ত্বকের অতিরিক্ত বা অবাঞ্ছিত লোম অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর এক সৌন্দর্যগত সমস্যা। বিশেষ করে মুখ, ঠোঁটের উপরের অংশ, হাত-পা কিংবা গলার লোম অনেক সময় ব্যক্তিত্বে অস্বস্তি তৈরি করে। তবে প্রকৃতির উপাদান দিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করলে লোমের ঘনত্ব কমানো, বৃদ্ধি ধীর করা এবং ত্বক মসৃণ রাখা সম্ভব। লিখেছেন রোদসী
বেসন ও হলুদের প্রাকৃতিক স্ক্রাব
বেসন এবং হলুদ ত্বকের যত্নে প্রাচীনকাল থেকে জনপ্রিয়। এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে আধা চা-চামচ হলুদ এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি অবাঞ্ছিত লোমের দিকে উল্টোভাবে আলতো করে স্ক্রাবের মতো ঘষে লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধীরে ধীরে তুলে ফেলুন। সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করলে লোমের গোড়া নরম হয় এবং লোম ওঠার হার কমে যায়। হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণে ত্বক থাকে সতেজ ও উজ্জ্বল।
ডিমের সাদা অংশের পিল-মাস্ক
ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রোটিন, যা শুকালে ত্বকের ওপর স্তর তৈরি করে পিল অফ মাস্ক হিসেবে কাজ করে। এক টেবিল চামচ ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে চিনি ও কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে ঘন পেস্ট বানিয়ে মুখ বা হাতে লাগান। পুরোপুরি শুকানোর পর নিচ থেকে উপরে তুলে ফেললে লোমসহ মৃত ত্বকও উঠে আসে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি সপ্তাহে একবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
চিনি ও লেবুর প্রাকৃতিক ওয়াক্স
চিনি ও লেবু ঘরোয়া ওয়াক্সিংয়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। দুই টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিল চামচ লেবুর রস এবং সামান্য পানি দিয়ে হালকা সিরার মতো মিশ্রণ তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট পর ধীরে ধীরে ঘষে তুলে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে লোম কমে এবং একই সঙ্গে লেবুর কারণে ত্বক হয় উজ্জ্বল। নিয়মিত ব্যবহারে লোমের গোড়া দুর্বল হয়ে বৃদ্ধি কমে আসে।
পেঁপে ও কাঁচা হলুদ
পেঁপেতে থাকা পেপেইন এনজাইম লোমের গোড়া দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে লোম পাতলা ও কম করে। মেশানো পেঁপের সঙ্গে অল্প পরিমাণ কাঁচা হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে সমস্যাযুক্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করলে ফল মিলবে দ্রুত।
ওটস ও কলার মিশ্রণ
শুষ্ক বা রুক্ষ ত্বকের জন্য ওটস অত্যন্ত উপকারী। এটি লোম দূর করার পাশাপাশি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। দুই টেবিল চামচ ওটস ও একটি পাকা কলা মেখে পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে হালকা ঘষে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করলে লোম পাতলা হওয়া এবং ত্বক নরম হওয়া দুটোই লক্ষ্য করা যায়।
সতর্কতা ও পরামর্শ
সব ধরনের স্ক্রাব বা মাস্ক ত্বকের ওপর ব্যবহার করার আগে টেস্ট করা জরুরি। যাদের ত্বকে অতিরিক্ত জ্বালা-পোড়া, অ্যালার্জি বা প্রদাহ থাকে, তাদের উচিত একটু সাবধানতার সঙ্গে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা। পাশাপাশি হরমোনজনিত কারণে যাদের লোম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক, তাদের ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপায়ে লোম কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে রাখে কোমল ও পরিষ্কার।
/রোদসী