আমার প্রিয় খেলা ফুটবল রচনা
ভূমিকা: সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত খেলাধুলা দরকার। খেলাধুলা না করলে শরীরে অলসতাসহ নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘All work and no play make Jack a dull boy।’ তাই বিশ্বের অনেক দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের খেলার প্রচলন রয়েছে। ফুটবল একটি উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। এ খেলার সূচনা হয় চীনে। বর্তমানে সারা বিশ্বে এ খেলাটি তুমুল জনপ্রিয়। আমারও প্রিয় খেলা ফুটবল।
ফুটবল মাঠের বর্ণনা: সাধারণত একটি সমতল মাঠে ফুটবল খেলা হয়। মাঠের চারদিক সীমারেখা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এ খেলার জন্য আদর্শ মাঠ হচ্ছে দৈর্ঘ্যে ১২০ গজ ও প্রস্থে ১৮০ গজ। লম্বালম্বি দুই বিপরীত প্রান্তে দুটি গোলপোস্ট থাকে।
খেলার বর্ণনা: একটি বল মাঠের মাঝামাঝি স্থাপন করা হয়। দুটি দলের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক দলে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে। গোলপোস্ট পাহারায় থাকে একজন গোলরক্ষক। মাঝখানে ১০ মিনিট বিরতি ছাড়া ৪৫ মিনিট করে মোট ৯০ মিনিট খেলা হয়। সময় শেষে যে দল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকে তারাই জয়ী হয়।
পরিচালক: যিনি ফুটবল খেলা পরিচালনা করেন, তাকে বলা হয় রেফারি। খেলার সব ব্যাপারে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার নির্দেশে খেলা শুরু এবং শেষ হয়। কোনো খেলোয়াড় নিয়ম ভঙ্গ করলে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে তাকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেন এবং লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারেন। মাঠের দুই পাশে দুজন লাইন্সম্যান তার কাজে সাহায্য করেন।
খেলার নিয়মকানুন: ফুটবল খেলার কতগুলো নিয়ম আছে। গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কেউ হাত দিয়ে বল ধরলে ‘হ্যান্ড বল’ ধরা হয়। বল সীমানার বাইরে চলে গেলে ‘আউট’ ধরা হয়। অপর পক্ষের খেলোয়াড়কে অহেতুক ধাক্কা দিলে বা পা লাগিয়ে ফেলে দিলে ‘ফাউল’ ধরা হয়। কোনো পক্ষ নিজ গোলপোস্টের সীমানায় হ্যান্ডবল করলে বা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করলে ‘পেনাল্টি’ দেওয়া হয়। আর প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে বল যদি নিজ গোলপোস্টের পার্শ্ব সীমানার বাইরে চলে যায় তবে অপরপক্ষ ‘কর্নার’ লাভ করে। বল গোলপোস্টে প্রবেশ করলে সেটিকে গোল হিসেবে ধরা হয়।
ফুটবল খেলা আমার প্রিয় হওয়ার কারণ: ফুটবল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ খেলা এবং এ খেলার সময়কালও তুলনামূলক কম। তাই ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। তাছাড়া ফুটবলের মাধ্যমে শরীর গঠনের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌন্দর্য ও সম্প্রীতিও বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা পায়। তাই আমার প্রিয় খেলা ফুটবল।
আরো পড়ুন: পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা
উপকারিতা: ফুটবল খেলা বেশ আনন্দদায়ক। এ খেলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে দেহের সব অংশ উত্তমরূপে পরিচালত হয় বলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সবল ও দৃঢ় হয়। খেলোয়াড়দের কতগুলো নিয়মের অধীনে খেলতে হয় বলে তারা নিয়মানুবর্তিতা, কর্মতৎপরতা এবং একতাবদ্ধ হয়ে কিছু করার শিক্ষা লাভ করে।
অপকারিতা: খেলার মাঠে খেলোয়াড়রা কখনো কখনো মারাত্মক আঘাত পেয়ে থাকে। তাছাড়া দুই দলের সমর্থক ও দর্শকদের মধ্যে প্রায়শই মারামারি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা বেধে যায়। এমনকি কখনো কখনো প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে।
উপসংহার: ফুটবল খুবই আনন্দময় ও উপকারী খেলা। এ খেলা খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায়। যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য ফুটবল খেলা একটি ভালো ব্যায়াম। এ খেলা আমাদের সহযোগিতা ও শৃঙ্খলাবোধ শিক্ষা দেয়। তাই ফুটবল আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলা।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর