টাকার কমে মেলে না। বেশি দামের ব্যাপারে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর কারণ মিলমালিকরা জানেন। কারণ তারাই দাম বাড়াচ্ছেন। ডিম ও মুরগির দামও কমেনি। তবে কমতির দিকে আলু ও পেঁয়াজের দাম। সবজির দামও কিছুটা কমেছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকার কঠোর না হলে কমবে না চালের দাম
সরকার চালের দাম কমাতে বিদেশ থেকে আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। ভ্যাটও প্রত্যাহার করেছে। খেত থেকে আমন ধানও উঠেছে। তার পরও কমছে না চালের দাম। আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। এ ব্যাপারে নিউ মার্কেটের ফাতেমা স্টোরের জাহিদ হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি করেছি। সেটা ৮৫ টাকায় ঠেকেছে। বেশি দামে কেনা। এ জন্য আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আকিজ গ্রুপের ও দাদা কোম্পানির চালই বেশি দামের। তবে অন্য কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজিতে ৮০ টাকা, আটাশ চাল ৬৫ ও মোটা চাল ৫৫ টাকায় কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। মিল থেকে দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাদের ধরলে কমবে চালের দাম। সরকারকে কঠোর হতে হবে। তা না হলে কমবে না দাম।’
এদিকে চালের পাইকারি বাজার কৃষি মার্কেটে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে আগের মতোই চালের বস্তা ভরা। মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজের মো. সোহেল হায়দার চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারত থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি চাল আসছে। এর মধ্যে চিকন বা মিনিকেটই বেশি আসছে। তা পাইকারি ৭০ টাকায় কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে দেশি মিনিকেটের দাম বেশি, তা ৭৬ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে এটা ৭০ টাকা কেজি ছিল। রাইস মিল থেকে দাম বাড়ার কারণে আমাদেরও বেশি দরে কিনতে হচ্ছে।’
এই বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা সৈকত আলী বলেন, ‘আগে কম দাম ছিল। এখন দাম বেশি। মঞ্জুর, রশিদ, মোজাম্মেলসহ বিভিন্ন কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজি ৮৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্যগুলো ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি। অন্য বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতারাও বলছেন, রাইস মিল থেকে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে কমছে না। মিনিকেট ৭৫-৮৫ টাকা, আটাশ চাল ৬২-৬৫, মোটা চালের দাম ৫৪-৫৬ টাকা। কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা চাটখিল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর কমে না।’
কমতির দিকে আলু-পেঁয়াজের দাম
গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি হয়েছে। সেটা গতকাল ২০ থেকে ৩০ টাকায় নেমেছে। পেঁয়াজের দামও ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে আগের মতোই দেশি আদার কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানি করা আদা ২২০ থেকে ২৪০ টাকা ও রসুন ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, সবজির দামও কিছুটা কমতির দিকে। কয়েক দিনে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। বেগুনের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিমের কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটোর কেজি ৪০ থেকে ৫০, মুলা ২০ থেকে ২৫, গাজর ৬০, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, ফুলকপির পিস ২০ থেকে ২৫, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০, লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এখনো সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি
বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, দুই মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে এক লিটার ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সব বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো তেলের সংকট কাটেনি। মিল থেকে দিচ্ছে না। তবে আগের মতোই ছোলার কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মসুর ডাল ১১০ থেকে ১৩৫ টাকা, দুই কেজি ওজনের প্যাকেট আটা ১০০-১৩০, চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিও আগের মতো বেশি দরে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ ও দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।