চতুর্থ অধ্যায় : আর্থিক বিশ্লেষণ
(গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: আর্থিক বিশ্লেষণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আর্থিক বিশ্লেষণ বলতে আর্থিক বিবরণীর বিভিন্ন খাতের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের মাধ্যমে কোনো কোম্পানির সফলতা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করাকে বোঝায়।
ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পক্ষ ব্যবসায়ের বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে জানতে চায়। আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপক ওই প্রতিষ্ঠানের অতীত কার্যক্রম মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ধারণা করতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ উপযুক্ততা যাচাই করতে পারে।
প্রশ্ন: ফ্রি বা মুক্ত নগদ প্রবাহ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: পরিচালন কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ থেকে স্থায়ী সম্পত্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাদ দেওয়ার পর যে অতিরিক্ত অর্থ থাকে তাকে ফ্রি নগদ প্রবাহ বলে।
ফ্রি নগদ প্রবাহ পাওনাদারদের দাবি যেমন সুদ এবং শেয়ারমালিকদের দাবি যেমন লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। ফ্রি নগদ প্রবাহের মাধ্যমে কোম্পানির নগদ প্রবাহ সৃষ্টির সক্ষমতা সম্পর্কে জানা যায়। সব ধরনের ব্যয় নির্বাহের পর ঋণ ও ইকুইটি মূলধন পরিশোধ করার জন্য ফ্রি নগদ প্রবাহের মধ্যে কোনো ধরনের বাহ্যিক দায় অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
প্রশ্ন: ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ হচ্ছে এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে স্থির ব্যয়, পরিবর্তনশীল ব্যয়, মুনাফা এবং বিক্রির পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের মোট পরিচালন ব্যয় উঠে আসতে কী পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করতে হবে তা জানা যায়। বিভিন্ন পরিমাণ পণ্য বিক্রির সঙ্গে কত মুনাফা জড়িত এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে হলে প্রয়োজনীয় বিক্রির পরিমাণ কত তা জানা যায়। এ ছাড়া বিক্রির পরিমাণ শতকরা কত ভাগ হ্রাস পেলে কোম্পানির ক্ষতি হওয়া শুরু হবে তা নির্ধারণ করা যায়। এসব কারণে ব্রেক-ইভেন বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
প্রশ্ন: স্থির ব্যয় ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট নির্ণয়ে কী প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উৎপাদন বা বিক্রির পরিবর্তনের ফলে যে ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে স্থায়ী ব্যয় বলে।
স্থায়ী ব্যয়ের সঙ্গে ব্রেক-ইভেন পয়েন্টের একটি সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। অন্যান্য বিষয়; যেমন- বিক্রিমূল্য, পরিবর্তনশীল ব্যয় স্থির থেকে স্থায়ী ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে। কারণ, স্থায়ী ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্রেক-ইভেন পয়েন্টে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ বিক্রি করতে হবে। অনুরূপভাবে, স্থায়ী ব্যয় হ্রাস পেলে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট হ্রাস পাবে।
প্রশ্ন: সমচ্ছেদ বিন্দু কীভাবে নির্ণয় করতে হয়?
উত্তর: যে বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের বিক্রিলব্ধ আয় মোট ব্যয়ের সমান হয় তাকে সমচ্ছেদ বিন্দু বলে।
সমচ্ছেদ বিন্দু নির্ণয়ের জন্য বিক্রিমূল্য স্থায়ী ব্যয় এবং পরিবর্তনশীল ব্যয়ের দরকার হয়। পরবর্তী সময়ে সমীকরণ পদ্ধতি কিংবা রেখাচিত্র পদ্ধতির মাধ্যমে সমচ্ছেদ বিন্দু নির্ণয় করা যায়। সমীকরণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয়কে কন্ট্রিবিউশন মার্জিন দিয়ে ভাগ করে সমচ্ছেদ বিন্দু নির্ণয় করা যায়। রেখাচিত্র পদ্ধতিতে মোট ব্যয় রেখা যে বিন্দুতে মোট বিক্রিলব্ধ আয় রেখাকে ছেদ করে তাকে সমচ্ছেদ বিন্দু বলে।
প্রশ্ন: কন্ট্রিবিউশন মার্জিন অনুপাত/দত্তাংশ অনুপাত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: এককপ্রতি বিক্রিমূল্য ও এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পার্থক্যকে এককপ্রতি বিক্রিমূল্য দিয়ে ভাগ করলে দত্তাংশ অনুপাত পাওয়া যায়।
দত্তাংশ মার্জিন অনুপাতের সাহায্যে একদিকে যেমন সমচ্ছেদ বিন্দু ও প্রয়োজনীয় বিক্রির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়, তেমনি এ অনুপাতের সাহায্যে মুনাফার পরিমাণ, বিক্রিমূল্য ও পরিবর্তনশীল ব্যয় নির্ধারণ করা যায়।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর