বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দুই আলোচিত সিনেমা ‘চাঁদনী’ ও ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। সিনেমা দুটির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পান চিত্রনায়িকা শাবনাজ ও মৌসুমী। ‘চাঁদনী’ সিনেমাটি এহতেশাম এবং ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নির্মাণ করেছিলেন সোহানুর রহমান সোহান।
১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছিল ‘চাঁদনী’। এই সিনেমার মাধ্যমে চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় বিক্রমপুরের মেয়ে শাবনাজের। এতে শাবনাজের বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় নাঈমের। সিনেমাটি মুক্তির পর জুটি হিসেবে দারুণ সাড়া ফেলেন নাঈম-শাবনাজ। এরপর একে একে তারা আরও অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেন। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘দিল’, ‘সোনিয়া, ‘চোখে চোখে’, ‘আগুন জ্বলে’, ‘অনুতপ্ত’, ‘লাভ’ অন্যতম।
নাঈম ছাড়াও আরও অন্যান্য নায়কের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেন শাবনাজ। এদিকে নাঈম-শাবনাজ জুটি যখন দর্শকপ্রিয়তায় শীর্ষে সেই সময়ই ‘চাঁদনী’ মুক্তির প্রায় ১৮ মাস পর অর্থাৎ ১৯৯৩ সালের ২০ মার্চ মুক্তি পায় মৌসুমী-সালমান শাহ অভিনীত সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা। এই সিনেমায় মৌসুমীর বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় সালমান শাহর। যিনি মুত্যুর তিন দশক পরেও এখনো দর্শকের ভালোবাসার শীর্ষে রয়েছেন।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা মুক্তির পর সালমান শাহ ও মৌসুমীকে নিয়ে চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়। জুটি হিসেবে নাঈম শাবনাজের পর তারাও আলোচনায় চলে আসেন। সালমান শাহ মৌসুমীও জুটি হিসেবে ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্ন’, ‘দেনমোহর’ সিনেমাতে অভিনয় করেন। সালমান শাহ ছাড়া মৌসুমী পরবর্তীতে ওমর সানীর সঙ্গেই জুটি হিসেবে বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেন। একসময় তারা বিবাহ বন্ধনেও আবদ্ধ হন যা আজও অটুট আছে।
নব্বইয়ের দশকের দুই মাইলফলক ও ব্যবসাসফল সিনেমা ‘চাঁদনী’ ও ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার নায়িকা শাবনাজ ও মৌসুমী এখন আর সিনেমাতে অভিনয় করছেন না। শাবনাজ অনেক বছর সিনেমাতে নেই। এদিকে মৌসুমী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আমেরিকাতে আছেন মেয়ে ফাইজাকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে। তাকেও এরপর আর নতুন সিনেমাতে দেখা যায়নি।
শাবনাজ বলেন, ‘‘চাঁদনী’ সিনেমাতে যখন অভিনয় শুরু করি তখন আমি এসএসসি দিয়েছি। এরপর চাঁদনীর শুটিং শেষ হলো, সিনেমা মুক্তি পেল। বিশেষ করে সিনেমার গানগুলো শ্রোতা দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলল। সিনেমাটিও দর্শকের মাঝে সমাদৃত হলো। চাঁদনী হয়ে গেল দর্শকের ভালোবাসায় ইতিহাস। আমি চাঁদনীর নায়িকা এটা বলতেও আমার গর্ব হয়। পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সিনেমার পরিচালককে। এখনো মাঝে মাঝে যখন ভাবি এতটা বছর চলে যাওয়ার পরও দর্শক যেভাবে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন তা আসলে আমার ভালো কাজের প্রাপ্তি।’’
মৌসুমী বলেন, ‘‘আমার স্পষ্ট মনে আছে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরতে নাঈম ভাই শাবনাজ আপা এসেছিলেন আমাকে আর সালমানকে অনুপ্রেরণা দিতে। সেই মুহূর্ত আজও চোখে স্পষ্ট। মনে পড়ে কেয়ামত থেকে কেয়ামতের শুটিংয়ের সময়ের দিনগুলো। এই সিনেমাতে অভিনয় করে আমি দর্শকের যে ভালোবাসা পেয়েছি সেই ভালোবাসা আজও প্রতি মুহূর্তেই অনুভব করি। আমি দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞ। সোহান ভাইয়ের প্রতিও অনেক কৃতজ্ঞতা।’’
/এমএস


.jpg)