ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
Nagad desktop

পিরামিড প্রবন্ধের ৫টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ৩য় পর্ব, সপ্তম শ্রেণির বাংলা

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:২৮ পিএম
পিরামিড প্রবন্ধের ৫টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ৩য় পর্ব, সপ্তম শ্রেণির বাংলা
পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। ছবি- সংগৃহীত

পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রবন্ধ: পিরামিড

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: পিরামিড সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: পিরামিড পৃথিবী সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। পিরামিড পাথরের তৈরি। পাথর কেটে পাথরের টুকরার ওপর পাথরের টুকরা বসিয়ে পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। মিসরকে পিরামিডের দেশ বলা হলেও মিসরের বাইরেও পিরামিড আছে। মিসরের ফারাওরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তাদের মৃত্যুর পর দেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিলেন। এত বিশাল পিরামিড তৈরির কৌশলের রহস্য আজও অজানা।

প্রশ্ন: ফারাও সম্রাটদের ঐশ্বর্য আর প্রতাপ সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: সবচেয়ে বড় পিরামিড নির্মাণে ১ লাখ লোকের ২০ বছর লেগেছিল। রাজধানীর মতো ব্যয়বহুল শহরে লক্ষাধিক লোককে রেখে দীর্ঘ ২০ বছর খাইয়ে-পরিয়ে, তাদের থাকার ব্যবস্থা করে যারা এই পিরামিড তৈরি করেছিলেন তাদের ঐশ্বর্য আর প্রতাপ আমাদের ধারণার বাইরে। সেই সঙ্গে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক খরচ তো আছেই। উঁচু স্তরের সভ্যতার অধিকারী না হলে পিরামিড নির্মাণ সম্ভব হতো না।

আরো পড়ুন : পিরামিড প্রবন্ধের ২টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ২য় পর্ব

প্রশ্ন: পিরামিডে প্রবেশ নিয়ে যা জানো আলোচনা করো।
উত্তর: ফারাওদের রাজমিস্ত্রিরা কুঠুরি বানানো শেষ করার পর বের হওয়ার সময় বড় বড় পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে বাইরের দেয়ালে এত মজবুত পালিশ পলেস্তারা লাগিয়ে দিয়েছিল যে, ভেতরে প্রবেশের জন্য পৃথিবীর মানুষের সাড়ে ৬ হাজার বছর চেষ্টা করতে হয়েছে। মিসর জয়ের পর সবাই প্রথম চেষ্টা করেছিল পিরামিডে প্রবেশের পথ আবিষ্কার করতে। প্রথম প্রবেশকারী নিছক ঐতিহাসিক জ্ঞান সঞ্চয়ের জন্য প্রবেশ করেছিলেন।

প্রশ্ন: পিরামিডের উচ্চতা চোখের সামনে দেখেও ধারণা করা যায় না কেন?
উত্তর: পিরামিড দেখতে বিশাল আকৃতির। তবে চোখের সামনে পিরামিডকে দেখলে এর প্রকৃত উচ্চতা নিরূপণ করা যায় না। পিরামিড উপর থেকে চ্যাপ্টা হয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় চোখের সামনে এটি ক্ষুদ্রাকৃতির মতো মনে হয়। তাই পিরামিডের প্রকৃত উচ্চতা চোখের সামনে দেখেও ধারণা করা যায় না।

প্রশ্ন: ফারাওরা মৃত্যুর পর দেহকে মমি বানিয়ে রাখতেন কেন?
উত্তর: পরলোকে অনন্ত জীবন পাওয়ার আশায় ফারাওরা মৃত্যুর পর দেহকে মমি বানিয়ে রাখতেন। তারা বিশ্বাস করতেন, তাদের শরীর যদি মৃত্যুর পর পচে যায় বা কোনো প্রকার আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে তারা পরলোকে অনন্ত জীবন পাবেন না। তাই তারা মৃত্যুর পর দেহকে মমি বানিয়ে পিরামিডের ভেতরে নিরাপদে রেখে দিতেন, যাতে কেউ ছুঁতে না পারে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ  
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর

প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র
পৃথিবীর প্রাকৃতিক গঠন। ছবি- সংগৃহীত

প্রথম অধ্যায় : প্রাকৃতিক ভূগোল

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

২৫. নিচের কোন বিষয়টি জলবায়ু বিদ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়?
ক) বায়ুপ্রবাহ      খ) বায়ু চাপ
গ) সমুদ্র স্রোত    ঘ) ঘূর্ণিবাত

২৬. বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
ক) ভূমিরূপে         খ) সমুদ্র বিদ্যায়
গ) জীব ভূগোলে    ঘ) জলবায়ু বিদ্যায়

২৭. নদীর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন বিদ্যার মধ্যে পড়ে?    
ক) ভূমিরূপ বিদ্যায়    খ) জলবায়ু বিদ্যায়    
গ) সমুদ্র বিদ্যায়        ঘ) জীবমণ্ডল

২৮. ‘পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক ভূচিত্রাবলির বিজ্ঞানসম্মত পাঠই হলো প্রাকৃতিক ভূগোল।’ এটি কার সংজ্ঞা?
ক) রিচার্ড হার্টশোর্নের    
খ) ফ্রেডরিথ র‌্যাটজেলের
গ) American Heritage Science Dictionary-র
ঘ) ফেরেলের

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

‘ক’ শাখাটি ভূ-অভ্যন্তরের গঠন ও উপাদান, খনিজ ও শিলা, পর্বত, সমভূমি, মালভূমি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করে। এ শাখা অধ্যয়ন করলে ওই বিষয়গুলো বিস্তারিত জানা যায়।
২৯. ‘ক’ শাখা বলতে উদ্দীপকে নিচের কোনটি নির্দেশ করা হয়েছে?
ক) জলবায়ুবিদ্যা    খ) ভূমিরূপবিদ্যা
গ) সমুদ্র ভূগোল    ঘ) জীব ভূগোল

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

‘ক’ শাখাটি ভূ-অভ্যন্তরের গঠন ও উপাদান, খনিজ ও শিলা, পর্বত, সমভূমি, মালভূমি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করে। এ শাখায় অধ্যয়ন করলে ওই বিষয়গুলো বিস্তারিত জানা যায়।

৩০. ওপরের উদ্দীপকে বর্ণিত ‘ক’ শাখায় অন্যান্য যে বিষয় আলোচিত হয়-
i.  ভূমিকম্প 
ii. নদীর উৎপত্তি  
iii. জলবায়ু
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii    খ) ii ও iii
গ) i ও iii    ঘ) i, ii ও iii

আরো পড়ুন : প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

৩১. নিচের কোনটি প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল আলোচ্য বিষয়?
ক) পৃথিবীর বর্ণনা    খ) পরিবেশ ও প্রকৃতি
গ) পৃথিবীর জন্ম      ঘ) খনিজ সম্পদ

৩২. একটি বিষয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ওই বিষয়টি কী?
ক) জলবায়ু    খ) পরিবেশ
গ) সময়         ঘ) স্থান

৩৩. মহাকাশ ও মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করা হয় ভূগোলের কোন শাখায়?
ক) জ্যোতির্বিদ্যায়       খ) মানচিত্রাঙ্কন বিদ্যায়
গ) মহাকাশ বিদ্যায়    ঘ) আবহাওয়া বিদ্যায়

নিচের চিত্রটি লক্ষ করে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

৩৪। চিত্রে A, B, C মণ্ডল তিনটির পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করা হয় কোন ভূগোলে?
ক) প্রাকৃতিক ভূগোলে    খ) গাণিতিক ভূগোলে
গ) আঞ্চলিক ভূগোলে    ঘ) রাজনৈতিক ভূগোলে

৩৫। ওপরের চিত্রের জীবমণ্ডল নির্ভরশীল-
i. A মণ্ডলের ওপর    
ii. B মণ্ডলের ওপর
iii. C মণ্ডলের ওপর
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

উত্তর: ২৫. গ, ২৬. ঘ, ২৭. ক, ২৮. গ, ২৯.খ, ৩০. ক, ৩১. গ, ৩২.খ, ৩৩. ক, ৩৪. ক, ৩৫. ঘ।

লেখক : প্রভাষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

কবীর

বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ১ম পত্র

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ১ম পত্র
শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করছে। ছবি- সংগৃহীত

সপ্তম অধ্যায় : বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম

নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর: গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রম-
১। শিক্ষাবিস্তার: গ্রামীণ ব্যাংক দেশব্যাপী শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে দরিদ্র শিশু ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোররা গ্রামীণ ব্যাংক স্কুল থেকে শিক্ষালাভের সুযোগ পাচ্ছে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম হলো-
i) উচ্চশিক্ষা ঋণ: শিক্ষার মাধ্যমে দরিদ্র ঋণগ্রহীতার সন্তানদের ক্ষমতায়িত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দরিদ্র-মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে গ্রামীণ ব্যাংক উচ্চশিক্ষা ঋণ কর্মসূচি চালু করে। গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের সন্তান, যারা বিভিন্ন পাবলিক বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বা মেডিকেল কলেজ বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছে তাদের এ কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনাকালীন এ ঋণ দেওয়া হয়।
ii) শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি: ১৯৯৯ সালে গ্রামীণ ব্যাংক সদস্য পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করে। এ বৃত্তির উদ্দেশ্য আর্থিক কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং গ্রামীণ মেয়ে শিশুকে শিক্ষায় উৎসাহিত করা। মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত এ বৃত্তি পেয়ে থাকে। 
২। ভিক্ষুক ঋণ কর্মসূচি: ভিক্ষাবৃত্তি নিরোধ ও ভিক্ষুকদের সম্মানজনক জীবিকার নতুন পথে পরিচালিত করার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো ভিক্ষুক ঋণ কর্মসূচি। ২০০২ সালে গ্রামীণ ব্যাংক অসুবিধাগ্রস্ত সংগ্রামী ভিক্ষুকদের স্বকর্মসংস্থানের জন্য ভিক্ষুক ঋণ চালু করে। চরম দারিদ্র্যের শিকার এ ভিক্ষুক শ্রেণিকে ঋণদানের মাধ্যমে ফেরি ব্যবসা বা ভিক্ষার পরিবর্তে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোগ্যপণ্য বা বিভিন্ন গৃহস্থালি জিনিসপত্র বিক্রিতে উৎসাহিত করা হয়।
৩। স্বাস্থ্য কর্মসূচি: গ্রামীণ ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হচ্ছে স্বাস্থ্য উন্নয়ন। নিরাপদ খাবার পানি, টিকা ও ওষুধ, পরিবার পরিকল্পনা, স্যানিটারি এবং পুষ্টির ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক অবদান রেখে যাচ্ছে তাছাড়া কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে গ্রামীণ ব্যাংক জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করে থাকে।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র

৪। দারিদ্র্য দূরীকরণ: গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনে গ্রামীণ ব্যাংক প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। দুস্থ, দরিদ্র সম্বলহীন জনগোষ্ঠীকে দলবদ্ধ করে সংগঠিত করে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমা উত্তরণে সহায়তা করছে। গ্রামীণ হতদরিদ্র মানুষ বিনা জামানতে বাড়িতে বসে ঋণ গ্রহণ করে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভ করছে। দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও সাফল্যের জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
৫। গ্রামীণফোন: গ্রামীণ ব্যাংকের গ্রামীণফোন কার্যক্রম ছিল অভাবনীয়। গ্রামীণ ব্যাংক গ্রামীণফোনের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিকে গরিব নারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। এ কার্যক্রম তাদের উৎপাদিত পণ্যের হালনাগাদ তথ্য, বাজারদর ও চাহিদা, কৃষি এবং নারী ও শিশুস্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা সম্ভব ও সহজ করে দিয়েছে। লাখ লাখ লোক পল্লী ফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব গ্রামকে বিশ্বে সংযুক্ত করে রেখেছে। বিশ্ব অঙ্গনে এটি একান্তভাবেই গ্রামীণ ব্যাংকের বিশেষ কৃতিত্ব। 
৬। গ্রামীণ শক্তি: দেশের বিদ্যুৎবঞ্চিত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের গ্রামীণ শক্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সহজ শর্তে বাসগৃহ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম বিক্রি, সরবরাহ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে।
৭। বিবিধ কার্যক্রম: এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স, গ্রামীণ ট্রাস্ট, গ্রামীণ ফান্ড, গ্রামীণ সাইবার নেট লিমিটেড, গ্রামীণ সামগ্রী, গ্রামীণ শিক্ষা, গ্রামীণ বিটেক, গ্রামীণ উদ্যোগ, গ্রামীণ নিটওয়্যার, গ্রামীণ সলিউশনস, গ্রামীণ সফটওয়্যার লি., গ্রামীণ বিকাশ, গ্রামীণ কল্যাণ প্রভৃতি।

লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা

কবীর

ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
উদ্ভিদের অভিস্রবণ মূলে ঘটে। প্রতীকী ছবি- সংগৃহীত

তৃতীয় অধ্যায় : ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

১৪। কিশমিশের অভ্যন্তরে যে প্রক্রিয়ায় পানি প্রবেশ করে-
i. ব্যাপন  
ii. প্রস্বেদন  
iii. অভিস্রবণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও iii 
খ) ii ও iii 
গ) i ও ii 
ঘ) iii

১৫। অভিস্রবণ কোথায় ঘটে?
ক) কাণ্ডে     খ) ফুলে 
গ) ফলে       ঘ) মূলে

১৬। উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে পানি শোষণ করে?
ক) ব্যাপন       খ) অভিস্রবণ 
গ) প্রস্বেদন     ঘ) ইমবাইবিশন

আরো পড়ুন : ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

১৭। অভিস্রবণের ফলে-
i. কাণ্ড সতেজ হয়     
ii. পাতা সতেজ হয়
iii. পাতা শুকিয়ে যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও iii     খ) ii ও iii 
গ) i ও ii      ঘ) iii

১৮। উদ্ভিদ খনিজ লবণ থেকে কী শোষণ করে?
ক) লবণ       খ) পানি 
গ) আমিষ     ঘ) আয়ন

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

মিতু বাসায় মেহমানদের জন্য চিনির শরবত তৈরি করল। সকালে পানিতে ভিজিয়ে রাখা গোলাপ ফুলের কলি বিকেলে সে দেখল সম্পূর্ণ ফুটেছে।

১৯। ওপরের উদ্দীপকে মেহমানদের জন্য তৈরি করা খাবারটি কোন প্রক্রিয়ায় ঘটে?
ক) ইমবাইবিশন     খ) ব্যাপন 
গ) অভিস্রবণ         ঘ) প্রস্বেদন

উত্তর: ১৪. ঘ, ১৫. ঘ, ১৬. খ, ১৭. গ, ১৮. ক, ১৯. খ।

লেখক : সহকারী শিক্ষক
লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ

কবীর

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ছবি- সংগৃহীত

পাঠ-৮ :  রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: নিচের শব্দগুলোর অর্থ লেখ।

ঘ্রাণশক্তি, চিরতরে, থাবা, দৃষ্টিশক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য, প্রখর, প্রত্যঙ্গ, বিপন্ন, রাজসিক, শ্রবণশক্তি
 
প্রদত্ত শব্দ                            শব্দের অর্থ
ঘ্রাণশক্তি                               গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা।
চিরতরে                                 চিরকালের জন্য।
থাবা                                      কোনো জন্তুর সামনের পায়ের নখযুক্ত তালু।
দৃষ্টিশক্তি                                দেখার ক্ষমতা।
 
 
পরিবেশের ভারসাম্য               পরিবেশের উপাদানের মধ্যে সামঞ্জস্য।
প্রখর                                      তীব্র।
প্রত্যঙ্গ                                    শরীরের অংশ।
বিপন্ন                                     সংকটে পড়েছে এমন।
রাজসিক                                রাজার মতো।
শ্রবণশক্তি                               শোনার ক্ষমতা।
 
লেখক : সহকারী শিক্ষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বসুন্ধরা, ঢাকা
 
কবীর

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখী ঝড়ের সময় তীব্র বাতাস, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। ছবি- সংগৃহীত

প্রবন্ধ রচনা: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

(১ম পর্বের পরের অংশ)

বন্যা: প্লাবন বা বর্ষার ভয়াল রূপ হলো বন্যা। বন্যার করাল গ্রাসে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে যায়। অসংখ্য মানুষ ও গৃহপালিত পশু প্রাণ হারায়, ঘরবাড়ি ও ফসল বিনষ্ট হয়। চার দশক ধরে বন্যা বাংলাদেশের একটি বার্ষিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ১৯৪৫ ও ১৯৫৫ সালের বন্যা মানুষের মনে এখনো বিভীষিকারূপে বিরাজ করছে। ১৯৬৪ সালের বন্যায় সারা দেশ প্লাবিত হয়েছিল। ১৯৭০ সালেও  বন্যায় দেশের লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭৪ ও ১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যাও ছিল ভয়াবহ। এসব বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানিসহ ফসল ও সম্পদের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হয়। শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৯৮ সালে। দীর্ঘস্থায়ী  এ মহাপ্লাবনে দেশের বহু খেতের ফসল, ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। স্মরণকালের ইতিহাসে ২০০৪ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এ বন্যায় দেশের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা।

সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস: সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য মারাত্মক দুর্যোগ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উচ্চগতির বাতাস ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলীয় জনপদে আঘাত হানে। সিডর, আইলার মতো ঘূর্ণিঝড় জানমাল ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে। জলোচ্ছ্বাস গ্রাম, ফসল ও মৎস্য খামার প্লাবিত করে। যদিও আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র এবং উচ্চ বাঁধের কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমেছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার প্রচেষ্টায় জনসচেতনতা বেড়েছে। তবে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধে বৃক্ষরোপণ ও উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় অপরিহার্য।

