ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান পেলেন যারা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩২ পিএম
চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান পেলেন যারা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে প্রতিবছর বাংলাদেশ সরকার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিশেষ অনুদান দিয়ে থাকে। মেধা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি শাখায় সরকার ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেওয়া হবে ৭৫ লাখ টাকা করে। বাকি চারটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেওয়া হবে ৫০ লাখ টাকা করে। ১২ জুন প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শাখায় ৭৫ লাখ টাকা পেয়েছেন পরিচালক ও প্রযোজক সাজেদুল ইসলাম ‘পাকিস্তানে বন্দিজীবন ১৯৭১’ সিনেমার জন্য এবং রাকিবুল হাসান ‘ছোঁয়া’ সিনেমার জন্য পাচ্ছেন অনুদান। শিশুতোষ শাখায় ‘চলনবিলের মানিক’ সিনেমার জন্য ৫০ লাখ টাকা পাচ্ছেন প্রযোজক ও পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা। প্রযোজক রাইদ মোরশেদ ও পরিচালক তাওকীর ইসলাম সিনেমা ‘অদ্ভূত’, পিপলু আর খান ও রাসেল রানা তাদের যথাক্রমে ‘নো ম্যাডস অব দ্য নর্থ’ এবং ‘কালের যাত্রা’ প্রামাণ্যচিত্রের জন্য একই শাখায় অনুদান পাচ্ছেন সমপরিমাণ টাকা।

এ ছাড়া সাধারণ শাখায় ৭৫ লাখ টাকা করে অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছে ১৪টি সিনেমার প্রযোজক ও পরিচালক। তারা হলেন প্রযোজক-পরিচালক মির্জা শবনম ফেরদৌসি ‘মিহিন গাথা’, প্রযোজক ও পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বাবর ‘ঠিকানা’, প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির ও রবিউল আলম রবি ‘সুরাইয়া’, প্রযোজক ও পরিচালক গোলাম মোস্তফা ‘জয়া’, প্রযোজক পিংকি আক্তার ও পরিচালক সঞ্জয় সমাদ্দার ‘লোভ’, প্রযোজক ও পরিচালক এন রাশেদ চৌধুরী ‘সখী রঙ্গমালা’, প্রযোজক মিস শেলী কাদের ও পরিচালক নারগিস আক্তার ‘জাত’, প্রযোজক সুমন পারভেজ ও পরিচালক এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ‘ময়নার চর’, প্রযোজক ও পরিচালক মিশুক মনি ‘কালবেলা’, প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক ও পরিচালক ইকবাল হাসান খান ‘সেয়ানা’, প্রযোজক ও পরিচালক গীতালি হাসান ‘আজিরন’, প্রযোজক নিজাম উদ্দিন ও পরিচালক আরিফ সিদ্দিকী ‘পোস্টমর্টেম’, প্রযোজক নূর মনির ও পরিচালক নাসরুল্লাহ মানসুর ‘হা ঘরে’ এবং প্রযোজক ও পরিচালক দেওয়ান নজরুল ‘মুক্তির চেতনা’ সিনেমার জন্য সরকারি অনুদান পাচ্ছেন।

প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ৯ মাসের মধ্যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ করতে বলা হয়েছে নির্মাতাদের।

জাহ্নবী

বর্ষা বন্দনায় দুই দশক পূর্তি উদযাপন করল ‘সুরবিহার’

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬:০৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬:০৩ পিএম
বর্ষা বন্দনায় দুই দশক পূর্তি উদযাপন করল ‘সুরবিহার’

দেশের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ‘সুরবিহার ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড পারফর্মিং আর্ট ইনস্টিটিউট’ দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে ‘বর্ষা বন্দনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শুক্রবার (১২ জুলাই) বাংলা একাডেমির বর্ধমান ভবনের পশ্চিম প্রাঙ্গনে বিকেলে বর্ষা বন্দনার আয়োজনটি ছিল বর্ণিল। এ আয়োজনে পরিবেশিত হয়েছে রবীন্দ্র সংগীত, আবৃতি করা হয় বিদ্রহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও নৃত্য। এছাড়াও ছিল চিত্র প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, দেশবরেণ্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ, শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাঃ আলপ্তগীন। আয়োজনটি সার্থক করতে সহযোগিতা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা ও ফাহিম হোসেন চৌধুরী। আরো ছিল বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী আহকামউল্লাহর পরিবেশনা এবং সুরবিহারের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী ড. অণিমা রায়ের একক সংগীত পরিবেশনা।

সুরবিহারের বিভিন্ন শাখার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের বর্ণিল পরিবেশনায় বর্ষা বন্দনা বিকেল আর সন্ধ্যাটা মুখর করে তোলে। সুরবিহারের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিলেন অভি মুস্তাফিজ, মিনহাজুল হাসান ইমন, নিলয়, প্রত্যাশা, নাসির, মৌমিতা, অন্বেষা, অন্তরা, তিথি, লতা, মাসাবা, রায়ান, অমিয়সহ আরো অনেকে। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন তানজিলা রহমান মিথিলা ও জহুরুল হক সৃজন। চিত্র প্রদর্শনী সমন্বয়ক প্রত্যাশা সিংহ রায়।

অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রসঙ্গে সুরবিহারের অধ্যক্ষ দেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ড. অণিমা রায় বলেন,‘আমরা বর্ষাকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজনটি রাখার চেষ্টা করেছি। প্রথমত বর্ষা রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ঋতু। একই সঙ্গে এই ঋতুতে প্রকৃতি সবচেয়ে মোহনীয় হয়ে ধরা দেয় আমাদের কাছে। আমরা মূলত সংস্কৃতিচর্চা করি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে প্রকৃতির একটি মেলবন্ধন গড়তেই। তাই বর্ষাকে একেবারে ভিন্নভাবে উপভোগের জন্যই সুরবিহারের এই ২ দশক পূর্তি উৎসবে আমরা এসময়টাকে বেছে নিয়েছি।’

‘সোনাই মাধব’-এর ২০০তম প্রদর্শনী

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৬ পিএম
‘সোনাই মাধব’-এর ২০০তম প্রদর্শনী
‘সোনাই মাধব’ নাটকের একটি মুহূর্ত

নাট্য সংগঠন লোকনাট্যদলের সাড়া জাগানো নিরীক্ষাধর্মী প্রযোজনা ময়মনসিংহ গীতিকার আখ্যান ‘সোনাই মাধব’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আজ সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির ২০০তম প্রদর্শনী হবে। 

সোনাই মাধবের এই ২০০তম মঞ্চায়ন নাটকটির অন্যতম দুই প্রধান অভিনয়শিল্পী ও লোকনাট্যদলের সংগঠক প্রয়াত জাহিদুর রহমান পিপলু ও আসলাম শিহিরের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়েছে। জাহিদুর রহমান পিপলু লোকনাট্যদলের অন্যতম প্রধান কান্ডারি ও সোনাই মাধব নাটকের গ্রন্থিক, বাঘরাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করতেন। যিনি গত ১৮ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মারা গেছেন। অন্যদিকে, আসলাম শিহিরও দলের অন্যতম সিনিয়র সদস্য ছিলেন, যিনি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সোনাই মাধবের ‘মাধব’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনিও গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। 

২০০তম মঞ্চায়নের পূর্বে এই নাটকে এযাবৎ যারা অভিনয় করেছেন ও নেপথ্যে বা কারিগরি বিষয়ে যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ এবং ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ দেবনাথ। এ ছাড়া নাট্যাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নাট্যকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।

বাংলা ১৪০০ সালকে বরণ করা উপলক্ষে ১৯৯৩ সালের ১৪ এপ্রিল প্রথম এ প্রযোজনাটি মঞ্চে নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়ে আসছে এবং দেশে-বিদেশে নিরীক্ষাধর্মী প্রযোজনা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। ২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর এ নাটকের ১০০তম এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে ১৫০তম মঞ্চায়ন হয়েছে।

সোনাই মাধব বাংলা লোকসংস্কৃতি ও প্রচলিত কথ্য সাহিত্যকে উপজীব্য করে গানে গানে উপস্থাপিত হয়েছে। সোনাই মাধবের গানগুলোর সুর করেছেন দীনেদ্র চৌধুরী এবং সুর ও সংগীত করেছেন মোস্তফা আনোয়ার স্বপন, সংগীত সমন্বয় করেছেন অভিজিৎ চৌধুরী।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইউজিন গোমেজ, জাহিদ চৌধুরী, আনোয়ার কায়সার, হাফিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, প্রদীপ সরকার, পিনাকী রঞ্জন সরকার, সায়িক সিদ্দিকী, নূরুল ইসলাম খান রতন, বাসুদেব হালদার, মনিলাল হালদার, মিনহাজুল হুদা দীপ, মোজাম্মেল হক পাপন, আবদুল আউয়াল, সাদেকুল ইসলাম, সুধাংশু নাথ, মোজাক্কির আলম রাফান, তনয় মজুমদার, সোহেল মাসুদ, তানভীর রাজিব প্রমুখ।

এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেছেন কামরুন নূর চৌধুরী, জাহিদুর রহমান পিপলু, আসলাম শিহির, প্রণবানন্দ চক্রবর্তী, খায়রুল আলম টিপু, রেজা মাহমুদ লেনিন, সেলিম চৌধুরী লাবু, আবদুল্লাহ আল হারুন, সাজেদুল আলম ডালিম প্রমুখ।

 কলি

সব টিভি চ্যানেলকে বয়কট করেছি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
সব টিভি চ্যানেলকে বয়কট করেছি
সংগীতশিল্পী রেহান রাসুল

সংগীতশিল্পী রেহান রাসুল। ‘বাজে স্বভাব’ তার গাওয়া তুমুল জনপ্রিয় গান। এ ছাড়া তার কণ্ঠে বেশ কিছু সিনেমা এবং নাটকের গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এসব গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ মিজান

আপনার এতগুলো জনপ্রিয় গান থাকার পরও টেলিভিশন লাইভে দেখা যায় না কেন?
এর কারণ হচ্ছে, টেলিভিশনের প্রডিউসারদের সঙ্গে আমার মেলে না। আমি ৫০-এর অধিক মৌলিক গান করেছি। এর মধ্যে চার-পাঁচটি গান মানুষের কাছে পরিচিত। মানুষ কিছুটা হলেও আমার নাম জানে। আমি জানি, তাহসান খান বা ইমরানের পর্যায়ে পরিচিতি পাইনি।

তবে যতটুকু পেয়েছি সে অনুযায়ী যাদের মৌলিক গান নেই, যারা কাভার শিল্পী, যারা কাভার গান গেয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের দলে আমি পড়ি না। সেই জায়গা থেকে আমি একটু বেশি সম্মানী আশা করি। বেশিটা বলতে ৫০-৬০ বা ১ লাখ না। ওনারা যেকোনো কাভার শিল্পীকে বড়জোর মিউজিশিয়ানসহ ২০ হাজার টাকা পেমেন্ট দেন।

মাইটিভির একটি অনুষ্ঠানে আমাকে ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলাম। অথচ এই টাকা আমার একটা গান গাওয়ার অর্ধেক বা তার চেয়েও কম পারিশ্রমিক। তারা সেটা দেয়নি। আমার মনে হয়েছে, এই টেলিভিশনগুলো প্রত্যেক শিল্পীকে এক জায়গায় রাখতে চায়। আপনার গান হিট করুক বা না করুক, আপনি কাভার গান বা অটোটিউনে গান, কথা হচ্ছে আপনি টিভির কাছে একজন ফাতরা আর্টিস্ট। আপনাকে আমরা যে টাকা দেব, সেই টাকাতেই আপনি গান গেয়ে দিয়ে যাবেন। আমার যেহেতু মৌলিক গান আছে, তাই আমার গানের ভেল্যু আছে। আমি শ্রদ্ধেয় সুবীর নন্দীর একটা গান যেভাবে গাইব, অন্য ত্রিশটা কাভার গানের শিল্পীর ওই ক্ষমতা নেই। যারা ভুল সুরে, ভুল উচ্চারণে গান গেয়ে বেড়ায়। প্রডিউসাররা চান আমি যেন কাভার গানের শিল্পীদের সঙ্গে মিলে যাই। আমার সম্মানী যেন কমিয়ে রাখি। এ কারণে আমি সব টিভি চ্যানেলকে বয়কট করেছি। সত্যি কথা, একজন প্রকৃত শিল্পীর সম্মান ও সম্মানী কোনোটাই তারা দিতে চান না।

