করোনাভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯) হলো একটি সংক্রামক রোগ, যা SARS-CoV-2 ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতায় ভোগেন এবং বিশেষ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু মানুষ গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বয়স্ক ব্যক্তি এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ বা ক্যানসারের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মারাত্মক অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি। তবে যেকোনো বয়সী মানুষই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হতে পারেন এমনকি মৃত্যুবরণ করতে পারেন।
সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ছড়ানো ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এই রোগ ও ভাইরাসটি কীভাবে ছড়ায় সে সম্পর্কে সচেতন থাকা।
সাধারণত কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়, তবে কারও ক্ষেত্রে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নিজেকে ও অন্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে অন্তত ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা, সঠিকভাবে মাস্ক পরা এবং ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করাটা জরুরি।
এই ভাইরাসটি সংক্রমিত ব্যক্তির মুখ বা নাক থেকে নিঃসৃত তরল কণার মাধ্যমে ছড়ায়—যখন তারা কাশি দেয়, হাঁচি দেয়, কথা বলে, গান গায় বা নিঃশ্বাস নেয়। এসব কণার মধ্যে বড় আকারের ফোঁটার পাশাপাশি ক্ষুদ্র কণাও থাকতে পারে, যেগুলো বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। এজন্য শ্বাসযন্ত্রের শিষ্টাচার মেনে চলা—যেমন কনুই ভাঁজ করে কাশি দেওয়া—খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ বোধ করলে ঘরে থাকুন এবং পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত নিজেকে আলাদা রাখুন।
কোভিড-১৯ বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কোভিড-১৯ এর সাধারণ উপসর্গগুলো হলো জ্বর, কাশি, ক্লান্তিভাব এবং স্বাদ বা গন্ধের অনুভূতি হারানো।
কম সাধারণ উপসর্গের মধ্যে আছে গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা বা অস্বস্তি, ডায়রিয়া, ত্বকে র্যাশ বা আঙুল-পায়ের আঙুলের রঙ পরিবর্তন, চোখ লাল বা জ্বালাপোড়া ইত্যাদি।
গুরুতর উপসর্গের মধ্যে আছে শ্বাসকষ্ট বা নিশ্বাস নিতে সমস্যা, কথা বলায় সমস্যা, চলাফেরায় অসামঞ্জস্য বা বিভ্রান্তি, বুকে ব্যথা ইত্যাদি।
যদি উপরের গুরুতর উপসর্গগুলোর কোনোটি দেখা দেয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে। তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ফোন করে যোগাযোগ করা ভালো। যাঁরা সুস্থ এবং যাঁদের শুধুমাত্র হালকা উপসর্গ রয়েছে, তাঁরা ঘরে থেকেই ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা চালাতে পারেন।
সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছড়িয়ে পড়া কমাতে যা করবেন:
• টিকা পাওয়ার সুযোগ এলে অবশ্যই গ্রহণ করুন।
• অন্যদের থেকে অন্তত ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন, এমনকি কেউ অসুস্থ না দেখালেও।
• দূরত্ব রাখা সম্ভব না হলে বা খোলা বাতাসের প্রবাহ না থাকলে সঠিকভাবে মাস্ক পরুন।
• খোলামেলা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা বেছে নিন; ঘরের ভেতরে থাকলে জানালা খুলে দিন।
• নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন অথবা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড রাব ব্যবহার করুন।
• কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন।
• অসুস্থ বোধ করলে ঘরে থাকুন ও সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে আলাদা রাখুন।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)



