গল্প : সুভা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কলকাতায় যাওয়ার আয়োজন শুরু হলে সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা মেয়ের বিয়ের কথা চিন্তা করে বিদেশে যান। ফিরে এসে স্ত্রীকে সপরিবারে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কথা বলতে না পারলেও সুভা বোঝে তার পিতা তাকে এই চিরচেনা পরিবেশ থেকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে চাইছে। একটা অনির্দিষ্ট আশঙ্কায় সে সর্বদা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। নিজের চিরচেনা পরিবেশ ও বন্ধুদের ছেড়ে চলে যেতে হবে ভেবে কুয়াশা ঢাকা ভোরের মতো সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে যায়।
প্রশ্ন: প্রতাপকে নিতান্তই অকর্মণ্য লোক কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: জীবনের প্রতি উদাসীন আচরণের জন্য প্রতাপকে নিতান্তই অকর্মণ্য লোক বলা হয়েছে। প্রতাপকে তার বাবা-মা সংসারের দায়দায়িত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাতে কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া যায়নি। বরং প্রতাপ চলছে তার নিজের ইচ্ছামতো। সে ছিপ ফেলে মাছ ধরে। গ্রামের অন্যদের কাজ করে দেওয়ার জন্য তার আন্তরিকতা ও আগ্রহের সীমা নেই। সে অন্যের প্রয়োজন মেটাতে অত্যন্ত উদার ও সচেতন। সেই দিক থেকে সে গ্রামের সবার উপযোগী সরকারি সম্পত্তির মতো। শুধু নিজ সংসার ও বাড়ির দায়িত্বের প্রতিই সে উদাসীন। এ কারণেই সুভা গল্পে তাকে নিতান্তই অকর্মণ্য লোক বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘তাহার মর্ম তাহার ভাষা অপেক্ষা সহজে বুঝিত’ কথাটির মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘তাহার মর্ম তাহার ভাষা অপেক্ষা সহজে বুঝিত’ কথাটির মাধ্যমে সুভার পশুপ্রেম বোঝানো হয়েছে। সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু দলের মাঝে দুটি গাভিও ছিল। তাদের নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি। সুভা কথা বলতে পারত না বলে কখনো তাদের নাম ধরে ডাকতে পারেনি। সুভা কথা বলতে না পারলেও তারা সুভার পায়ের আওয়াজ চিনতে পারত। তার কথাহীনতার মাঝে একটা করুণ সুর ছিল। আর এই করুণ সুরের মর্ম তারা খুব ভালোভাবেই বুঝত। তাই বলা যায়, উপরোক্ত উক্তির মাধ্যমে সুভার পশুপ্রেমকে বোঝানো হয়েছে।
আরো পড়ুন : সুভা গল্পের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব
প্রশ্ন: ‘মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’ কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’ উক্তিটি দ্বারা মাছ ধরার সময়ে নীরব পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা বোঝানো হয়েছে। মাছ পানির নিচে বাস করলেও পানির ওপরে হওয়া সামান্য শব্দও সে শুনতে পায়। ছিপ দিয়ে মাছ ধরার সময় টোপ দিয়ে মাছ একত্রিত করার চেষ্টা করা হয়। টোপের খাবারের লোভে মাছ যখন এক স্থানে জড়ো হয় তখন ছিপে বেশি মাছ ওঠে। কিন্তু যদি পরিবেশ কোলাহলপূর্ণ হয়, তবে ভয় পেয়ে মাছ পালায়। এ কারণেই মাছ ধরার স্থানে চুপ থাকতে হয়। আর যেহেতু সুভা কথা বলতে পারে না এবং সে বাক্যহীন, তাই প্রতাপের মাছ ধরার সময় সে সঙ্গী হিসেবে থাকে।
প্রশ্ন: বাণীকণ্ঠকে কেন লোকে নিন্দা করতে শুরু করে?
উত্তর: সুভার বিয়ে না দেওয়ায় লোকে বাণীকণ্ঠকে নিন্দা করতে শুরু করে। সুভা বাণীকণ্ঠের তৃতীয় মেয়ে। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিয়ে দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। অন্যদিকে সুভার বয়স বাড়ছিল, তবু তার বাবা তাকে বিয়ে দিতে পারছিলেন না। এ কারণে সবাই বাণীকণ্ঠকে নিন্দা করতে শুরু করেছিল। তার ওপর বাণীকণ্ঠ আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন। তারা দুবেলা মাছ-ভাত খেতে পারতেন বলে তার অনেক শত্রু ছিল। গ্রামের লোকজন তাদের একঘরে করারও গুঞ্জন তোলে।
প্রশ্ন: বাণীকণ্ঠের বিদেশ যাওয়ার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: বাণীকণ্ঠের বিদেশ যাওয়ার কারণ সুভার জন্য পাত্র ঠিক করা। বাণীকণ্ঠ সুভার বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। তার মনে হয় দিন দিন সুভার বয়স বেড়েই যাচ্ছে। আর সুভা কথা বলতে না পারায় তার জন্য বর পাওয়াটাও কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সুভার বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সমাজের মতে সুভা আইবুড়ো মেয়ে। এ কারণে সমাজেও সুভার নামে নিন্দা রটেছে। সমাজ বাণীকণ্ঠকে একঘরে করার হুমকিও দিয়েছে। এ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাণীকণ্ঠ সুভার জন্য পাত্র ঠিক করতে বিদেশে যান।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর