প্রথম অধ্যায় : মৌলিক মানবিক চাহিদা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-২
ছকটি দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
(ক) জীবন রক্ষার জন্য কোন মৌল মানবিক চাহিদার প্রয়োজন?
(খ) মৌলিক মানবিক চাহিদা হিসেবে চিকিৎসার গুরুত্ব লেখ।
(গ) উদ্দীপকে কোন মৌলিক মানবিক চাহিদাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) ওই মৌলিক মানবিক চাহিদার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: (ক) জীবন রক্ষার জন্য মৌল মানবিক চাহিদা খাদ্যের প্রয়োজন।
(খ) জীবন চলার পথে মানুষ বিভিন্ন কারণে অসুস্থ, রোগগ্রস্ত ও আহত হয়ে থাকে। এ অবস্থায় প্রয়োজন দেখা দেয় চিকিৎসা, খাদ্য ও পরিচর্যার। সুস্থ জীবনযাপনের প্রথমেই দরকার শারীরিক সুস্থতা। কেননা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে না পারলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব হয় না। ফলে আমাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন শারীরিক সুস্থতা। আর শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসা, খাদ্য ও পরিচর্যার।
(গ) উদ্দীপকে মৌলিক মানবিক চাহিদা বস্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক বলা হয় বস্ত্রকে। সূচনালগ্ন থেকেই মানুষের সম্ভ্রম রক্ষার নিদর্শনস্বরূপ মানবজাতি বস্ত্রকে ব্যবহার করত। তাই বস্ত্রকে মানবসভ্যতার প্রতীকও বলা হয়। লজ্জা নিবারণের মাধ্যমে সমাজে নৈতিক ও সভ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বস্ত্রের ভূমিকা সর্বাগ্রে। পোশাকের মাধ্যমে যে জাতি সভ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা নৈতিক চরিত্র শূন্য হয়ে পড়েছে। আবার শীত, গ্রীষ্ম, ধুলা-ময়লা, রোগজীবাণু ইত্যাদি প্রতিকূলতা থেকে দেহকে রক্ষার জন্য বস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের ছকে উপস্থাপিত তথ্যাবলি বস্ত্রের চাহিদা, বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা চাহিদাটি বস্ত্র।
(ঘ) মৌলিক মানবিক চাহিদা বস্ত্রের চাহিদা পূরণের বর্তমান অবস্থা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে ক্রমশ উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক গড় কাপড়ের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন কম হলেও অতীতের তুলনায় বাংলাদেশ বস্ত্র খাতে অনেক এগিয়েছে। বেসরকারি ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত হয় দেশের অনেক বস্ত্র কারখানা। দেশের বর্তমান কটন স্পিনিং মিলের সংখ্যা ৪২৯টি। এর মধ্যে সরকারি খাতে ২২টি ও বেসরকারি খাতে মিল ৪০৭টি। এসব মিলে সুতা উৎপাদন ক্ষমতা ২১০৬ মিলিয়ন কেজি। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশের উৎপাদন দিয়ে মেটানো অসম্ভব। ফলে প্রতি বছরই বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ কাপড়, সুতা ও কাঁচা তুলা আমদানি করতে হয়। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় কাপড়ের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। ফলে স্বল্পমূল্যে বিদেশ থেকে পুরোনো কাপড় আমদানি করে অভ্যন্তরীণ ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়। তাই আমদানি কমিয়ে এনে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে এর সুষ্ঠু সমন্বয় করা জরুরি।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর