গর্ভধারণ সম্পর্কে নিশ্চিতকরণ শুধুমাত্র মেডিকেল টেস্টের মাধ্যমে হয়। তবে কিছু লক্ষণ আছে, যা থেকে ধারণা করা যায় যে আপনি গর্ভবতী কিনা। হালকা স্পটিং এবং পিরিয়ড মিস হওয়া গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ, যা সম্পর্কে প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু এর বাইরেও আরও কিছু প্রাথমিক লক্ষণ আছে, যা প্রতিটি মহিলার জানা উচিত।
গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণ
এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে প্রেগনেন্সি একটি সুন্দর অনুভূতি। এই অবস্থার কিছু প্রাথমিক লক্ষণও রয়েছে যা থেকে গর্ভধারণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আসুন সেই প্রাথমিক লক্ষণগুলি দেখে নেই।
পিরিয়ড মিস হওয়া
পিরিয়ড মিস হওয়াকে গর্ভধারণের প্রথম লক্ষণ বলতে পারেন। যদি অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের আগে পিরিয়ড নিয়মিত থাকে এবং সম্পর্কের পরে পিরিয়ড মিস হয়ে যায়, তবে এটি গর্ভধারণের দিকে ইঙ্গিত করে।
স্তনগুলিতে সংবেদনশীলতা
গর্ভধারণের কারণে স্তনে পরিবর্তন হয়, যা স্বাভাবিক। স্তনে ফোলাভাব, ব্যথা এবং সংবেদনশীলতা গর্ভধারণের একটি লক্ষণ। এর সঙ্গে নিপল (এরিওলা) এর রঙ ও আকারেও পরিবর্তন দেখা যায়।
ক্লান্তি এবং দুর্বলতা
গর্ভধারণের সময় প্রোজেস্টেরন নামে হরমোনের স্তর শরীরে বেড়ে যায়। এর ফলে ক্লান্তি এবং দুর্বলতার সম্মুখীন হতে হয়।
বমি ভাব ও বমি আসা (মর্নিং সিকনেস)
গর্ভধারণের সময় শরীরে অনেক হরমোনাল পরিবর্তন হয়, যার ফলে সারাদিন বমি ভাব ও বমির সমস্যা হতে পারে। এই অবস্থাকে চিকিৎসা পরিভাষায় মর্নিং সিকনেস বলা হয়।
ঘন ঘন প্রস্রাব
গর্ভধারণের সময় গর্ভাশয়ের কারণে ব্লাডারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে বারবার প্রস্রাব করতে ইচ্ছে করে। এটি একটি প্রাথমিক লক্ষণ, যা ক্রমাগত থাকতে পারে।
ক্ষুধার পরিবর্তন
গর্ভধারণের সময় ক্ষুধার অনেক ওঠানামা হয়। অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে বেশি বা কম ক্ষুধা লাগা গর্ভধারণের একটি প্রাথমিক লক্ষণ।
পেট ফোলা
গর্ভধারণের সময় শরীরে কিছু পরিবর্তন হয়, যার ফলে পেটে হালকা ব্যথা, কড়কানি বা ফোলাভাব হতে পারে।
মুড সুইং
সাধারণত পিরিয়ডের সময় মুড সুইং দেখা যায়। তবে অরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরে যদি পিরিয়ড মিস হয় এবং হঠাৎ মুড সুইং হয়, তবে এটি গর্ভধারণের ইঙ্গিত দেয়।
এর বাইরে আরও কিছু লক্ষণ মহিলারা অনুভব করতে পারেন যেমন -
স্পটিং (যা ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং বলা হয়)
মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা
গর্ভধারণের প্রাথমিক দিনগুলিতে নাক বন্ধ থাকা
পেট ফোলা
ত্বকের পরিবর্তন
এগুলির বেশিরভাগ লক্ষণ গর্ভধারণের পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে, তাই লক্ষণ দেখা দিলে প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট দিয়ে পরীক্ষা করুন বা গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলুন।
সূত্র: সি কে বিড়লা হসপিটাল
