প্রথম অধ্যায় : ভৌত রাশি ও পরিমাপ
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: মৌলিক রাশি ও লব্ধ রাশির মধ্যকার পার্থক্য লেখ।
উত্তর: যেসব রাশি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ এবং যেগুলো অন্য রাশির ওপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে তাদের মৌলিক রাশি বলে। অন্যদিকে, যেসব রাশি মৌলিক রাশির ওপর নির্ভর করে বা মৌলিক রাশি থেকে লাভ করা যায় তাদের লব্ধ রাশি বলে।
মৌলিক রাশি মাত্র সাতটি, সেখানে লব্ধ রাশির সংখ্যা অগণিত। মৌলিক রাশির মাত্রা প্রকাশে একটিমাত্র চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, অন্যদিকে লব্ধ রাশির মাত্রা প্রকাশে একাধিক চিহ্নের ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়।
প্রশ্ন: লব্ধ রাশি বলতে কী বোঝায়, ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যেসব রাশি মৌলিক রাশির ওপর নির্ভর করে বা মৌলিক রাশি থেকে লাভ করা যায় তাদের লব্ধ রাশি বলে।
ত্বরণ রাশিটি দূরত্ব ও সময় এই দুটি মৌলিক একক থেকে লাভ করা যায়। তাই ত্বরণ একটি লব্ধ রাশি।
প্রশ্ন। এককের গুণিতক ও উপগুণিতক কেন ব্যবহার করা হয় ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পদার্থবিজ্ঞানের বহুসংখ্যক শূন্যযুক্ত মানগুলো রয়েছে। সাধারণভাবে এগুলো লেখার সময় আমাদের সাবধান থাকতে হবে প্রতিক্ষেত্রে শূন্যের সংখ্যার ঠিকমতো উল্লেখ করা হয়েছে কি না। কিন্তু এই সংখ্যাটিকেই যদি আমরা এককের উপসর্গ ব্যবহার করে লিখি, তাহলে অনেক সুবিধাজনক। এতে মানগুলো সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুলভাবে লেখা সম্ভব হয়।
যেমন: 0.00001m রাশিটিকে লেখা যেতে পারে 10m।
প্রশ্ন: একই রাশির একাধিকবার পরিমাপকৃত মানে অসামঞ্জস্যতা এড়াতে কী করতে হবে?
উত্তর: কোনো একটি ধ্রুব রাশি কয়েকবার পরিমাপ করলে যে ত্রুটির কারণে পরিমাপকৃত মানে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় তা হলো দৈব ত্রুটি। সুতরাং দৈব ত্রুটিকে কমিয়ে আনতে হলে তথা একাধিকবার পরিমাপকৃত মানে অসামঞ্জস্যতা এড়াতে পরিমাপটি বারবার নিয়ে এদের গড় নিতে হয়।
আরো পড়ুন : ভৌত রাশি ও পরিমাপ অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, নবম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
প্রশ্ন: মাত্রা সমীকরণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।
উত্তর: পদার্থবিজ্ঞানে মাত্রা সমীকরণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যেসব কারণে মাত্রা সমীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে নিচে তা উল্লেখ করা হলো-
১. যেকোনো ভৌত রাশির একক নির্ণয় করা যায়।
২. একককে এক পদ্ধতি থেকে অন্য পদ্ধতিতে রূপান্তর করা যায়।
৩. বিভিন্ন রাশির সমীকরণ গঠন করা যায়।
৪. যেকোনো ভৌত রাশির সমীকরণের নির্ভুলতা বা সতর্কতা যাচাই করা যায়।
৫. যেকোনো ভৌত সমস্যা সমাধান করা যায়।
প্রশ্ন: এসআই (SI) একক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: এসআই এককের পুরো নাম International system of units। বাংলায় বলা হয় এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি। এ International system বা আন্তর্জাতিক পদ্ধতিকে সংক্ষেপে বোঝাতে SI ব্যবহার করা হয়।
দৈনন্দিন কাজকর্ম ও ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই মাপ-জোখের প্রচলন ছিল। এ মাপ-জোখের জন্য বিভিন্ন রাশির স্থানীয় বা এলাকাভিত্তিক বহু এককের প্রচলন ছিল। বৈজ্ঞানিক তথ্যের আদান-প্রদান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য সারা বিশ্বে মাপ-জোখের একই রকম আদর্শের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ জন্য ১৯৬০ সাল থেকে সারা বিশ্বে বিভিন্ন রাশির একই রকম একক চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। এককের এ পদ্ধতিকে বলা হয় এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এসআই (SI)।
প্রশ্ন: স্ক্রু গজের ত্রুটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্ক্রুর মাথা যখন স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেলের শূন্য দাগ রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে মিলে যাওয়া উচিত। যদি না মিলে তাহলে বুঝতে হবে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। বৃত্তাকার স্কেলের শূন্য দাগ যদি রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগের নিচে থাকে তাহলে যান্ত্রিক ত্রুটি হবে ধনাত্মক (+e) আর যদি বৃত্তাকার স্কেলের শূন্য দাগ রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগের ওপরে থাকে তাহলে যান্ত্রিক ত্রুটি হবে ঋণাত্মক (-e)।
প্রশ্ন: যান্ত্রিক ত্রুটি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: স্লাইড কালিপার্সের ক্ষেত্রে, মূল স্কেলের চোয়াল ও ভার্নিয়ার স্কেলের চোয়াল যখন লেগে থাকে তখন সাধারণত ভার্নিয়ার স্কেলের শূন্য দাগ প্রধান স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে মিলে যায়। যদি ভার্নিয়ার স্কেলের এ দাগ মূল স্কেলের শূন্য দাগ না মিলে তবে ওই যন্ত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে বলে মনে করা হয়। আবার স্ক্রু গজের ক্ষেত্রে, বৃত্তাকার স্কেলের শূন্য দাগ যখন রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে না মিলে তবে ধরে নিতে হবে যন্ত্রে ত্রুটি রয়েছে। এ ত্রুটিকেই যান্ত্রিক ত্রুটি বলা হয়।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক,
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর