ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র!

টাইফয়েড জ্বর হবার এখনই সময়

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৫, ০১:২৬ পিএম
আপডেট: ০২ জুন ২০২৫, ০১:৪৫ পিএম
টাইফয়েড জ্বর হবার এখনই সময়
টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও অন্ত্রনালিতে অবস্থান করে। ছবি এআই

টাইফয়েড জ্বর হলো স্যালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট একটি জীবনঘাতী সংক্রমণ। এটি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। শরীরে প্রবেশের পর ব্যাকটেরিয়াটি দ্রুত গুণে বেড়ে রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো শরীরে সংক্রমণ ঘটায়।
শহরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ছে। একই সঙ্গে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ার ফলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব রয়েছে এমন এলাকাগুলিতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

উপসর্গ ও শনাক্তকরণ
টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া শুধুমাত্র মানুষের মধ্যেই বাস করে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও অন্ত্রনালিতে এই জীবাণু অবস্থান করে। সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে— দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। কিছু রোগীর শরীরে লালচে র‍্যাশও দেখা যেতে পারে। মারাত্মক সংক্রমণে জটিলতা বেড়ে যায়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টাইফয়েড নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়।

বিস্তার, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও আক্রান্তের হার
উন্নত জীবনমান ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের ফলে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে টাইফয়েডের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এটি এখনো আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৯ মিলিয়ন মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে বসবাসরত জনগোষ্ঠী বিশেষত শিশুরা এই রোগে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
টাইফয়েড জ্বর সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য, তবে অনেক অঞ্চলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ (antimicrobial resistance) দেখা যাওয়ায় চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
অনেক সময় রোগের উপসর্গ চলে যাওয়ার পরও ব্যক্তি দেহে জীবাণু বহন করতে থাকেন এবং মলদ্বারের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন। তাই চিকিৎসাকালে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি —
• চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা।
• টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া।
• যতক্ষণ না রোগ পুরোপুরি নিরাময় হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের জন্য খাবার তৈরি বা পরিবেশন না করা।
• চিকিৎসা শেষে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুনরায় জীবাণু পরীক্ষা করানো।

টিকা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
টাইফয়েড প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো: নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা, খাদ্য প্রস্তুতকারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, এবং টাইফয়েড টিকাদান।
বর্তমানে WHO অনুমোদিত দুটি টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (Typhoid Conjugate Vaccine) রয়েছে, যা ৬ মাস বয়স থেকে ৪৫ বা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষকে একবার ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যায়। এর পাশাপাশি দুটি পুরনো ধরনের টিকাও কিছু দেশে ব্যবহার হয়।
• দুই বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ইনজেকশনভিত্তিক টিকা।
• ছয় বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল-আকারের টিকা।
এগুলোর কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে কম এবং দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, তাই মাঝে মাঝে বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। WHO অনুমোদিত নতুন কনজুগেট টিকাগুলো বর্তমানে টাইফয়েড-প্রবণ দেশগুলোর শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে।

ভ্রমণকারীদের জন্য পরামর্শ
টাইফয়েড-প্রবণ অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হলেও নিরাপদ খাদ্য, পানীয় ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি। নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে নিরাপদ থাকা সম্ভব:
• সবসময় ভালোভাবে রান্না করা ও গরম খাবার গ্রহণ করুন।
• কাঁচা দুধ ও দুধজাত পণ্য পরিহার করুন। কেবল পাস্তুরিত বা ফুটানো দুধ পান করুন।
• নিরাপদ পানি ছাড়া বরফ গ্রহণ করবেন না।
• সন্দেহজনক পানির ক্ষেত্রে ফুটিয়ে বা নির্ভরযোগ্য জীবাণুনাশক দিয়ে বিশুদ্ধ করে পান করুন।
• টয়লেট ব্যবহারের পর, পশুপাখি বা খামারের পশুর সংস্পর্শে আসার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
• কাঁচা ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে অথবা খোসা ছাড়িয়ে খান।
টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ হলেও বিশ্বজুড়ে এর প্রকোপ এখনো মারাত্মক। উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপদ পানি, জনসচেতনতা এবং টিকাদানই পারে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

কোমর ব্যথা সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা। জীবনে কোনো না কোনো সময় কোমর ব্যথা হয়নি, এমন লোক পাওয়া দুরূহ। স্বল্পমেয়াদি ব্যথা এক মাসের কম সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা এক মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ রোগী দুই মাসের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়।


কারণ

দৈহিক বিকৃতির ফলে মেরুদণ্ডের পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান লাগা বা চাপ পড়লে
ভারী জিনিস তোলার ফলে মাংসপেশিতে মচকানি লাগলে
সঠিকভাবে না বসার জন্য মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর বেঁকে যাওয়া
পেশাগত কারণ। যেমন- দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, ঝাড়ুদার, কুলি ইত্যাদি

স্থূলতাজনিত কারণ

কোমরের ভারসাম্যহীনতার কারণে ডিস্কজনিত সমস্যা। যেমন- ডিস্কের স্থানচ্যুতি, ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ
লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, পিএলআইডি ইত্যাদি কারণে
নারীদের ক্ষেত্রে উঁচু হিলের জুতা পরিধান, হাড়ক্ষয় এবং গর্ভাবস্থা
হাড়ক্ষয়, মেরুদণ্ডের বাত, অস্টিওপোরোসিস, ইনফেকশন, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, টিউমারজনিত সমস্যা ইত্যাদি কারণে কোমর ব্যথা হয়।


উপসর্গ

কোমর, নিতম্ব ব্যথা
কোমর হতে পায়ে ঝিঁঝি লাগা
ব্যথা পায়ের দিকে নামতে থাকা
পা ভার হয়ে আসা
পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে কষ্ট অনুভব হওয়া
কোমরের মাংসপেশি শক্ত ও কামড়ানো ভাব
উঠতে ও বসতে পিঠে ব্যথা অনুভব হওয়া।

কারা ঝুঁকিতে

৪০ বছর বয়সের পর প্রায় সবাই
সারাক্ষণ বসে, দাঁড়িয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা
কোমর ব্যথা পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি হয়।

চিকিৎসা

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসা ও ব্যায়াম করলেই সহজেই সমাধান করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে সহজে সুস্থ হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সারাক্ষণ ব্যথা থাকে, এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কোমর ব্যথায় বিভিন্ন ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

প্রতিরোধ

ব্যথা নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে
শক্ত, সমান বিছানা, পাতলা তোশক ও এক বালিশে শোয়া
বিছানা হতে ওঠার সময় এক পাশে কাত হয়ে উঠতে হবে
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা যাবে না
ভারী কোনো জিনিস উঠানো নিষেধ
কোমর সোজা করে চেয়ারে বসতে হবে
মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করা যাবে না
কোনো জিনিস তুলতে হলে হাঁটু ভাঁজ করে বসে তুলতে হবে

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়।

গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে আমাদের শরীর ও ত্বক– দুটোই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। অতিরিক্ত গরম আর ঘামের কারণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেওয়া এই সময়ে খুবই সাধারণ বিষয়। তবে একটু সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণের মাধ্যমে এই গরমেও নিজেদের সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ত্বকের সঠিক যত্ন কীভাবে আমাদের তীব্র গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় কেন?
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

দিনে কতটা পানি পান করা উচিত?
সাধারণভাবে দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা ভালো। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফলের রস শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখে এবং শক্তি জোগায়।

গরমে টকজাতীয় ফল খাওয়া কি উপকারী?
হ্যাঁ, লেবু, কমলা, আমলকী ইত্যাদি টক ফল খুব উপকারী। এগুলোতে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর ঠাণ্ডা রাখে এবং ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

 

 

টক দই কি গরমে ভালো?
হ্যাঁ, টক দই খুব উপকারী। এতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায়, পেট ঠাণ্ডা রাখে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

চিয়া সিড কি উপকারী?
হ্যাঁ, চিয়া সিড গরমে খুব ভালো একটি খাবার। পানিতে ভেজালে এটি জেলির মতো হয়, যা শরীরকে দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড রাখে। এতে ফাইবার ও ওমেগা-৩ থাকে, যা হজম ও এনার্জি বাড়ায়।

গরমে দিনে কতবার গোসল করা উচিত?
সাধারণত দিনে ১-২ বার গোসল করা ভালো। বেশি ঘাম হলে দুবার গোসল করা আরামদায়ক। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ঘামজনিত সমস্যা কমে।

