দ্বিতীয় অধ্যায় : সমাজকর্মের শাখা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে কী বোঝায়?
অথবা, প্রবীণ কল্যাণ কাকে বলে?
উত্তর: প্রবীণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্ম অনুশীলনের বিশেষায়িত শাখা, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি, দক্ষতা ও কৌশল প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ প্রবীণ কল্যাণের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি ও দক্ষতার অনুশীলনই প্রবীণ কল্যাণ সমাজকর্ম। সমাজকর্ম অভিধানের ব্যাখ্যানুযায়ী, প্রবীণ কল্যাণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের বিশেষ অনুশীলন ক্ষেত্র, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মনো-সামাজিক চিকিৎসা, প্রবীণদের প্রয়োজনীয় সমাজসেবা কার্যক্রমের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: হাসপাতাল সমাজকর্মের ধারণা দাও।
উত্তর: হাসপাতাল সমাজকর্ম হলো একটি সহায়ক কার্যক্রম। হাসপাতাল পরিবেশে চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহারে সহায়তাদান এর লক্ষ্য। সাধারণভাবে বলা যায়, জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজকর্মের যে কর্মসূচি পরিচালিত হয় তাকে হাসপাতাল সমাজকর্ম বলা হয়। সমাজকর্ম অভিধানের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- হাসপাতাল সমাজকর্ম হলো হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সুস্বাস্থ্যের সুযোগ বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ এবং দৈহিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও মানসিক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা।
প্রশ্ন: চিকিৎসা সমাজকর্মের দুটি উদ্দেশ্য লেখ।
উত্তর: চিকিৎসা সমাজকর্মের দুটি উদ্দেশ্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
ক. রোগীর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে রোগীর সুস্থতা বিধানে সচেষ্ট করা।
খ. রোগীর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলি সংগ্রহ করে রোগ নিরাময়ে চিকিৎসককে সহায়তা করা।
আরো পড়ুন : সমাজকর্মের শাখা অধ্যায়ের ৯টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১০ম পর্ব, এইচএসসি সমাজকর্ম ২য় পত্র
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কীভাবে চিকিৎসা সমাজকর্মের সূচনা হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে হাসপাতাল সমাজকর্মের সূচনা হয় পাকিস্তান শাসনামলে। তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের যৌথ প্রচেষ্টায় জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ ১৯৫৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সমাজকর্মের প্রয়োগ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। সমাজকল্যাণ পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকার মিটফোর্ড ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা সমাজকর্মের প্রয়োগ শুরু হয়। এ ধারা স্বাধীন বাংলাদেশেও অব্যাহত থাকে। আর এভাবেই বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের সূচনা হয়।
প্রশ্ন: ‘প্রবীণ সমস্যা স্বাভাবিক, সর্বজনীন ও বিশ্বব্যাপী’- কীভাবে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যার তালিকায় অন্যতম হলো প্রবীণ সমস্যা। জনবিজ্ঞানীদের মতে, আগামী শতাব্দীতে যেসব সামাজিক সমস্যা মানবজাতিকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলবে, যেসব সমস্যার মধ্যে প্রবীণ সমস্যা অন্যতম। কারণ অসুস্থতা, বার্ধক্যজনিত নিস্তেজ ও দুর্বলতা, জরাগ্রস্ততা, একাকিত্ব, হীনম্মন্যতা, নির্ভরশীলতা প্রভৃতি বহুমুখী সমস্যায় প্রবীণরা জর্জরিত। আর্থিকভাবে দরিদ্র, দৈহিক ও মানসিক রোগ, সামাজিক মর্যাদা ও সামাজিক ভূমিকার অবনতি, অতীতের ব্যর্থতা ও সফলতার অনুভূতি, আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের অবনতি ইত্যাদি বহুমুখী সমস্যায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী আক্রান্ত। তাই প্রবীণদের সমস্যা, স্বাভাবিক, সর্বজনীন এবং বিশ্বব্যাপী।
প্রশ্ন: ‘জীবনচক্রের পরিণতি হলো বার্ধক্য’- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: জীবন হলো জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়। মানুষের এ জীবনের কতগুলো পর্যায় রয়েছে। শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বার্ধক্য ইত্যাদি পর্যায়ক্রমিক স্তরে গঠিত হয় জীবন। বার্ধক্য জীবনের একটি পর্যায় বা স্তর। তবে মানুষ জীবনের সব পর্যায় বা স্তর অতিক্রম করেই বার্ধক্যে উপনীত হয়। কাজেই একে জীবনের সর্বশেষ পর্যায় বলে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ জীবনচক্রের পরিণতি হলো বার্ধক্য।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর