ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা আইসক্রিমপ্রেমীদের জন্য সেভয়-এর নতুন চমক মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী

চুইংগাম কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৫, ০১:৪১ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৫, ০১:৪৩ পিএম
চুইংগাম কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
চুইংগাম চোয়াল ও দাঁতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

চুইংগাম অনেকের কাছেই নিরীহ মনে হতে পারে। কেউ কেউ তো মনে করেন এটি দাঁতের জন্য ভালো। কিন্তু দাঁতের চিকিৎসক ড. কারিন কাহনের মতে, গাম চিবোনো সবসময় নিরাপদ নয়। বরং এটি আপনার চোয়াল ও দাঁতের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

চুইংগাম কি চোয়ালের ক্ষতি করে?
চোয়ালের নড়াচড়া হয় "টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট" (TMJ)-এর মাধ্যমে, যা কানের সামনে অবস্থিত। এই জয়েন্টটি অনেকগুলো মাংসপেশির সমন্বয়ে কাজ করে। গাম চিবোনো একটি প্যারাফাংশনাল অভ্যাস — অর্থাৎ স্বাভাবিক চিবোনোর বাইরে একটি অভ্যাস, যা দীর্ঘ সময় ধরে চোয়ালে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
দীর্ঘদিন ঘরে দাঁত নিয়ে কাজ করছেন ব্রিটিশ চিকিৎসক কাহন। তার মতে, বেশি সময় ধরে গাম চিবোলে TMJ-তে ব্যথা, ক্লিকিং বা পপিং শব্দ, মাথাব্যথা, দাঁতের ভাঙন কিংবা চোয়ালের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যাদের TMJ সমস্যা রয়েছে, তাদের একেবারেই গাম চিবোনো এড়িয়ে চলা উচিত। আর অন্যদের জন্য তিনি দিনে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট গাম চিবোনোর পরামর্শ দেন।

চিনিযুক্ত গাম দাঁতের ক্ষতি করে
প্রথম দিকে গামে চিনি যোগ করে এর স্বাদ বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫০-এর দশক থেকেই দেখা যায়, গামের চিনি দাঁতের ক্ষয় ঘটায়। মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। এর ফলে ক্যাভিটি তৈরি হয় এবং পরে রুট ক্যানাল করার প্রয়োজন হতে পারে।

চিনি ছাড়া গামের উপকারিতা
১৯৬০-এর দশকে বাজারে চিনি ছাড়া গাম আসে, যাতে অ্যাসপারটেম, স্টেভিয়া, জাইলিটল বা সরবিটলের মতো কৃত্রিম সুইটেনার থাকে, যেগুলো দাঁতের ক্ষতি করে না। এসব গাম চিবোলে লালা উৎপাদন বাড়ে, যা মুখের খাবারের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে দেয় এবং ব্যাকটেরিয়ার অ্যাসিড নিরপেক্ষ করে।
তবে ড. কাহন মনে করেন, গাম চিবোনো কখনোই ব্রাশিং বা ফ্লসিংয়ের বিকল্প হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার খাওয়ার পর ব্রাশ করা এবং প্রতিদিন ফ্লস করা — এটিই দাঁত সুস্থ রাখার সর্বোত্তম উপায়।’

 

যাদের মুখে লালা কম তৈরি হয় (ড্রাই মাউথ), তাদের জন্য গাম কিছুটা উপকারী হতে পারে। ছবি এআই

 

ড্রাই মাউথের ক্ষেত্রে গামের ব্যবহার
যাদের মুখে লালা কম তৈরি হয় (ড্রাই মাউথ), তাদের জন্য গাম কিছুটা উপকারী হতে পারে। তবে পানি পান করাও সমান কার্যকর এবং নিরাপদ। ড্রাই মাউথের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে ভালো সমাধান।

মানসিক চাপ বা মনোযোগ বৃদ্ধিতে গামের ভূমিকা?
অনেকেই বলেন গাম চিবোলে মনোযোগ বাড়ে বা স্ট্রেস কমে। কিন্তু গবেষণায় এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তাই যদি আপনি গাম চিবিয়ে উপকার পাচ্ছেন মনে করেন, তাহলে এর ক্ষতিকর দিকগুলোর কথাও বিবেচনায় রাখা উচিত।

