ভ্রমণকাহিনি : প্রবাস বন্ধু
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘আস্ত উটের রোস্টটা হয়তো দিতে ভুলে গেছে’ কথাটি লেখক কেন ভেবেছেন?
উত্তর: আবদুর রহমানের একের পর খাবার পরিবেশন প্রসঙ্গে লেখক কথাটি ভেবেছেন।
আবদুর রহমান একজন লোকের খাবার আয়োজন করতে গিয়ে ছয়জনের পরিমাণ খাবারের আয়োজন করেন। হরেক রকমের খাবারের আয়োজন করে সে। গামলা ভর্তি মাংসের কোরমা, বোম্বাই সাইজের গোটা আষ্টেক শামি কাবাব, কোফতা-পোলাওর ওপর আস্ত মুরগির রোস্ট, বাগেবালার বরফি আঙুর, কাবুলি সবুজ চা। খাবার শেষে লেখকের চা খাওয়া হলে আবদুর রহমান ১০ মিনিটের জন্য বেরিয়ে যান। তখন লেখক শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে ভাবেন, আবার হয়তো কিছু একটা নিয়ে আসবে। মনে হয়, সে আস্ত উটের রোস্টটা হয়তো দিতে ভুলে গেছেন।
প্রশ্ন: ‘তামাম আফগানিস্তান মশহুর’ কোন খাবার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়েছে?
উত্তর: বাগেবালার বরফি আঙুর সম্পর্কে ওপরের মন্তব্যটি করা হয়েছে।
আবদুর রহমান লেখককে একের পর এক নানা পদের খাবার পরিবেশন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বাগেবালার বরফি আঙুর দিয়ে বললেন সেটা নাকি তামাম আফগানিস্তানে মশহুর। লেখক একটা আঙুর মুখে দেওয়ামাত্র তার ব্রহ্মরন্ধ্র পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠেছিল। তবু আবদুর রহমানকে খুশি করার জন্য তিনি গোটা আটেক আঙুর খেয়েছিলেন।
প্রশ্ন: আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি। লেখকের প্রতি আগা আবদুর রহমানের এ অনুযোগের কারণ কী?
উত্তর: আবদুর রহমানের চোখে লেখক পর্যাপ্ত খাবার খাননি— এ কারণেই তার এই অনুযোগ।
আবদুর রহমানের রান্নার দক্ষতা ও রসনাবোধ অতিমাত্রায় প্রবল। সে বিচিত্র সব সুস্বাদু পদ প্রচুর পরিমাণে রান্না করে লেখককে খেতে দেয়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় লেখকও সেসব রান্না পেট পুরে, তৃপ্তি করে খান। কিন্তু আবদুর রহমানের মতো ভোজনরসিক ও বিশাল চেহারার মানুষ, পরিপূর্ণ ভোজন সত্ত্বেও লেখকের খাওয়াকে নিতান্ত সাধারণ ও কম ভেবে ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি’ বলে অনুযোগ করেন।
প্রশ্ন: পানশির সম্পর্কে আবদুর রহমান লেখককে কেমন বর্ণনা দিল? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আবদুর রহমান লেখককে পানশিরের মানুষ ও পরিবেশের মনোজ্ঞ বর্ণনা দেন।
পানশির উত্তর আফগানিস্তানে অবস্থিত। আবদুর রহমানের নিজের জায়গা। আবদুর রহমানের ভাষায় সেখানে আস্ত একটা দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খেলেই আবার খিধে পায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে লম্বা একটা দম নিলেই তাজি ঘোড়ার সঙ্গে বাজি রেখে ছোটা যায়। পানশিরের মানুষ যেন পায়ে হাঁটে না, বাতাসে ভর করে উড়ে চলে। শীতকালে এত বরফ পড়ে যে পথঘাট, মাঠ, পাহাড়, নদী সব বরফে ঢাকা পড়ে যায়। তখন সব কাজ বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন: ‘পছন্দ না হয়, আবদুর রহমানের গর্দান তো রয়েছে।’ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ওপরের উক্তিটির মাধ্যমে আবদুর রহমান যে এক কথার লোক বোঝানো হয়েছে।
আবদুর রহমানের কাছ থেকে টানা সাত দিন জানালার পাশে বসে বরফের পতন দেখার কথা শুনে লেখক অত্যন্ত বিস্মিত হন। তার কাছে বিষয়টি নিতান্তই অবাস্তব বলে মনে হয়। কিন্তু আবদুর রহমান নিজের কথায় অটল থাকে। আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়, সে বাজে কথা বলার লোক না। বরফ পড়ার সৌন্দর্যে লেখক অবশ্যই মুগ্ধ হবেন।
আরো পড়ুন : প্রবাস বন্ধু ভ্রমণকাহিনির ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এসএসসি পরীক্ষার বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: ‘হ্যাঁ, আবদুর রহমান তোমার কথাই সই’ কথাটি লেখক কেন বলেছেন?