ঝড়-ঝঞ্ঝা: ঝড়-ঝঞ্ঝা, বিশেষ করে কালবৈশাখী, বাংলাদেশের সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি তীব্র বাতাস, বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আসে, যা ফসল, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি করে। গ্রামীণ এলাকায় এর প্রভাব বেশি। পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও সচেতনতা কার্যক্রম ক্ষতি কমিয়েছে। তবে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নির্মাণ কাজ ও বন উজাড় ঝড়ের প্রভাব বাড়ায়। স্থানীয় সম্প্রদায়কে ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৃক্ষরোপণ ও শক্তিশালী অবকাঠামো ঝড়ের ক্ষতি কমাতে পারে। তবু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে। ঝড়-ঝঞ্ঝা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসচেতনতা জরুরি। এটি বাংলাদেশের জনজীবন ও কৃষিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

অনাবৃষ্টি বা খরা: অনাবৃষ্টি বা খরা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের, একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ।  ওই অঞ্চলে বৃষ্টির অভাবে ফসল উৎপাদন কমে, যা খাদ্য সংকট ও কৃষকদের দুর্দশা সৃষ্টি করে। খরা পানি সরবরাহ হ্রাস করে এবং জীবনযাত্রার মান নষ্ট করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরার তীব্রতা ও সময়কাল বাড়ছে। তবে, খরা-সহনশীল ফসল, সেচ ব্যবস্থা এবং গভীর নলকূপ কৃষকদের ক্ষতি কমিয়েছে। সরকার ও এনজিও কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবু দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার অভাব রয়েছে। খরা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি জরুরি। এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

নদীভাঙন:  নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার মতো নদীগুলোয় ভাঙ্গনের ফলে প্রতি বছর গ্রাম, ফসল ও জমি ধ্বংস করে। এটি হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে এবং জীবিকার ক্ষতি করে। নদীভাঙন গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বাঁধ, কংক্রিট ব্লক ও বৃক্ষরোপণ নদীভাঙন কমাতে সহায়ক। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এটিকে তীব্র করে। স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে। তবু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও গবেষণার প্রয়োজন। নদীভাঙন বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ভূমিকম্প: বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। হিমালয়ের কাছাকাছি ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের সংঘর্ষে ভূমিকম্প হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো শহরগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্পে ভবন ধস, জানমালের ক্ষতি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পুরোনো ভবন এই ঝুঁকি বাড়ায়। তবে, বর্তমানে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম বাড়ছে। সরকার ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হলেও প্রস্তুতি নিলে ক্ষতি কমতে পারে। কাজেই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও নির্মাণ নীতি গ্রহণ জরুরি। ভূমিকম্প বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের জন্য গুরুতর হুমকি।

লবণাক্ততা: উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বাংলাদেশের একটি ক্রমবর্ধমান দুর্যোগ। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও পানীয় জলে প্রবেশ করে, যা ফসল উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি লবণাক্ততাকে তীব্র করছে। এটি মৎস্য ও কৃষি খাতে ক্ষতি করে। লবণাক্ততা সহনশীল ফসল, পানি শোধনাগার এবং বাঁধ নির্মাণ ক্ষতি কমিয়েছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অভাব রয়েছে। স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে। সরকার ও এনজিওগুলো পুনর্বাসন ও গবেষণায় কাজ করছে। তবু লবণাক্ততা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি প্রয়োজন। এটি উপকূলীয় জনজীবন ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

কালবৈশাখী এবং টর্নেডো:  কালবৈশাখী এবং টর্নেডো বাংলাদেশের তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এই ঝড়গুলো তীব্র বাতাস, বৃষ্টি ও বজ্রপাত নিয়ে আসে। এটি ফসল, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষতি করে। গ্রামীণ এলাকায় টর্নেডোর প্রভাব বেশি। যদিও  পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও সচেতনতা কার্যক্রম ক্ষতি কমিয়েছে। তবে, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও বন উজাড় ঝড়ের প্রভাব বাড়ায়। বর্তমানে স্থানীয় সম্প্রদায়কে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ ও শক্তিশালী অবকাঠামো ঝড়ের ক্ষতি কমাতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কালবৈশাখী ও টর্নেডোর তীব্রতা বাড়ছে। এটি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও জনসচেতনতা জরুরি।

         (বাকি অংশ ৩য় পর্বে প্রকাশ করা হবে)

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর