শিশুকে নক্ষত্র চিনিয়েছেন মা। সন্ধ্যে রাতে বাঁশঝাড় ফুঁড়ে
ওই সকল দেদীপ্য আগুনের দেহ জ্বলজ্বল করত বিস্ময়ে
মা বলতেন, এমন পৃথিবীতে যারা আগুনের পিঠে পা রাখতে পারে
যারা সাত তলায় উঠেও উড়ে উড়ে মাটিতে নামতে জানে
তাদের তো শরীর থাকে না
পাতা বললে পাতা, গাছ বললে গাছ আর নদী বললে জল হয় তারা!
পৃথিবীতে বিজয়ীর ভাষা এভাবে লিখিত হয়:
যুদ্ধান্তরে দেহভার রেখে পবিত্র মাটিতে মিশে সুখডাক ছাড়ে
ধরতে চাইলে, ছুঁতে গেলে নিভৃত প্রজ্ঞায় জ্বলে তারকাবিভায়
মা বলতেন, ওই যে, জ্বলজ্বল প্রবীণ সাতটি তারা
মুহুর্মুহু ডালাভরা আলো, নিমগ্ন গণনা করো, লক্ষ কোটি তারা
আমৃত্যু প্রত্যয়ী যারা, কখনো বিজয়ী হলে
এইভাবে জেগে ওঠে অন্তরীক্ষময়, অনন্ত আলোয়–
মা বলতেন, কেউ তো সমুদ্র করেছে জয়, কেউ আবার অম্বরখানা
কারো তো বিশ্ব জয়ের নাম, কেউ খ্যাত প্রেমের শহিদ হয়ে
অনেকে তো পাহাড় বিজয়ী থাকে, কেউ করে মানুষের মন জয়
এত এত বিজয়ের কথা শোনো– তারা শুধুই নক্ষত্র হয়ে যায়
মা বললেন, এবার বিস্ময়ে ভাবো– যাদের সমাহিত আবাসন
শিকারের মাথা এলোমেলো ভুলে উড়ে গেল অগণন, ঐশ্বর্য গড়াল জলে
আনত তো কেহ নয়, তবু যুদ্ধ হলো, অহাতে দেবে না ধরা–
ব্যূহ মোহ ঠিক গুঁড়িয়ে মাড়িয়ে নিশ্চিত করেছে জয়
মা বললেন, এ বিশ্বে আছে এমন বিজয় এক–
নক্ষত্র সে নয়, তারকাও ম্লান– এ বিজয়
বাংলার নিঃশঙ্ক নীলে- লাল ও সবুজ বিস্ময়ে বহ্নিময়!