শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ চুকিয়ে অধিকাংশই চাকরিজীবনে পদার্পণ করেন। দিনের একটা বড় সময় কাটান কর্মক্ষেত্রে। সেখানে বন্ধুদের বদলে থাকা হয় সহকর্মীদের সঙ্গে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ভাগাভাগি করা থেকে শুরু করে নিজের কথা বলার সঙ্গী হন তারা। এই কথা বলা আর আড্ডাটা যতটা না আমাদের সময় নষ্ট করায়, তার চেয়েও অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয় কাজের গতি।
আসলে কাজের জায়গায় যদি সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি না হয়, তাহলে অফিসে থাকাটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু সহকর্মীরা কি আদৌ বন্ধু হতে পারেন? তাদের সঙ্গে কি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করা উচিত? নাকি যতটা পারা যায় এড়িয়ে চলতে হয়? বিস্তারিত জানাচ্ছেন গাজী তাহির
সম্পর্ক সৃষ্টি হোক প্রথম থেকেই
যেহেতু কর্মক্ষেত্রে দলীয় বা টিমওয়ার্ক করতে হয় তাই সহকর্মীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রথম দিন থেকেই সম্পর্ক তৈরির কাজটি করুন। আপনার ব্যবহার, অভিপ্রায় যেন বন্ধুত্বপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
অন্যরা এসে আপনার সঙ্গে কথা বলবে এমন ভাবনা নিয়ে বসে থাকবেন না। বরং নিজেই সবার সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিন। নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামের বাড়ি এমন কিছু তথ্য দিতে পারেন। তবে প্রথম দিনই সহকর্মীর সঙ্গে গালগল্প শুরু করে দেবেন না। এমন ব্যক্তিদের অন্যরা এড়িয়ে চলতে চায়।
সহকর্মীদের চিনতে সময় নিন
আপনি চাইলেই একদিনে সবাইকে চিনতে পারবেন না। আবার জানা বা চেনার কোনো শেষও নেই। মানুষ পরিবর্তনশীল। আজকের পরিস্থিতিতে সহকর্মী যে ব্যবহার করছেন, আগামী দিন অন্য পরিস্থিতিতে তা নাও করতে পারেন। তাই সহকর্মীদের চিনতে সময় নিন।
সবাইকে সম্মান করুন
পৃথিবীর সব মানুষ একই মানসিকতার নয়। সে হিসাবে একটি প্রতিষ্ঠানেও অনেক মানসিকতার কর্মী কাজ করে থাকেন। সবার সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে এমনটা নয়। তবে সব সহকর্মীকেই যোগ্য সম্মান দিন। মনে রাখবেন, অন্যকে সম্মান দিলে, আপনিও সম্মান পাবেন। সিনিয়র বা ঊর্ধ্বতন সহকর্মীদের কথা মেনে চলতে চেষ্টা করুন।
সহকর্মীদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করুন
সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিকতা যত বাড়বে, দলগত কাজ করা আপনার জন্য তত সহজ হবে। অনেকে নিজের মতো থাকতে ভালোবাসেন। অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখেন। এমন ব্যক্তিকে সহকর্মী হিসেবে কেউ পছন্দ করেন না। মিলেমিশে কাজ করুন। প্রয়োজনে অন্যদের কাজের বিষয়ে সাহায্য করুন। নিজে কিছু না বুঝলে অন্য সহকর্মীর সাহায্য নিন। মনে রাখবেন, অফিসে আপনার বিপদে সহকর্মীরাই সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন।
ব্যক্তিগত কথা কম বলুন
বন্ধুত্বপূর্ণ আর বন্ধু- শব্দ দুটির মধ্যে কিন্তু পার্থক্য রয়েছে। কাজের সুবিধা-অসুবিধা আপনি সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করতেই পারেন। কিন্তু খুব ব্যক্তিগত কিছু কি তার সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে? সহকর্মী বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত কথা কম বলুন। তবে সহকর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা না বলাই সবচেয়ে ভালো।
ইতিবাচক সম্পর্ক ধরে রাখুন
একসঙ্গে কাজ করতে গেলে কথা কাটাকাটি, মান-অভিমান হতেই পারে। কিন্তু সেই রেশ মনে আঁকড়ে রাখলে কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন। পেশাদার দায়িত্বে এসব আবেগ আড়ালে রাখুন। সহকর্মীর সঙ্গে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখুন। এতে সবার সঙ্গে যেমন সম্পর্ক ভালো থাকবে, তেমনি আপনি হয়ে উঠবেন দক্ষ কর্মী।
কাজের পাশাপাশি আড্ডাও জরুরি
কাজের সূত্রে পরিচয় হলেও কিছু সহকর্মীর সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে উঠে। সময় সুযোগ মেলাতে পারলে সহকর্মীর সঙ্গে মাঝে মধ্যে আড্ডা দিন। তবে অফিসের কাজ ফেলে গল্প করা যাবে না। অফিস শেষে চা-কফির টেবিলে আড্ডা জমাতে পারেন। কিংবা ছুটির দিনে তাকে নিজের বাড়িতে নিমন্ত্রণও করতে পারেন। সহকর্মীর সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অন্য সহকর্মীর নিন্দা করবেন না। এটি খুব খারাপ স্বভাব।
কাজের গুরুত্ব যেন না হারায়
সহকর্মীর সঙ্গে পরিচয় হয় কর্মক্ষেত্রের সূত্রে। আর একটি কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্ম বা কাজ। সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে যেন কাজের পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিজের কাজকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিন।
অফিসের নিয়ম মেনে চলুন
প্রতিটি অফিসেই নিজের মতো কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে। কাজ করতে গেলে সেগুলো জানতে পারবেন। অফিসের ডেকোরাম বা অলিখিত নিয়মগুলো মেনে চলুন। এতে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ হয়ে উঠবে।
সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ থাকা উচিত। অন্যপক্ষের সঙ্গে ভালো বোঝাবুঝি হলে তা বন্ধুত্বেও গড়াতে পারে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। সময় নিন, জানুন। এরপর বন্ধু বানান।
তারেক/