মহামারি করোনাভাইরাস আসার পর থেকে পুরো বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে। ব্যবসায়ীদের জীবনে নেমে আসে দুর্যোগ। কিন্তু বুদ্ধিমানরা কখনোই হতাশ হয় না।
আপনার ব্যবসা যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায় তাহলে লোকাল বিজনেসকে আপনার বেছে নেওয়া উচিত। তবে করোনাভাইরাসের পর থেকে লোকাল বিজনেসেও পরিবর্তন এসেছে। তাই আপনাকে সর্বপ্রথম লোকাল বিজনেসের পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। তারপর আপনার লোকাল বিজনেস স্মার্টলি প্রোমোট করতে হবে।
লোকাল বিজনেস কাকে বলে
লোকাল বিজনেস বলতে আপনার বাসার আশপাশের বিজনেসগুলোকে বোঝায়। অর্থাৎ আপনার এলাকার স্থানীয় বিজনেসগুলোই হলো লোকাল বিজনেস। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় সবাই শপিং থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস কিনতেও লোকাল মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আপনি কোন ধরনের প্রোডাক্ট সেল করছেন তা যদি লোকাল কাস্টমাররা জানতে পারে তাহলে আপনাকে কাস্টমার খুঁজতে হবে না বরং তারাই আপনাকে খুঁজে নেবে। আর এই জন্য দরকার আপনার লোকাল বিজনেসের সঠিক মার্কেটিং।
বর্তমানে যেহেতু সবাই অনলাইনে বেশি সময় কাটায় তাই আপনার বিজনেসের প্রোমোটিং করতে পারেন অনলাইনের মাধ্যমে। অনলাইন ভিত্তিক প্রোমোটিংয়ে আপনি আগের চেয়ে বেশি কাস্টমার পাবেন। কারণ, অনলাইন ব্যবসা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
যেভাবে আপনার বিজনেসকে প্রোমোট করতে পারেন-
আগে যেসব মানুষ ব্যস্ততার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখতে পারত না। করোনা মহামারির সময়ে টাইম পাস করার জন্য তাদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট ওপেন করেছে। যার কারণে আগের তুলনায় এখন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বেশি। আপনার এরিয়ার সব লোকজনও নিশ্চয়ই এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। তাই আপনি তাদের টার্গেট করে আপনার বিজনেসের প্রচার চালাতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাডভারটাইজিংয়ের মাধ্যমে।
লোকাল বিজনেসকে প্রোমোট করার ব্যাপারে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
বিজনেস ওয়েবসাইট তৈরি করুন: আপনার লোকাল বিজনেসকে সবার কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, আপনার বিজনেস লোকাল মানুষের জন্য তাহলে ওয়েবসাইট তৈরি করার কী দরকার। এখানেই আপনার ভুল। কারণ এখন যুগ পাল্টেছে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার লোকাল কাস্টমারদের আপনার বিজনেসের যাবতীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত করতে পারবেন। তাই প্রথমেই আপনার লোকাল বিজনেসের জন্য একটা কমার্শিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি করুন।
স্টোর ম্যাপ: ওয়েবসাইটটিতে স্টোর ম্যাপ বা লোকেশন অ্যাড করতে ভুলবেন না। আপনার ওয়েবসাইটে স্টোরের ম্যাপ অ্যাড করার মাধ্যমে আপনার কাস্টমাররা সহজেই আপনার শপ খুঁজে পাবে। এতে করে একজন গ্রাহক আপনার স্টোরের ম্যাপ দেখে খুব সহজেই আপনার শপে পৌঁছে যেতে পারবে।
নেম ড্রপিং: ওয়েবসাইটটিকে লোকালাইজড করতে এর সঙ্গে নেম ড্রপিং করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে হয়তো এই টার্মের সঙ্গে এখনো পরিচিত নন। ধরুন আপনার লোকাল বিজনেসের শপ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। আর সেটাকে চেনে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই আপনি আপনার বিজনেস ওয়েবসাইটের ম্যাপে যখন নেম ড্রপিং করবেন তখন মাথায় রাখবেন যেন সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটাও উল্লেখ থাকে। এতে করে একজন কাস্টমার সহজেই আপনার শপ খুঁজে পাবে। এক্ষেত্রে আপনি ম্যাপে এভাবে আপনার শপের লোকেশন দিতে পারেন- শপ A, অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অপোজিট বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায়। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি সবার কাছে অধিক পরিচিত তাই এই লোকেশন দেখে যে কেউ চাইলে সহজেই আপনার শপটিতে আসতে পারবেন।
প্রোডাক্ট লিস্টিং: ধরুন আপনার একটি প্রোডাক্ট দরকার তখন আপনি সাধারণত কী করে থাকেন? নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবতে থাকেন আপনার যে প্রোডাক্টটি প্রয়োজন সেটা লোকাল কোনো শপে আছে কি না। আপনি হয়তো ভাবলেন A দোকানে প্রোডাক্টটি থাকতে পারে কিন্তু শিওর না। এখন আপনি যে কাজটি করবেন তা হলো শপটির ওয়েবসাইট ঘুরে আসবেন এটা দেখতে যে প্রোডাক্ট লিস্টিংয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রোডাক্টটি আছে কি না। তাই একজন বিজনেস ম্যান হিসেবে আপনার উচিত আপনার ওয়েবসাইটের প্রোডাক্টগুলোর লিস্ট নিয়মিত আপডেট করা।
সোশ্যাল মিডিয়া প্রোমোশন: আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডভারটাইজিংয়ের মাধ্যমে আপনার লোকাল বিজনেসকে প্রোমোট করতে পারেন। আবার ফেসবুক গ্রুপ অথবা ফেসবুক পেজ ওপেন করে কাস্টমারদের সঙ্গে কানেক্টেড থাকতে পারেন। মনে রাখবেন শুধু আপনার প্রোডাক্টের প্রোমোটিং করলে তারা একঘেয়ে হয়ে যাবে, বোরিং ফিল করবে। তাই তাদের কাছেও জানতে চান আপনার প্রোডাক্টগুলো ব্যবহার করে তারা কেমন সুফল পাচ্ছে।
তারেক