স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে যাদের হাত ধরে নতুন কবিতা-ধারার সূত্রপাত ঘটেছিল, তাদের মধ্যে ফারুক মাহমুদ অন্যতম। তিনি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে কবিতা লেখায় নিবিষ্ট রয়েছেন। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে তিনি কবিতার নিজস্ব ভাষাভঙ্গি তৈরি করেছেন। জীবন এবং কবিতা যে আলাদা কিছু নয়, তা তার শব্দ-উচ্চারণে পাওয়া যায়। প্রতিটি শব্দের ওজন তার জানা। নতুন শব্দ তৈরি করার একটা ঝোঁক তার কবিতায় লক্ষ করা যায়। সব মিলিয়ে তিনি একজন রীতিঋদ্ধ কবি। সত্তরের দশকের কবি হিসেবে চিহ্নিত হলেও ফারুক মাহমুদ সমকালীন বাংলা কবিতা-ধারায় নিজের একটি স্বার্বভৌম অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।...
আপনি এখন কী লিখছেন?
মূলত কবিতাই লিখছি। একক কবিতার পাশাপাশি কয়েকটি গুচ্ছ কবিতা লিখছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রণয়িনীদের অন্তত পাঁচজনকে নিয়ে গুচ্ছ কবিতা লেখা শেষ হয়েছে। অন্যদের নিয়ে লিখছি। ‘হৃদয়ে রহো’ নামে একটি বই হবে।
এবারের বইমেলায় আপনার কোনো বই আসছে কি না?
এবার বইমেলা নিয়ে অনেক ক্যাচাল হয়েছে। ‘একুশের বইমেলা’ ঐতিহ্য অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি শুরু করা যায়নি। অনেক নাটকীয়তার পর একটা তারিখ ঘোষিত হলো ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। অধিকাংশ প্রকাশক আপত্তি জানালেন। শেষমেষ ২৫ তারিখ থেকে মেলা বসার কথা। বইমেলা নিয়ে এতসব জটিলতার কারণে প্রকাশকরা যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেননি। এর মধ্যে বই প্রকাশের আগ্রহ কি থাকে! আমার একটা বই প্রকাশের সব প্রস্তুতি শেষ হয়ে আছে। ‘মহাভারতের প্রেম’ নামের বইটি বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যাক!
আপনার বই নিয়ে পাঠকের উদ্দেশে বলুন?
আমার ২৫টির মতো কাব্য, একটি প্রবন্ধ, একটি গল্পগ্রন্থ, একটি উপন্যাস, দুটি কিশোরপদ্য গ্রন্থ রয়েছে। বইগুলোর পাতা ওল্টালে পাঠক হতাশ হবেন না।
বর্তমান সময়ে সাহিত্য সম্পর্কে আপনার মতামত বলুন।
বর্তমানের সাহিত্য কোথায় যেন আটকা পড়ে গেছে, প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। এর মধ্যে ‘ভালো লেখা’ কয়টি!? অসম্পাদিত লেখা সহজলভ্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে। পাঠক হতাশ হচ্ছেন। এর মধ্যেও কিছু ভালো লেখা পাওয়া যায়। এ বন্ধ্যত্ব নিশ্চয় কেটে যাবে।
ইদানীং আপনি কোন বই পড়ছেন? কোন বই আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ আমার প্রতিদিনের পাঠ্য। এখন বই আর একটানা পড়তে পারি না। হাতের নাগালে কয়েটি বই থাকে, পড়ি। এখন পড়ছি (আগেও পড়েছি) ভাস রচিত ‘স্বপ্নবাসবদত্তা’, শঙ্খ ঘোষের ‘ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ’, সিলভিায়া প্লাথ-এর ‘দি বেল জার’। আমাকে মুগ্ধ রাখে বাণভট্টের ‘আত্মকথা’।
বাংলা সাহিত্য ইংরেজিতে অনুবাদ আশানুরূপ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য অঙ্গনে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। বিষয়টিকে একটি সংকট মনে করেন কি না?
এটি একটি সংকট। ব্যক্তি উদ্যোগে অনুবাদের কিছু কাজ হচ্ছে। এটি যথেষ্ট নয়। বাংলা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ, অন্য ভাষার সাহিত্য বাংলায় অনুবাদের কাজটি (মূলত) বাংলা একাডেমির করার কথা। ‘কথা’ কতটুকু রক্ষিত হচ্ছে?
খবরের কাগজ সাহিত্য সাময়িকী ‘সুবর্ণরেখা’ সমৃদ্ধ হোক, কবি হয়ে এ কামনাই রইল।