ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু

মা হোক বন্ধু

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৩৮ পিএম
মা হোক বন্ধু
মডেল: তাসনুভা ও তার মেয়ে সামারা, ছবি: আদিব আহমেদ

মা-মেয়ের সম্পর্ক দারুণ এক সম্পর্ক। বেশির ভাগ মেয়েরই সবচেয়ে কাছের বন্ধু তার মা। মায়ের সঙ্গেই তাদের সখ্য সবচেয়ে বেশি। মেয়ে তার আবদার, চাওয়া-পাওয়া, ভালো লাগা, মন্দ লাগা ভাগাভাগি করে নেয় মায়ের সঙ্গে। অনেক সময় ব্যতিক্রমও দেখা যায়। মা ও মেয়ের সম্পর্ক ভালো না হলে মা কিছু বললেই মেয়ে ঝাঁজিয়ে উঠবে। কথায় কথায় তর্ক করবে, সব ব্যর্থতার জন্য মাকে দায়ী করবে এবং মায়ের কোনো নির্দেশ সে পালন করতে চাইবে না। মায়ের বিরোধিতা করাই হবে তার প্রধান কাজ। তাই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া জরুরি। 

পাশে থাকুন, কথা শুনুন

মেয়ে জীবনে অনেক ভুল করবে, এটাকে স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে। ভুলের কারণে মানসিক বা শারীরিক শাস্তি  দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। সবসময় তাকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তার সব কর্মকাণ্ড নিয়ে কটূক্তি, সমালোচনা বন্ধ করতে হবে। সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করতে হবে। মেয়েদের নানা বয়সে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার কথা শোনার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিবন্ধকতার সমাজে কোনো মেয়ে তার আস্থাশীল জায়গায় মাকে যদি না পায় তাহলে তার সুন্দরভাবে বিকশিত হওয়া খুব সহজ হবে না। তাই মা হিসেবে সবসময় চেষ্টা করতে হবে মেয়ের পাশে থাকার। মাকে এমন হতে হবে যেন মেয়ে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয় মাকে শোনাতে পারে। কোনো ভুল করে থাকলে, প্রথমে সাহায্যের জন্য মায়ের কাছে আসতে পারে। 

মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব

মায়ের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক হতে হবে সহজ এবং সাবলীল। বয়ঃসন্ধিকালীন সামাজিক ব্যবস্থায় মা-মেয়ের সম্পর্ক কিছুটা শীতল থাকে। এ সময় তাদের মধ্যে একটা মানসিক ও সম্পর্কগত দূরত্ব তৈরি হয়। এ সময় মাকে মেয়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যাতে মেয়ে মায়ের সঙ্গে যেকোনো বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারে। মা-মেয়ের সম্পর্ক সাবলীল রাখার চেষ্টা করতে হবে। মেয়ে যেভাবে পৃথিবী দেখতে চায় তা জানার চেষ্টা করতে হবে। কৈশোর সময়ে সম্পর্ক কঠিন থাকলে পরবর্তী সময়ে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মা-মেয়ে দুজন দুজনকে বুঝতে হবে। তাহলেই মেয়ে যতই বড় হোক না কেন, চিরজীবন সে মায়ের আঁচলেই সব শান্তি, স্বস্তি, সাহস আর সবটুকু সুখ খুঁজে পাবে।

আরও পড়ুন:ফোনে কথা বলার আদবকেতা

শিখতে-জানতে অনুপ্রাণিত করতে হবে 

মেয়েকে শেখার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। শৈশব থেকেই চেষ্টা করতে হবে তাকে সৃজনশীল কাজে যুক্ত করতে। স্কুল-কলেজের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেওয়া যাবে না। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। বই পড়া, ম্যাগাজিন পড়া, স্কুল-কলেজে স্কাউটিং-গার্লস গাইডের মতো সহ-শিক্ষামূলক কাজে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। মেয়েকে একাকী পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে তাকে নানান কৌশল জয় করার কৌশল শেখাতে হবে। গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে সে যেন পাহাড় জয় করতে পারেন এমনভাবে তৈরি করতে হবে। বাস্তব দুনিয়ার নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে মাকেই মানুষ হিসেবে তাকে পথ চেনাতে হবে। 

নিজের চাপ চাপিয়ে না দেওয়া

অনেক মা নিজের চাওয়া মেয়ের ওপরে চাপিয়ে দেন। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন মেয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে চান। আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বা আশা তাদের সন্তানের মাধ্যমে অর্জন করতে চাওয়া, এটা ঠিক না। মেয়ে যা করতে চায়, মায়ের উচিত তাকে করতে দেওয়া। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মানুষই মেধাবী, তবে ধরনটা শুধু আলাদা। বাস্তবতা মেনে তার পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। মেয়ের পছন্দ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা যাবে না। বরং তার পরিবেশকে নতুনভাবে গ্রহণ করতে হবে। মা যদি মেয়ের পছন্দকে গুরুত্ব দেন, মেয়েও তার মায়ের পছন্দকে গুরুত্ব দেবে। এভাবেই তাদের সম্পর্ক হবে মজবুত। 

মা-মেয়ের সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুর মতো।

অতিরিক্ত কঠোর না হওয়া 

কোনো সন্তানের ভুল ধরিয়ে দেওয়া কিংবা সমালোচনা করাটা মোটেই খারাপ কিছু নয়। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কঠোরতার মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। ছোটখাটো বিষয়ে অতিরিক্ত কঠোর হলে তার মনে তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় মায়ের কঠোরতার কারণে মেয়ের জেদ কাজ করতে পারে। তাই সে একই ভুল বারবার করবে। মায়ের উচিত হবে মেয়ের এমন আচরণ মাথায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। তার ছোটখাটো ভুলগুলো মাফ করে দিয়ে বুঝিয়ে বলা। 

মানসিক দিক খেয়াল রাখতে হবে

মেয়ের মধ্যে কোনো মানসিক চাপ বা দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না, জানার চেষ্টা করতে হবে। বাড়িতে, স্কুলে বা অন্যত্র সে কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে কি না সেই সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মেয়ের মধ্যে যদি কোনোরকম বিষণ্নতা, উৎকণ্ঠা, পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, কনডাক্ট ডিজঅর্ডার, মাদকাসক্তি বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যা লক্ষ করেন, তা হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 

আবেগীয় সম্পর্ক

মেয়ে কারও সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত না হয়ে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে হবে। তার অনুভূতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। যদি তার এই সম্পর্ক পড়ালেখা বা ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে তাকে তার সম্পর্ক বুঝতে সহায়তা করতে হবে। সম্পর্কের কারণে মেয়ে কোনো বিপদে পড়ে কি না সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে তার ওপর অতিরিক্ত নজরদারি করা যাবে না, যাতে সে নিজেকে আবদ্ধ মনে করে।

কলি

ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা

জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন বাবার অবদান অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু তার উপস্থিতি অনুভূত হয় প্রতিটি পদক্ষেপে। সন্তানের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বপ্নপূরণ এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পেছনে যে মানুষটি নীরবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন, তিনি বাবা। সেই ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয় বাবা দিবস। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন 

পরিবারের নীরব অভিভাবক
মা যেমন স্নেহ ও মমতার প্রতীক, বাবা তেমনি সাহস, দায়িত্ব ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি। পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে একজন বাবা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেন। অনেক সময় নিজের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে পাশে সরিয়ে রেখে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কাজ করে যান।

বাবার ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় না কথায়, বরং তা ফুটে ওঠে তার দায়িত্বশীল আচরণ, পরিশ্রম এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগের মাধ্যমে। সন্তানের প্রয়োজন পূরণে নিরলস চেষ্টা, সমস্যার সময় পাশে দাঁড়ানো কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পথনির্দেশনা সবকিছুতেই বাবার ভূমিকা অপরিসীম।

বাবা: সন্তানের প্রথম নায়ক

একটি শিশুর জীবনে বাবাই অনেক সময় প্রথম নায়ক, প্রথম শিক্ষক এবং প্রথম অনুপ্রেরণা। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে পৃথিবীকে চেনা, হাঁটা শেখা কিংবা নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি হওয়ার পেছনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাবার শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা সন্তানের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকে।
সততা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ অনেক সন্তানই বাবার কাছ থেকে শেখে। একজন দায়িত্বশীল বাবার উৎসাহ ও সমর্থন সন্তানের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে এবং তাকে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। শুধু আর্থিক নিরাপত্তা নয়, মানসিক শক্তি ও প্রেরণার অন্যতম উৎসও একজন বাবা।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে বাবার ভূমিকা
একসময় বাবাদের মূল দায়িত্ব মনে করা হতো পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণ করা। তবে আধুনিক সমাজে সে ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন অনেক বাবা সন্তানের পড়াশোনা, খেলাধুলা, মানসিক বিকাশ এবং দৈনন্দিন যত্নেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো, স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, গল্প করা কিংবা একসঙ্গে ভ্রমণে যাওয়া এসবের মাধ্যমে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক আরও গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে বাবার ভূমিকা এখন শুধু উপার্জনকারী নয়, বরং একজন সহমর্মী বন্ধু ও পথপ্রদর্শকেরও।

বাবা দিবস উদ্যাপন তাৎপর্য 
অনেকেই মনে করেন, বাবা-মাকে ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। কথাটি সত্য হলেও ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় অনুভূতি প্রকাশ করতে ভুলে যাই। বাবা দিবস সেই অনুভূতি প্রকাশের একটি সুন্দর উপলক্ষ তৈরি করে।
এদিনে বাবাকে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো, তার সঙ্গে সময় কাটানো, পছন্দের কোনো উপহার দেওয়া কিংবা শুধু আন্তরিকভাবে ‘ধন্যবাদ’ বলা এসব ছোট ছোট উদ্যোগও তার জন্য অনেক বড় আনন্দের কারণ হতে পারে। কারণ অধিকাংশ বাবাই সন্তানের ভালোবাসা ও সম্মানকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে মনে করেন। 

বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সহজ উপায়
বাবা দিবস উদ্‌যাপন মানেই দামি উপহার বা বড় আয়োজন নয়। বরং আন্তরিকতা, সময় এবং ভালোবাসাই এদিনের সবচেয়ে বড় উপহার। ব্যস্ত জীবনের নানা দায়িত্বের ভিড়ে অনেক সময় বাবার সঙ্গে মনের কথা বলা বা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। বাবা দিবস সেই সুযোগটিই করে দেয়।

এদিনে বাবার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, তার পছন্দের কোনো খাবার একসঙ্গে খাওয়া, পুরোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছোট্ট একটি আয়োজন করা তাকে আনন্দ দিতে পারে। এমনকি একটি আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তা, হাতে লেখা চিঠি বা কয়েকটি কৃতজ্ঞতার বাক্যও বাবার জন্য হতে পারে অমূল্য উপহার।

হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে রাজধানীর অন্যতম আন্তর্জাতিক মানের হোটেল হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টার । ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে হোটেলটি চালু করেছে বিশেষ লাইভ স্ক্রিনিং এবং আকর্ষণীয় খাদ্য আয়োজন ‘ ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ ম্যাচডে ফিস্ট’।  

এই আয়োজনে ফুটবলপ্রেমীরা বড় পর্দায় বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলো সরাসরি উপভোগ করার পাশাপাশি উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাদু খাবারের বিশেষ কম্বো প্যাকেজ। মাত্র ১,৫০০ টাকা (নেট) প্রতি ব্যক্তি মূল্যে অতিথিদের জন্য থাকছে খেলা ও খাবারের অনন্য অভিজ্ঞতা।

বিশেষ ফুড প্যাকেজে খেলা চলাকালীন সময়জুড়ে থাকছে আনলিমিটেড পপকর্ন ও সফট ড্রিংকস। এছাড়া স্টার্টার হিসেবে অতিথিরা বেছে নিতে পারবেন চিকেন উইংস, ভেজিটেবল স্প্রিং রোল অথবা ফিশ টেম্পুরা, যার সঙ্গে পরিবেশন করা হবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।

মেইন কোর্সে থাকছে পেরি পেরি চিকেন স্লাইডার, চিকেন তন্দুরি র‍্যাপ অথবা বিফ বার্গার প্রতিটি আইটেমের সঙ্গে থাকবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগের জন্য একটি প্রাণবন্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগ্রহীদের অবশ্যই আগাম আসন সংরক্ষণ করতে হবে। 

বিস্তারিত তথ্য ও প্রি-রিজার্ভেশনের জন্য যোগাযোগ করা যাবে +৮৮ ০১৩২৪৭১৭০২৫-২৬ নম্বরে। 

/এমটি 

বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মাসব্যাপী উন্মাদনা। প্রিয় দলের ম্যাচ, শেষ মুহূর্তের গোল, উত্তেজনাপূর্ণ ড্র সবকিছু মিলিয়ে রাত জেগে খেলা দেখার প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকের মধ্যে। তবে এই আনন্দের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ঘুম, পড়াশোনা ও কাজের স্বাভাবিক রুটিন ঠিক রাখা। তাই বিশ্বকাপ উপভোগের পাশাপাশি একটি ব্যালান্সড নাইট রুটিন অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। লিখেছেন মুশফিরাত 

সময় জেনে পরিকল্পনা করা জরুরি
বিশ্বকাপ সাধারণত বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী গভীর রাত বা ভোরের দিকে হয়। তাই আগে থেকেই ম্যাচের সময়সূচি জেনে দিনটি পরিকল্পনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দিন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে, সেদিন কাজের চাপ কিছুটা কমিয়ে রাখা বা আগেই কাজ শেষ করে রাখা ভালো। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আগের দিন কিছুটা এগিয়ে রাখা যেতে পারে, যাতে রাত জাগার চাপ কমে।

পাওয়ার ন্যাপ হলো গোপন অস্ত্র
রাত জেগে ম্যাচ দেখার আগে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ঘুম বা ন্যাপ নেওয়া খুব কার্যকর। এতে শরীর কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার শক্তি আসে। বিশেষ করে যাদের পরদিন সকালেই ক্লাস বা অফিস থাকে, তাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হতে পারে।

হালকা খাবার বেছে নিন
রাত জেগে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা যেমন আনন্দের, তেমনি সঠিক খাদ্যাভ্যাস না মানলে এটি শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। গভীর রাতে ভারী, তেল-চর্বিযুক্ত বা মসলাদার খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে ঘুম ঘুম ভাব, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হয় এবং ম্যাচ উপভোগের মনোযোগও নষ্ট হয়।

তাই এই সময়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। যেমন–তাজা ফল (আপেল, কলা, আঙুর), ভাজা বাদাম, ওটস বা হালকা স্যান্ডউইচ শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেয় কিন্তু অতিরিক্ত ভারী অনুভূতি তৈরি করে না। বিস্কুট বা হালকা ক্র্যাকারও ভালো স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করতে পারে। 

এছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। রাত জাগার সময় অনেকেই পানি কম পান করেন, যা শরীরে ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করে। এর ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকা সম্ভব হয়। চাইলে লেবু পানি বা হালকা ড্রিংকসও নেওয়া যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত চিনি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।

পড়াশোনা ও কাজ আগে, খেলা পরে
বিশ্বকাপের উন্মাদনা যতই থাকুক, দৈনন্দিন দায়িত্ব ও পড়াশোনাকে অবহেলা করা উচিত নয়। একটি সুশৃঙ্খল রুটিন বজায় রাখতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাধান্য নির্ধারণ করা। যারা শিক্ষার্থী, তাদের উচিত দিনের বেলায় বা সন্ধ্যার আগেই পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো শেষ করে ফেলা। এতে রাতে খেলা দেখার সময় কোনো ধরনের মানসিক চাপ কাজ করবে না।

অফিস বা ফ্রিল্যান্স কাজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ডেডলাইন অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নেওয়া এবং অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ শেষ করা উচিত। প্রয়োজনে আগের দিন কিছু কাজ এগিয়ে রাখা যেতে পারে, যাতে ম্যাচের দিন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। এতে কাজ ও বিনোদনের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য তৈরি হয়।

ম্যাচ শেষে ঘুমের প্রস্তুতি
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটান, যা ঘুমকে বিলম্বিত করে। তাই ম্যাচ শেষ হলেই মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং বা গরম পানি পান করলে শরীর রিল্যাক্স হয় এবং ঘুম সহজে আসে।

সপ্তাহের ভারসাম্য বজায় রাখুন
সব ম্যাচ দেখা জরুরি নয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বেছে দেখলে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোই ভালো থাকে। গ্রুপ পর্বের তুলনায় নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে। এতে ঘুম ও কাজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় শরীরের প্রতি অবহেলা করা ঠিক নয়। নিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং কিছুটা ব্যায়াম এই তিনটি বিষয় বজায় রাখলে রাত জাগার প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাথাব্যথা হলে অবশ্যই বিশ্রাম নিতে হবে।

 

চিংড়ির ভিন্ন স্বাদে

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
চিংড়ির ভিন্ন স্বাদে

নদী-নালা আর জলাশয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে চিংড়ির রয়েছে বিশেষ স্থান। স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং বহুমুখী রান্নার সম্ভাবনার কারণে চিংড়ি প্রায় সব বয়সী মানুষের কাছেই সমান জনপ্রিয়। ঘরোয়া রান্না থেকে শুরু করে উৎসবের আয়োজন–সবখানেই চিংড়ির নানা পদ এনে দেয় ভিন্ন মাত্রার স্বাদ। তাই মজাদার ও ভিন্নধর্মী কিছু চিংড়ির পদ দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী নাজমুন নাহার লিনা

চিংড়ি সবজির মেলবন্ধন

উপকরণ
কুচো চিংড়ি ১ কাপ (সবজিগুলো দেড় ইঞ্চি করে কাটা), পটোল ৩টি, কাঁচা পেঁপে ১ কাপ, বরবটি ১ কাপ, মুলা ১/২ কাপ, গাজর ১ কাপ, মটরশুঁটি ১/২ কাপ, পেঁয়াজ ১টি (কিউব করে কাটা), রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি ১ চা চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ। ভেজিটেবল তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো। 

প্রস্তুতি
কুচো চিংড়ি ধুয়ে সামান্য লবণ মাখিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। পটোল, পেঁপে, বরবটি, মুলা ও গাজর হালকা সেদ্ধ বা ব্লাঞ্চ করে নিন যাতে সবজিগুলো মচমচে থাকে। চাইনিজ স্টাইলের মতো সবজি বেশি নরম হবে না। 

প্রণালি 
কড়াই খুব গরম করে তেল দিন। প্রথমে কুচো চিংড়ি ১-২ মিনিট ভেজে তুলে রাখুন। একই কড়াইতে রসুন ও আদা দিয়ে ৩০ সেকেন্ড নেড়ে সুগন্ধ বের করুন। পেঁয়াজ, পটল, পেঁপে, মুলা, গাজর ও বরবটি দিয়ে উচ্চ আঁচে ৩-৪ মিনিট স্টির-ফ্রাই করুন। মটরশুঁটি ও ভাজা চিংড়ি যোগ করুন। গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে দিন। কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে নামিয়ে ফেলুন। 

চিংড়ি টমেটো দো-পেঁয়াজা

উপকরণ
মাঝারি চিংড়ি ৫০০ গ্রাম, টমেটো ৩টি (কুচি), পেঁয়াজ ৪টি (২টি পাতলা কুচি, ২টি মোটা পাপড়ি করে কাটা), সরিষার তেল ৫ টেবিল চামচ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, লবণ স্বাদমতো, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি 
চিংড়ি ধুয়ে লবণ ও অর্ধেক হলুদ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। কড়াইয়ে সরিষার তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে চিংড়ি ১ মিনিট হালকা ভেজে তুলে রাখুন। চিংড়ি বেশি ভাজবেন না, নরম থাকবে। 

একই তেলে পাতলা কুচি করা পেঁয়াজ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। আদা-রসুন বাটা দিয়ে নেড়ে টমেটো কুচি দিন। টমেটো নরম হলে বাকি হলুদ, মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও লবণ দিন।

মসলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে সামান্য গরম পানি দিন। এবার ভাজা চিংড়ি ও মোটা পাপড়ি করা পেঁয়াজ যোগ করুন। দো-পেঁয়াজার মূল স্বাদ আসে এই দ্বিতীয়বার দেওয়া পেঁয়াজ থেকে। কাঁচা মরিচ দিয়ে ৩-৪ মিনিট ঢেকে রান্না করুন। ঝোল একটু ঘন হয়ে এলে ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। 

দই চিংড়ি 
দই চিংড়ি একটি মজাদার বাঙালি পদ, যা গরম ভাত, পোলাও বা খিচুড়ির সঙ্গে দারুণ লাগে। টক দই ও চিংড়ির মিশ্রণে এটি ক্রিমি ও সুস্বাদু হয়। 

উপকরণ
মাঝারি বা বড় চিংড়ি ৫০০ গ্রাম, টক দই ১ কাপ (ভালো করে ফেটানো), পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, সাদা তেল ৩ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি ১/২ চা চামচ (ঐচ্ছিক)। 

প্রণালি 
চিংড়ি পরিষ্কার করে ধুয়ে লবণ ও সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর কড়াইয়ে তেল গরম দিন। তেলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। একটু বেরেস্তা তুলে রাখুন। গোটা গরম মসলা এবং তেজপাতা ভাজা পেঁয়াজের সঙ্গে দিন। আদা-রসুন বাটা দিয়ে কষে নিন। এরপর মরিচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া দিন। 

ফেটানো দইয়ে সামান্য পানি মিশিয়ে কড়াইয়ে ঢালুন এবং কম আঁচে নেড়ে নিন যাতে দই না ফেটে যায়। চিংড়ি, লবণ, চিনি ও কাঁচা মরিচ যোগ করুন। এরপর ঢেকে ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। ঝোল একটু ঘন হলে নামিয়ে নিন। বেরেস্তা ও দই ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। 

/এমটি 

ফ্যাশনে বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ফ্যাশনে বিশ্বকাপ
ছবি: খবরের কাগজ

ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উন্মাদনা। মাঠের খেলা যেমন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি সমানভাবে আলোচনায় থাকে প্রিয় দলের জার্সি। জার্সি এখন আর শুধু খেলোয়াড়দের ইউনিফর্ম নয়; এটি ফ্যাশন, পরিচয় এবং আবেগের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
 
স্ট্রিট ফ্যাশনে জার্সির জনপ্রিয়তা
এক সময় ফুটবল জার্সি শুধু মাঠ, স্টেডিয়াম বা টেলিভিশনের সামনে পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে জার্সি এখন আধুনিক স্ট্রিট ফ্যাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম জার্সিকে আর শুধু খেলার পোশাক হিসেবে দেখে না, তারা এটিকে নিজেদের লাইফস্টাইল ও ফ্যাশনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আজকাল শহরের রাস্তায়, ক্যাম্পাসে, ক্যাফেতে বা শপিং মলে সহজেই দেখা যায় জার্সি পরা তরুণ-তরুণীদের। জিন্স, কার্গো প্যান্ট, শর্টস কিংবা স্কার্টের সঙ্গে জার্সি পরা এখন একটি স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় স্টাইল স্টেটমেন্টে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ওভারসাইজড জার্সির ট্রেন্ড তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা একদিকে যেমন আরামদায়ক, অন্যদিকে তেমনি স্টাইলিশ লুকও দেয়।

