দ্বিতীয় অধ্যায় : জীবকোষ ও টিস্যু
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: দেহকোষ ডিপ্লয়েড কেন?
উত্তর: বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে যেসব কোষ অংশগ্রহণ করে তাদের দেহকোষ বলে। মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। দুই সেট ক্রোমোজোমকে ডিপ্লয়েড বলে। দেহকোষে দুই সেট ক্রোমোজোম থাকায় দেহকোষ ডিপ্লয়েড।
প্রশ্ন: জননকোষ হ্যাপ্লয়েড কেন?
উত্তর: মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। অর্থাৎ জননকোষ হ্যাপ্লয়েড।
প্রশ্ন: জননকোষ কীভাবে নতুন জীবের দেহগঠনের সূচনা করে?
উত্তর: পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম কোষটিকে জাইগোট বলে। জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে।
প্রশ্ন: উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
উত্তর: উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নরূপ-
(১) উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর আছে। প্রাণিকোষে কোনো কোষপ্রাচীর নেই।
(২) উদ্ভিদকোষে প্লাস্টিড থাকে। প্রাণিকোষে প্লাস্টিড থাকে না।
প্রশ্ন: মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তিঘর বলা হয় কেন? অথবা মাইটোকন্ড্রিয়ায় অধিক শক্তি উৎপন্ন হয় কেন?
উত্তর: সবাত শ্বসনের ধাপ চারটি। যথা-গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র। এর প্রথম ধাপ গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না। তবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়। শ্বসনের তৃতীয় ধাপ ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণকারী সব এনজাইম উপস্থিত থাকায় এ বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়। ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয় এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
প্রশ্ন: রূপান্তরিত প্লাস্টিড কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লিউকোপ্লাস্টকে রূপান্তরিত প্লাস্টিড বলা হয়। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।
আরো পড়ুন : জীবকোষ ও টিস্যু অধ্যায়ের ২৭টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এসএসসির জীববিজ্ঞান
প্রশ্ন: কোষের ভান্ডার কোনটি এবং কেন?
উত্তর: কোষগহ্বরকে কোষের ভান্ডার বলা হয়। এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা। এতে বিভিন্ন ধরনের অজৈব লবণ, আমিষ, শর্করা, চর্বিজাতীয় পদার্থ, জৈব অ্যাসিড, রঞ্জক পদার্থ, পানি ইত্যাদি থাকে।
প্রশ্ন: শ্বেত রক্তকণিকা ও লাইসোজোমকে কার্যগত দিক থেকে সদৃশ বিবেচনা করা হয় কেন?
উত্তর: শ্বেত রক্তকণিকার কোনো আকার নেই। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এরা জীবাণুকে ধ্বংস করে। লাইসোজোম হলো সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু, যা জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। এসব কারণেই শ্বেত রক্তকণিকা ও লাইসোজোমকে কার্যগত দিক থেকে সদৃশ বিবেচনা করা হয়।
প্রশ্ন: নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয় কেন?
উত্তর: নিউক্লিয়াস কোষে সংঘটিত বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয়।
প্রশ্ন: প্যারেনকাইমাকে সরল টিস্যু বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন। এর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। এতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়। এসব কারণেই প্যারেনকাইমাকে সরল টিস্যু বলা হয়।
প্রশ্ন: ফ্লোয়েমকে পরিবহন টিস্যু বলা হয় কেন?
উত্তর: ফ্লোয়েমকে পরিবহন টিস্যু বলা হয়। কারণ, উদ্ভিদের পাতায় প্রস্তুত খাদ্য এরা দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে।
প্রশ্ন: মানুষের আবরণী টিস্যুকে ট্রানজিশনাল আবরণী বলা হয় কেন?
উত্তর: মানুষের আবরণী টিস্যুকে ট্রানজিশনাল আবরণী বলা হয়। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ভিত্তিপর্দার ওপর একাধিক স্তরে সজ্জিত। এমন স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যুও আছে, যার স্তরের সংখ্যা মিনিটের মধ্যে পাল্টে যেতে পারে, কখনো দেখা যায় এদের ৩-৪টি স্তর আবার পরক্ষণেই দেখা যায় ৭-৮টি স্তর। এ কারণে মানুষের আবরণী টিস্যুকে ট্রানজিশনাল আবরণী বলা হয়।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, জীববিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি মুজিব কলেজ, সখিপুর, টাঙ্গাইল
কবীর