গল্প : তৈলচিত্রের ভূত
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: নগেন তার মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি কেন?
উত্তর: নগেন তার মামার কাছ থেকে আদর-ভালোবাসা তেমন একটা পায়নি বলে মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করেনি।
নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়াশোনা করত। তার মামা অনেক বড়লোক ছিলেন। যথেষ্ট টাকা-পয়সা থাকার পরও নগেনের মামা ভীষণ কৃপণ ছিলেন। নগেন কখনো আদর পায়নি তার মামার কাছ থেকে। অনেকটা অনাদরেই সে মামার বাড়িতে থেকেছে। এ কারণেই নগেন বাইরে থেকে মামাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখালেও অন্তর থেকে কোনো দিনই মামাকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি।
প্রশ্ন: নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ হয়েছিল কেন?
উত্তর: মামাকে সারা জীবন ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে, ঠকিয়েছে ভেবে নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ হয়েছিল।
নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে। মামা বড়লোক কিন্তু কৃপণ। মামার কাছ থেকে খুব একটা স্নেহ-ভালোবাসা নগেন পায়নি। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে মামা নগেনকে নিজ ছেলেদের প্রায় সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন। এটা জানার পর মামার প্রতি তার ভক্তি-শ্রদ্ধা বেড়ে যায় আর সে মনে মনে দারুণ লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। কারণ সারা জীবন মামাকে সে ভক্তি আর ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে।
আরো পড়ুন : তৈলচিত্রের ভূত গল্পের ১টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা
প্রশ্ন: নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হয়ে গেছে কেন?
উত্তর: নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হওয়ার কারণ সে ভীষণ ভয় পেয়েছে।
নগেনের মামা ছিল কৃপণ স্বভাবের লোক। কিন্তু মামা মারা যাওয়ার আগে নগেনকে অনেক টাকা উইল করে দিয়ে যান। বেঁচে থাকতে নগেন তার মামার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি না করায় সে আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকে। এই আত্মগ্লানি কমানোর জন্য সে মামার তৈলচিত্র ধরে ক্ষমা চাইতে গেলে কীসে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সে মনে করে তার মামার প্রেতাত্মা তার সঙ্গে এ রকম করে। ফলে ভয় পাওয়ায় নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হয়ে গেছে।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর