মার্কেটিংয়ের ওপর ডিগ্রি মার্কেটিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আপনার সৃজনশীলতা, নেটওয়ার্কিং এবং রিসার্চ স্কিলকেও ধারালো করে তোলে। আপনার এই মূল্যবান স্কিলগুলোকে কাজে লাগিয়ে একটি নয়, বরং বেশ কয়েকটি ক্যারিয়ার অপশন আপনার সামনে চলে আসে। নিচে এমন কিছু ক্যারিয়ারের বিষয়ে উল্লেখ করা হলো।
১. মার্কেটিং ম্যানেজার
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও চমৎকার লিডারশিপ স্কিল থাকলে আপনি মার্কেটিং ম্যানেজার প্রফেশনটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন। মার্কেটিং ম্যানেজারের দায়িত্ব ব্র্যান্ডের সম্পূর্ণ ক্যাম্পেইনের দেখাশোনা করা এবং তাদের সৃজনশীল ও বিশ্লেষণী দক্ষতা ব্যবহার করে বাজেট নিয়ন্ত্রণ, কপি লেখা, মার্কেট রিসার্চ করা ও ক্রেতাদের আকর্ষণ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
২. মার্কেটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট
মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে চমৎকার একটি উপায় হচ্ছে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে আপনি অ্যাডভার্টাইজিং, মার্কেট রিসার্চ ও সেলসের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। যা পরবর্তী সময়ে মার্কেটিং ক্ষেত্রে আপনার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করবে।
৩. মার্কেট রিসার্চার
মার্কেটিং গ্র্যাজুয়েট হিসেবে যদি আপনার ডেটা অ্যানালাইসিসে বিশেষ আগ্রহ থেকে থাকে, তা হলে আপনি মার্কেট রিসার্চকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
মার্কেট রিসার্চাররা তাদের রিসার্চের দক্ষতাকে ব্যবহার করে ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টের টার্গেট পূরণে মার্কেট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। তার পর এই তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্রেতাদের পছন্দ-অপছন্দ বোঝার চেষ্টা করেন এবং মার্কেটের নানান ট্রেন্ড খুঁজে বের করেন।
৪. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার
আজকালকার যুগে ব্র্যান্ডের মর্যাদা নির্ভর করে তাদের অনলাইন উপস্থিতির ওপর, বিশেষ করে ফেসবুক আর লিংকডইনের মতো যোগাযোগ মাধ্যমে। আপনার যদি সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে বিশেষ আগ্রহ থাকে, তা হলে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট আপনার জন্য আদর্শ ক্যারিয়ার হতে পারে।
৫. ইভেন্ট ম্যানেজার
শক্তিশালী সাংগঠনিক জ্ঞান ও যোগাযোগ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন সহজেই। এই প্রফেশনালরা তাদের মার্কেটিং স্কিল ব্যবহার করে ব্র্যান্ডকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন, সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকর্ষণ অর্জন করতে পারেন এবং সেলস জেনারেট করতে পারেন।

৬. প্রোডাক্ট ম্যানেজার
যেসব মার্কেটিং গ্র্যাজুয়েট এমন একটি ক্যারিয়ার চান, যাতে তাদের সব স্কিলই কম-বেশি কাজে খাটানো হবে, তাদের জন্য প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট একটি উপযুক্ত প্রফেশন। প্রডাক্ট তৈরি থেকে শুরু করে এর বিক্রি হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ম্যানেজ করাই প্রোডাক্ট ম্যানেজারদের কাজ। যার অংশ হিসেবে থাকে মার্কেট রিসার্চ, বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া পরিকল্পনা।
৭. মিডিয়া প্ল্যানার
একজন মিডিয়া প্ল্যানার হিসেবে আপনার দায়িত্ব হবে ক্লায়েন্টের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্মটি বেছে নেওয়া। সাধারণত অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিগুলোতে এই পজিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রেস, টেলিভিশন ও অন্যান্য মিডিয়ার সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে একটি উপযুক্ত অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করাই হয় মিডিয়া প্ল্যানারের কাজ।
৮. সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ
মার্কেটিংয়ে অভিজ্ঞতার হাত ধরেই আসে সেলসে দক্ষতা। শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতা ও মার্কেটিংয়ের জ্ঞান ব্যবহার করে আপনি সেলসের জন্য একটি দৃঢ় বক্তব্য তৈরি করতে পারবেন। একজন সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব সম্ভাব্য ক্রেতাদের লক্ষ্য করে সেলস স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা এবং সফলভাবে কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করতে পারা।
৯. মার্কেটিং কপিরাইটার
আপনি যদি আপনার মার্কেটিংয়ের প্যাশনের পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও লেখালেখির দক্ষতাকেও কাজে লাগাতে চান, তা হলে মার্কেটিং কপিরাইটার আপনার জন্য একদম সঠিক প্রফেশন। এই প্রফেশনালদের কাজ নিজেদের মার্কেটিং স্কিল ব্যবহার করে অনলাইন ও অফলাইন বিজ্ঞাপনের জন্য স্লোগান, ভিডিও স্ক্রিপ্ট, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ও অন্যান্য কনটেন্ট লেখা।
১০. SEO বিশেষজ্ঞ
বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির কোম্পানি তাদের অনলাইন উপস্থিতি ধরে রাখতে SEO specialist-দের নিয়োগ দিয়ে থাকে, যাতে করে তাদের ওয়েবসাইটের র্যাংকিং বাড়ে এবং সার্চ ইঞ্জিনে আরও সহজে সবার চোখে পড়া যায়। ব্যবহারকারীর মানসিকতা ও ব্র্যান্ডের বক্তব্যকে পরিকল্পিতভাবে উপস্থাপন এই ক্যারিয়ারের জন্য আবশ্যক।
১১. ওয়েব ডিজাইনার
কপিরাইটারদের মতোই ওয়েব ডিজাইনাররাও মার্কেটিং এবং সৃজনশীলতা ব্যবহার করে ব্র্যান্ডকে উপস্থাপন করেন। মার্কেট রিসার্চ, ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে জানা এবং ওয়েবসাইট ন্যাভিগেশন এই প্রফেশনালদের কাজের অংশ।
১২. অ্যাডভার্টাইজিং ম্যানেজার
আগ্রহী মার্কেটাররা অ্যাডভার্টাইজিং ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারেন। ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে চাইলে পরিকল্পনা করা, নেতৃত্ব দেওয়া, সৃজনশীলতা ও যোগাযোগ রক্ষা করার দক্ষতা থাকতে হবে। অ্যাডভার্টাইজিং ম্যানেজাররা বিজ্ঞাপনের পরিকল্পনা তৈরি ও তা পরিচালনা করেন, ক্লায়েন্ট ও টিমের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং বাজেট নির্ধারণ করেন।
১৩. ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে আগ্রহ থাকলে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজতে পারেন। এই বহুল পরিচিত চাকরিটি মার্কেটিং প্রফেশনালদের অনলাইন অ্যাডভার্টাইজিং ও ই-সেলস ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়। SEO, PPC, কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ওয়েব ডিজাইন ব্যবহার করে ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা ব্র্যান্ডের অনলাইন উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
তারেক