ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমাজবোধ ও জীবনবীক্ষা জামিন পেয়েও নতুন মামলায় আটক সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০১ পিএম
আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বোলতা ও মৌমাছির মতো কীটপতঙ্গগুলোর হুল ফোটানো বা কামড় থেকে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং একসঙ্গে অনেকগুলোর আক্রমণ প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে বিভিন্ন বিষাক্ত পতঙ্গের মধ্যে আক্রমণের প্রকৃতি ও বিষের ভয়াবহতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভিমরুল।

যাদের পতঙ্গ নিয়ে গুরুতর অ্যালার্জি রয়েছে তাদের জন্য দু-একটি কামড়ই মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।  চলুন বিষাক্ত পতঙ্গ ভিমরুল থেকে নিরাপদ থাকার উপায় এবং আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় জেনে নেই।
 
ভিমরুল কতটা বিপজ্জনক

মূলত বৈশিষ্ট্যগত কারণে ভিমরুলের ভয়াবহতা অন্য সব কীটপতঙ্গ থেকে বেশি। এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে আকার-আকৃতি, একাধিকবার কামড়ানোর প্রবণতা, প্রতি কামড়ে নির্গত বিষের তীব্রতা এবং তাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। চলুন, এই বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা যাক।

প্রায় সময় বোলতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হলেও ভিমরুল একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি। এরা বোলতার সমগোত্রের তবে আকারের দিক থেকে এগুলো অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে থাকে। এগুলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে আঁকড়ে পড়ে থাকে। নিজেদের বাসস্থান বাঁচানোর ক্ষেত্রে এরা ভয়ংকর রকম রক্ষণাত্মক হয়। যার কারণে যেকোনো পরিস্থিতে হুমকি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে শিকারের প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ চালায়। এতে শিকারের শরীরে বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য হুল ফোটে।

সমগোত্রের অন্যান্য কীটপতঙ্গের হুল ফোটানো বা কামড়ানোর ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্যগত সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই শুধু প্রাণনাশের হুমকি থাকলেই সেগুলো মরিয়া হয়ে আক্রমণ করে। কিন্তু ভিমরুলে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কোনো রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এগুলো একের পর এক হুল ফোটাতে পারে। এমনকি এদের আক্রমণ অত্যন্ত নগণ্য কারণেও ঘটে থাকে।

ভিমরুলের কামড়ে বিষের তীব্রতা

যে ধরনের পোকামাকড় হুলের মাধ্যমে বিষ ছড়ায়, সেগুলোর মধ্যে ভিমরুলের বিষের শক্তি সর্বাপেক্ষা বেশি। এগুলোর বিষে অ্যাসিটাইলকোলিনসহ বিষাক্ত কিছু পদার্থের মিশ্রণ থাকে। একটি ভিমরুল কামড়ের ফলে মানুষের দেহে দুই থেকে থেকে তিন মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করে। সাধারণত মানবদেহের প্রতি কেজি ওজনে ১০ মিলিগ্রাম বিষ ঢুকলে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের সুস্থ একজন ব্যক্তির দেহে ৬০০ মিলিগ্রাম বিষ প্রবেশ করলেই তার মৃত্যু হবে। আর বলাই বাহুল্য যে, একটি ভিমরুল শুধু একবার হুল ফুটিয়েই ক্ষান্ত হয় না।

ভিমরুলের কামড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

অ্যাসিটাইলকোলিনসহ বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবেই কামড়ের স্থানটি ফুলে গিয়ে লাল বর্ণ ধারণ করে। তারপর ধীরে ধীরে সেখানে চুলকানি বাড়তে থাকে। এভাবে একে একে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অতঃপর কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে ক্রমশ অবনতির দিকে এগোতে থাকে।
যাদের অ্যালার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের এই অবনতি আরও দ্রুততর হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অবস্থা অ্যানাফিল্যাক্সিস নামে পরিচিত। এতে শ্বাসনালী ফুলে যেতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং রক্তচাপ দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। অ্যানাফিল্যাক্সিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে।

ভিমরুলের কামড় থেকে নিরাপদ থাকার উপায়

ভিমরুলের সম্ভাব্য আবাসস্থল এড়িয়ে চলা
ভিমরুলের কামড় থেকে বাঁচতে প্রথমত তাদের আবাসস্থলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। সাধারণত গাছের ডালে এই পতঙ্গের বসতি বেশি দেখা যায়। এ ছাড়াও দালানের বাইরের দেয়ালে, সানশেডে, টালি দেওয়া ছাদের ফাঁকে এরা বাসা করে। গ্রীষ্মের শেষের দিকে এবং শরতের প্রথম দিকে এরা সংখ্যায় বেশি থাকে। সেই সঙ্গে এই মৌসুমগুলোতে বেশ সক্রিয়ও থাকে। এই সময়ে বাড়ির আশেপাশে এদের আবাসস্থলের উপস্থিতি টের পেলেই সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত।

উজ্জ্বল রঙের পরিধেয় এবং কড়া সুগন্ধি ব্যবহার না করা
ভিমরুল উজ্জ্বল রঙ বিশেষ করে হলুদ রঙ এবং কড়া সুগন্ধির প্রতি আকৃষ্ট হয়। এ ছাড়া মৌমাছির মতো এরাও অমৃতের জন্য ফুলের দিকে ধাবিত হয়। তাই ঘরের ভেতর বাগান থাকাটাও বিপজ্জনক। পারফিউম, কোলোন বা সুগন্ধি লোশনের তীব্র ঘ্রাণ শুঁকে ভিমরুল কাছাকাছি চলে আসতে পারে। ঠিক একই কারণে খাবারের মিষ্টি গন্ধও এদের আকৃষ্ট করে। তাই পরিধানের ক্ষেত্রে সাদা বা হাল্কা রঙ এবং ব্যবহারের জন্য হাল্কা সুগন্ধি বেছে নেওয়া উচিত।

খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা
মিষ্টি গন্ধ যেন চারপাশ ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য খাবার বা পানীয় ঢেকে রাখা জরুরি। বিশেষ করে বাইরে খোলা আকাশের নিচে ভোজের সময় এই বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। এক্ষেত্রে সিল করা পাত্র ব্যবহার করা উত্তম। আর খাওয়া শেষে অবশ্যই সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে তার ওপর ঢাকনা লাগিয়ে দিতে হবে। কোনোভাবেই উন্মুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার করা সমীচীন নয়।

প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিধান করা
বাগান বা পার্কের মতো স্থানে বিচরণের সময় প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা আবশ্যক। লম্বা হাতার শার্ট, লম্বা প্যান্ট, গ্লাভ্স ও ক্যাপ প্রভৃতির মাধ্যমে শরীরের ত্বক তুলনামূলকভাবে কম উন্মুক্ত হয়। এগুলো ভিমরুল দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাল্কা ঢিলেঢালা কাপড় বেছে নেওয়া যেতে পারে। এমনকি জুতা পরার ক্ষেত্রেও কেডসের মতো পুরো পা ঢেকে রাখে এমন জুতাগুলো পড়া উচিত।

প্রাকৃতিক প্রতিরোধক ব্যবহার করা
সিট্রোনেলা, ইউক্যালিপ্টাস ও পেপারমিন্টের তেলগুলোতে ভিমরুল প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে বাড়ির আঙিনা বা বাগানে স্প্রে করা যায়। চিলেকোঠা, স্টোর রুম, বা বাইরের সিঁড়ি ঘরে সিট্রোনেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখলে তা ভিমরুলকে দূরে রাখতে পারে।

বাড়ির আশেপাশে ভিমরুলের বসতি ধ্বংস করা
ভিমরুলের উপদ্রব থেকে বাঁচার সর্বোত্তম পন্থা হলো তাদের সমূলে উৎপাটন করা। এর জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় মিষ্টি টোপ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করতে হবে। ফাঁদগুলো জনাকীর্ণ স্থান থেকে যথেষ্ট দূরে রাখা উচিত। অন্যথায় কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ফাঁদ পাতা মানে উল্টো মানুষকে কামড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। এর জন্য বসন্তের প্রথম দিকের মাসগুলোকে বেছে নেওয়া যায়। কারণ এ সময় ভিমরুল সংখ্যা সবেমাত্র বাড়তে শুরু করে।

ভিমরুল কামড়ালে করণীয়

দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়া
ভিমরুল কামড়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণঘাতী পতঙ্গগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে পড়তে হবে। অন্যথায় একাধিক কামড় খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া আশেপাশে ভিমরুলের বাসা থাকতে পারে। সেখান থেকে আরও ভিমরুল আক্রমণ চালাতে পারে। মূলত একবার কামড়ানোর পর ভিমরুলের শরীর থেকে ফেরোমোন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিক শিকারের ব্যাপারে অন্যান্য ভিমরুলদের জানান দেয়। ফলে তারাও আক্রমণ করতে উদ্ধত হয়।

ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে তাতে ঠাণ্ডা কম্প্রেস লাগানো
সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষত স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অতপর একটি ঠান্ডা কম্প্রেস বা কয়েকটি বরফ টুকরা একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে জায়গাটিতে চেপে ধরতে হবে। এই শীতল পরশ ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করবে, ব্যথা উপশম করবে এবং বিষের বিস্তার রোধে সহায়তা করবে।

ব্যথা উপশমকারী ব্যবহার
তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। যেমন কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল, তুলসি পাতার রস, অ্যালোভেরা জেল, ইউক্যালিপ্টাস তেল প্রভৃতি ক্ষত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এগুলোতে থাকা প্রদাহবিরোধী উপাদান ব্যথা, জ্বালাভাব, চুলকানি, ও ফোলা অবস্থা কমাতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও বেকিং সোডার মিশ্রিত পেস্ট ব্যবহার করা যায়। ভিনেগারে সাধারণত বিষের অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতা থাকে। শুধু ভিনেগার তুলোয় ভিজিয়েও আক্রান্ত স্থানে আলতো করে বুলিয়ে দেওয়া যায়।

ফোলা ভাব ও ব্যথা কমাতে কার্যকর একটি ওষুধ হচ্ছে অ্যান্টিহিস্টামিন বা আইবুপ্রোফেন। তবে ব্যবহারের আগে ঠিক কতটুকু ডোজ ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

আক্রান্ত স্থান উঁচু করে রাখা
হাতে বা পায়ে কামড়ালে বিষ যেন সারা দেহে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ক্ষত স্থানযুক্ত অঙ্গটিকে উঁচু করে ধরতে হবে। এতে আক্রান্ত জায়গাটির অভ্যন্তরে বিষ জমাট বাঁধার গতি কমে গিয়ে ফুলে যাওয়ার তীব্রতা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে উঁচু করে রাখলে অঙ্গটিতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া
গুরুতর প্রভাবগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। যেমন অ্যানাফিল্যাক্সিসের লক্ষণগুলো কেবল একজন বিশেষজ্ঞই ধরতে পারেন। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে এপিনেফ্রিন অটোইনজেক্টর (এপিপেন) ব্যবহারের প্রয়োজন পড়তে পারে।

তাছাড়া অ্যালার্জি না থাকলেও যাদের শরীরে একাধিক হুল ফুটেছে তাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই অবিলম্বে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। সূত্র-ইউএনবি

সুমন বিশ্বাস/সাদিয়া নাহার/

কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

কোমর ব্যথা সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা। জীবনে কোনো না কোনো সময় কোমর ব্যথা হয়নি, এমন লোক পাওয়া দুরূহ। স্বল্পমেয়াদি ব্যথা এক মাসের কম সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা এক মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ রোগী দুই মাসের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়।


কারণ

দৈহিক বিকৃতির ফলে মেরুদণ্ডের পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান লাগা বা চাপ পড়লে
ভারী জিনিস তোলার ফলে মাংসপেশিতে মচকানি লাগলে
সঠিকভাবে না বসার জন্য মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর বেঁকে যাওয়া
পেশাগত কারণ। যেমন- দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, ঝাড়ুদার, কুলি ইত্যাদি

স্থূলতাজনিত কারণ

কোমরের ভারসাম্যহীনতার কারণে ডিস্কজনিত সমস্যা। যেমন- ডিস্কের স্থানচ্যুতি, ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ
লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, পিএলআইডি ইত্যাদি কারণে
নারীদের ক্ষেত্রে উঁচু হিলের জুতা পরিধান, হাড়ক্ষয় এবং গর্ভাবস্থা
হাড়ক্ষয়, মেরুদণ্ডের বাত, অস্টিওপোরোসিস, ইনফেকশন, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, টিউমারজনিত সমস্যা ইত্যাদি কারণে কোমর ব্যথা হয়।


উপসর্গ

কোমর, নিতম্ব ব্যথা
কোমর হতে পায়ে ঝিঁঝি লাগা
ব্যথা পায়ের দিকে নামতে থাকা
পা ভার হয়ে আসা
পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে কষ্ট অনুভব হওয়া
কোমরের মাংসপেশি শক্ত ও কামড়ানো ভাব
উঠতে ও বসতে পিঠে ব্যথা অনুভব হওয়া।

কারা ঝুঁকিতে

৪০ বছর বয়সের পর প্রায় সবাই
সারাক্ষণ বসে, দাঁড়িয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা
কোমর ব্যথা পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি হয়।

চিকিৎসা

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসা ও ব্যায়াম করলেই সহজেই সমাধান করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে সহজে সুস্থ হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সারাক্ষণ ব্যথা থাকে, এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কোমর ব্যথায় বিভিন্ন ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

প্রতিরোধ

ব্যথা নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে
শক্ত, সমান বিছানা, পাতলা তোশক ও এক বালিশে শোয়া
বিছানা হতে ওঠার সময় এক পাশে কাত হয়ে উঠতে হবে
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা যাবে না
ভারী কোনো জিনিস উঠানো নিষেধ
কোমর সোজা করে চেয়ারে বসতে হবে
মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করা যাবে না
কোনো জিনিস তুলতে হলে হাঁটু ভাঁজ করে বসে তুলতে হবে

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়।

গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে আমাদের শরীর ও ত্বক– দুটোই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। অতিরিক্ত গরম আর ঘামের কারণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেওয়া এই সময়ে খুবই সাধারণ বিষয়। তবে একটু সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণের মাধ্যমে এই গরমেও নিজেদের সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ত্বকের সঠিক যত্ন কীভাবে আমাদের তীব্র গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় কেন?
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

দিনে কতটা পানি পান করা উচিত?
সাধারণভাবে দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা ভালো। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফলের রস শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখে এবং শক্তি জোগায়।

গরমে টকজাতীয় ফল খাওয়া কি উপকারী?
হ্যাঁ, লেবু, কমলা, আমলকী ইত্যাদি টক ফল খুব উপকারী। এগুলোতে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর ঠাণ্ডা রাখে এবং ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

 

 

টক দই কি গরমে ভালো?
হ্যাঁ, টক দই খুব উপকারী। এতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায়, পেট ঠাণ্ডা রাখে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

চিয়া সিড কি উপকারী?
হ্যাঁ, চিয়া সিড গরমে খুব ভালো একটি খাবার। পানিতে ভেজালে এটি জেলির মতো হয়, যা শরীরকে দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড রাখে। এতে ফাইবার ও ওমেগা-৩ থাকে, যা হজম ও এনার্জি বাড়ায়।

গরমে দিনে কতবার গোসল করা উচিত?
সাধারণত দিনে ১-২ বার গোসল করা ভালো। বেশি ঘাম হলে দুবার গোসল করা আরামদায়ক। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ঘামজনিত সমস্যা কমে।

ত্বকে গরমে কী সমস্যা হয়?
গরমে অতিরিক্ত ঘাম, তেল ও ধুলো জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি ও স্কিন ইরিটেশন হতে পারে।

ত্বকের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?
দিনে অন্তত দুবার মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে তেল ও ময়লা দূর হয় এবং ব্রণ কমে।

রোদে বের হলে কী করা উচিত?
বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং দাগ পড়া কমায়।

গরমে পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
হালকা, ঢিলা ও সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং ঘাম সহজে শুকাতে সাহায্য করে।

খাবারের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা দরকার?
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। এতে শরীর হালকা ও সুস্থ থাকে।

গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কী?
পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা–এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার
গরমের এই সময়ে একটু সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত গোসল এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার–এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান
রক্তদান করছেন চীনা নাগরিকরা।

চীনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আওতায় প্রতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ রক্তদান করেন। দেশটির সরকারি তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রোববার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) এবং আরও আটটি সরকারি বিভাগ যৌথভাবে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে একটি আবেদন প্রকাশ করে।

আবেদনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সদস্য, চীনের কমিউনিস্ট যুবলীগ (সিওয়াইএলসি) সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সুস্থ থাকলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বর্তমানে চীনে চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত সব রক্তই সুস্থ নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দেওয়া রক্তদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। মোট রক্তদানের পরিমাণ, রক্তদাতার সংখ্যা এবং রক্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার বিভিন্ন উৎসাহমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ প্রণোদনা চালু করা হয়েছে। কয়েকটি প্রদেশে সম্মাননাপ্রাপ্ত রক্তদাতারা বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবহার, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশ এবং সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগের নিবন্ধন ফি মওকুফসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সূত্র: সিএমজি

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে
চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে গবেষকরা।

চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। গবেষকরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে যকৃতের কোষের (হেপাটোসাইট) চর্বি বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া সাত দিনের কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) পরিবেশে কোষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে চর্বি বিপাককে প্রভাবিত করে, তা শনাক্ত করা।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মেকানিক্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক লি নিং বলেন, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি এমন বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে, যা যকৃতের কোষের বিপাকীয় কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, যকৃত একটি জটিল যান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করে। লিভার ফাইব্রোসিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে এই পরিবেশে টিস্যুর দৃঢ়তা বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যকৃতে অস্বাভাবিক চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্লুইড শিয়ার স্ট্রেস বা রক্তপ্রবাহের ঘর্ষণজনিত বল। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত যখন যকৃতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কোষগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু মহাকাশে অল্প মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের তরল ওপরের দিকে সরে যায়। ফলে হৃদযন্ত্রের ওপরের অংশে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নিচের অংশে কমে যায়। এতে যকৃতে প্রবেশকারী রক্তের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ। ফলে যকৃতের ওপর রক্তপ্রবাহের যান্ত্রিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা কমে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমার হার বাড়তে শুরু করে।
এর আগে চীনের শেনচৌ-১৬ মহাকাশ মিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এসআরইবিপি নামের একটি প্রোটিন সক্রিয় হয়ে কোষের ভেতরে চর্বির কণিকা (লিপিড ড্রপলেট) বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ এর কার্যক্রম দমন করে এবং কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় হেপাটোসাইটকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তিন ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হয়— স্থির কোষ সংস্কৃতি, কৃত্রিম রক্তপ্রবাহ পরিবেশ এবং ওষুধ-উদ্দীপিত রক্তপ্রবাহ পরিবেশ। মোট ছয়টি কোষ নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।
পুরো পরীক্ষাটি পৃথিবী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপিক চিত্র ধারণ করে কোষের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।
সপ্তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ কোষে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সেই সময়কার কোষীয় অবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর নমুনাগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। 

সূত্র: সিএমজি

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ জুন, বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। বৈশ্বিক চিকিৎসা মহল, রোগী, সেবাদানকারী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম বড় এই চ্যালেঞ্জটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালন করেন।

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস পালিত হয়। ব্রেইন টিউমার রোগীদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং এই রোগ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে ২০০০ সালে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন প্রথম এই দিবসের প্রচলন করে।

গত দুই দশকে এই উদ্যোগ জার্মানির গণ্ডি পেরিয়ে ৩০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং রোগী কল্যাণ সমিতিগুলো শিক্ষামূলক ক্যাম্পেইন, তহবিল সংগ্রহ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে এই দিনে নানা কর্মসূচি পালন করে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য:

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য তিনটি। 

শিক্ষা: সাধারণ মানুষকে ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো।

সহযোগিতা: ব্রেইন টিউমারের কারণে যে রোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করা।

সচেতনতা বৃদ্ধি: ব্রেইন টিউমার গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগের দাবি তোলা।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের ইতিহাস

এই দিবসের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। একদল জার্মান নিউরোলজিস্ট (স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ) এবং রোগী কল্যাণকর্মী লক্ষ্য করেন যে, অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় ব্রেন টিউমার নিয়ে জনমনে সচেতনতা অনেক কম, অথচ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ।

পরবর্তীতে ২০০০ সালে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন এটিকে একটি বার্ষিক দিবস হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ব্রেন টিউমার অ্যালায়েন্স-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একইদিনে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম শুরু করে, যার ফলে বার্তাটি আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছায়। আঞ্চলিকভাবে শুরু হওয়া একটি ক্যাম্পেইন আজ ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য সচেতনতা উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

২০২৬ সালের থিম

২০২৬ সালের বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো- রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে তা কমিয়ে আনা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে যেখানে এমআরআই সুবিধা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে এই সচেতনতা খুবই জরুরি।

ই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার মূল কারণগুলো হলো-

লক্ষণগুলো বুঝতে ভুল হওয়া: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে মানুষ প্রায়ই মানসিক চাপ বা সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করে। ফলে রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরি হয়ে যায়।

সামাজিক ট্যাবু বা কুসংস্কার: মস্তিষ্কজনিত রোগ নিয়ে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়েছে। সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে এই কুসংস্কার দূর করা সম্ভব, যাতে মানুষ দ্বিধাহীনভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে।

সেবাদানকারীদের ওপর মানসিক চাপ: ব্রেইন টিউমার রোগীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টাই চোখে চোখে রাখতে হয়। সচেতনতা ক্যাম্পেইনগুলোর মাধ্যমে শুধু রোগী নয়, তাদের পরিবারের মানুষদের মানসিক ও শারীরিক প্রয়োজনের দিকেও নজর দেওয়া হয়।

গবেষণায় ফান্ডের অভাব: ব্রেন টিউমার এতটাই জটিল রোগ হওয়া সত্ত্বেও স্তন বা ফুসফুসের ক্যান্সারের তুলনায় এতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বা ফান্ড অনেক কম পাওয়া যায়। জনসচেতনতা বাড়লে এই ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ধরনভেদে বেঁচে থাকার হারের পার্থক্য: মেনিনজিওমার মতো কিছু টিউমারের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হলেও, গ্লিওব্লাস্টোমার মতো টিউমারগুলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং এর চিকিৎসা করা সবচেয়ে কঠিন। সচেতনতা বাড়লে আরও উন্নত চিকিৎসার দাবি জোরালো হয়।

ব্রেইন টিউমারের কোন লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করবেন না?

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো মানুষকে এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানানো। সাধারণ কিছু সতর্কবার্তা নিচে দেওয়া হলো-

  • ক্রমাগত বা তীব্র মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালের দিকে যা বেশি অনুভূত হয়।
  • আগে কখনো মৃগী বা খিঁচুনির ইতিহাস নেই, এমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া।
  • কোনো কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা আচরণ ও ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন।
  • হাত বা পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব অনুভব করা।

এই লক্ষণগুলো থাকা মানেই যে ব্রেইন টিউমার হয়েছে তা নয়, তবে এমন কিছু দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত—বিশেষ করে যদি লক্ষণগুলো হঠাৎ দেখা দেয় এবং সময়ের সাথে বাড়তে থাকে। সূত্র: আর্টেমিস হসপিটাল

তামান্না রুপা/