ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

ফুলেল সাজে রাধিকা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৭ পিএম
ফুলেল সাজে রাধিকা
রাধিকা মার্চেন্ট ,ছবি: ইনস্টাগ্রাম

আগামী ১২ জুলাই অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্ট বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। ৮ জুলাই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। স্নিগ্ধ ও অপরূপ সাজে হলুদের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন রাধিকা মার্চেন্ট। এই অনুষ্ঠান তার পোশাক ছিল একেবারে অনবদ্য, নতুনত্বের ছোঁয়ায় পরিপূর্ণ।

রাধিকা মার্চেন্ট তার হলুদের জন্য বেছে নিয়েছিলেন নকশা করা লেহেঙ্গা।হলুদ রঙের লেহেঙ্গাটি ডিজাইন করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার অনামিকা খান্না। লেহঙ্গার সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বিষয় ছিল তাজা ফুলের ওড়নাটি। ওড়নাটি তৈরি হয়েছে তাজা গাঁদা, বেলিসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে। হাজার হাজার টাটকা বেলি ফুলের কুঁড়ি দিয়ে জালের মতো বোনা ওড়নাটিতে নকশা করা বর্ডারে ছিল গাঁদা ফুলের কারুকাজ। নিখুঁত বুননে তৈরি করা চমৎকার এই ওড়নাটি সবার নজর কেড়েছে। এ ছাড়া রাধিকার সাজগোজের দায়িত্বে ছিলেন অনিল কাপুরের কনিষ্ঠ কন্যা রিয়া কাপুর। ওড়নাটি ড্রেপিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন ড্রেপিং শিল্পী ডলি জৈন। 

পোশাকের সঙ্গে রাধিকা পরেছিলেন ফুলের চোকার ও লম্বা নেকলেস। লম্বা সংযুক্ত কানের দুল এবং হাতের ব্রেসলেটের সঙ্গে ছিল ফুলেল রাখি। চুলের সাজেও ব্যবহার করেছিলেন তাজা ফুল। তার গয়না থেকে শুরু করে পোশাক সব কিছুতেই ছিল ফুলের স্পর্শ।

মিনিমাল মেকআপে ছিল রাজকীয় ছোঁয়া। হলুদ লেহঙ্গার সঙ্গেও একেবারে হালকা মেকআপ করেছিলেন তিনি। উইঙ্গড আইলাইনার,শিমারিং আইশ্যাডো, লিকুইড হাইলাইটার, ছোট কালো টিপ আর হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিকেই সাজ শেষ করেছিলেন। 

কলি 

জেন-জিদের লাইফস্টাইল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৫২ পিএম
জেন-জিদের লাইফস্টাইল
মডেল: প্রহেলিকা, রুদ্র, ঋতু। ছবি: শরিফ মাহমুদ

১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত যাদের জন্ম, তাদের ‘জেন জেড’ বা ‘জেন-জি’ বলা হয়। জেন-জিরা অল্প বয়স থেকে ইন্টারনেট ও পোর্টেবল ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বড় হওয়া প্রথম সামাজিক প্রজন্ম হিসেবে ধরা হয়। এই প্রজন্ম নিজেদের কঠোর পরিশ্রমী, আত্মনির্ভরশীল এবং সৃজনশীল হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা, জীবনযাপন, ভবিষ্যতের লক্ষ্য অন্যদের তুলনায় আলাদা। এই প্রজন্মের জীবনযাপন নিয়ে লিখেছেন শাহিনুর আলম কলি 

জেন-জিদের ফ্যাশন 
জেন-জিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, তারা কোনো নির্দিষ্ট স্টাইলে আটকে থাকে না। আবার অতীতের কোনো স্টাইল ফিরিয়ে আনতেও কোনো কার্পণ্য করে না। তাদের কারণে অতীতের কিছু ফ্যাশন আর স্টাইল আবার ফিরে এসেছে। ফ্যাশন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ থাকার জন্য তাদের দিনের বড় একটা সময় বিভিন্ন রকমের ম্যাগাজিন, ব্লগ ঘেঁটে ও ফ্যাশন সংক্রান্ত ভ্লগ দেখে কাটায়। বাইকার শর্টস, কম্ফি বা টার্টলনেক ও কিউবান কলার শার্ট রয়েছে তাদের ফ্যাশন তালিকায়। এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় অর্জন লিঙ্গনিরপেক্ষ পোশাক। কয়েক দশক আগেও বিষয়টি চিন্তা করা যেত না। এখন তারাই প্রমাণ করেছে, লিঙ্গনিরপেক্ষ পোশাক পরা যায়।

এ ছাড়া মিনিমাল, অতিরিক্ত বড় ও আরামদায়ক সব ধরনের স্টাইলে তাদের দেখা যায়। পাশাপাশি তাদের নিজস্ব স্টাইল তো রয়েছে। এই প্রজন্মের প্রভাবে ডিজাইনাররা নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করছে। তাদের পোশাকে রঙের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয় না। সব ধরনের রঙের পোশাক তাদের পরতে দেখা যায়। এখন তারা যা পরবে তাই ট্রেন্ডি। ছেলেরা বিভিন্ন নকশার শার্ট ও হাফপ্যান্ট এবং পায়ে কেডস অথবা লোফার পরে হাজির হয়ে যান যেকোনো অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া কালো ট্রাউজার আর ঢিলেঢালা ম্যাচিং টি-শার্ট পরে সাবলীল ভঙ্গিতেই বাইরে বের হয়ে যান। লুজ-ফিটিং জর্জেট ফেব্রিকের টেরাকোটা রঙের শার্ট এবং সাদা রঙের ফুলহাতা ক্রপ টপ সঙ্গে আশি-নব্বইয়ের দশকের হাই ওয়েস্ট মম জিনস বেশ জনপ্রিয়।


 
জেন-জিদের মেকআপ ট্রেন্ড
ফ্যাশনের মতো মেকআপের ব্যাপারেও এই প্রজন্ম বেশ সচেতন। তাদের সাজে থাকে মিনিমাল ছোঁয়া। সাজের ক্ষেত্রে খুব বেশি মেকআপ পণ্যের ব্যবহার করে না। ভালো মানের ফাউন্ডেশন, কনসিলার, ব্লাশন, কাজল, মাসকারা, আইশ্যাডো তাদের জন্য যথেষ্ট। তাদের কাছে মেকআপ শুধু নিজেকে সুন্দর দেখানোর মাধ্যম নয়। বরং ব্যক্তিত্ব বা নিজস্বতা প্রকাশের হাতিয়ার। বর্তমানে ‘গ্র্যাডিয়েন্ট লিপ’ বেশ জনপ্রিয়। ডার্ক শেডের লিপস্টিক বা লিপ টিন্ট দেওয়ার পর, ঠোঁট হালকা শেডের লিপলাইনার দিয়ে এঁকে নেওয়াকে গ্র্যাডিয়েন্ট লিপ ট্রেন্ড বলা হয়। এ ছাড়া গ্রাফিক আইলাইনার ট্রেন্ডও বেশ জনপ্রিয়। প্রজাপতি, ডলফিন, জ্যামিতিক প্যাটার্নের চোখে ডিজাইন করে। ব্লাশের প্রতি জেন-জিদের দুর্বলতা আছে। প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফুটিয়ে তুলতে ব্লাশ ব্যবহার করে যাকে ‘বয়ফ্রেন্ড ব্লাশ’ বলা হয়। এ ছাড়া ফো ফ্রেকলস ও ডাম্পলিং স্কিনের জনপ্রিয়তা অনেক। গহনা হিসেবে হালকা কানের দুল গলায় সিম্পল লকেটসহ চেইন বেশি পরতে দেখা যায়।

জেন-জিরা রেস্টুরেন্টপ্রেমী
এদের একটা বড় অংশই রেস্টুরেন্টপ্রেমী। ইন্ডিয়ান, জাপানিজ, ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান, রাশিয়ান কিংবা আমেরিকান সব খাবার সম্পর্কে তারা জ্ঞান রাখে। নতুন খাবার টেস্ট করার প্রতি তাদের আগ্রহ ব্যাপক। তাদের হাত ধরেই ‘ফাস্ট ফুড’ কালচারের ঢালাও প্রচলন হয়েছে। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি ফুডকোর্ট কিংবা মিনি ফুডকোর্টের খাবার ও তাদের পছন্দ করে। এ ছাড়া সময় কাটানোর জন্য ‘রেস্টুরেন্ট’ বেশ জনপ্রিয়। 

তাদের নিজস্ব পছন্দ 
জেনারেশনেই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অনেক বেশি। জেন-জির অধিকাংশই স্মার্টফোন ব্যবহার করে। যেহেতু এরা স্ট্রিমিং কন্টেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেই বড় হয়েছে। তাই তাদের আর্ট অ্যান্ড কালচারেও পরিবর্তন এসেছে। ওয়ার্ল্ড মিউজিক, থিয়েটার, মুভি ইত্যাদির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক মজবুত। সিনেমা দেখার রুচিবোধেও পরির্বতন এসেছে। শুধু হলিউড কিংবা বলিউডই নয়; পাশাপাশি কোরিয়ান, জাপানিজ, চায়নিজ, নেপালি, মালায়ালামসহ আরও অন্যান্য ধারার সিনেমা দেখে। এ ছাড়া বর্তমান সময়ের বাংলা সিনেমা কিংবা আর্টফিল্মও তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

কলি

ইলিশের মজাদার রেসিপি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৭ পিএম
ইলিশের মজাদার রেসিপি

ইলিশ প্রায় সবারই পছন্দের মাছ। এই মাছ দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু অনেক পদ। ইলিশের চেনা-অচেনা নানা স্বাদের রান্নার রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আনিসা আক্তার নূপুর

টক মিষ্টি আচারি ইলিশ 

উপকরণ
ইলিশ মাছ ১ কেজি, রসুন বাটা ১ চা চামচ, সরিষা বাটা ১ চা চামচ, আস্ত পাঁচফোড়ন ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া আধা চা চামচ, শুকনো মরিচ বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল আধা কাপ, তেঁতুলের কাথ ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানি প্রয়োজনমতো, চিনি ১ চা চামচ।

প্রণালি
ইলিশ মাছের পিসগুলোর সঙ্গে হলুদ লবণ মেখে কড়াইয়ে তেল গরম করে মাছগুলো ভেজে নিন। ভাজা মাছগুলো তুলে রেখে ওই তেলের মধ্যে আস্ত পাঁচফোড়ন দিয়ে একে একে সব বাটা মসলাগুলো দিয়ে একটু পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। তারপর দেড় কাপ পানি দিয়ে মাছের পিসগুলো দিয়ে উপরে তেঁতুলের কাথ দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন। তারপর চিনি দিয়ে মাখা মাখা করে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

দই ইলিশ

উপকরণ
ইলিশ মাছ ৬ পিস, মিষ্টি দই ৩ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম বাটা ২ চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৬-৭টি, চিনি ১ চা চামচ, ঘি ১ চা চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি
কড়াইয়ে তেল গরম করে বাটা মসলাগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। কাঁচামরিচ দিয়ে একটু পানি দিয়ে আবার কষিয়ে নিন। তারপর মিষ্টি দই দিয়ে নেড়ে-চেড়ে মিশিয়ে ১ কাপ পানি দিয়ে মাছগুলো দিয়ে দিন। ঘি দিয়ে ঢেকে ২০ মিনিট রান্না করুন। চিনি দিয়ে মাখা মাখা করে নামিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।

পোস্ত ইলিশ 

উপকরণ 
ইলিশ মাছ আট টুকরো, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, পোস্ত বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, আস্ত কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, ঘি ১ চা চামচ, সাদা তেল আধা কাপ, চিনি সামান্য, পানি পরিমাণমতো। 

প্রণালি
প্রথমে মাছের টুকরোগুলোর সঙ্গে হলুদ এবং লবণ মেখে কিছুক্ষণ রেখে দিন, তারপর কড়াইয়ে তেল গরম করে বাটা ও গুঁড়া মসলাগুলো একে একে দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এক কাপ পানি দিয়ে মেখে রাখা মাছগুলো দিয়ে ঢেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। তারপর কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। উপরে ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার পোস্ত ইলিশ।

 

সরিষা মাখানো ইলিশ

উপকরণ
ইলিশ ১ কেজি (পিস করা), পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, সরিষা বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল আধা কাপ, চিনি সামান্য, আস্ত কাঁচা মরিচ ৬টি, পানি আধা কাপ।

প্রণালি
প্রথমে ইলিশ মাছগুলোর সঙ্গে হলুদ ও লবণ মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর বাকি সব উপকরণ একত্রে মেখে উপরে সরিষার তেল দিয়ে এবং পানি দিয়ে ঢেকে ২০ মিনিট রান্না করুন। রান্নার সময় চুলার আঁচ লো মিডিয়াম রাখুন। তারপর মাখা মাখা হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার সরিষা মাখানো ইলিশ।

 কলি

কোন ঘরে কেমন আলো

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৮ পিএম
কোন ঘরে কেমন আলো

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম আলোর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সঠিক স্থানে সঠিক আলোর ব্যবহার, তার ওপর ঘরের লুক নির্ভর করে। মানানসই আলো সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে ঘরের সৌন্দর্য অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। তাই কোন ঘরে কেমন আলো হবে তা কিন্তু আপনার জানাটা বেশ জরুরি। চাইলেই ঘরে আলো এবং ছায়াকে কেন্দ্র করে বিশেষ কিছু স্থানকে সুনির্দিষ্ট ও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। বাড়িতে আলোর ব্যবহার সম্পর্কে লিখেছেন তামিম হাসান 

বসার ঘরে আলোর সমারোহ 
ঘরের সবচেয়ে পরিপাটি ঘরটি বসার ঘরই হয়ে থাকে। আমরা ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই বাড়ির বসার ঘরকে। এখানেই পরিবারের সবাই একসঙ্গে সময় কাটায়। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা- সবই হয় এ ঘরে। চাইলে কয়েক ধরনের লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে ড্রয়িং রুমে। এই ঘরের দেয়ালে বিভিন্ন ছবির ফ্রেম রেখে সেখানে স্পটলাইট লাগানো যায়। তাতে ছবির ফ্রেম হাইলাইট হয়ে থাকবে। ঘর আয়তনে বড় হলে ঝাড়বাতি বসানো যেতে পারে। এ ছাড়া বেতের কিংবা বাঁশের বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং ল্যাম্প রাখতে পারেন। অতিথি এলে বা সন্ধ্যার পর সেসব বাতি জ্বালিয়ে দিলে ঘরের শোভা বেড়ে যাবে অনেকাংশে।

বেডরুমের আলোকসজ্জা
দিনশেষে ক্লান্ত হলে সবাই চায় শোবার ঘরে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিতে। বিছানার পাশের দেয়ালে ছোট টেবিলে চাইলে ল্যাম্প রাখা যায়। ঘুমানোর আগে বই পড়ার ক্ষেত্রে অথবা প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে ল্যাম্প ব্যবহার করতে পারেন। তবে হ্যাঁ শোবার ঘরে নরম আলো ব্যবহার করলেও পড়ার টেবিলের জন্য উজ্জ্বল আলোর প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে স্পটলাইট ব্যবহার করতে পারেন। সিলিংয়ে রাখতে পারেন সারফেস লাইট, কনসিল লাইট, স্পটলাইট, ফলস সিলিংয়ের পকেট লাইটও (এলইডি) লাগানো যায়। শোবার ঘরে ওয়ার্ক স্টেশনের ব্যবস্থা থাকলে সেখানে উজ্জ্বল বাতি ব্যবহার করুন। এ ছাড়া শোবার ঘরে ফ্লোরস্ট্যান্ড ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়।

ফার্নিচার কর্নার
ড্রেসিং টেবিল ও আয়নার সামনে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা রাখুন। সেখানে ঝুলন্ত বাতি দেওয়া যেতে পারে। ড্রেসিং টেবিলের আলো যেন আয়নার বিপরীত দিকের দেয়ালে না পড়ে তা খেয়াল রাখতে হবে। শোবার ঘরে ১২০-১৫০ বর্গফুটের জন্য ৫০-৬০ ওয়াটের এলইডি বাতি মানানসই। এ ক্ষেত্রে পুরো ঘরের জন্য ৩০ ওয়াট এবং ড্রেসিং ইউনিটের জন্য ৩০ ওয়াটের বাতি লাগান। বিছানার পাশের টেবিল ল্যাম্পের জন্য ২০ ওয়াটের লাইট যথেষ্ট।


ডাইনিং রুম
খাবার টেবিলের ওপর বাড়তি আলোর জন্য ঝুলন্ত বাতি বেশ কাজে দেবে, দেখতেও দারুণ লাগবে। সঙ্গে যদি দেয়ালে কোনো শৈল্পিক চিত্র অথবা পেইন্টিং থাকে, তবে সেটাকে আলোকিত করার জন্য উষ্ণ আলোর স্পটলাইট, যেটা নাড়াচাড়া করা যায় (এলইডি বাতি হলে ভালো) ব্যবহার করতে পারেন। টেবিলের আকৃতি অনুযায়ী দুই বা তিনটি বাতি সিলিং থেকে সারি বেঁধে ঝুলিয়ে দিন। গোলাকার টেবিলে সারি বেঁধে না দিয়ে ত্রিভুজ আকারে ঝুলিয়ে দিলে বেশ ভালোই দেখাবে। যদি খাবার ঘরের পাশেই কিচেন থাকে তবে কিচেন কাউন্টারের সাজে নকশাদার একটি ঝোলানো বাতি পরিপূর্ণতা এনে দিতে পারে।

ছোটঘরে কোমল আলো
শিশুদের ঘরে সবসময় কোমল আলো ব্যবহার করা ভালো। এ ঘরে ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ডেকোরেটিভ লাইট। খেলনার জন্য আলাদা একটি কোণ সাজানো যেতে পারে যেখানে ফুটবল, রিকশা, গাড়ির আদলে বাতি লাগানো যেতে পারে। বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন বা মিকি মাউসের আদলে তৈরি ওয়াল ব্রাকেট লাইটও ব্যবহার করতে পারেন। তবে পড়ার টেবিলে একটি উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যদিকে রান্নাঘর, বাথরুম, কাপড়-চোপড় রাখার জায়গায় রাখা যেতে পারে সাদা বা শীতল সাদা বাতি। চাইলেই ভিন্ন ঘরানার আলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে নিজস্ব কাস্টমাইজেশনে পছন্দের আলো তৈরি করতে পারেন।

কলি

বর্ষায় শিশুর যত্ন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৮ পিএম
বর্ষায় শিশুর যত্ন
মডেল: মিশকাত, ছবি: শরিফ মাহমুদ

বর্ষায় বেশি ক্ষতির শিকার হয় শিশুরা। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া, ডেঙ্গুজ্বর, ব্রঙ্কিওলাইটিস (শ্বাসতন্ত্রের এক ধরনের প্রদাহ), ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস এবং কিছু চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই এ সময় শিশুদের বিশেষ যত্নে রাখতে হয়। বর্ষায় শিশুর যত্ন রাখার বিষয় জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডা. ফারজানা রহমান মুনমুন। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন শারমিন রহমান। 

ঘরের পরিচ্ছন্নতা
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি রোধ করতে আপনার ঘর পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন। জীবাণুনাশক তরল ব্যবহার করে মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করুন। ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এড়াতে ঘন ঘন পর্দা এবং বিছানার চাদর পরিবর্তন করুন বা ধুয়ে ফেলুন। তাজা বাতাস সঞ্চালন বজায় রাখার জন্য ঘরে সঠিক বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন। 

পোশাক এবং আনুষঙ্গিক
বর্ষা মৌসুমে আপনার শিশুর জন্য উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন করুন। আপনার শিশুকে আরামদায়ক রাখতে নরম হালকা ওজনের, শ্বাস নেওয়া যায় এমন কাপড় বেছে নিন। প্রি-স্কুল শিশুদের জন্য এমন পোশাক বেছে নিন, যা ওরা নিজেরাই পরতে ও বদলাতে পারবে। চেইন বা হুক দেওয়া পোশাক ওদের জন্য ভালো নয়। ইলাস্টিকযুক্ত প্যান্ট দিতে পারেন। তাদের পুরো হাতার পোশাক পরান এবং ঘাম হয় এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন। শিশুকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে রেইনকোট বা ছাতার মতো জলরোধী জিনিসপত্র ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

গোসল এবং শুকানো
আপনার শিশুকে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে নিয়মিত হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করান। ফুসকুড়ি এবং ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে প্রতিটি গোসলের পরে তাদের সূক্ষ্ম ত্বক সঠিকভাবে শুকানো হয়েছে তা নিশ্চিত করুন। ত্বকের ভাঁজের মতো আর্দ্রতা প্রবণ এলাকায় বিশেষ মনোযোগ দিন।

ভালো পুষ্টি এবং হাইড্রেশন
শিশু যাতে সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্য পায় তা নিশ্চিত করুন। এ সময় শিশুকে বাসী খাবার, কাঁচা ফল ও সবজি থেকে দূরে রাখুন। সবসময় রান্না করা, টাটকা খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। তাজা, রঙিন শাকসবজি এবং ভিটামিন সি, ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। বিশেষ করে করলা, পালংশাক, লেবু, জাম, পেয়ারা খাওয়াতে পারেন। তাদের হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন। এ ছাড়া রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে মাছ বা মাংস খাওয়াতে পারেন। প্রোটিন, ভিটামিন বি, জিংক এবং মাছের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। 

অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম
আপনার শিশুকে বৃষ্টির দিনে বিনোদনের জন্য অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে নিযুক্ত করুন। বই পড়া, ইন্টারেক্টিভ গেম বা শিল্প ও নৈপুণ্যের কার্যকলাপে লিপ্ত করার। এগুলো তাদের মানসিক বিকাশের সহায়ক।

রোগ লক্ষণ ও উপসর্গ 
বর্ষা ঋতুতে আপনার শিশুর অসুস্থতার কোনো লক্ষণের জন্য সতর্ক থাকা এবং নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো লক্ষ করেন তবে নির্দেশনার জন্য আপনার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন-
কার্যকলাপ এবং অলসতা হ্রাস
ক্ষুধামান্দ্য
শ্বাসকষ্ট
কদাচিৎ প্রস্রাব
ঘন ঘন আলগা মলত্যাগ
মলে রক্ত
ত্বকে ফুসকুড়ির উপস্থিতি।

টিকা এবং টিকাদান
টিকা আপনার শিশুকে বর্ষাকালে সাধারণ সংক্রমণসহ বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানি এবং ভেক্টরবাহিত রোগের বিরুদ্ধে আপনার শিশুর অনাক্রম্যতা শক্তিশালী হয়েছে তা নিশ্চিত করতে আপনার শিশু বিশেষজ্ঞের দ্বারা সুপারিশ করা টিকাদানের সময়সূচি অনুসরণ করুন।

 কলি 

ছোট চুলের যত্ন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৯ পিএম
ছোট চুলের যত্ন
মডেল: ফারিয়া, ছবি: শরিফ মাহমুদ

প্রাণবন্ত ঝলমলে চুল কার না পছন্দ, হোক তা বড় কিংবা ছোট। বর্তমানে ছোট চুলের ট্রেন্ড চলছে। অনেকে ব্যস্ততা কিংবা নানাবিধ কারণে চুল ছোট রাখতে পছন্দ করেন। চুল ছোট হলে তার যত্ন করতে নেই এমন ভাবনা অনেকেরই থাকে তবে এটি ভুল। চুল ছোট কিংবা বড় যেমনই হোক সঠিক যত্ন ছাড়া চুলের সৌন্দর্যে ভাটা পড়ে। ছোট চুলের যত্ন নেওয়া মোটামুটি সহজ। এ সম্পর্কে জানিয়েছেন জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ফারহানা রুমি। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন হাসিবা আক্তার

চিরুনির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিহার করতে হবে। ছোট চুলে সাধারণত জট বাঁধার প্রবণতা কম থাকে। চুলে অতিরিক্ত ব্রাশ চুলের ভলিউম কমে যেতে পারে। লম্বা চুলের তুলনায় ছোট চুলে জট কম হয়, তাই ব্রাশ না করে শুধু আঙুল দিয়েই হালকা করে চুলগুলো আঁচড়ে নিতে পারেন।