উত্তর: আবদুর রহমানের বর্ণনা মতে লেখক শীতকালে পানশিরে কাটাবেন বলে তিনি ওপরের উক্তিটি করেছেন।
আবদুর রহমানের বর্ণনা, ‘পানশিরে শীতকালে সে কী বরফ পড়ে! বাইরে দেখবেন বরফ পড়ছে। আপনি জানালার ধারে বসেই আছেন, আর দেখছেন, চে তৌর বর্ফ ববারদ, কী রকম বরফ পড়ে। তখন লেখক বলেন, ‘হ্যাঁ, আবদুর রহমান তোমার কথাই সই। শীতকালটা আমি পানশিরেই কাটাব।’ কারণ ‘তুমি যদি সমস্ত শীতকালটা জানালার পাশে বসে কাটাও তবে আমার রান্না করবে কে?’
প্রশ্ন: ‘অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর’ লেখক কেন মন্তব্যটি করেছিলেন?
উত্তর: প্রয়োজনের অধিক খাবার পরিবেশনের পরও আরও আছে, ওপরের বাক্যে আবদুর রহমানের এমন আশ্বাসের কারণে লেখক মন্তব্যটি করেছিলেন।
লেখক খেতে বসে খাবারের প্রাচুর্য দেখে অবাক হন। প্রচুর মাংস, বিশালাকার কাবাব, বড় থালায় কোফতা পোলাও, আস্ত মুরগির রোস্ট দেখে লেখক থ হয়ে যান। লেখককে চুপ করে থাকতে দেখে আবদুর রহমান বলেন, আরও খাবার আছে। লেখকের একার জন্য যে খাবার সামনে ছিল, তা-ই অনেক বেশি। কিন্তু আবদুর রহমানের আশ্বাসে লেখক সম্পূর্ণ খাবারের পরিমাণ চিন্তা করে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। নিজের অবস্থা বোঝাতে ব্যঞ্জনার্থে লেখক মন্তব্যটি করেছিলেন।
প্রশ্ন: ‘জিরার সাহেব কাজের লোক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘জিরার সাহেব কাজের লোক’ বলতে মূলত তার অকর্মণ্যতাকে বোঝানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ জিরার জাতিতে ফরাসি। ফরাসিরা জাতি হিসেবে শৌখিন। এরা রান্নাবান্না, গল্প করে দিন কাটাতে পছন্দ করে। জিরার সাহেবও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সারা দিন আফগানিস্তানের বিভিন্ন মন্ত্রীর দপ্তরে ঘুরে বেড়িয়ে, ঝগড়া করে তথা আড্ডা দিয়ে বেড়ান। কাবুল শহরে একে কাজ বলে। তাই অধ্যক্ষ জিরারের এই বিশেষ ধরনের কাজের জন্য তাকে কাজের লোক বলে আখ্যায়িত করেছেন লেখক।
প্রশ্ন: ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে তার শারীরিক গঠনের জন্য।
আবদুর রহমানের উচ্চতা ছয় ফুট চার ইঞ্চি। দুই হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। তার পায়ের সাইজ ডিঙি নৌকার মতো। কাঁধ এত চওড়া যে, লেখকের মনে হয় সে বাদশা আবদুর রহমান হলে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারত। তার এমন শারীরিক গঠনের জন্য লেখকের মনে হয় সে মানুষ নয়, কোনো বিশালদেহী ভয়ংকর জন্তু। এ কারণেই তাকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি’ বলতে লেখক আবদুর রহমানের বিশাল শরীর ও সেই অনুযায়ী তার খাবারের চাহিদার সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন।
আবদুর রহমান প্রথমবার লেখকের জন্য প্রচুর রান্না করেন। লেখক তার পরিমাণ দেখে অবাক হলেও উচ্চবাচ্য করেননি। বাঙালিদের তুলনায় তিনি সেদিন একটু বেশিই খেয়েছিলেন। তবুও আবদুর রহমানের দুঃখ রয়ে গিয়েছিল। তারই কথার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক বলেন, আবদুর রহমান বিশাল শরীরের অধিকারী। তার খাবারের চাহিদাও তেমনই হবে। কিন্তু সাধারণ বাঙালি লেখক সেই তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। তাই আবদুর রহমানের অভিযোগের বিপরীতে লেখক উভয়ের মধ্যে তুলনা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর