বাক্যতত্ত্ব ও আবেগ শব্দ
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা লেখ।
উত্তর: বাক্য: যেসব বিন্যস্ত পদসমষ্টির মাধ্যমে কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন- সে স্কুলে যায়।
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার। যেমন-
১। সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন- ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
২। জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্যাংশ এবং এক বা একাধিক অপ্রধান বাক্যাংশ থাকে, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমন- যে মানুষের সেবা করে, সেই শ্রেষ্ঠ মানুষ।
৩। যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা দুয়ের অধিক বাক্য যখন কোনো সংযোজক অব্যয় যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন- সে দরিদ্র কিন্তু সুখী।
প্রশ্ন: বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: বাক্য: যেসব বিন্যস্ত পদসমষ্টির মাধ্যমে কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন- সে স্কুলে যায়।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ মনোভাব যে সমস্ত পদ দ্বারা প্রকাশ করা যায় তাদের সমষ্টিকে বাক্য বলে।’
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য: বাক্যকে সার্থক করতে হলে নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়-
১। আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন- ‘আমরা কলম দিয়ে---’ বললে শ্রোতার আগ্রহ সম্পূর্ণ মিটে না। কিন্তু ‘আমরা কলম দিয়ে লিখি’ বললে অর্থ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় এবং আকাঙ্ক্ষারও নিবৃত্তি হয়। শেষোক্ত ‘লিখি’ পদটি শোনার ইচ্ছাই আকাঙ্ক্ষা।
২। আসত্তি : বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ-বিন্যাসকেই আসত্তি বলে। মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে বাক্যে শব্দগুলোকে এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে, যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। যেমন- ‘শফিক সাহেব তিরস্কার ছেলেকে দুষ্টুমির করলেন জন্য’। এ বাক্যে আসত্তির গোলমালের জন্য মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে নিম্নোক্তভাবে সাজালে বাক্যটিতে আসত্তি লক্ষ করা যায়। যেমন- ‘শফিক সাহেব দুষ্টুমির জন্য ছেলেকে তিরস্কার করলেন।’
৩। যোগ্যতা: বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন পদগুলোর অর্থ ও ভাবগত মেলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে। যেমন- ‘সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে’ এ বাক্যে বিভিন্ন পদগুলোর মধ্যে অর্থ ও ভাবগত মিল নেই। কারণ সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে না। যদি বলা হয়, ‘সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে’ - তাহলেই বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়।
পরিশেষে বলা যায়, একটি বাক্য তখনই সঠিক ও নির্ভুল হিসেবে প্রকাশ পায়, যখন তার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতার উপস্থিতি দেখা যায়। আর এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতিতে সঠিক এবং অর্থবোধক বাক্য গঠন করা অসম্ভব।
আরো পড়ুন : ব্যাকরণবিষয়ক ৪টি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসি বাংলা ২য় পত্র
প্রশ্ন: আবেগ শব্দ কাকে বলে? এটি কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: মনের নানা ভাব বা আবেগকে যেসব শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয় সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়। এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি। আবেগ শব্দ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
নিচে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো-
১। সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়। যেমন- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
২। প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- শাবাশ! এমন খেলাই তো খেলতে চেয়েছিলাম।
বাহ্, চমৎকার লিখেছ।
৩। বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!
৪। আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে। যেমন-উহ্, কী বিপদে পড়া গেল।
বাপরে বাপ! কী ভয়ংকর ছিল রাক্ষসটা।
৫। বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে। যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য!
৬। করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ করে। যেমন-আহা! বেচারার এত কষ্ট।
হায় হায়! ওর এখন কী হবে!
৭। সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন-হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।
৮। অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি মনোভাব প্রকাশের জন্য অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ধুর! এ কথা কি বলতে আছে? যাকগে, ওসব কথা থাক।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর