পঞ্চম অধ্যায়: দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
প্রবন্ধ: পিরামিড
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: পিরামিড সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: পিরামিড পৃথিবী সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। পিরামিড পাথরের তৈরি। পাথর কেটে পাথরের টুকরার ওপর পাথরের টুকরা বসিয়ে পিরামিডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। মিসরকে পিরামিডের দেশ বলা হলেও মিসরের বাইরেও পিরামিড আছে। মিসরের ফারাওরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তাদের মৃত্যুর পর দেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিলেন। এত বিশাল পিরামিড তৈরির কৌশলের রহস্য আজও অজানা।
প্রশ্ন: ফারাও সম্রাটদের ঐশ্বর্য আর প্রতাপ সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: সবচেয়ে বড় পিরামিড নির্মাণে ১ লাখ লোকের ২০ বছর লেগেছিল। রাজধানীর মতো ব্যয়বহুল শহরে লক্ষাধিক লোককে রেখে দীর্ঘ ২০ বছর খাইয়ে-পরিয়ে, তাদের থাকার ব্যবস্থা করে যারা এই পিরামিড তৈরি করেছিলেন তাদের ঐশ্বর্য আর প্রতাপ আমাদের ধারণার বাইরে। সেই সঙ্গে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক খরচ তো আছেই। উঁচু স্তরের সভ্যতার অধিকারী না হলে পিরামিড নির্মাণ সম্ভব হতো না।
আরো পড়ুন : পিরামিড প্রবন্ধের ২টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ২য় পর্ব
প্রশ্ন: পিরামিডে প্রবেশ নিয়ে যা জানো আলোচনা করো।
উত্তর: ফারাওদের রাজমিস্ত্রিরা কুঠুরি বানানো শেষ করার পর বের হওয়ার সময় বড় বড় পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে বাইরের দেয়ালে এত মজবুত পালিশ পলেস্তারা লাগিয়ে দিয়েছিল যে, ভেতরে প্রবেশের জন্য পৃথিবীর মানুষের সাড়ে ৬ হাজার বছর চেষ্টা করতে হয়েছে। মিসর জয়ের পর সবাই প্রথম চেষ্টা করেছিল পিরামিডে প্রবেশের পথ আবিষ্কার করতে। প্রথম প্রবেশকারী নিছক ঐতিহাসিক জ্ঞান সঞ্চয়ের জন্য প্রবেশ করেছিলেন।
প্রশ্ন: পিরামিডের উচ্চতা চোখের সামনে দেখেও ধারণা করা যায় না কেন?
উত্তর: পিরামিড দেখতে বিশাল আকৃতির। তবে চোখের সামনে পিরামিডকে দেখলে এর প্রকৃত উচ্চতা নিরূপণ করা যায় না। পিরামিড উপর থেকে চ্যাপ্টা হয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় চোখের সামনে এটি ক্ষুদ্রাকৃতির মতো মনে হয়। তাই পিরামিডের প্রকৃত উচ্চতা চোখের সামনে দেখেও ধারণা করা যায় না।
প্রশ্ন: ফারাওরা মৃত্যুর পর দেহকে মমি বানিয়ে রাখতেন কেন?
উত্তর: পরলোকে অনন্ত জীবন পাওয়ার আশায় ফারাওরা মৃত্যুর পর দেহকে মমি বানিয়ে রাখতেন। তারা বিশ্বাস করতেন, তাদের শরীর যদি মৃত্যুর পর পচে যায় বা কোনো প্রকার আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে তারা পরলোকে অনন্ত জীবন পাবেন না। তাই তারা মৃত্যুর পর দেহকে মমি বানিয়ে পিরামিডের ভেতরে নিরাপদে রেখে দিতেন, যাতে কেউ ছুঁতে না পারে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর