ষষ্ঠ অধ্যায় : মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: আণবিক সংকেত কাকে বলে?
উত্তর: যে সংকেত থেকে একটি মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু অপর মৌলের কতটি পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয় তা জানা যায়, সেই সংকেতকে আণবিক সংকেত বলে।
প্রশ্ন: গ্রাম পারমাণবিক ভর কাকে বলে?
উত্তর: কোনো মৌলের পারমাণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে তাকে ওই মৌলের গ্রাম পারমাণবিক ভর বলে।
যেমন—কার্বনের পারমাণবিক ভর ১২। সুতরাং, ১২ গ্রাম কার্বনে ১ গ্রাম কার্বন পরমাণু আছে।
প্রশ্ন: গ্রাম আণবিক ভর বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো মৌল বা যৌগের আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে তাকে মৌল বা যৌগের গ্রাম আণবিক ভর বলে।
যেমন—কার্বন ডাই-অক্সাইডের আণবিক ভর ৪৪। কাজেই কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্রাম আণবিক ভর ৪৪ গ্রাম।
প্রশ্ন: মোলার দ্রবণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনে এক মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকলে সে দ্রবণকে মোলার দ্রবণ বলে।
প্রশ্ন: দ্রবণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যেসব মিশ্রণে উপাদানগুলো সুষমভাবে বণ্টিত থাকে এবং একটি উপাদান থেকে আরেকটিকে সহজে আলাদা করা যায় না, তাদের দ্রবণ বলা হয়।
প্রশ্ন: দ্রব ও দ্রাবক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রত্যেক দ্রবণের দুটি অংশ থাকে, যেমন- দ্রব এবং দ্রাবক। দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানটি কম পরিমাণে থাকে তাকে দ্রব আর যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে তাকে দ্রাবক বলে। যেমন—পানিতে চিনি মিশালে একটি দ্রবণ তৈরি হয়। এখানে চিনি দ্রব, পানি দ্রাবক এবং মেশানোর পর যা তৈরি হয় তা দ্রবণ।
আরো পড়ুন : মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা অধ্যায়ের ৪টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এসএসসি পরীক্ষার রসায়ন
প্রশ্ন: মোলারিটি কাকে বলে?
উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোলসংখ্যাকে দ্রবণের মোলারিটি বলে। একে M দিয়ে প্রকাশ করা হয়। মোলারিটি দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের একটি রীতি।
প্রশ্ন: শতকরা সংযুতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো যৌগের শতকরা সংযুতি বলতে তাতে বিদ্যমান মৌলগুলো কী অনুপাতে আছে তা বোঝায়। সাধারণত ভর হিসেবে কোনো মৌলের পরিমাণ শতকরা কত ভাগ তাই প্রকাশ করা হয় অর্থাৎ যৌগের ১০০ ভাগ ভরের মধ্যে উপাদান মৌলগুলোর আপেক্ষিক পরিমাণকে শতকরা সংযুতি বলা হয়। শতকরা সংযুতি নির্ণয়ের দুটি ধাপ আছে। প্রথমে বস্তুর আণবিক ভর নির্ণয় করতে হয়। এরপর মৌলের ভরকে যৌগের মোট আণবিক ভর দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করে মৌলের সংযুতি নির্ণয় করতে হয়।
প্রশ্ন: রাসায়নিক সমীকরণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বিক্রিয়ক এবং উৎপাদ পদার্থের পরমাণুগুলোর মধ্যে সমতা বজায় রেখে প্রতীক ও সংকেতের সাহায্যে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে।
যেমন—জিংক কপার সালফেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জিংক সালফেট ও কপার উৎপন্ন করে। এ বিক্রিয়াকে নিম্নোক্ত সমীকরণের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়- Zn + CuSO4 = ZnSO4+ Cu
প্রশ্ন: রাসায়নিক বিক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক ভিন্নধর্মী পদার্থ পরিবর্তিত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্নধর্মী নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন ঘটে কিন্তু পদার্থের মূল উপাদান এবং পরমাণুর সংখ্যার কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
প্রশ্ন: বিক্রিয়ক এবং উৎপাদ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পদার্থ বা পদার্থগুলোকে বিক্রিয়ক বলে। বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থগুলোকে উৎপাদ বলা হয়। যেমন—জিংক অক্সাইডের সঙ্গে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় জিংক ক্লোরাইড এবং পানি উৎপন্ন হয়।
ZnO + 2HCl = ZnCl2 + H2O
এ বিক্রিয়ায় ZnO ও HCl হলো বিক্রিয়ক আর ZnCl2 ও H2O হলো উৎপাদ।
প্রশ্ন: লিমিটিং বিক্রিয়ক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া সংগঠনকালে একাধিক বিক্রিয়কের মধ্যে যে বিক্রিয়ক অবশিষ্ট থাকে না, তাকে লিমিটিং বিক্রিয়ক বলে। বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদের পরিমাণ হিসাব করার সময় লিমিটিং বিক্রিয়কের পরিমাণ থেকে হিসাব করা হয়।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর