ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়। এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি শিশুদের এবং বয়ঃসন্ধিকাল যারা অতিক্রম করছেন তাদের বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়। এমনকি বয়সকালেও হাড়ের মারাত্মক ক্ষতি করে। রিকেট হাড়কে নরম ও দুর্বল করে দেয়। এটা হলে হাড়ের বৃদ্ধি খুব বেদনাদায়ক হয়। রোগীর অঙ্গবিকৃতিও ঘটে। এই অবস্থাকে শিশুদের মধ্যে হলে রিকেট এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হলে অস্টিওমেলাসিয়া বলা হয়। মায়োক্লিনিক অবলম্বনে লিখেছেন ফখরুল ইসলাম
রোগের লক্ষণ এবং উপসর্গ
প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল লক্ষণ এবং উপসর্গের মধ্যে আছে হাড়ে ব্যথা। পাশাপাশি দাঁতে সমস্যা, হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত এবং হাঁটুতে দ্রুত হাড়ের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং ভঙ্গুর হাড় দেখা যায়। একই সমস্যা দেখা দেয় কস্টোকোন্ড্রাল জংশনে (যেখানে পাঁজর বুকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে)। শিশুদের মাথার ওপরের নরম অংশ (ফন্টানেল্লে) বন্ধ হতে সময় নেয়।
এ ছাড়া সদ্যজাতদের মধ্যে কপালের হাড়ে গোলাকার ফোলা অংশ দেখা যায়। একটু বড় শিশুদের মধ্যে কাইফোসিস বা স্কোলিওসিস (মেরুদণ্ড সামনের দিকে বা পাশের দিকে বাঁকা থাকে) থাকতে পারে। কঙ্কাল সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ব্যথা, জ্বালা, অঙ্গ সঞ্চানলে বিলম্ব এবং কম বৃদ্ধি। রিকেট রোগ অনেক সময় কঙ্কাল সংক্রান্ত ডিসপ্লেসিয়াসের সঙ্গে ভুল হতে পারে, কারণ এদের ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্যগুলো একই রকম।
রিকেট রোগের কারণ
রিকেট রোগের খুব সাধারণ কারণ হলো ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাব। পাশাপাশি পুষ্টির অভাব, ভিটামিন ডি-এর শোষণে অক্ষমতা, পর্যাপ্ত সূর্যরশ্মি গ্রহণ না করা এবং গর্ভাবস্থায় রিকেট হতে পারে। এ ছাড়া অকালজাত বা সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুও রিকেটে আক্রান্ত হতে পারে। স্থূলতা, কিডনি এবং লিভারে রোগ, নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিকনভালস্যান্টস (খিঁচুনির জন্য) বা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল (এইচআইভির জন্য) ওষুধ থেকে এই রোগ হতে পারে। ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট ঘাটতির কারণে ক্যালসিপেনিক এবং ফসফোপেনিক রিকেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই কারণে নির্দিষ্ট সময়ের পর হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং বেঁকে যায়।
রোগ নির্ণয়
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-এর মাত্রা, ক্ষারীয় ফসফাটেজ, ফসফরাস এবং প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা জানার জন্য রক্ত পরীক্ষা করলে রিকেট রোগ শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া হাড়ে পরিবর্তন দেখা দিলে রিকেট হতে পারে বলে অনুমান করা যায়। এ জন্য এক্স-রে পরীক্ষা করার দরকার হতে পারে। রিকেট বা অস্টিওম্যালাসিয়া নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো হাড়ের বায়োপসি। এটা করলে শতভাগ নির্ভুলভাবে রিকেট শনাক্ত করা যায়।
চিকিৎসা
অভাবের প্রকৃতি এবং তীব্রতা নির্ধারণ করে রোগীকে ভিটামিন ডি সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া যতক্ষণ না এক্স-রের ফলাফল স্বাভাবিক হয় ততক্ষণ ক্যালসিয়াম সম্পূরকও দেওয়া হয়।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
কয়েকটি সহজ ব্যবস্থা রিকেট রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পরে। যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ। এর মধ্যে দুগ্ধজাত খাবার এবং ডিম অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সবাইকে বাইরে সময় কাটাতে হবে। বিশেষ করে সকালের রোদে।
জাহ্নবী


