গল্প : অপরিচিতা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ধনীর কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ধনীর কন্যা অনুপমের মামার পছন্দ নয়। কারণ ধনীদের মেয়েরা মাথা হেঁট করে স্বামীর সংসারে থাকতে নারাজ।
মামা অনুপমের জন্য এমন পাত্রী খুঁজছেন যার বাবা ধনী নয়। কারণ, ধনীর কন্যা সংসারের সব যন্ত্রণা অপমান নীরবে সহ্য করবে না। অন্যদিকে দরিদ্রের কন্যা এসব মাথা পেতে নীরবে সহ্য করে যাবে। অনুপমের ঘরে স্ত্রী হিসেবে যে মেয়েই আসবে সে মাথা হেঁট করেই আসবে এমনটাই মামার প্রত্যাশা।
প্রশ্ন: ‘তাহারই পশ্চাতে লক্ষ্মীর ঘটটি একেবারে উপুড় করিয়া দিতে দ্বিধা হইবে না’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিয়েতে বেশি পরিমাণে পণ পাওয়া যাবে বলেই অনুপমের মামা বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন তা বুঝতে পেরেই অনুপমের মনে এমন ভাবোদয়ের সৃষ্টি হয়েছিল।
অনুপম ও তার মামার কাছে কল্যাণীর পরিবারের বৈষয়িক অবস্থার বিবরণ দিয়েছিল হরিশ। হরিশের বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় কল্যাণীর বংশে লক্ষ্মীর মঙ্গলঘট ভরা ছিল, অর্থাৎ ধনসম্পদে পরিপূর্ণ ছিল তারা। বর্তমানে তাদের অবস্থা কিছুটা খারাপ হলেও তা যৎসামান্য। তাই কল্যাণীর পেছনেই লক্ষ্মীর ঘট, অর্থাৎ সব অর্থ উজাড় করে দিতে দ্বিধা করবেন না তার বাবা সম্ভুনাথ সেন।
প্রশ্ন: ‘বলিলেন, সে কী কথা, লগ্ন।’ কে, কেন বলেছিল? প্রসঙ্গসহ উল্লেখ করে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: কল্যাণীর বিয়ের গহনা পরীক্ষা করানোর পর সম্ভুনাথ বরপক্ষকে খাবারের কথা বললে অনুপমের মামা অবাক হয়ে লগ্নের কথা উল্লেখ করেন। অনুপমের মামা কল্যাণীর গহনা যাচাই করে দেখতে চাইলে সম্ভুনাথ সেনের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। অনুপম এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করলে সম্ভুনাথ স্থির করেন তিনি এমন ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবেন না। তাই নিয়ম না থাকলেও সম্ভুনাথ বরকে বিয়ের আগেই খাওয়ার কথা বলেন। আর এতে বিস্মিত হয়ে অনুপমের মামা সম্ভুনাথকে লগ্নের কথা বলেছিলেন।
প্রশ্ন: মেয়ের বয়স ১৫ শুনে মামার মন ভার হলো কেন?
উত্তর: পনেরো বছর বয়সেও মেয়ের বিয়ে হয়নি এমনটি ভেবে অনুপমের মামার মন ভার হলো।
কারণ, তিনি মনে করলেন যে, ওই মেয়ের বংশে কোনো দোষ আছে। তখনকার সমাজে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার রীতি ছিল। এ সময়ের মধ্যে মেয়ের বিয়ে না হলে মনে করা হতো মেয়ের বংশে কোনো দোষ আছে। যে কারণে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। যে মেয়ের সঙ্গে অনুপমের বিয়ের কথা চলছিল তার বয়স ছিল ১৫।
প্রশ্ন: লেখকের মামা বিয়ে বাড়িতে স্যাকরাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন কেন?
উত্তর: অনুপমের মামা বিয়ে বাড়িতে স্যাকরাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন গহনা যাচাই করে দেখার জন্য।
অনুপমের মামা অত্যন্ত হীন মানসিকতার অধিকারী। তিনি ভেবেছিলেন যে, বিয়ে বাড়িতে কন্যার বাবা তাদের ঠকাতে পারেন কন্যার গহনা নিয়ে। কিন্তু অনুপমের মামা ঠকবার পাত্র নন। তাই কন্যার গহনাগুলো কতটুকু খাঁটি তা তিনি নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। আর সে কারণেই তিনি বিয়ে বাড়িতে স্যাকরাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন: ‘অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ওপরের উক্তিতে ব্যঙ্গার্থে দেবতা কার্তিকের সঙ্গে অনুপমের তুলনা করা হয়েছে।
দেবী দুর্গার দুই পুত্র। অগ্রজ গণেশ ও অনুজ কার্তিক। দেবী দুর্গার কোলে দেব সেনাপতি কার্তিক অপূর্ব শোভায় ভাস্বর। বড় হয়েও অনুপম কার্তিকের মতো মায়ের কাছাকাছি থেকে মাতৃআজ্ঞা পালনে ব্যস্ত থাকে। তাই পরিণত বয়সেও তার স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে না। ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায়। অনুপম ব্যক্তিত্বহীন একটি চরিত্র। উচ্চশিক্ষিত হলেও তার নিজস্বতা বলতে কিছু নেই। তাকে দেখলে মনে হয় আজও সে যেন মায়ের কোলে থাকা শিশুমাত্র। এজন্যই ব্যঙ্গ করে অনুপমকে গজাননের ছোট ভাই কার্তিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর