পঞ্চম অধ্যায় : স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন
(গত ২১ ডিসেম্বর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: নগদ অর্থ সংরক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চারটি কারণে নগদ অর্থ হাতে রাখে বা সংরক্ষণ করে; যেমন- লেনদেনের উদ্দেশ্যে, পূর্বসতর্কতামূলক উদ্দেশ্যে, ফটকা লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতিপূরণমূলক জমা রাখার উদ্দেশ্যে। একটি ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নগদ অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। যেমন- পণ্য বা কাঁচামাল কেনা, শ্রমিকদের মজুরি ও বেতন পরিশোধ, পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ ইত্যাদি লেনদেনের জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। এসব কারণে নগদ অর্থ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: রক্ষণশীল নীতি কীভাবে চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সম্পদ, স্থায়ী চলতি সম্পদের সবটুকু এবং পরিবর্তনশীল চলতি সম্পদের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে অর্থায়ন করা উচিত।
সাধারণত যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি নিতে সাহস পায় না তারা চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনায় রক্ষণশীলতার নীতি অনুসরণ করে। এ নীতি অনুসরণ করার ফলে মূলধনের স্বল্পতা বা ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। ফলে ব্যবসায়ের স্থিতিশীলতা থাকে এবং ঝুঁকি হ্রাস পায়।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত মজুত সংরক্ষণের ফলে কী সমস্যা সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অতিরিক্ত মজুত সংরক্ষণের ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বেড়ে যায়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের চলতি সম্পদের একটি বড় অংশ মজুত পণ্যে বিনিয়োগ করে। যার উদ্দেশ্য হলো চাহিদা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখা। মজুতের পরিমাণ কম হলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং পণ্যের বাজার হারাতে হয়। আবার মজুত বেশি হলে কিছু মজুত অলসভাবে পড়ে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের চলতি সম্পদ আটকে রাখে। ওই সম্পদ অন্য কোথাও বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়া যেত অথবা ওই অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণ না করলে ব্যয় কম হতো। অতিরিক্ত মজুত সংরক্ষণের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন: স্বল্পমেয়াদি ঋণে সাধারণত জামানত প্রয়োজন হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্বল্পমেয়াদি ঋণ ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে সৃষ্টি হয় বলে জামানত প্রয়োজন হয় না।
চলতি মূলধন সরবরাহে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করা হয়। চলতি মূলধনের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদির তুলনায় কম বলে ঋণদাতার ঝুঁকি কম। ফলে ঋণদাতা জামানত গ্রহণ করে না। আবার অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হয়। যেমন- ব্যবসায় ঋণ, অগ্রিম গ্রহণ ইত্যাদি। এজন্যও স্বল্পমেয়াদি ঋণের জামানত প্রয়োজন হয় না।
প্রশ্ন: স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নের ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়ন ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম। অর্থাৎ ধারে পণ্য কেনা, বকেয়া খরচ ইত্যাদির মাধ্যমে এ ধরনের অর্থায়ন করা হয় বলে, তাকে স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়ন বলে।
এ ধরনের অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। তবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও জামানতের প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের অর্থায়নের উৎসগুলো হলো- ব্যবসায় ঋণ, ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম, বকেয়া খরচ ইত্যাদি।
প্রশ্ন: ন্যূনতম চলতি মূলধনের পরিমাণ কী হওয়া উচিত? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অল্প সময়ে নগদ অর্থ বা রূপান্তরযোগ্য সম্পদকে চলতি মূলধন বলে, যা ব্যবসায়ের মুখ্য চালিকাশক্তি।
ন্যূনতম চলতি মূলধন হলো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্ধারিত নগদ অর্থ বা তারল্য। প্রতিষ্ঠানে এমন পরিমাণ চলতি মূলধন থাকা উচিত, যাতে নগদ অর্থ মজুত রাখলে তা থেকে অতিরিক্ত আয় পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন মাফিক চলতি দায় মেটানো সম্ভব হয়।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর