সাধারণত একজন বসের মধ্যে কিছু বিশেষ গুণাবলি থাকে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনায়। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা গেছে, কর্মীরা তাদের ঊর্ধ্বতনদের সম্পর্কে হয় তীব্র সমালোচনা করেন, নয়তো আন্তরিক প্রশংসা করেন। তাই অধিকাংশ নেতাই চান অধীনস্থদের কাছে একজন ভালো ও গ্রহণযোগ্য বস হিসেবে পরিচিত হতে। একজন দক্ষ ও প্রিয় বস হয়ে ওঠার ৯টি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো—
সহকর্মীদের মূল্য দিন
সহকর্মীদের ছাড়া আপনি অফিসের কাজ এগিয়ে নিতে পারবেন না। আর তাদের উৎসাহিত করার জন্য কাজের মূল্যায়ন করা জরুরি। সঠিক মূল্যায়ন করা হলে কর্মীরা উৎসাহিত হয় এবং কাজে মনোযোগী হয়। অন্যদিকে সমালোচনার শিকার হওয়া কর্মীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
কর্মীদের উৎসাহ দিন
ভালো কাজ পেতে হলে কর্মীদের উৎসাহিত করার বিকল্প নেই। এ জন্য প্রত্যেক কর্মীর ওপর চোখ রাখতে হবে। তারা যে কাজে উৎসাহী ও দক্ষ, সেই কাজটিই দিতে হবে। প্রতিটি সফল কাজের জন্য উৎসাহ দিতে হবে। এভাবে তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।
সংখ্যা ভুলে কর্মীকে প্রাধান্য দিন
সাধারণত ব্যবসা হয় সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। এ কারণে অনেক বসই সংখ্যা নিয়েই পড়ে থাকেন। কখনো কাটাকাটি করেন, নয়তো গ্রাফে বসান আর নয়তো সংখ্যার বর্তমান অবস্থা যে আশানুরূপ নয় সে বিষয়ে কথা বলেন। তবে, ব্যবসার সব সংখ্যাই নির্ভর করে আপনার কর্মচারীদের আপনি কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তার ওপর, সংখ্যা সাজানোর ওপর নয়। যেভাবেই হিসাব করেন না কেন, আপনার জন্য যারা কাজ করে তাদের কর্মক্ষমতা বাড়লেই লাভ বাড়বে।
সহজ মূল্যায়ন
যেহেতু সংখ্যার চেয়ে কর্মচারীদের দিকে আপনাকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে, তাই আপনার কর্মচারীরা কেমন কাজ করছে তা আপনার মূল্যায়ন করা দরকার। যাতে সবাই বুঝতে পারে আপনি কি চান, কেমন করে চান সেরকম একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তবে জটিল কোনো মূল্যায়ন করবেন না। জটিল মূল্যায়ন কর্মচারী ও ম্যানেজারদের মাঝে আপনার চাওয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করবে। আর কর্মচারীদের কোনো কাজেই যদি সঠিক মূল্যায়ন না হয় তবে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা শুধু মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে।
একজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিন
অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে দিয়ে কোনো কর্মীকে ‘অগ্রাধিকার’ ভিত্তিতে করতে বলবেন না। কারণ, যদি সবকিছুই অগ্রাধিকার দিতে হয়, তখন আসলে কোনো কিছুই অগ্রাধিকার পায় না। প্রাধান্য দেওয়ার সম্পূর্ণ বিষয়টির মানে হলো, কোনো একটা বিষয় অন্য সবকিছুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা। একাধিক কাজ ‘অগ্রাধিকার’ ভিত্তিতে করতে বলার মধ্য দিয়ে আসলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হচ্ছে কোনটা অগ্রাধিকার পাবে। সেটা হয়তো বসরা ভালোভাবে করতে পারবেন।
সহকর্মীদের জানুন
প্রত্যেক কর্মী এক ধরনের নয়। কেউ যেমন কোনো কাজে দক্ষ, অন্য কেউ আবার সেই কাজে দক্ষ নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কখন কার সহায়তা প্রয়োজন, তা জেনে নিতে হবে। এছাড়া তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা থাকলে তা হবে সুষ্ঠু সম্পর্ক তৈরির জন্য সোপানস্বরূপ। এতে কাজের পরিবেশ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
নিজেকে সবচেয়ে বাজে কর্মচারী দিয়ে বিচার করুন
ম্যানেজাররা মূলত নিজেদের সাফল্য শীর্ষ কর্মচারীদের মাধ্যমে করে থাকেন। কিন্তু মূলত যা হয়, যখন আপনি কোনো দক্ষ কাউকে নিয়োগ দেবেন কিংবা কাউকে দক্ষ করে তুলবেন সেই সাফল্যটুকু কিন্তু সেই কর্মচারীর ঝুলিতেই যাবে। তার দক্ষতা, কাজ করার যোগ্যতা তার হিসেবেই গণ্য হবে- আপনার নয়। বরং আপনার উচিত নিজের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিজের সবচেয়ে অদক্ষ বা মন্দ কর্মচারীদের আপনি কীভাবে পরিচালনা করছেন তার মাধ্যমে বিচার করা। এরাই সেসব কর্মচারী যারা সবচেয়ে নিম্নমানের কাজ প্রদর্শন করবে, যা আপনার সহ্যসীমার শেষ পর্যায়ে পড়ে এবং তাদের মন্দ দিকগুলোর জন্য অন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে নেওয়ার কথা আপনি আশা করেন।
সর্বোচ্চ সুযোগ দিন
ম্যানেজারদের মধ্যে এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায় যে তারা বেতন, অতিরিক্ত কোনো সুবিধা, বিক্রির কমিশন ইত্যাদি ব্যয়ের খাতে ফেলে দেন এবং তা হ্রাসের মাধ্যমে মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন। কিন্তু সত্যি হলো, ব্যবসা খাতে আপনি যদি গড় বেতন দিতে থাকেন তবে আপনি কর্মচারীদের কাছে গড় কাজের মান ছাড়া আর কিছুই আশা করতে পারেন না। হয়তোবা ইন্টারনেটের পূর্বযুগে একজন দক্ষ কর্মচারীকে তার যোগ্যতার কম বেতন দিয়ে রাখা যেত, কিন্তু ইন্টারনেটের এই যুগে যেসব কর্মচারীর সামান্যতম ধারণাও আছে তারা খুব ভালো করেই জানেন কোথায় গেলে আরও বেশি অর্থ উপার্জন করা যাবে।
কর্মচারীদের প্রতি কখনোই নিজের মনোভাব প্রকাশ করবেন না
কর্মচারী তার ব্যবস্থাপককে একজন মানুষ হিসেবেই গণ্য করেন। কর্মচারী বুঝতে পারেন ব্যবস্থাপক কাজের চাপে আছেন এবং অবশ্যই সময়ের সমন্বয় তাকে করতে হয়। তারা এও বুঝতে পারেন যে, বস হতাশা এবং ক্রোধের মধ্যদিয়ে যাচ্ছেন, মূলত যখন কোনো খারাপ খবর তাকে শুনতে হচ্ছে কিংবা এমন কোনো ভুল যা সহজেই পরিহার করা যেত এবং আরও অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু এর পরও যদি আপনি আপনার কর্মচারীর ওপর ক্রোধ প্রকাশ করেন কিংবা দুর্ব্যবহার করেন, তবে তা আপনার কর্মচারীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, যা হয়তোবা কখনোই মুছে ফেলা যাবে না বা তার আপনার প্রতি গোপন ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে। ব্যাপারটা এমন না যে আপনাকে নিখুঁত হতে হবে, বরং এমনভাবে চিন্তা করুন যে আপনার কর্মচারী আপনার রাগ প্রশমনের স্থান নয়।
তারেক/