মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ ও আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পুরোনো পেঁয়াজ এখনো ১২০ টাকার কমে মিলছে না। শুধু তা-ই নয়, শীতের ভরা মৌসুমেও বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০, কাঁচা মরিচ, করলা ১০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। চালের দামও কমছে না। তবে পুরোনো আলুর মতোই নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর আগের মতো ডিম, মুরগি, গরু এবং ছাগলের মাংস ও মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল সোমবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশে গত নভেম্বরে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি ১৬০ টাকা হয়। এ নিয়ে দেশে হইচই পড়লে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ ডিসেম্বর প্রতিদিন দেড় হাজার টন করে আমদানি করার অনুমতি দেয়। আবার নতুন পেঁয়াজও বাজারে উঠে গেছে। তার পরও তেমন কমছে না দাম। গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, খুচরায় দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ১২০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৭০ টাকায় ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের দামের ব্যাপারে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের মো. অলি ইসলাম, রাকিবসহ বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারিতে কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব। আগের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে। এ জন্য দামও কিছুটা কমেছে। তবে আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় ও রসুন ১১০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন, করলা ১০০ টাকার বেশি
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজি উঠেছে। আগের তুলনায় সরবরাহও বেড়েছে অনেক। তার পরও কমছে না বহু সবজির দাম। গতকালও বেগুনসহ অনেক সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। বেগুন ৮০ থেকে ১২০, টমেটো ১০০ থেকে ১২০, করলা ৮০ থেকে ১০০, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বাঁধাকপি ও ফুলকপির পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলার কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়সের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা; বরবটি, কচুরলতি ৮০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
কমছে না চালের দাম
পৌষ মাসের অর্ধেক চলে যাচ্ছে। সারা দেশে আমন ধান উঠে গেছে। আবার বিদেশ থেকে চাল আমদানিও হচ্ছে। তার পরও আগের তুলনায় এক টাকাও কমেনি চালের দাম। ভরা মৌসুমেও মোটা চাল (গুটি স্বর্ণা) ৫০ থেকে ৫২ টাকায় ও আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাগর, মনজুর, আকিজ অ্যাসেনশিয়াল, রশিদসহ অন্য কোম্পানির মিনিকেট চাল চড়া দামেই ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোজাম্মেল, ডায়মন্ডসহ আরও কিছু কোম্পানির চাল কেজিতে ৮৫ টাকার কমে মিলছে না। মৌসুমের সময়ও আতপ চাল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। বস্তার এই চাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি ও প্যাকেটজাত আতপ চাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির আব্দুল আওয়ালসহ অন্য চাল বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিলমালিকরা। সরকারের মধ্যেই তারা লুকিয়ে আছেন। এ জন্য ধানের মৌসুমেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কমছে না দাম।’
মুদি দোকানদাররা জানান, আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১১০ থেকে ১২০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা কেজি, দুই কেজি আটার প্যাকেট ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
স্থিতিশীল ডিম, মাছ, মাংস
আগের মতোই ডিমের দাম খুচরা পর্যায়ে সাদাটা ১১০ ও লাল ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন বাজারে সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ভালোই আছে। কিন্তু বিক্রি কম। এ জন্য দামও আগের মতোই। বাড়ে না। বাজারে নদী, খাল, বিলের ট্যাংরা, চিংড়ি, বাচাসহ অন্য মাছ পাওয়া গেলেও দাম চড়া। এসব মাছের কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা । চাষের পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, কই মাছ ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে রুই ও কাতলের কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়।