বমি বমি ভাব একটি অস্বস্তিকর অনুভূতি। গর্ভাবস্থা, কেমোথেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মতো চিকিৎসা পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং অন্যান্য পেটের সংক্রমণ থেকে বমি বমি ভাব হতে পারে। গাড়িতে উঠলে কারো কারো বমি ভাব হতে পারে। এ ছাড়া অনেক কারণে বমি বমি ভাব, খাদ্যে অরুচি আসতে পারে। সাধারণত গর্ভাবস্থায়, ভ্রমণে গেলে কিংবা অ্যাসিডিটির কারণে এ সমস্যা বেশি হয়। ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বমি বমি ভাব বন্ধ করা যায়। চলুন পদ্ধতিগুলো দেখে নেই।
১. খেতে পারেন আদা
আদা একটি জনপ্রিয় উপাদান, যা বমি বমি ভাব এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল কষ্ট কমাতে ব্যবহৃত হয়। আদার মধ্যে থাকা জিনজেরোল এবং শোগাওলের মতো সক্রিয় যৌগগুলো গ্যাস্ট্রিক সংকোচন হ্রাস করে এবং পেটের অসুখ প্রশমিত করতে সাহায্য করে বমি বমি ভাব দূর করে। প্রতিদিন ১৫০০ মিলিগ্রাম আদা খেলেই এই উপকার পাওয়া যায়।
২. পেপারমিন্টের ঘ্রাণ নিন
পুদিনা পাতায় থাকা পেপারমিন্টের মিষ্টি সুগন্ধ বমি বমি ভাব এবং বমি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। একটি টিস্যুতে কয়েক ফোঁটা পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল ছিটিয়ে নিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিলে বমি বমি ভাব কাটবে। অন্যদিকে গরম পেপারমিন্ট চা পান করলে কারও কারও ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বমি বমি ভাবের তীব্রতা কমাতে পারে।
৩. আকুপাংচার এবং আকুপ্রেশার ব্যবহার করুন
ঐতিহ্যগত চীনা ওষুধের কৌশল- আকুপাংচার এবং আকুপ্রেশার শরীরের নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোকে উদ্দীপিত করে কাজ করে। আকুপাংচার ত্বকে ঢোকানো পাতলা সুচ ব্যবহার করে, আকুপ্রেশার আঙুল এবং হাত ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে দৃঢ় চাপ প্রয়োগ করতে হয়। এই পদ্ধতিগুলো স্নায়ুতন্ত্রে নাড়া দেয়, যা মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরণ করে এবং বমি বমি ভাব ও বমির অনুভূতি দূর করে।
৪. ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন
যখন বমি বমি ভাব অনুভব করেন, তখন আরামদায়কভাবে বসে বা শুয়ে পড়ুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিরতি দিন এবং তার পর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। যখনই বমি বমি ভাব আসে তখন ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য এভাবে করুন। বমি বমি ভাব ও বমির অনুভূতি কেটে যাবে।
৫. লেবুর ঘ্রাণ নিন
লেবুতে রিফ্রেশিং তেল এবং টেরপেন থাকে, যা বাতাসে আরও তীব্রভাবে ছেড়ে দিলে কখনও কখনও বমি বমি ভাব কমে যায়। লেবুর খোসা কাটলে বা লেবুর শরবত তৈরি করার সময় এই সুগন্ধযুক্ত যৌগগুলোকে ছেড়ে দেয়। সেই ঘ্রাণ নিলে বমি বমি ভাব ও বমির অনুভূতি চলে যায়। চাইলে একটি তাজা কাটা লেবু থেকে সুগন্ধ শ্বাস নিলেও উপকার পাওয়া যায়।
৬. বমি বমি ভাববিরোধী মশলা এবং ভেষজ আছে
মৌরি গুঁড়া বা চা পিরিয়ড ক্র্যাম্প উপশম করতে পারে এবং কিছু মহিলার বমি বমি ভাব থেকে মুক্তি দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় মৌরি খাওয়ার কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তার জন্য যদিও আরও গবেষণা প্রয়োজন। দারুচিনি মাসিকের সময় বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। জিরা এবং ধনেপাতার বমি বমি ভাব ও বমির অনুভূতি দূর করার ক্ষমতা আছে।
৭. ভিটামিন বি৬ সম্পূরক গ্রহণ করুন
পাইরিডক্সিন নামে পরিচিত ভিটামিন বি৬ বিশেষভাবে গর্ভাবস্থার সাথে সম্পর্কিত বমি বমি ভাব এবং বমি কমাতে কার্যকর। গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার ক্ষেত্রে ডাক্তাররা সাধারণত ৬ থেকে ১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬ ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
৮. ডায়েট পরিবর্তন করুন
যেসব খাবার বমি বমি ভাব সৃষ্টি করে, তা সম্পূর্ণরূপে বাদ দিতে হবে। ভারী খাবারের পরিবর্তে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে পুষ্টিকর খাবার খান। সহজে হজম করা যায় এমন খাবার যেমন আপেল, কলা, সাদা ভাত, শুকনো ক্র্যাকার বা টোস্ট, পরিষ্কার মুরগির ঝোল এবং চামড়াযুক্ত সেদ্ধ আলু খেতে পারেন।
৯. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানিশূন্যতা অভ্যন্তরীণভাবে টক্সিন এবং অ্যাসিড তৈরি করে, যা কিছু লোকের জন্য বমি বমি ভাবের অনুভূতির জন্ম দিতে পারে। সারা দিন নিয়মিতভাবে তরল পান করলে বমি বমি ভাব প্রতিরোধ করা যায়। ডাবের পানি, পাতলা ফলের রস, পুদিনা বা আদা চা, ফ্ল্যাট সোডা, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট দ্রবণ এবং হাড়ের ঝোল সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখার জন্য দুর্দান্ত বিকল্প।
১০. ব্যায়াম করুন
বাইরে ১৫ মিনিটের হাঁটাহাঁটি করা, কিছু প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম, কয়েক রাউন্ড প্রতিরোধের ব্যায়াম করার মাধ্যমে বমি বমি ভাব সৃষ্টিকারী গ্যাসগুলো বের করে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা যায়। তবে ব্যায়াম করার সময় শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হাইড্রেশন এবং পুষ্টি দিতে হবে। এভাবে চর্চা করলে বমি বমি ভাব ও বমির অনুভূতি দূর হবে।
