গল্প : বিলাসী
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘বাবা আমারে বাবুর সাথে নিকা দিয়েছে জানো?’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে খুড়ার বাজে কথা ও অপমানের বিরুদ্ধে বিলাসীর প্রতিবাদী মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে।
মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থ হয়ে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করায় ও তার হাতে ভাত খাওয়ায় জাত বিসর্জন হয়েছে। সনাতন হিন্দুরা এ সংস্কার খুব মানে। তাই মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া গ্রামবাসী সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িতে এসে বিলাসীকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। বিলাসী নিম্নবর্ণের মানুষ হলেও স্বাভাবিকভাবে এসব গালি সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদ করে। ধর্ম ও শাস্ত্রমতে সে মৃত্যুঞ্জয়ের বিবাহিত স্ত্রীর অধিকার নিয়ে খুড়ার অসভ্য আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বিলাসীর এ আচরণে তার ব্যক্তিত্বের স্বরূপ উদ্ভাসিত হয়েছে।
প্রশ্ন: ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে মুমূর্ষু মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রাতজাগা ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত বিলাসীর শারীরিক দুরবস্থা প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে।
গ্রামে একঘরে করে রাখা মৃত্যুঞ্জয়কে অসুস্থ অবস্থায় কেউ সাহায্য করতে আসেনি। অনেক দূরের নিম্নবর্ণের এক সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় রাতদিন খাটে। রাত-জাগা ক্লান্তিতে মেয়েটিকে প্রথম দেখে গল্প-কথক ন্যাড়া বুঝতেই পারেনি এ মেয়ের বয়স আঠারো না আটাশ। বাসি ফুলকে যেমন মলিন মনে হয়, তেমনই বিপর্যস্ত মনে হয়েছিল বিলাসীকে দেখে। তবে সেবাব্রতী নারীর স্বরূপ ফুটে উঠেছে বিলাসী চরিত্রটিতে।
আরো পড়ুন : বিলাসী গল্পের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: ‘সে কত বড় সাহসের কাজ!’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়োবাড়িতে রাত-দিন একা বিলাসী যেভাবে দুঃসাহস নিয়ে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছিল, সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
জঙ্গলের মধ্যে বাড়ি, ২০-২৫ বিঘার বাগান। এই নির্জন বাড়িতে বিলাসী একা অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের রাত-দিন সেবা করেছে। কাজটি মোটেও সহজ বা স্বাভাবিক ছিল না। মৃত্যুঞ্জয় ১০-১৫ দিন অচেতনও ছিল। প্রায় মৃত মানুষটিকে এভাবে একা বিলাসীর সেবা-যত্নের বিষয়টি কী পরিমাণ সাহস ও ধৈর্যের কাজ ছিল, তা অনুমান করে গল্প-কথক শিহরিত হয়েছেন, বিস্মিত হয়েছেন।
প্রশ্ন: ‘ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারবো না।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে ন্যাড়ার বিধবা আত্মীয় মৃত স্বামীর পাশে একা থাকতে যে ভীষণ ভয় পেয়েছিল সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
স্বামীর সঙ্গে যে নারী ২৫ বছর ঘর করেছে সেও স্বামীর লাশের পাশে কিছুক্ষণের জন্য একা থাকতে চায় না। অথচ স্বামীকে সে ভালোবাসে, সহমরণেও যেতে চায়। আসলে আবহমানকাল ধরে লাশকেন্দ্রিক ঘরে থাকতে মানুষের যে ভয় ও সংস্কার তা কোনো মানুষ ১০০ বছর ঘর করলেও অতিক্রম করতে পারে না। তাই ন্যাড়ার বিধবা আত্মীয় মৃতস্বামীর পাশে একা থাকতে চায়নি। ‘ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।’ বলে তার ভয়ার্ত অনুভূতি এভাবেই ব্যক্ত করেছিল ন্যাড়ার কাছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর