ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ডাক সেবায় আসছে অটোমেশন পদ্ধতি: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী চীনের উসিতে চালু হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিনেমা হল প্রশিক্ষণ মাঠেই থেমে গেল এসআই জীবন রহমানের জীবনযাত্রা তানিয়া বৃষ্টির মৃত্যুর খবরে যা জানা গেল বাড়ি নির্মাণে ঋতুপর্ণাকে অর্থ সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নীরবতার কণ্ঠস্বর ‘ভাসানে উজান’ মুক্তি পেল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ট্র্যাক ‘সির সির’
Nagad desktop

নানামুখী সংকটে বিমা খাত আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩১ পিএম
আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বাংলাদেশের বিমা খাত সেভাবে আশা জাগাতে পারেনি। উপরন্তু খাতটি আস্থাহীনতাসহ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। বিশ্বব্যাপী বিমা খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা এখনো অনেকাংশে অব্যবহৃত রয়ে গেছে। সরকারি হিসাবে বিমার আওতায় আছেন দেশের  মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বিমা খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুশাসনের অভাব, দুর্বল বিনিয়োগ কৌশল, সীমিত পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ডিজিটালাইজেশনের অভাব একে পিছিয়ে দিচ্ছে। বিমা খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ খাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশাসন, দক্ষ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব বিমাপণ্য সরবরাহ করা। সেই সঙ্গে বিমা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নীতিবান মানবসম্পদ, আইডিআরএর সঠিক নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুশাসনের অভাবেই অনেকটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের বিমা খাত। অনেক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে অনিয়ম, প্রিমিয়াম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্বসহ একাধিক কারণে জনগণের আস্থা হারিয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় আমাদের দেশে বিমা খাত পিছিয়ে রয়েছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, আর্থিক সাক্ষরতার অভাব ও বিমা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের দুর্বল সুশাসন, জবাবদিহির অভাব ও কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম খাতটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তৃতীয়ত, ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার বিমা সেবাকে ধীর ও জটিল করেছে। এ ছাড়া আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ব্যাপকতা এবং আইনের প্রয়োগ দুর্বল হওয়াও খাতটির বিকাশে প্রতিবন্ধক। তাই বিমা খাতে গ্রাহকের আস্থা  ফিরিয়ে আনতে প্রথম ও প্রধান উদ্যোগ হওয়া উচিত স্বচ্ছতা ও সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আরও শক্তিশালী করে অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে খাতটির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে।

খাত বিশেষজ্ঞ ও চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের সাবেক সিইও জিয়াউল হক খবরের কাগজকে বলেন, বিমা খাতকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করা সম্ভব হলে গ্রাহক প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার তথ্য জানতে ও দেখতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন বিমার প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে। দেশের বিমা খাত ডিজিটালাইজেশনে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। অর্থনীতিতে বিমা খাতের অবদান বাড়াতে হলে প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বিমা খাতকে কেবল ব্যবসা নয়, জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
বিমা খাত সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ এখনো সচেতন নয়। সাধারণ মানুষ মনে করেন বিমা মানে ঝামেলা বা অর্থের অপচয়। বাস্তবে একটি ভালো বিমাপণ্য জনগণের আর্থিক সুরক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হতে পারে। বিমা খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত জরুরি। 
বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান বাড়ছে। বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে বিমা খাতের অবদান বাড়ার পরিবর্তে কমছে। বর্তমানে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা দুই বছর আগেও ছিল প্রায় ১ শতাংশ। এ খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালাতেও নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে এ খাত শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই দেবে না, জাতীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

স্মার্টফোনের পর্দায় জুয়ার আসর বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে অনলাইন জুয়া। মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই মহামারি। আবালবৃদ্ধবনিতা কেউ রেহাই পাচ্ছে না ভয়ংকর এই থাবা থেকে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, স্কুলশিক্ষার্থীরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ভয়াবহতা এতটাই কঠিন যে কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। এসব অনলাইন জুয়ার কারণে আত্মহত্যা, খুন, চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং বিকাশ ও নগদে লেনদেন সহজ হওয়ায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর অনলাইন বেটিং সিন্ডিকেট। অনলাইন জুয়ায় শুধু মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেই না, এর মাধ্যমে বিকাশ, নগদে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যমতে, নগদ৮৮, বাবু৮৮, সিভি৬৬৬, সিকে৪৪৪, ক্রিক্রিয়া, লাইনবেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে চলছে জুয়ার আসর। দেশে বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলনের সুবিধা থাকায় দ্রুত বাড়ছে এ ধরনের অপরাধ। অনেক তরুণ জুয়ার টাকা জোগাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, শুরুতে সামান্য লাভ দেখিয়ে অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তোলে। এরপর আস্তে আস্তে তাদের নিঃস্ব করতে থাকে। বেশি লোভের ফাঁদে পড়ে মানুষ এ পথে পা বাড়ায়। তখন মানুষ এ থেকে বের হতে চাইলেও আর ফেরার পথ হারিয়ে ফেলে। অধিকাংশ ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে অভিযোগ করতে চান না। এর ফলে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

অভিযোগ উঠেছে, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট, মাস্টার এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এরা অনলাইন জুয়ার জগতের পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। জানা গেছে, খেলোয়াড় হারলেও তারা কমিশন পেয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে থাকে। এসব বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের এআই-নির্মিত ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অধিকাংশ বেটিং সার্ভার বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মূল হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অঞ্চলগুলোয় এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে সিএনজিচালক, কলেজশিক্ষার্থী, নির্মাণশ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত এসব বেটিং অ্যাপে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে জড়িয়ে এজেন্টরা হঠাৎ করে কালোটাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান বৈধ কোনো আয় না থাকলেও দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করে বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভয়ংকর এই জুয়ার নেটওয়ার্কের বড় শক্তি হলো সহজ প্রযুক্তি ও মোবাইল ব্যাংকিং। জানা গেছে, অনেক গ্রাহক দিনে কয়েকবার বহু অঙ্কের টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অনলাইন জুয়ার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরলেও কিছুদিন পর জামিন নিয়ে বের হয়ে দেশের বাইরে চলে যায়। অপরাধীরা বিদেশে বসে এ ধরনের অপরাধে সক্রিয় থাকে। পুলিশ প্রশাসনও বলছে, মূল হোতারা বিদেশে থাকায় তাদের জন্য তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া টাকার প্রবাহ যেখানে বেশি সেখানেই এ ধরনের জুয়ার কার্যক্রম বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই এ ধরনের জুয়া, হুন্ডি, অর্থ পাচার ঠেকাতে ডিজিটাল নজরদারি বাড়াতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গেলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে। অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। এ জন্য সরকারকে একটি সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে সরকারকে কাজ করতে হবে।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে গতকাল। বহুল আলোচিত এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে দেশে বিচারিক প্রক্রিয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুক সালেকিন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়; এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগ দায়ের এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। 

এ রায়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারের নজির স্থাপিত হলো। বিচারক দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রত্যাশা করেন, উচ্চ আদালতে গেলেও এ রায় বহাল থাকবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধাপ সম্পন্ন করে কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রকম বেদনাদায়ক একটি ঘটনার বিচার করা সম্ভব হলো। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলছেন, রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টে নথি পৌঁছালে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রামিসার বাবা মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ে কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।’ দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায় ঘোষণার নজির নেই। 

সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি, দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ অনেক বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগ শিশু। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে ২৫৯ জন নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বলা হচ্ছে, এর মধ্যে ৫৯ মেয়েশিশুসহ ৭২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ১২ মেয়েশিশু, ৩৪ জন নারীসহ মোট ৪৬ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। 

বিচার না হওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এসব অপরাধ ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আমরা আশা করব, শুধু রামিসাই নয়, শিশু আছিয়া হত্যাকাণ্ডের মতো আরও যেসব হত্যাকাণ্ড এ দেশে ঘটেছে, সব অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একটি স্বচ্ছ বিচার-প্রক্রিয়া অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এর মাধ্যমে অপরাধীদের অপরাধ করতে গেলে একবার হলেও ভাবতে হবে। সরকার চাইলেই দ্রুত যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তার নজির রামিসা হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির রায়। এর মাধ্যমে জনগণের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে যে, অপরাধ করলে অপরাধী শাস্তি পাবে। সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না হলে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে না। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, সেটিই কাম্য।

পুশইন নয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে আইনি বিধির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক পুশইনের পথ বেছে নিচ্ছে। এটি যেমন নিন্দনীয়, তেমনি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তারা আইনের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে রাতের আঁধারে বা সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কাজ করছে। এই একতরফা নীতির কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবিকসংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত কয়েক দিনে যশোর, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, সিলেট, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একাধিকবার পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে আটকে থাকা ২৮ জনের কান্নায় জিরো লাইনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শিশুদের কান্না আর নারীদের আকুতি স্থানীয় সীমান্তবাসীকেও ব্যথিত করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র রোদ, রাতের ঠাণ্ডা আর বৃষ্টি এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে, বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় তাদের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, বিচারহীনভাবে কোনো মানুষকে এভাবে জিরো লাইনে বন্দি করে রাখা এবং মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার চিত্র নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশইনের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক প্রবণতা। কয়েক দিন ধরেই এই অপচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী দমনের নামে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাভাষী মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরাসরি অভিযোগ করেছে যে ভারত দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সীমান্ত চুক্তি বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, এই অনিয়মতান্ত্রিক পুশইন বন্ধের জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতকে স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নাগরিককে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, প্রটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করলেই তাকে সরাসরি সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশিসহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
ভারতের বিএসএফের অবৈধ পুশইন ও চোরাচালান রোধে বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে নজরদারি ও জনবল বৃদ্ধি করেছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এটি আরও বাড়াতে হবে। ভারত একটি বন্ধুপ্রতিম বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর নামে যে পুশইন তৎপরতা ভারত শুরু করেছে, তাতে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আশা করছি, দুই দেশের সম্পর্ককে গতিশীল ও দৃঢ় করতে ভারত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বড় দেশ হিসেবে ভারতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাপপ্রবাহ। সেই সঙ্গে আগুনে ঘি ঢালতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সক্রিয় হচ্ছে ওশেনিয়া অঞ্চলের আবহাওয়ার বিপজ্জনক ধাপ ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে উঠে আসা এই উষ্ণ জলরাশি এবার ‘সুপার এল নিনো’ বা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। ইতোমধ্যে দেশে একের পর এক জেলায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হলে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, পানিসংকট, ফসলহানি, স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পানিসম্পদ, জনস্বাস্থ্য এবং শ্রমনির্ভর জীবনযাত্রা সরাসরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাপপ্রবাহকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে এখনই আমলে নিতে হবে। আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু চক্রের চেয়েও দেশের ভেতরের মানবসৃষ্ট স্থানীয় বিপর্যয়গুলোই এ দাবদাহকে মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পেছনে বৈশ্বিক কারণগুলোর চেয়ে স্থানীয় কারণ তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বিচারে বন উজাড় ও জলাশয় ভরাটকে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনাবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে গভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন। এতে সরাসরি উৎপাদন ব্যাহত না হলেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশকে এখন তাপপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক নীতি, আগাম সতর্কবার্তা, নগর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকটই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ তাপপ্রবাহের ভয়াবহতা উপলব্ধি করেছে ২০২৪ সালে। সেই সময়টাতে অনেক অঞ্চলে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। হাসপাতালে হিটস্ট্রেকা ও পানিশূন্যতার রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময়ে বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় মানুষ অনবরত ঘামছে এবং গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে মেগাসিটির বস্তিবাসী ও রিকশাচালক, হকার বা দিনমজুরের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি বহু গুণ বেড়েছে। সারা দেশেও কয়েক দিন ধরে গরমের তীব্রতা বাড়ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষই বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। হাসপাতালগুলোতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো কাজ করছে না অনেকের। এতে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এ সময়ে ডায়রিয়া, বমি, টাইফয়েড, আমাশয়, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে তাপপ্রবাহের গতি প্রকৃতি দ্রুত বদলে গেছে। এ ধরনের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। তাপমাত্রা কমাতে নগরাঞ্চলে সবুজ বনায়ন অর্থাৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। তাই এখনই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করুন কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস

তৈরি পোশাকশিল্পের পর দ্বিতীয় বৃহত্তর সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে চামড়াশিল্প। অথচ এই খাতটি অবহেলার শিকার। নানা সমস্যায় জর্জরিত এ শিল্প নিয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাও পরিলক্ষিত হয়নি। এবার ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী আশ্বাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিও কাজে আসেনি। খবরের কাগজের ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কোথাও কোরবানির চামড়ার ন্যায্য দাম মেলেনি। ঈদুল আজহার আগে শিল্পমন্ত্রী কয়েক দফায় গণমাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এবার চামড়ার বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। চামড়া সরকারনির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে। মাঠপর্যায়ে কোথাও যেন অনিয়ম না হয়, সে জন্য প্রশাসন কঠোর নজরদারি করবে। চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বাজারে প্রচুর পরিমাণে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অথচ মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।

ঈদের দিনে পাইকারি আড়তগুলোতে চরম মন্দাভাব দেখা যায়। রিকশাভ্যান ও ট্রাকে করে চামড়া নিয়ে আসা কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারনির্ধারিত দামে আড়তদাররা চামড়া কিনছেন না। তারা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে চামড়া কিনছেন। কোরবানির চামড়ার বাজারে আকর্ষিক এই দরপতনে তাদের দিশেহারা অবস্থা। নিরুপায় হয়ে চামড়া সংগ্রহকারীরা আড়তের সামনে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন। কিছু কিছু এলাকায় চামড়া মাটিতে চাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার কোথাও ক্রেতা না পেয়ে অনেকে চামড়া রাস্তায় ফেলেও দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক যুগ ধরে কোরবানির চামড়ার বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট কৌশলে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেট সরকারের বেঁধে দেওয়া দামকে তোয়াক্কা করে না। তারা অনেক কম দামে চামড়া কেনে। ফলে প্রতিবছর প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। মূলত সঠিক সংরক্ষণের অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। চামড়ার বাজারের এই অস্থিরতা দূর করতে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনেও সরকারি উদ্যোগে চামড়া সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কারখানাগুলোর অব্যবহৃত জায়গায় সংরক্ষণ কেন্দ্র করা সম্ভব। এসব কেন্দ্রে আশপাশের এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে সহজেই সংরক্ষণ করা যাবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে চরম নৈরাজ্য হয়। সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। সরকার বিভাগীয় শহরগুলোতে বিসিকের শিল্পপ্লট ব্যবহার করতে পারে। সেখানে চামড়া সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। মৌসুমি ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা চামড়া কেনার পর সেখানে তা সংরক্ষণ করবেন। পরবর্তী সময় ভালো দাম পাওয়া গেলে আড়তদার ও ট্যানারিমালিকদের কাছে তা বিক্রি করা যাবে। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। একই সঙ্গে কম দামে দ্রুত চামড়া বিক্রি করার লোকও থাকবে না।

প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, তাতে চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিত হয় না। সেই সঙ্গে কোরবানিদাতা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অথচ একসময় কোরবানির মৌসুমে ছাগল, বকরি ও খাসির চামড়া ছিল গ্রামের দরিদ্র মানুষ, মাদ্রাসা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। সেই চামড়া এখন অনেকের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রপ্তানিযোগ্য এই অর্থকরী পণ্যের বড় একটি অংশ অর্থনীতির বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই সংকট উত্তরণে সরকারকে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এবার চামড়ার বাজারে যে ধস লক্ষ করা গেছে, তা যেন পরবর্তী সময়ে না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে যারা সিন্ডিকেট করে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকার চামড়ার নৈরাজ্য দূরীকরণে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।