স্নিকার্সের সঙ্গে জার্সি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরা এখন একটি কমন ফ্যাশন স্টাইল। অনেকেই লেয়ারিং ফ্যাশন অনুসরণ করেন যেখানে জার্সির নিচে লং স্লিভ বা টার্টল নেক পরা হয়, যা একটি ইউনিক আরবান লুক তৈরি করে। 

নারীদের জার্সি স্টাইলিং ট্রেন্ড
নারীদের ফ্যাশন দুনিয়ায় ফুটবল জার্সি এখন একটি দ্রুত বর্ধনশীল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আগে যেখানে জার্সি মূলত পুরুষদের খেলার পোশাক হিসেবে দেখা হতো, এখন তা ভেঙে গিয়ে একটি জেন্ডার নিউট্রাল ফ্যাশন আইটেমে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণীরা জার্সিকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ওভারসাইজড জার্সি স্টাইল। অনেকেই লুজ ফিট জার্সি স্কার্ট বা শর্ট ড্রেসের মতো করে পরছেন, যা একদিকে আরামদায়ক, অন্যদিকে স্টাইলিশও দেখায়। এর সঙ্গে স্নিকার্স বা বুট জুতা মিক্স করে একটি আধুনিক আরবান লুক তৈরি করা হচ্ছে।

ডেনিম শর্টস বা স্কিনি জিন্সের সঙ্গে জার্সি পরাও নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যাজুয়াল ও ট্রেন্ডি একটি লুক পাওয়া যায়, যা ক্যাম্পাস, আউটিং বা ম্যাচ ডে আড্ডার জন্য পারফেক্ট। অনেকেই আবার লেয়ারিং স্টাইল বেছে নিচ্ছেন। জার্সির নিচে লং স্লিভ টপ বা টার্টল নেক পরে ইউনিক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন।

এছাড়া জার্সিকে বেল্ট দিয়ে স্টাইল করে ড্রেসের মতো করে পরার ট্রেন্ডও এখন বেশ চোখে পড়ছে। এতে জার্সি শুধু স্পোর্টসওয়্যার না থেকে একটি ফ্যাশনেবল আউটফিটে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বকাপের সময় এই স্টাইলিং ট্রেন্ড আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ তখন ফ্যানডম এবং ফ্যাশন একসঙ্গে মিলেমিশে যায়।

ডিজাইন ও প্রযুক্তির নতুনত্ব
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডগুলো জার্সি ডিজাইনে নিয়ে আসে নতুনত্ব। আধুনিক ফ্যাব্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জার্সি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হালকা ও আরামদায়ক। অনেক জার্সিতে আর্দ্রতা শোষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা গরম আবহাওয়ায়ও আরাম দেয়। পাশাপাশি রেট্রো ডিজাইন আবার নতুন করে ফিরে আসছে, যা পুরোনো স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে।

পার্সোনালাইজড জার্সির জনপ্রিয়তা
বর্তমানে অনেক সমর্থক নিজের নাম বা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর দিয়ে জার্সি কাস্টমাইজ করে নেন। এটি একটি ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরি করে। কেউ মেসির নাম লিখে পরছেন, কেউ রোনালদোর, আবার কেউ নিজের নাম দিয়ে ইউনিক স্টাইল তৈরি করছেন। এই পার্সোনালাইজেশন জার্সিকে আরও বিশেষ ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।

ফ্যানডম ও সামাজিক সংযোগ
একই দলের জার্সি পরা মানুষদের মধ্যে সহজেই একটি বন্ধন তৈরি হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাফে, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস–সব জায়গায় একই দলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। জার্সি তখন শুধু পোশাক নয়, বরং সামাজিক পরিচয়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে জার্সির প্রভাব
ফুটবল জার্সি এখন হাই-ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও জায়গা করে নিয়েছে। বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্পোর্টসওয়্যারকে স্ট্রিটওয়্যার এবং প্রিমিয়াম ফ্যাশনের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন কালেকশন তৈরি করছে। ফলে জার্সি এখন শুধু খেলার মাঠে নয়, র্যাম্প শো এবং গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।