যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সময়নিষ্ঠাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেশাজীবনে সময় মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। কর্মক্ষেত্রে যারা সফল হতে চান, তাদের জন্য সময়ানুবর্তিতা অপরিহার্য একটি গুণ। নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া, দায়িত্বপূর্ণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং সময়মতো কাজ জমা দেওয়া—এসব অভ্যাস প্রতিষ্ঠানে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা ও অবস্থানকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
সঠিক পরিকল্পনা করুন
দিনের শুরুতেই সারা দিন কী কী কাজ করতে হবে তার পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে। এতে যেকোনো কাজকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে এবং আপনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং কাজগুলো সময়মতো শেষ করতে পারবেন।
নতুন কিছু শিখুন
কর্মক্ষেত্রে আপনি যতই সফল হোন না কেন, শেখার কোনো শেষ নেই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে আসছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। নতুন কিছু শেখার মনোভাব না থাকলে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন দক্ষতা শিখুন। এটি কাজের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। অনলাইনে প্রচুর বিনামূল্যের কোর্স থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিখে যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। তাই শেখার জন্য প্রতিদিন একটা সময় নির্দিষ্ট করে রাখুন।
সময় ব্যবস্থাপনা
কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য একটি মৌলিক নিয়ম হলো টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস আয়ত্ত করা। অফিসে আপনার আচরণ, কাজের সিদ্ধান্ত এসব বিষয় আপনার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তাই অফিসে সঠিক সময়ে যাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি সঠিক সময়ে বেরিয়ে আসাও এক ধরনের ভদ্রতা। তাই সময়মতো কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে চেষ্টা করুন। একান্ত বাধ্য না হলে দেরি না করাই ভালো। কোনোভাবে দেরি হয়ে গেলে সেটা আপনার ‘বস’কে জানাতে হবে।
ই-মেইল যোগাযোগে পারদর্শী হোন
কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো ই-মেইল। ই-মেইল দেখতে বা এর উত্তর দিতে দেরি করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের তথ্য, কোনো কিছু জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ইত্যাদি ভুল করতে পারেন। তাই ই-মেইলে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করতে কম্পিউটার বা মোবাইলের ই-মেইলের নোটিফিকেশন চালু করে রাখতে হবে। এতে করে আপনার কাজটি সময়মতো হবে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আপনার হাতছাড়া হবে না।
কাজ সহজ করে নিন
শুধু সময় ধরে অফিসে আসা আর কাজ জমা দিয়েই কাজ শেষ হয়ে যায় না। অফিসে থাকা সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো জরুরি। অফিসে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এমন সব কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত। নিজের কাজ বুঝে নিয়ে কাজ সম্পাদনে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। নিজেকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে বেঁধে না রেখে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। এতে করে আপনার জন্য নির্ধারিত কাজ সময়মতো শেষ হয়ে যাবে। এতে অফিসের বাইরে পেশাগত ও পারিবারিক জীবনেরও ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে।
মধ্যাহ্ন বিরতি দীর্ঘ না করা
কাজের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বিরতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিরতি ছাড়া অবিরাম কাজ করা বা আপনার কাজের সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করার অভ্যাস মানসিক চাপের মাত্রা বৃদ্ধি করে কর্মক্ষেত্রে দৈনন্দিন রুটিনকে ব্যাহত করতে পারে। হাঁটার জন্য বাইরে যাওয়া বা চা বিরতির সময় সহকর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার মতো কাজগুলো আপনার ক্লান্তি অনেকটাই দূর করবে। তবে বিরতিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা মোটেও ঠিক নয়। এতে কাজের ক্ষতি হতে পারে এবং আপনার কাজ সময়মতো শেষ নাও হতে পারে। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন। বিরতির পরে কী কী করণীয় আছে তা এই সময়েই ঠিক করে নিন।
ভালো সম্পর্ক গড়ুন
অফিস মানেই ‘টিমওয়ার্ক’। তাই কোনো কাজ সফলতার সঙ্গে শেষ করতে সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি। সহকর্মীদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকলে যেকোনো কাজ সুন্দর, নিখুঁত ও সফলভাবে শেষ করা যায়। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সহকর্মীদের সহায়তা নিন। কীভাবে কাজ করলে কাজে গতিশীলতা আসবে, কীভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কাজে দক্ষতা আনা যায়, তা জানার চেষ্টা করুন। কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজ জানেন আর বোঝেন, এমন ব্যক্তিকে নিজের গুরু বা শিক্ষক হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
অভিযোগ করা থেকে দূরে থাকুন
অফিসের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সারাক্ষণ অভিযোগ না করে কীভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়, তা নিয়ে ভাবুন ও সমাধান করুন। সারাক্ষণ অভিযোগ করলে সহকর্মীরাও আপনাকে এড়িয়ে চলা শুরু করবে। বরং সমস্যা সমাধান করার মানসিকতা থাকলে চারপাশের সবাই দেখবেন আপনাকে কতটা পছন্দ করছে ও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ক্ষোভ পুষে না রাখা
অফিসের কর্তাব্যক্তি, সহকর্মী বা অন্য কারও প্রতি ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু তা পুষে রাখা যাবে না। কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি বজায় রাখতে রাগ প্রশমিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তারা মনের যত নেতিবাচক আবেগ মনেই জমা করে রাখেন। একসময় তা বিস্ফোরিত হয়। তাই ক্ষোভ থাকলে তা মনে রাখা যাবে না। কাজের থেকে সম্পর্কটা পেশাদার, সেটা মনে রাখতে হবে। বিভিন্ন মিটিং বা কর্মশালায় নিজের ভাবনা স্থিরভাবে গুছিয়ে প্রকাশ করতে হবে। যা ভাবছেন, যা করতে চান, তার পেছনের কারণ, ভবিষ্যৎ প্রভাব- সবকিছু পরিষ্কার ভেবে-বুঝে নিজের কথা জানিয়ে কাজটি শেষ করতে হবে।
সহকর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন
কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের স্বভাব এবং কাজের ধরন আলাদা। দলগত কাজে মতের অমিল হতে পারে। তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে খোলামেলা আলোচনা করুন যেকোনো ধরনের কাজে সাহায্য নিতে বা মতপ্রকাশে দ্বিধা করবেন না। এতে মনোমালিন্য হওয়ার আশঙ্কা কমে যায় এবং লক্ষ্য অর্জনে বাড়তি চাপ নিতে হয় না। সিদ্ধান্ত নিতেও সুবিধা হয়।
অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করুন
ব্যক্তিগত জীবন ও অফিসের কাজ আলাদা রাখতে চেষ্টা করুন। অফিসের কাজ অফিস সময়ের মধ্যে শেষ করলে বাসায় কাজের চাপ থাকবে না। বেশি প্রয়োজনীয় কল বা মেসেজ ছাড়া বাসায় অফিসের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। সময়মতো প্রেজেন্টেশনে নিজের দক্ষতা বাড়ান এবং নিজের নিত্যনতুন জ্ঞানকে কাজে লাগান। এটা আপনাকে সবার মাঝ থেকে আলাদা করে তুলবে।
তারেক/