নিয়মিত পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) ‘জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০২৫’ উপলক্ষে বিএসএমএমইউয়ে সচেতনামূলক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডা. নাহরীন আখতার বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে এই মরণব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্তন ক্যানসার পরীক্ষার জন্য সিবিই, জরায়ু-মুখ ক্যানসার পরীক্ষার জন্য ভায়া টেস্ট করা অত্যন্ত জরুরি। জরায়ু-মুখ ক্যানসার প্রতিরোধে নারীদের ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।’
এ সময় অন্য বক্তারা জানান, দেশে নারীদের মৃত্যুর প্রধান দুটি কারণ জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার। প্রতিবছর দেশে নতুন করে প্রায় ৮ হাজার ২৬৮ জন নারী জরায়ু-মুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৭১ জন মারা যান। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন ১৩ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে মারা যান ৬ হাজার ৭৮৩ জন। নারীদের মধ্যে প্রতিবছর নতুনভাবে জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের হার যথাক্রমে প্রতি লাখে ১২ ও ১৯ জন।
তারা জানান, বিশ্বে নারীদের যত ধরনের ক্যানসার হয়, তার মধ্যে জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার অন্যতম। জরায়ু-মুখ ক্যানসার বিশ্বজুড়ে নারীদের ক্যানসারের মধ্যে চতুর্থতম এবং ক্যানসারজনিত মৃত্যুর চতুর্থতম শীর্ষ কারণ।
অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, দেশে অন্তত ২-৩ শতাংশ ত্রিশোর্ধ নারী ক্যানসারপূর্ব অবস্থায় আছেন। বর্তমানে ত্রিশোর্ধ বয়সী নারী রয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার। এ হিসাবে অন্তত ৬ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৯ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ নারী ক্যানসারপূর্ব বা ক্যানসার অবস্থায় আছেন। জরায়ু-মুখ ক্যানসার কমানোর জন্য ক্যানসার পূর্বাবস্থা বা ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের খুঁজে বের করে তাদের চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা বলেন, জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর বেঁচে থাকা অনেকাংশে নির্ভর করে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও কার্যকরী চিকিৎসা দেওয়ার উপর। দেরি করে রোগ সনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেওয়া কঠিন বলে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই এসব রোগের চিকিৎসা সুবিধা সীমিত ও ব্যয়বহুল। প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার সনাক্ত করা গেলে মৃত্যু সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।
এ সময় অ্যাস্টাবলিশমেন্ট অব ন্যাশনাল সেন্টার ফর সার্ভিক্যাল অ্যান্ড ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং ট্রেনিং অ্যাট বিএসএমএমইউ প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা, গাইনোকলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শিরিন আক্তার বেগম, অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ/পপি/