আপনি কি সিন্ডিকেটের শিকার? 
আমি কোনো সিন্ডিকেটে নেই। সিন্ডিকেটধারীরা নিজেদের মধ্যে যে গণ্ডি তৈরি করেন, আমার সেই যোগ্যতা নেই। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র মিউজিকের চ্যানেল ‘গানবাংলা’ আমার সঙ্গে কখনো যোগাযোগ করেনি। তারা হয়তো মনে করেছে সব শিল্পী তাদের হাতে-পায়ে ধরবে। এই জিনিসটা আমি করতে পারিনি। আমার কাছে মনে হয় এমন দশটা টেলিভিশনের চেয়ে একজন প্রকৃত শিল্পী অনেক ঊর্ধ্বে। দ্বিতীয়ত, মনে হয়েছে আমার যোগ্যতা থাকলে তারা হয়তো আমাকে ডাকত গান গাওয়ার জন্য। আমি শুধু প্রতিভা ও সম্মান চাটতে পারি। আমি কারও পা চাটতে পারি না।

মৌলিক গান নেই এমন শিল্পীদেরও টেলিভিশনে নিয়মিত দেখা যায়। এ বিষয়ে কিছু বলতে চান?
এর প্রধান কারণ হচ্ছে স্পন্সর কোম্পানি ও বাজেট। আমার মনে হয়, টেলিভিশনগুলো এত নিম্নমানে চলে গেছে তাই স্পন্সর কোম্পানিও এই সুবিধা নিয়ে থাকে। এ ছাড়া টিভি চ্যানেলের যে সিন্ডিকেট আছে, তাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে- আমরা ডাকব এমন শিল্পীদের, যারা ২০ হাজার টাকার মধ্যেই গান গেয়ে যাবেন। মৌলিক গান যাদের নেই, বেসুরো-বেতালে গান কাভার করতে পারেন এই টাইপের শিল্পীদের অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন তারা। কিছু টাকা চ্যানেল ও প্রডিউসার সবাই মিলে খেয়ে দেন। যে কারণে হিট গান থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্পীই যেমন তাহসান খান, ইমরান মাহমুদুল, মিফতাহ জামান, শাওন গানওয়ালাসহ ভালো ও জনপ্রিয় শিল্পীদের টেলিভিশনে শো করতে দেখা যায় না। টেলিভিশনের এমন সম্মানী আসলে অসম্মানের যোগ্য। 
আর কোনো বিশেষ কারণ আছে?
আমার যেহেতু ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল নেই, এ জন্য আমি বলতে পারছি না। কিন্তু বিভিন্ন সময় আমরা দেখতে পারি দেশের বড় বড় মিউজিক লেবেল থেকে যেই গানগুলো বের হয়, সেসব গানের সুরকার, গীতিকারের ঠিক নেই। কে গাচ্ছে তারও ঠিক নেই। একই ধরনের কম্পোজিশনে ৪০-৫০টি গান বের হচ্ছে। আমরা শিল্পীদের চিনিও না এবং তারা কোথা থেকে এসে কণ্ঠশিল্পী নামে বড় বড় মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারও দিয়ে আসেন।

তারা তখন এই সিস্টেমে চলতে থাকেন, শুধু নিজেদের প্রচার ও সুবিধার জন্য মিডিয়াকে ব্যক্তিগত জায়গা বানিয়ে নেন। এখন সুবিধাটা আমি সেমিকোলনের মধ্যে রাখলাম, ইনভারটেড কমার মধ্যে রাখলাম। সুবিধা বলতে, সেটা কী অর্থনৈতিক নাকি শারীরিক? এটা আমি জানি না। যা-ই হোক, ওনারা ওনাদের সুবিধার জন্য বিশেষ কিছু শিল্পীকেই ডাকেন। একটা টেলিভিশনের প্রডিউসার আমাকে স্পন্সর কোম্পানির দেওয়া শিল্পীদের লিস্ট দেখিয়েছিলেন, সেখানে দেশের কোনো জনপ্রিয় শিল্পীদের নাম ছিল না। যাদের নাম ছিল তাদের নাম কোনো দিন শুনিনি। তাদের কোনো মৌলিক গানও নেই।

আপনার নতুন কাজের খবর জানতে চাই-
আমি সর্বশেষ গান করেছিলাম মেগাস্টার শাকিব খানের ‘তুফান’ সিনেমায়। এই মুভিতে ছয়টি গান ছিল। আনফরচুনেটলি যেহেতু আমি খুব ছোট আর্টিস্ট, গানটা গাওয়া হয়তো ভালো হয়নি যে কারণে পরিচালক এবং তুফান টিম গানটা রিলিজ দেয়নি। কোনো দিন রিলিজ দেওয়া হবে কি না সেটাও জানি না।

স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?
বিন্দুমাত্র ব্যস্ততা নেই। এত ভালো আর্টিস্টের মাঝে আমি কোনো দিন সুযোগ পাইনি। আমি আসলে শোর জন্য ডাকও পাইনি। তবে আমি শুনেছি, এই স্টেজ শোগুলো মেইনটেইন করেন কিছুসংখ্যক মিউজিশিয়ান। তাই জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে কিছু অচেনা-অজানা শিল্পীও দেশ এবং দেশের বাইরে নিয়মিত শো করছেন।

সিনেমায় নতুন কোনো গান আসবে কি?
এই সাক্ষাৎকারের পর আমি কোনো নাটক বা সিনেমায় গান গাওয়ার আদৌ সুযোগ পাব কি না জানি না। যেহেতু আমার টাকা-পয়সা ও পাওয়ার নেই। আমি একলা একাই এ পর্যন্ত আসা মানুষ। সত্যি কথা, ‘বাজে স্বভাব’ গানটা হিট না হলে আমাকে কেউ দুই পয়সার দাম দিত না। আমি কৃতজ্ঞ সাজিদ সরকারের কাছে, কারণ উনি আমাকে ভালো ভালো গান দিয়েছেন। যে কারণে আমি এগিয়ে যেতে পেরেছি আরও। কোনো ডিরেক্টর, প্রডিউসার যদি মনে করেন রেহান রাসুল অটোটিউন ছাড়াই কোনো গান গাইতে পারবেন, তখনই আমার নতুন গান আসবে।

কাভার গানই যেসব শিল্পীর মূল আয়ের উৎস তাদের সম্পর্কে কী বলবেন?
মৌলিক গান নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো তাদের কোনো রকম সাহস ও সাধনা নেই। কাভার শিল্পীদের সম্পর্কে বলতে চাই- যারা ফ্রিতে বা যেকোনো মূল্যে বিন্দুমাত্র চিন্তা না করেই নিজেকে সস্তায় বিলিয়ে দিতে পারেন, তারা সম্পূর্ণ শিল্পমাধ্যমকে নষ্ট করছেন। তারা যদি মৌলিক গানের পেছনে ছুটতেন, তাহলে তারা শিল্পীতে পরিণত হতেন।

কলি

খলচরিত্রে দিনার

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:২০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:২০ পিএম
খলচরিত্রে দিনার
অভিনেতা ইন্তেখাব দিনার।

জনপ্রিয় অভিনেতা ইন্তেখাব দিনার। মঞ্চ, টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন তিনি। তবে তিনি বর্তমানে ওটিটির কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এবার নতুন একটি সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেতা। সিনেমার নাম ‘নীল জোছনা’। এটি নির্মাণ করছেন ফাখরুল আরেফীন খান।

এর আগে তিনি ‘ভুবন মাঝি’, ‘গণ্ডি’, ‘জেকে ১৯৭১’ নির্মাণ করেছেন। সরকারি অনুদান পাওয়া ‘নীল জোছনা’ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে মোশতাক আহমেদের প্যারাসাইকোলজি-বিষয়ক উপন্যাস ‘নীল জোছনার জীবন’ অবলম্বনে।  জানা গেছে, এই সিনেমায় খলচরিত্রে দেখা যাবে দিনারকে।

এ সম্পর্কে ইন্তেখাব দিনার বলেন, ‘বহু বছর ধরে এমন একটি চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। সিনেমাটির গল্প ভালো লেগেছে। আর নির্মাতার সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। আশা করছি, এটি দারুণ একটি চলচ্চিত্র হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভিনয়ে নিজের ইমেজ ভেঙে এই ছবিতে ভিন্ন একটি চরিত্রে কাজ করছি। কতটুকু করতে পারছি জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এই সিনেমার নেতিবাচক চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করেছি। আমার ভক্ত আর দর্শকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ছবিটি দেখতে সিনেমা হলে যাবেন সবাই।’

‘নীল জোছনা’ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন পশ্চিম বাংলার অভিনেত্রী পাওলি দাম, বাংলাদেশের মেহের আফরোজ শাওন, সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা পার্থ বড়ুয়া প্রমুখ।

 কলি

তৃপ্তির ঢেকুর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:১৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:১৪ পিএম
তৃপ্তির ঢেকুর

বলিউডে বর্তমানে আলোচিত নাম তৃপ্তি দিমরি। ‘অ্যানিম্যাল’ ছবিতে রণবীর কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। বলতে গেলে এই একটি সিনেমাই তার ক্যারিয়ারে বসন্ত এনে দিয়েছে। আবারও তৃপ্তি দিমরি নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করলেন। তবে এবার বলিউড সুন্দরী ক্যাটরিনা কাইফের স্বামী ভিকি কৌশলের বিপরীতে। আবারও দর্শকদের ভালোবাসায় তৃপ্তি যেন তুপ্তির ঢেকুর তুলছেন।

ভিকির বিপরীতে খোলামেলা দৃশ্যে তৃপ্তি দিমরির উপস্থিতি দর্শকদের হৃদয়ে রীতিমত ঝড় তুলেছে। সিনেমার গান ‘জানম’। ইতোমধ্যেই এর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাতে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, আসছে এক অন্য রকম সিনেমা। সেখানে দেখা যাবে এক অন্য রকম তৃপ্তি দিমরিকে।

যদিও তৃপ্তি এ রকম অভিনেত্রী ছিলেন না। ঝুলিতে যে কটি ছবি ছিল তার সবগুলোতে একটু আলাদা রকম চরিত্রে কাজ করেছিলেন তিনি। তবে ২০২৩ সালে তার ক্যারিয়ার বদলে যায়।

জানা গেছে, ‘অ্যানিম্যাল’ ছবিতে অভিনয় করার জন্য ৪০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন তৃপ্তি। তার পর ‘ভুল ভুলাইয়া-৩’ ছবির প্রস্তাব পান তৃপ্তি। এই ছবিতে কাজের জন্য প্রায় দ্বিগুণের বেশি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন তিনি। এই মুহূর্তে একটি ছবির জন্য ১ কোটি টাকা নিচ্ছেন তৃপ্তি। কেবল সিনেমা নয়, ইনস্টাগ্রামে কোনো পোস্ট দিতে ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী ৫১ লাখের বেশি।

এত টাকা দিয়ে কী করছেন তৃপ্তি? জানা গেছে, গত মাসে মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল এক এলাকায় ১৪ কোটি রুপিতে একটি বাড়ি কিনেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের পশ্চিম বান্দ্রায় থাকেন বলিউডের অনেক তারকা। শাহরুখ খান থেকে শুরু করে সালমান খান, রেখার বাংলোও রয়েছে ওই এলাকায়। সেখানে আরও থাকেন আলিয়া ভাট এবং রণবীর কাপুরও।

শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছে তৃপ্তি অভিনীত ছবি ‘ব্যাড নিউজ’। এতে আরও অভিনয় করেছেন ভিকি কৌশল, ফাতিমা সানা শেখ, সানিয়া মালহোত্রা, নেহা ধুপিয়া প্রমুখ। এ ছবির পর কার্তিক আরিয়ানের সঙ্গে ‘ভুল ভুলাইয়া-৩’ ছবিতে দেখা যাবে তৃপ্তিকে।

 কলি