ত্বকে গরমে কী সমস্যা হয়?
গরমে অতিরিক্ত ঘাম, তেল ও ধুলো জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি ও স্কিন ইরিটেশন হতে পারে।

ত্বকের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?
দিনে অন্তত দুবার মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে তেল ও ময়লা দূর হয় এবং ব্রণ কমে।

রোদে বের হলে কী করা উচিত?
বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং দাগ পড়া কমায়।

গরমে পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
হালকা, ঢিলা ও সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং ঘাম সহজে শুকাতে সাহায্য করে।

খাবারের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা দরকার?
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। এতে শরীর হালকা ও সুস্থ থাকে।

গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কী?
পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা–এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার
গরমের এই সময়ে একটু সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত গোসল এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার–এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান
রক্তদান করছেন চীনা নাগরিকরা।

চীনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আওতায় প্রতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ রক্তদান করেন। দেশটির সরকারি তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রোববার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) এবং আরও আটটি সরকারি বিভাগ যৌথভাবে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে একটি আবেদন প্রকাশ করে।

আবেদনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সদস্য, চীনের কমিউনিস্ট যুবলীগ (সিওয়াইএলসি) সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সুস্থ থাকলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বর্তমানে চীনে চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত সব রক্তই সুস্থ নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দেওয়া রক্তদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। মোট রক্তদানের পরিমাণ, রক্তদাতার সংখ্যা এবং রক্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার বিভিন্ন উৎসাহমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ প্রণোদনা চালু করা হয়েছে। কয়েকটি প্রদেশে সম্মাননাপ্রাপ্ত রক্তদাতারা বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবহার, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশ এবং সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগের নিবন্ধন ফি মওকুফসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সূত্র: সিএমজি

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে
চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে গবেষকরা।

চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। গবেষকরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে যকৃতের কোষের (হেপাটোসাইট) চর্বি বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া সাত দিনের কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) পরিবেশে কোষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে চর্বি বিপাককে প্রভাবিত করে, তা শনাক্ত করা।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মেকানিক্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক লি নিং বলেন, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি এমন বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে, যা যকৃতের কোষের বিপাকীয় কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, যকৃত একটি জটিল যান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করে। লিভার ফাইব্রোসিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে এই পরিবেশে টিস্যুর দৃঢ়তা বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যকৃতে অস্বাভাবিক চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্লুইড শিয়ার স্ট্রেস বা রক্তপ্রবাহের ঘর্ষণজনিত বল। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত যখন যকৃতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কোষগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু মহাকাশে অল্প মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের তরল ওপরের দিকে সরে যায়। ফলে হৃদযন্ত্রের ওপরের অংশে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নিচের অংশে কমে যায়। এতে যকৃতে প্রবেশকারী রক্তের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ। ফলে যকৃতের ওপর রক্তপ্রবাহের যান্ত্রিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা কমে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমার হার বাড়তে শুরু করে।
এর আগে চীনের শেনচৌ-১৬ মহাকাশ মিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এসআরইবিপি নামের একটি প্রোটিন সক্রিয় হয়ে কোষের ভেতরে চর্বির কণিকা (লিপিড ড্রপলেট) বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ এর কার্যক্রম দমন করে এবং কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় হেপাটোসাইটকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তিন ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হয়— স্থির কোষ সংস্কৃতি, কৃত্রিম রক্তপ্রবাহ পরিবেশ এবং ওষুধ-উদ্দীপিত রক্তপ্রবাহ পরিবেশ। মোট ছয়টি কোষ নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।
পুরো পরীক্ষাটি পৃথিবী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপিক চিত্র ধারণ করে কোষের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।
সপ্তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ কোষে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সেই সময়কার কোষীয় অবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর নমুনাগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। 

সূত্র: সিএমজি

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস আজ, জানুন এর বিভিন্ন দিক
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ জুন, বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস। বৈশ্বিক চিকিৎসা মহল, রোগী, সেবাদানকারী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম বড় এই চ্যালেঞ্জটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিনটি পালন করেন।

প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস পালিত হয়। ব্রেইন টিউমার রোগীদের প্রতি সম্মান জানাতে এবং এই রোগ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে ২০০০ সালে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন প্রথম এই দিবসের প্রচলন করে।

গত দুই দশকে এই উদ্যোগ জার্মানির গণ্ডি পেরিয়ে ৩০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং রোগী কল্যাণ সমিতিগুলো শিক্ষামূলক ক্যাম্পেইন, তহবিল সংগ্রহ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণার মাধ্যমে এই দিনে নানা কর্মসূচি পালন করে।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য:

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য তিনটি। 

শিক্ষা: সাধারণ মানুষকে ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো।

সহযোগিতা: ব্রেইন টিউমারের কারণে যে রোগীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করা।

সচেতনতা বৃদ্ধি: ব্রেইন টিউমার গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগের দাবি তোলা।

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের ইতিহাস

এই দিবসের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে। একদল জার্মান নিউরোলজিস্ট (স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ) এবং রোগী কল্যাণকর্মী লক্ষ্য করেন যে, অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় ব্রেন টিউমার নিয়ে জনমনে সচেতনতা অনেক কম, অথচ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ।

পরবর্তীতে ২০০০ সালে জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন এটিকে একটি বার্ষিক দিবস হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ব্রেন টিউমার অ্যালায়েন্স-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একইদিনে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম শুরু করে, যার ফলে বার্তাটি আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছায়। আঞ্চলিকভাবে শুরু হওয়া একটি ক্যাম্পেইন আজ ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকাসহ বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য সচেতনতা উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

২০২৬ সালের থিম

২০২৬ সালের বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো- রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে তা কমিয়ে আনা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে যেখানে এমআরআই সুবিধা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে এই সচেতনতা খুবই জরুরি।

ই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার মূল কারণগুলো হলো-

লক্ষণগুলো বুঝতে ভুল হওয়া: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে মানুষ প্রায়ই মানসিক চাপ বা সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করে। ফলে রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরি হয়ে যায়।

সামাজিক ট্যাবু বা কুসংস্কার: মস্তিষ্কজনিত রোগ নিয়ে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়েছে। সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে এই কুসংস্কার দূর করা সম্ভব, যাতে মানুষ দ্বিধাহীনভাবে ডাক্তারের কাছে যেতে পারে।

সেবাদানকারীদের ওপর মানসিক চাপ: ব্রেইন টিউমার রোগীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টাই চোখে চোখে রাখতে হয়। সচেতনতা ক্যাম্পেইনগুলোর মাধ্যমে শুধু রোগী নয়, তাদের পরিবারের মানুষদের মানসিক ও শারীরিক প্রয়োজনের দিকেও নজর দেওয়া হয়।

গবেষণায় ফান্ডের অভাব: ব্রেন টিউমার এতটাই জটিল রোগ হওয়া সত্ত্বেও স্তন বা ফুসফুসের ক্যান্সারের তুলনায় এতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বা ফান্ড অনেক কম পাওয়া যায়। জনসচেতনতা বাড়লে এই ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ধরনভেদে বেঁচে থাকার হারের পার্থক্য: মেনিনজিওমার মতো কিছু টিউমারের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হলেও, গ্লিওব্লাস্টোমার মতো টিউমারগুলো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং এর চিকিৎসা করা সবচেয়ে কঠিন। সচেতনতা বাড়লে আরও উন্নত চিকিৎসার দাবি জোরালো হয়।

ব্রেইন টিউমারের কোন লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করবেন না?

বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবসের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো মানুষকে এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানানো। সাধারণ কিছু সতর্কবার্তা নিচে দেওয়া হলো-

  • ক্রমাগত বা তীব্র মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালের দিকে যা বেশি অনুভূত হয়।
  • আগে কখনো মৃগী বা খিঁচুনির ইতিহাস নেই, এমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া।
  • কোনো কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা আচরণ ও ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন।
  • হাত বা পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব অনুভব করা।

এই লক্ষণগুলো থাকা মানেই যে ব্রেইন টিউমার হয়েছে তা নয়, তবে এমন কিছু দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত—বিশেষ করে যদি লক্ষণগুলো হঠাৎ দেখা দেয় এবং সময়ের সাথে বাড়তে থাকে। সূত্র: আর্টেমিস হসপিটাল

তামান্না রুপা/