ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ভোগান্তি দূর করুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১১:২৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ১১:২৬ এএম
স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ভোগান্তি দূর করুন

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সনাতন ধারার ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরিবর্তে আধুনিক ও স্মার্ট লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে। হাতে লেখা ও সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে এই স্মার্ট পদ্ধতিটি চালু করা হয়। 

এরপর থেকে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের নজরদারিও বাড়তে থাকে। সড়ক আইন ও দেশের বিভিন্ন সড়কের ট্রাফিক পুলিশের অব্যাহত নজরদারির কারণে দিন দিন বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন বাড়তে থাকে। ড্রাইভিং লাইসেন্সপ্রত্যাশীদের ভিড় বিআরটিএতে চোখে পড়ার মতো। এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গাড়ি চালানোর সনদপ্রত্যাশীরা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে ধরনা দিচ্ছেন।

 সেখানে গিয়ে জানতে পারছেন কার্ডগুলো প্রিন্টের অপেক্ষায় রয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করে বলছেন, এক সপ্তাহ পরে যোগাযোগ করুন। জানা গেছে, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টের অপেক্ষায় রয়েছে। ঢাকার বাইরেও এই জট বেড়েছে। এতে দুর্ভোগও কম হচ্ছে না। এ ছাড়া জনবলের অভাব, প্রিন্ট মেশিনের স্বল্পতা ও ডেলিভারি কর্মকর্তা কম থাকার কারণে লাইসেন্স দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়ার কারণে চালকরা বিআরটিএর স্লিপ নিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। উভয় পক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধও কম হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সড়কে একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

এ ছাড়া অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যও থেমে নেই। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দ্রুত লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ দালালদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন নিয়মিত। 

বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) লোকমান হোসেন মোল্লা খবরের কাগজকে বলেন, ‘গ্রাহকদের কীভাবে আরও দ্রুত লাইসেন্স ডেলিভারি দেওয়া যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। দ্রুতই এ সংকট কেটে যাবে।’

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা বিআরটিএর স্লিপের ব্যাপারে অবগত রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, স্মার্ট কার্ডের জন্য তারা আবেদন করেছেন। এখনো তারা কার্ড পাননি। আবার কেউ বলছেন, নম্বর ভুল হওয়ার কারণে স্মার্ট কার্ড আটকে গেছে।

এ নিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে সংশোধনী দেওয়ার জন্য আরেকটি ফর্মে আবেদন করতে হবে। ওই আবেদন করলে লাইসেন্স দ্রুত পাওয়া যাবে। অফিসে বুথের সংখ্যাও কম, যে কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তিও বাড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তাদের ডেলিভারি কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে জনগণকে যাতে ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সে জন্য অফিসগুলোতে বুথের সংখ্যা ও জনবল বাড়াতে হবে। 

প্রিন্ট মেশিনের স্বল্পতা দূর করতে হবে। বিআরটিএর স্লিপ যাদের সঙ্গে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না। অফিসগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য বড় রকমের সমস্যা, এটা দূর করতে না পারলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হবে। দালালদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি শিক্ষার্থীদের দাবিই পূরণ হলো

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫০ পিএম
কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি শিক্ষার্থীদের দাবিই পূরণ হলো

সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য রাখা হয়েছে। ৯ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কোটাব্যবস্থা কার্যকর হবে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পুনর্বহাল-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় সামগ্রিকভাবে বাতিল (রদ ও রহিত) করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নারী ও জেলা কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা না থাকলে বৈষম্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন দেশের বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা। তারা মনে করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলোর (এসডিজি) একটি হলো নারী-পুরুষের সমতা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নারী কোটা অবশ্যই প্রয়োজন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি কর্মচারী কর্মরত। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৮। আর পুরুষ ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫০ জন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে। বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। দেশের চলমান সংকটময় মুহূর্তে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে রায়ের প্রজ্ঞাপন পড়ে শোনান। প্রজ্ঞাপনের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কারের যে রায় সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ দিয়েছেন, সরকার তা প্রতিপালন করেছে। সব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রী যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার দেখভাল করবে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মামলাও সরকার দেখবে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সব ছাত্রছাত্রীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার পরিবেশ সরকার নিশ্চিত করবে। সরকার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট সজাগ। কোটা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল। সরকার তা পূরণ করেছে। অতএব, শিক্ষার্থীদের কর্তব্য তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়া। সর্বোচ্চ আদালত অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি রায় দিয়েছেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ঢোকানোর পরিকল্পনা অপশক্তির আগে থেকেই ছিল। ডেটা সেন্টার জ্বালিয়ে দিয়ে ইন্টারনেট থেকে দেশকে বিচ্ছিন্ন করেছে তারা। সারা বিশ্বে তারা একটা ভুল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এই সুযোগে। তিনি গণমাধ্যমকে ঘটনার সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে দেশে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থগিত করতে হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা। এরই মধ্যে তিন শতাধিক পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। একাডেমিক, পাবলিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও পেছাতে হচ্ছে। ফলে পরীক্ষায় জট তৈরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে হবে। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ সুনিশ্চিত করবে। দ্রুত ইন্টারনেট সেবা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। কারফিউ তুলে দিয়ে জনজীবনের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। যারা নাশকতা, সহিংসতা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নাশকতাকারীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
নাশকতাকারীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন। এতে করে কোটাসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই অবসানের পথে। ইতোমধ্যেই আপিল বিভাগের রায়ে স্বাক্ষর করেছেন সাত বিচারপতি। রায়ের কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, গতকাল কোটা সংস্কারসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তবে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো অনেকটা উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে সহিংসতার পথ বেছে নেয় রাজনৈতিক কুচক্রী মহল। তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিস, স্থাপনা ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছে। ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন আর শান্তিপূর্ণ থাকেনি। সেতু ভবনের ৫৫টি গাড়ি পুড়ে কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিআরটিএ ভবনে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। দুর্যোগ ভবনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। মিরপুর বিআরটিএ অফিসের ১২১ কোটি টাকার ডিআইসি ধ্বংস করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নথি। গান পাউডার দিয়ে এমনভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে, যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে এটা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। এতে অবশ্যই দক্ষ ও পেশাদার লোক জড়িত। 

বীভৎস তাণ্ডবে তছনছ বিভিন্ন ভবন। মেট্রোরেলের দুই স্টেশনে কেবলই ধ্বংসের চিত্র। নাশকতার এসব ধকল কাটাতে এক বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় এমন ভয়ানক নাশকতার তাণ্ডব, সেই সঙ্গে সমানতালে চলেছে লুটপাট। সভ্যসমাজে কখনো এটি আশা করা যায় না। নরসিংদীর কারাগার থেকে ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়েছে। এর মধ্যে ৯জন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। ৭জন আনসার উল্লাহ বাংলা বাহিনীর এবং ২জন নারী জেএমবির সদস্য। এদিকে দুর্বৃত্তদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারাগারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কারাগার থেকে বের হওয়া জঙ্গিরাও সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। অনেকে অস্ত্র ও গুলিসহ পালিয়েছে। তারাও দেশে বড় ধরনের নাশকতা করতে পারে। অবিলম্বে এসব অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েদিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সহিংসতা ও নাশকতাকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি। পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র সরকার উৎখাত করতে এ ধরনের নাশকতামূলক কাজ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঢাকাসহ সারা দেশে গতকালও সহিংসতা হয়েছে। এতে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত ৫ শতাধিক। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৯৩ জন। ইতোমধ্যে বহু প্রাণ ঝরে গেছে। দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও পরিবেশ এখনো সুবিধাজনক মনে করছে না সরকার। এ জন্য সরকারের মধ্যে অস্বস্তি রয়ে গেছে। সরকার মনে করছে, এতদিন ধরে চলা সহিংসতায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি জড়িত।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পর্কে কোনো কিছু স্পষ্ট করেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা আন্দোলন বন্ধ রাখবে নাকি চালিয়ে যাবে, তা জানা যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে তিন বাহিনীর প্রধান এবং বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। 

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, কারফিউ বলবৎ থাকলে সাধারণ ছুটিও বাড়তে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে।

সারা দেশে জনমনে চরম অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্বাভাবিক জনজীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একটি বিশেষ পরিস্থিতি চললেও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, দেশের পরিবেশ বিনষ্টকারী ও নাশকতাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সব বিষয়ে সতর্ক থেকে কাজ করছি। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য। 

যারা নাশকতা সৃষ্টি করছে এবং জানমালের নিরাপত্তার জন্য যারা হুমকিস্বরূপ তাদের যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সব ইন্টারনেট সেবা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে কারফিউ তুলে নিতে হবে। জনজীবনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসুক সেটিই প্রত্যাশা।

কোটা বাতিল: আদালতের রায় মেনে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরুন

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
কোটা বাতিল: আদালতের রায় মেনে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরুন

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহুল আলোচিত সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে দিয়েছেন। গতকাল রবিবার আপিল বিভাগ কোটাসংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া রায় রদ ও রহিত করে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। কোটা সংস্কার নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন চরম সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় আপিল বিভাগ এ রায় দিলেন। 

বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে জারি করা হয় কারফিউ। কারফিউ আতঙ্কে বাজারে কেনাকাটারও হিড়িক পড়ে। পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় নিত্যপণ্য পেতে জনসাধারণকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পণ্যের দামও মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষ পেটের দায়ে কারফিউ উপেক্ষা করেই বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি রাজনৈতিক কুচক্রী মহল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা সরকারি স্থাপনা, অফিস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো সহিংসতা তারা সমর্থন করেন না। তারা ন্যায্য দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। কোনো সহিংসতা তারা করেননি। সরকার উৎখাতের বিষয়টি তাদের দাবির মধ্যে নেই। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন আর শান্তিপূর্ণ থাকেনি। সহিংসতা ও নাশকতাকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি। পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র সরকার উৎখাত করতে এ ধরনের নাশকতামূলক কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কোটা আন্দোলন নিয়ে এত রক্তপাত, এত প্রাণহানি, এত সহিংসতা কখনো বাংলাদেশ দেখেনি। সব মিলিয়ে এই আন্দোলনের বিস্তৃতি ঘটেছে। অগ্নিসংযোগ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ, কারাগারে আগুন ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি অফিস স্থাপনায় হামলাসহ কয়েক দিন ধরে এ দেশে যা ঘটেছে তা রীতিমতো বেদনাদায়ক ও অগ্রহণযোগ্য। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। আর্থিক লেনদেনব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং সেবা এখন অনেকটাই অনলাইননির্ভর। সেটাও স্থবির হয়ে পড়েছে। যে কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গণমাধ্যমগুলো তাদের অনলাইন কার্যক্রম চালাতে পারছে না। দেশের প্রাণহানির ঘটনায় আপিল বিভাগ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার অনুরোধ করেছেন। সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি (৯ম-১৩তম গ্রেডে) মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ১ শতাংশ কোটা এ রায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, সরকারি চাকরিতে বিভিন্নভাবে মোট কোটা ছিল ৫৬ শতাংশ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে কারও আপত্তি কখনোই ছিল না। এমনকি তাদের সন্তানদের কোটা দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠেনি; কিন্তু তাদের তৃতীয় প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের এ দাবি উপেক্ষা করে বিষয়টিকে জটিল থেকে জটিলতর করা হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা কোনোক্রমেই অনগ্রসর গোষ্ঠী না। মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন আমাদের গর্ব। তারা অগ্রগামী সৈনিক। আমাদের সংবিধানে যে কথাগুলো আছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে যে কথাগুলো আছে, সে আলোকে এটা বুঝতে হবে।’

কোটা ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। ভবিষ্যতে এটা সংস্কার করার প্রয়োজন হলে সরকার করতে পারবে। কারণ এটা নীতিনির্ধারণী ব্যাপার।’ সরকার শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। এবার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিবে সরকার। ছাত্ররা কোনো ধরনের সহিংসতা ও নাশকতায় লিপ্ত হবেন না। ছাত্রদের ব্যবহার করে কেউ যাতে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরা যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে কোনো রকম হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকার আরও উদ্যোগী হবে। অচিরেই দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে, সেটাই সবার প্রত্যাশা।

সারা দেশে কারফিউ: দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি কাম্য

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
সারা দেশে কারফিউ: দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি কাম্য

কোটা সংস্কার আন্দোলন এখন গড়িয়েছে ব্যাপক নাশকতা ও সহিংসতায়। এ পর্যন্ত সহিংসতা ও নাশকতার বলি হয়েছেন ১০৩ জন। গত শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কিছু সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের গোয়েন্দারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি রাজনৈতিক কুচক্রী মহল নাশকতামূলক কাজ করছে। তারা সরকারি অফিস ও বিভিন্ন জায়গা লক্ষ্য করে নাশকতার মাধ্যমে জ্বালাও-পোড়াও করছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আন্দোলনকারীরা এ পর্যন্ত সারা দেশে ৫৫টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ঘটিয়েছেন ২৮টি। 

ঢাকার মিরপুর বিআরটিএ ভবন, মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিজ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, আদাবর থানা, মিরপুর ১০ নম্বর ফুটওভারব্রিজসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগের কারণে দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে সরকারি গাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ঢাকা নগরী যেন এক অঘোষিত যুদ্ধনগরী। এ রকম একটি অস্থির অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার অবশেষে কারফিউ জারি করেছে। কারফিউ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনগণের জানমাল রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কারফিউ থাকবে। গণমাধ্যম ও জরুরি পরিষেবা কারফিউর আওতামুক্ত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্পেন সফর বাতিল করেছেন।

