তৃতীয় অধ্যায় : অর্থের সময়মূল্য
(গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘অর্থের সময়মূল্যের ধারণা প্রয়োগ করে সুযোগ ব্যয় নির্ণয় করা যায় এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা যায়’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কোনো একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে অন্য আরেকটি প্রকল্পে বিনিয়োগ থেকে যে আয়ের সুযোগ ত্যাগ করতে হয় তাকে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বলে।
উদাহরণস্বরূপ তুমি ১০% সুদে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারো অথবা জমি কিনতে পারো। যেখানে পাঁচ বছরে জমির মূল্য দ্বিগুণ হয়। এক্ষেত্রে অর্থের সময়মূল্যের সূত্র অর্থাৎ, এককালীন অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্যের সূত্র প্রয়োগ করে জমিতে বিনিয়োগ থেকে আয়ের হার নির্ণয় করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। অর্থাৎ, জমিতে বিনিয়োগ থেকে আয়ের হার যদি ব্যাংক সুদের হারের চেয়ে বেশি হতো তাহলে জমিতে বিনিয়োগ করা হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন: ‘সময় ও সুদের হারের কারণে অর্থের মূল্যের পরিবর্তন ঘটে’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত রেখে সময় বৃদ্ধি পেলে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং সময় হ্রাস পেলে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য হ্রাস পায়। একইভাবে সুদের হার হ্রাস বা বৃদ্ধি পেলে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়। কারণ সুদের হার হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণে চক্রবৃদ্ধি সুদের পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়। এভাবে সময় ও সুদের হারের পরিবর্তনে অর্থের সময়মূল্যের পরিবর্তন ঘটে।
প্রশ্ন: সাধারণ বৃত্তি/বার্ষিক বৃত্তি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে বৃত্তির নগদ প্রাপ্তি প্রতি সময়কালের শেষে সংঘটিত হয় তাকে সাধারণ বার্ষিক বৃত্তি বলে।
সাধারণ বার্ষিক বৃত্তির ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রাপ্তি বা প্রদান ঘটবে। অর্থাৎ নগদ প্রবাহের ধারাবাহিকতা থাকবে। এ বার্ষিক বৃত্তির অত্যাবশ্যকীয় শর্ত হচ্ছে প্রতিবার প্রাপ্তি বা প্রদান অবশ্যই সমান হতে হবে।
প্রশ্ন: অ্যানুইটির ভবিষ্যৎ মূল্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বার্ষিক বা অর্ধবার্ষিক বা মাসিক কিস্তিতে নির্দিষ্ট সময় পরপর সমপরিমাণ অর্থ জমা রাখলে মেয়াদ শেষে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে তাকে অ্যানুইটির ভবিষ্যৎ মূল্য বলে।
ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট সুদের হারে নির্দিষ্ট সময় ধরে সমপরিমাণ অর্থ কিস্তিতে জমা করলে মেয়াদ শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে কত হবে বা কত টাকা পাওয়া যাবে তা নির্ণয় করতে অ্যানুইটির ভবিষ্যৎ মূল্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন: চক্রবৃদ্ধি হারে প্রকৃত সুদের হার পরিবর্তিত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: চক্রবৃদ্ধি হারে সাধারণত বছরে একাধিকবার চক্রবৃদ্ধি হয় বিধায় প্রকৃত সুদের হার পরিবর্তিত হয়। নামিক সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে চক্রবৃদ্ধি সংখ্যা বৃদ্ধি করলে প্রকৃত সুদের হার বৃদ্ধি পায়। চক্রবৃদ্ধি সংখ্যা হ্রাস করলে প্রকৃত সুদের হার হ্রাস পায়। তাই প্রকৃত সুদের হার পরিবর্তিত হয় চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর। যেমন- সাপ্তাহিক ১% হারে চক্রবৃদ্ধি সুদে ঋণ গ্রহণ করলে বার্ষিক সুদের হার হয় ৫২%। কিন্তু ৫২ বার চক্রবৃদ্ধি হলে প্রকৃত সুদের হার আরও বেড়ে যাবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর