সারাংশ লিখন
১। শ্রমকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করো। কালি-ধূলির মাঝে, রৌদ্রবৃষ্টিতে কাজের ডাকে নেমে যাও। বাবু হয়ে ছায়ায়...।
সারাংশ: কায়িক শ্রম মানুষের মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়। শ্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া যায় না। চিন্তা ও বইয়ের জ্ঞানের যে দ্বার উন্মোচন করে, তা পূর্ণতা পায় কায়িক শ্রমে। এজন্য শ্রমকে শ্রদ্ধা করা উচিত।
২। সব ধরনের কায়িক শ্রম আমাদের দেশে অমর্যাদাকর বলে বিবেচিত হয়ে আসতেছে...।
সারাংশ: পৃথিবীর উন্নত দেশে কায়িক শ্রমকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হলেও আমাদের দেশে আজও তা অমর্যাদাকর বলে বিবেচনা করা হয়। ফলে শ্রমবিমুখ হয়ে আমরা জীবন সংগ্রামে এবং সভ্যতার প্রতিযোগিতায় অধঃপতিত ও পশ্চাৎপদ হয়ে পড়েছি। তাই শ্রমের অমর্যাদা আত্মহত্যারই শামিল।
৩। সাহিত্যের উদ্দেশ্য সবাইকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয় ... মনস্তুষ্টি হতে পারে না।
সারাংশ: সাহিত্য আত্মোপলব্ধির চাবিকাঠি। সাহিত্যের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সাহিত্যিকের উচিত সেই বৈশিষ্ট্য মেনে সাহিত্যচর্চা করা। পাঠকের মনোরঞ্জন করা থেকে পাঠককে আনন্দদান করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সাহিত্যকে কোনোভাবে বাজারের সস্তা জিনিস মনে করা উচিত নয়। সাহিত্যিককে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সহিত্য রচনা করতে হবে।
৪। জাতি শুধু বাইরের ঐশ্বর্য-সম্ভার, দালান-কোঠার ... লেখক আর সাহিত্যিকদের।
সারাংশ: জাতির সম্মান দালানকোঠার আধিক্যে বৃদ্ধি পায় না। তার জন্য চাই মূল্যবোধের উন্নয়ন। মনের ঐশ্বর্য এবং জীবনাশ্রয়ী মানবিক মূল্যবোধ জাতিকে পৌঁছে দেয় সম্মানের উচ্চ শিখরে। আর এ কাজ একমাত্র লেখক আর সাহিত্যিকরাই করতে পারেন।
আরো পড়ুন : ১০টি সারাংশ লিখন নিয়ে আলোচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ২য় পত্র
৫। আজকের দুনিয়াটা আশ্চর্যভাবে অর্থের বা বিত্তের ... কোনো সন্দেহ থাকে না।
সারাংশ: মানুষ বর্তমানে অর্থের নেশায় যতই ধাবিত হচ্ছে প্রকারান্তরে ততই সে আত্মহনন করছে। এ পথে এসে পেছনে ফেরার পথ নেই। তাই এখনই এ মরণ নেশা থেকে নিজেকে সংযত করা দরকার।
৬। প্রকৃত জ্ঞানের স্পৃহা না থাকলে শিক্ষা ব্যর্থতায় পর্যবসিত ... দিগন্ত উন্মোচিত হবে না।
সারাংশ: শিক্ষা অর্জনের ইচ্ছা না থাকলে তা কখনো একজন মানুষকে আত্মিক উন্নতি দেয় না। শিক্ষা আত্মস্থ করার বিষয়, মুখস্থ করার নয়। জ্ঞানচর্চার সুযোগবিহীন শিক্ষার্থী দেশ ও সমাজের কাছে বোঝাস্বরূপ। তাই তরুণ সমাজকে এক্ষেত্রে আরও এগিয়ে আসতে হবে।
৭। রুপার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায় আর কতজন লোক ... বৈরাগ্যের স্থান নাই।
সারাংশ: পৃথিবীতে উন্নত জীবনযাপনের নিশ্চয়তা নিয়ে জন্মানো ব্যক্তির সংখ্যা নগণ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই চরম প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে সফল হয়েছেন। সুখ চেষ্টার ফল। তাই জীবনে সফলতার জন্য চাই কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়।
৮। সত্য ওজন দরে বা গজের মাপে ... তাহারাই সজীব; তাহারাই দীপ্যমান।
সারাংশ: আকার বা পরিমাণগতভাবে সত্যকে বিচার করা যায় না। সত্য সুন্দর, তা অল্প হলেও তার ক্ষমতা ও ব্যাপ্তি বিশাল। আবার পর্বতপ্রমাণ খড়-বিচালি সামান্য অগ্নিস্ফুলিঙ্গের চেয়ে শক্তিশালী নয়। অনুরূপভাবে সমাজে যারা সত্যের আলো বিলিয়ে যাচ্ছে, নগণ্য হলেও তারাই দিশারি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর