ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত
Nagad desktop

প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ০০০১০৩৫ নম্বর ও সোয়া ৩ লাখ টাকার দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছে ০০৪৭৭৪৮ নম্বর।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার অফিসের স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকার পরিচালক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ ‘ড্র’ হয়। প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা এবারে পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। একক সাধারণ পদ্ধতিতে (অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর) এই ‘ড্র’ পরিচালিত হয়। এগুলো হলো-কক, কখ, কগ, কঘ, কঙ, কচ, কছ, কজ, কঝ, কঞ, কট, কঠ, কড, কঢ, কথ, কদ, কন, কপ, কফ, কব, কম, কল, কশ, কষ, কস, কহ, খক, খখ, খগ, খঘ, খঙ, খচ, খছ, খজ, খঝ, খঞ, খট, খঠ, খড, খঢ, খথ, খদ, খন, খপ, খফ, খব, খম, খল, খশ, খষ, খস, খহ, গক, গখ, গগ, গঘ, গঙ, গচ, গছ, গজ, গঝ, গঞ, গট, গঠ, গড, গঢ, গথ, গদ, গন, গফ, গব, গম, গল, গষ এবং গপ এই ‘ড্র’-এর আওতাভুক্ত।

তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা করে দুটি। নম্বরগুলো হলো- ০৫৩৮২৮৯ ও ০৬৭৫৩৮২। চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা বিজয়ী নম্বর দুটি হলো- ০৪০০৪৫১ ও ০৫৬৭৬৪৪।

তাছাড়া পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে পাবেন ৪০ জন। তাদের নম্বরগুলো হলো- ০০২১৭৪৯, ০২১৭৪১৯, ০৪৬১৪৭২, ০৫৮৮৯৬৬, ০৭৪৯৭৪০, ০০২২১৮১, ০২৪৬০৪৫, ০৪৬২০৫৬, ০৫৯৬৩৪৬, ০৭৫৯৯০৮, ০০৫৬৩৭৮, ০২৯৬৪০২, ০৪৭৮০১৫, ০৬০০৪৪০, ০৭৭২৭৭৩, ০০৯২৩৫৬, ০৩১১১৩০, ০৪৮০৫৬৭, ০৬০৭৩৪৯, ০৮১৩৬৫৯, ০১৪৪৫৬৭, ০৩৫৬৯৪২, ০৫১২০২৪, ০৬৩৯৩৬৭, ০৮৪৮০৪৬, ০১৫৫৩৯৮, ০৩৯৩২৭৭, ০৫৫১২২১, ০৬৪২০০২, ০৮৪৯৬১৪, ০১৫৫৯৩৪, ০৪১৩৫০১, ০৫৬৪৭৬০, ০৬৫০১১৯, ০৯২২৫৯৭, ০১৭৫৭৯২, ০৪৫২৪৪১, ০৫৭৩৮৬৫, ০৬৮৮৭৭৩ এবং ০৯৪৭৬৬৫।

ড্রয়ের নির্ধারিত তারিখ থেকে ৬০ দিন আগে (বিক্রি তারিখ ধরে ও ড্রয়ের তারিখ বাদ ধরে) যেসব প্রাইজবন্ড বিক্রি হয়েছে, সেগুলো এ ড্রয়ের আওতাভুক্ত। আয়কর আইন ২০২৩-এর ১১৮ ধারার অনুযায়ী প্রাইজবন্ডে পুরস্কারের অর্থ থেকে ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে।
প্রতিবছর নির্ধারিত চারটি তারিখে ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব তারিখ সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনে পড়লে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

মৃত্তিকা/এসএন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে- এমন সম্ভাবনা ও গুঞ্জন বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) গ্রিনিচ মান সময় প্রায় ১৬:৫০টা নাগাদ আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ দশমিক ০ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলারে নেমে আসে। 

মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৫ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়ায়। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি
ছবি: খবরের কাগজ

গত তিন অর্থবছর ধরে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দে যে ধারাবাহিক নিম্নগতি দেখা গিয়েছিল, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তার অবসান ঘটেছে। তবে বরাদ্দ বাড়লেও গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের তুলনায় শহরকেন্দ্রিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রীভবনের কারণে সমতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) ঢাকায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ, ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’-এর অংশীদারিত্বে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাজেট-পরবর্তী ওয়াশ বাজেট-ট্র্যাকিং বিশ্লেষণের এই তথ্য প্রকাশ করে।

‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে পুনরুদ্ধার, তবে সমতার ঘাটতি রয়ে গেছে’ শীর্ষক নীতি সংক্ষিপ্তে পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে প্রস্তাবিত এডিপি বরাদ্দ এবং এসডিজি ও জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওয়াশ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০,৯০১ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৩,৬১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে সর্বোচ্চ ১৮,২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের পর ধারাবাহিক পতনের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ইতিবাচক পুনরুদ্ধার হলেও, তা পূর্বের সর্বোচ্চ মাত্রার নিচেই রয়ে গেছে।

নীতি সংক্ষিপ্তে সতর্ক করে বলা হয়, সামগ্রিক বাজেট যেখানে ৯.৩৮ শতাংশ এবং মোট এডিপি ৩.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে ওয়াশের আপেক্ষিক অংশ বেড়েছে মাত্র ০.১৩ শতাংশ। ফলে একে এককভাবে ওয়াশ অর্থায়নের গভীরতর কাঠামোগত উদ্বেগের সমাধান হিসেবে দেখা যাবে না।

অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, “নিরাপদ পানি ও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত স্যানিটেশন থেকে এখনো প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত। তাই চ্যালেঞ্জ এখন নীতিগত উপকরণের অভাব নয়; বরং সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে মানুষের জন্য বাস্তব সেবায় রূপান্তর করা।”

শহরকেন্দ্রিক প্রবণতা ও তীব্র বৈষম্য বিশ্লেষণ

গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে, পাশাপাশি ওয়াসা ও গ্রামীণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বরাদ্দের চরম বৈষম্য দেখা গেছে। গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে বড় ধরনের সেবা ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও শহরাঞ্চল মোট ওয়াশ এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৭২ শতাংশ পাচ্ছে। ৪টি ওয়াসার সম্মিলিত বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,৬৭৩ কোটি টাকায়, যা মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসা একাই পেয়েছে ৫,০১০ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ৩৬.৭৮%)।

অন্যদিকে, দেশের প্রায় ৪১.৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ খাবার পানি এবং ৬০.৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন থেকে বঞ্চিত থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ অগ্রভাগের প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বরাদ্দ ৩,৪২৭.৮৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২,৪০৮.১৯ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা চরম উদ্বেগের বিষয়।

দুর্গম অঞ্চল ও উপ-খাত

দুর্গম ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ক্ষেত্রে বাজেট একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১,৭৮৫ কোটি টাকা হলেও হাওর এলাকার জন্য কোনো পৃথক বরাদ্দ নেই। একই সঙ্গে উপকূল ও চরাঞ্চলেও বরাদ্দ কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। উপ-খাত হিসেবে জলবায়ু অভিযোজন (৩,১৪৩ কোটি টাকা) ও ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্টে (১,৯০৪ কোটি টাকা) বরাদ্দ বাড়লেও, কোভিড-পরবর্তী সময়ে হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি খাতটি এখনো আলাদা ও দৃশ্যমান বাজেট লাইনের বাইরে রয়ে গেছে।

জরুরি ৮ দফা সুপারিশ

এই প্রেক্ষাপটে নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস বাজেট চূড়ান্তকরণের আগে ৮টি জরুরি নীতি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—গ্রামীণ ওয়াশ অর্থায়ন শক্তিশালী করা, উপকূল ও হাওরের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জন্য পৃথক অর্থায়ন উইন্ডো গঠন, অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য ওয়াশ নগদ সহায়তা বা ভাতা চালু করা, স্কুল ওয়াশ ব্লক সম্প্রসারণ এবং হাইজিন খাতকে আলাদা ট্র্যাকযোগ্য বাজেট লাইনে ফিরিয়ে আনা।

একই সঙ্গে সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নের মতো উচ্চ লবণাক্ততা অঞ্চলে প্রচলিত খাল খননধর্মী কাজকে জলবায়ু-সহনশীল সারফেস ওয়াটার পুনরুদ্ধার ব্যবস্থায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ওয়াটার ওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশন, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওরসহ ওয়াশ খাতের বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমান/

প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি: সিপিডি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি: সিপিডি
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংস্থাটি বলছে, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও সামগ্রিক রাজস্ব ও প্রণোদনা কাঠামো এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিকেই বেশি সুবিধা দিচ্ছে।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কী পেল?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী।
সিপিডির মতে, বর্তমান বাজেট কাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কিছু সহায়ক পদক্ষেপ থাকলেও দেশের জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জন এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কারণ, বিভিন্ন ধরনের কর-সুবিধা ও প্রণোদনার মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানি খাত এখনো তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির জন্যও বিভিন্ন প্রণোদনা ও কর-সুবিধা বহাল রাখছে। ফলে নীতিগতভাবে একটি দ্বৈত অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা এবং ইডকলের চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ জাবেদ ইমরানসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজু/রিফাত/

১৭ জুন ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম
ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

 

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত) --
ইউরো     142.47 142.51 +0.24
ব্রিটেন পাউন্ড     164.80 164.81 +0.13
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     86.73 86.78 -0.05
জাপানি ইয়েন 0.7650 0.7650 -0.0007
কানাডিয়ান ডলার 87.70 87.71 -0.03
সুইস ক্রোনা 13.0970 13.1070 +0.0371
সিঙ্গাপুর ডলার 95.67 95.75 +0.04
চায়না ইউয়ান     18.1634 18.1688 +0.0057
ইন্ডিয়ান রুপি     1.2976 1.2983 +0.0022
সৌদি রিয়াল 32.55 32.86 --
আরব আমিরাত দিরহাম 33.28 33.56 --

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

মুদ্রা কেনাবেচার দর: ১৭ জুন, ২০২৬

রিফাত/

প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা খরচ হবে।

এটিসহ সভায় ৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পে ধরচ ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হবে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ও বিদেশি ঋণ হচ্ছে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রী সভার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভা শেষে শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ অন্য সচিবরা (সদস্য) উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে প্রকল্প গ্রহণে অনেক অনিয়ম ও অপচয়, চুরি হয়েছে। তাই আগের ফ্রেমওয়ার্ক থেকে এই সরকার সরে এসেছে। আমরা সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা করছি। দ্রুত সময়ে কীভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় সেই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় ড্যাশবোর্ড করা হবে। কোথায় কোন প্রকল্প থাকবে তা জানা যাবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ৩ মাস পর পর প্রকল্পের অগ্রগতির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। দীর্ঘসূত্রতায় কারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে সেগুলো পুরোদমে শেষ করা হবে। ৩০ শতাংশের নিচের প্রকল্পগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। আইএমইডিকে ক্ষমতা দেওয়া আছে। তাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক প্রকল্পে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমন্বয়ের চেষ্টা করছে এ সরকার।’  

এই সরকারের এটি পঞ্চম সভা। সভায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চলটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ইটিপি, সোলার প্যানেল, পানি শোধনাগারসহ সব কিছু সংযুক্ত করা নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় সোয়া এক কিলোমিটার জেটি লিংক রোড নির্মাণ করা হবে। এক কিলোমিটারের বেশি লিংক রোডও হবে। এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস-সংযোগের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার গ্যাস সংযোগ লাইন নির্মাণ করা হবে। সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এসব অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে। এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এসব অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে, তা শেষ হবে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরে। পুরো প্রকল্পে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা।

আরও জানা গেছে, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি স্থাপনের ব্যাপারে আলোচনায় আসে। তখন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নানা জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে যায়। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর চীনা একটি ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হলেও চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালে চীনা সরকারের পক্ষ থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডেভেলপার–দুই ভূমিকায় কাজ করতে পারে না। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর সেটা আটকে যায়।

বিএনপি সরকার আসার পর প্রকল্পটি আবার আলোচনায় আসে। গত একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য তালিকায় থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে অনুমোদন করা হয়নি। অবশেষে গতকাল প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কারণ চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে যাওয়ার কথা আছে। সেখানে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে। তাই আগেই এর অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

পাহাড়ের ঢল ঠেকাতে ফেনীতে মুহুরী-কহুয়া নদীতে প্রকল্প

একনেকের সভায় ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ; নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। এটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের জুনে বাস্তবায়ন করা হবে। করতোয়া নদীব্যবস্থা উন্নয়ন; পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ও কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এটিতে খরচ করা হবে ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। সভায় ১০০টি উপজেলায় ১টি করে কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।