নাশকতা ও সহিংসতায় বাস-রেল-নৌপথ অচল হয়ে পড়েছে। নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে ৬০০ কয়েদি পালিয়েছে বলে তথ্য এসেছে। নানা রকম গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এতে জনমনে একধরনের শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’ সারা দেশে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়েছে। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় তথ্যগত ব্ল্যাক আউটের আশঙ্কা তৈরি করে। যার ফলে গুজব, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। 

গত কয়েক দিনের সহিংসতা ও নাশকতায় যে অস্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে তাতে জনজীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বাস-ট্রেনসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপণ্যসামগ্রী ঢাকায় আসতে পারছে না। পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের এখন না খেয়ে মরার অবস্থা। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনে সহিংসতা সমর্থন করে না বলে জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারি চাকরিতে কোটা ন্যূনতম ৫ শতাংশ নামিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়াসহ ৮ দফা দাবি পেশ করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩ সমন্বয়ক আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে এই ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। এটা যৌক্তিক সমাধানে যাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। সংকট উত্তরণে সরকার শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলেছে। আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। মেধার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেছে। এ সিদ্ধান্তটি সরকার যদি কয়েক দিন আগে নিত তা হলে এতগুলো মূল্যবান প্রাণ ঝরে যেত না। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, কোটা নিয়ে হাইকোর্টের পুরো রায় বাতিল চাইবে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ (২১ জুলাই, রবিবার) আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আলোচনার জন্য যেসব শর্তের কথা বলেছেন, তা ন্যায্য। শিক্ষার্থীদের প্রতি দেশের জনগণের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। এতগুলো প্রাণহানিতে সাধারণ জনগণ চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। সরকার ও এর নীতিনির্ধারকদের সংকটের গভীরতা বিবেচনা করে বাস্তবতার নিরিখে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর যৌক্তিক সমাধানে আসতে হবে। যেসব পরিবার আজ তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, সেই পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। আমরা সবাই প্রত্যাশ্যা করছি, অচিরেই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

সহিংসতার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সমাধান করুন

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৯ পিএম
সহিংসতার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সমাধান করুন

কোটা সংস্কার ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’ কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক সংঘাত-সহিংসতা হয়েছে। মারাত্মক অবনতি ঘটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। তথ্যমতে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত (রাত ৮টা) ৫১ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০০ জন আহত হন। গত বৃহস্পতিবার কয়েক দফায় হামলা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন বিটিভির কার্যালয়ে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয় বিটিভির সম্প্রচার। সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনা, জেলখানা, মেট্রোরেল, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় হামলা হয়েছে। ঢাকার বাইরেও সংঘর্ষ, হামলা ও বিক্ষোভ হয়েছে।

তথ্যমতে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত সারা দেশে ১০০ জনের বেশি সাংবাদিক হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকে গ্রাহক ছিল কম, অনলাইনে লেনদেনও ছিল শ্লথ। সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা ফোর-জি বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট বন্ধের কারণে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে গুজব আরও ছড়িয়ে পড়ছে। গুজব প্রতিরোধে অবাধ তথ্যপ্রবাহ দরকার। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে চলমান এসব সহিংসতার খবর প্রকাশ করেছে। কিছু গণমাধ্যম এ ঘটনাকে বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা প্রধান প্রধান মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষ কমার কোনো আভাস নেই।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দেশজুড়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তারা কোনো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সমর্থনও করে না বলে জানিয়েছেন।

কোটা সংস্কারে নীতিগতভাবে একমত প্রকাশ করেছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ কয়েকজন মন্ত্রী। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া দ্রুত মেনে নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল, আহত হলো, দেশজুড়ে এত সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলো; এটা কি এড়ানো সম্ভব ছিল না? এ ক্ষতির দায় কার ওপর বর্তাবে? শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটিকে কেন এই পরিণতির দিকে যেতে হলো? সরকার কেন দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান দিতে ব্যর্থ হলো? কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বারবার আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা একটি ইতিবাচক সমাধানের পথ খুঁজছিলেন। সরকারই তাদের সমস্যা সমাধানের একমাত্র অভিভাবক। ঠিক তখনই আদালতের ওপর ভরসা রাখতে বলল সরকার। ফলে শিক্ষার্থীদের মনে কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটি আর শান্তিপূর্ণ না থেকে সহিংসতায় রূপ নেয়। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সারা দেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও শরিক হয়। বিক্ষোভ রূপ নেয় সহিংসতায়।

আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানই সহিংসতা এড়ানোর একমাত্র পথ। সব মহল থেকেই এটাই বলা হচ্ছে। সরকার নীতিগতভাবে একমত হয়েছে, এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। এটি আরও আগে হলে এতগুলো মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার কীভাবে কোটা সংস্কার বিষয়টি সমাধান করবে, তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহনশীলতা ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, সে জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার আরও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে, সেটাই প্রত্যাশা।