চুলে নতুনত্ব আনার জন্য অনেকেই হিটিং টুলস ব্যবহার করে থাকেন। ছোট চুলের জন্য এ ধরনের হিটিং টুলসের অত্যধিক তাপ হতে পারে চুল ভঙ্গুর হওয়ার কারণ। খুব ঘন ঘন এই টুলসগুলো ব্যবহারের ফলে চুল রুক্ষ এবং নিস্তেজ হয়ে যেতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে এগুলো কম ব্যবহারের।

চুল ফেটে যাওয়া বা রুক্ষ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে বাঁচতে ছয় সপ্তাহ পরপর চুলে ট্রিম করার অভ্যাস করুন। ছোট চুলের জন্য ট্রিমিং একটি ভালো অভ্যাস। প্রতিদিন চুল ধোয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।

আপনার চুল ছোট হওয়ার কারণে তা স্বাভাবিকভাবেই তেল উৎপাদনকারী ফলিকলের কাছাকাছি থাকে তাই চুলে দ্রুত ময়লা জমতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায় হলো প্রতিদিন আপনার চুল ধোয়া। ভালো মানের কোনো মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন, তার সঙ্গে একটি স্ট্রং এক্সফলিয়েশন গুণসম্পন্ন কোনো শ্যাম্পু রাখবেন এবং অদল-বদল করে ব্যবহার করলে চুল ভালো থাকবে। চুলের যত্নে ডিপ কন্ডিশনার চমৎকার উপাদান। চুল সিল্কি ও ঝলমলে রাখতে এর বিকল্প নেই। বাজারে বিক্রি হয় এমন ভালো মানের কোনো ডিপ কন্ডিশনার কিনে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের গোড়ায় ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ানোর জন্য হট অয়েল ম্যাসাজের জুড়ি নেই। নারিকেল তেলের সঙ্গে অল্প ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে তেলটা গরম করে মাথায় ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে হবে।

চুলের বাড়তি যত্নে অল্প কিছু সময় বের করে ঘরেই বিভিন্ন উপাদান দিয়ে প্যাক বানিয়ে তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যালোভেরার জেল ব্লেন্ড করে তাতে ২ টেবিল চামচ চা পাতা, ২ টেবিল চামচ বাদামের তেল, ৩ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল, ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে তা মাথার স্কাল্পসহ সম্পূর্ণ চুলে লাগিয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। তারপর চুল ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে কন্ডিশনার দিন। সপ্তাহে অন্তত একবার এই মাস্ক চুলে লাগান। এতে চুল কোমল, ঝরঝরে এবং মসৃণ হয়, শুধু তাই নয় চুল পড়াও কমে।

চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে কলা, লেবু ও পেঁয়াজের রসের প্যাক লাগাতে পারেন। একটি পাকা কলা, দুটি লেবুর রস ও দুটি পেঁয়াজের রস ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর গোসলের আগে চুলে মেখে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করে রিঠা পানি দিয়ে আরেকবার চুল ধুয়ে ফেলুন।

চুলের ময়েশ্চার ধরে রাখার জন্য আরেকটি প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। পরিমাণমতো মেহেদী গুঁড়া, একটি ডিমের সাদা অংশ, তাতে অল্প আমলকীর রস এবং সঙ্গে ১ চা চামচ মেথি গুঁড়া এবং পেঁয়াজের রস যোগ করুন, তারপর একসঙ্গে খুব ভালো করে মিশিয়ে তা চুলে লাগিয়ে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করুন তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন, কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না কিন্তু। এই হেয়ার প্যাকটি চুলের সফটনেস ফিরিয়ে আনতে ব্যাপকভাবে কার্যকরী।

ছোট চুল ভেবে যত্নের প্রয়োজনীয়তা নেই এমনটা ভাববেন না যেন। যত্ন ছাড়া কোনো কিছুই সুন্দর ও সুস্থ থাকে না তাই ছোট চুলের প্রতিও যত্নশীল হোন।

 কলি