নিকোটিন গাম – ধূমপান ছাড়ার সহায়তা
ধূমপান ছাড়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে নিকোটিন গাম ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণ গামের মতো নয় — হালকা চিবিয়ে মুখের এক পাশে রেখে ধীরে ধীরে নিকোটিন গ্রহণ করতে হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত লালা, মুখে জ্বালাপোড়া বা চোয়ালে ব্যথা।
ড. কাহনের পরামর্শ, নিকোটিন গামের পাশাপাশি প্যাচ, ওষুধ বা কাউন্সেলিং ব্যবহার করলে ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

সারসংক্ষেপ
চুইংগাম চোয়াল ও দাঁতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। ড. কাহনের কয়েকটি পরামর্শ হলো
• TMJ সমস্যায় গাম চিবোনো একেবারে বন্ধ করুন।
• সুস্থ চোয়ালের জন্যও দিনে ১৫ মিনিটের বেশি গাম চিবোনো উচিত নয়।
• চিনি মুক্ত গাম বেছে নিন।
• গাম কখনোই ব্রাশ বা ফ্লসের বিকল্প নয় — বরং এগুলোর পরিপূরক হতে পারে।
সতর্কভাবে ব্যবহারে গাম থেকে কিছু উপকার মিললেও, নিয়মিত সঠিক দাঁতের যত্নই হলো সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা
রসুনে অ্যালিসিন, ডায়ালাইল ডিসালফাইড ও এস-অ্যালাইল সিস্টেইনের মতো যৌগ রয়েছে।

রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে থাকা সালফারজাতীয় যৌগ, বিশেষ করে অ্যালিসিন মানবদেহে নানা উপকারী প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে। আসুন দেখে নিই, রসুনের ১০টি উপকারিতা–

১. ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ
রসুনে অ্যালিসিন, ডায়ালাইল ডিসালফাইড ও এস-অ্যালাইল সিস্টেইনের মতো যৌগ রয়েছে, যা শরীরে নানা ইতিবাচক জৈবিক প্রভাব সৃষ্টি করে।

২. পুষ্টিকর কিন্তু কম ক্যালরিযুক্ত
এক কোয়া রসুনে খুব কম ক্যালরি থাকলেও এতে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম ও খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের নির্যাস সর্দি-কাশি ও ফ্লুর উপসর্গের তীব্রতা কমাতে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
রসুন রক্তনালি শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ সহজ করতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমতে পারে।

৫. কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
নিয়মিত রসুন খাওয়া এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

৬. মস্তিষ্ক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে
রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৭. দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করতে পারে
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে রসুন মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৮. শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারে
প্রাচীনকাল থেকেই ক্লান্তি কমাতে রসুন ব্যবহৃত হতো। কিছু গবেষণায় এটি ব্যায়ামজনিত চাপ ও পেশির ক্ষতি কমাতে সহায়ক বলে দেখা গেছে।

৯. ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে
রসুনে থাকা সালফার যৌগ শরীর থেকে সিসার মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু অপসারণে সহায়তা করতে পারে।

১০. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে
বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে রসুন অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হাড়ের ক্ষয় ও অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।

সূত্র: হেলথলাইন

কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করা যায়
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

কোমর ব্যথা সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা। জীবনে কোনো না কোনো সময় কোমর ব্যথা হয়নি, এমন লোক পাওয়া দুরূহ। স্বল্পমেয়াদি ব্যথা এক মাসের কম সময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা এক মাসের বেশি সময় স্থায়ী হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা নিলে ৯০ শতাংশ রোগী দুই মাসের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়।


কারণ

দৈহিক বিকৃতির ফলে মেরুদণ্ডের পেশি ও লিগামেন্টে হঠাৎ করে টান লাগা বা চাপ পড়লে
ভারী জিনিস তোলার ফলে মাংসপেশিতে মচকানি লাগলে
সঠিকভাবে না বসার জন্য মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর বেঁকে যাওয়া
পেশাগত কারণ। যেমন- দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, ঝাড়ুদার, কুলি ইত্যাদি

স্থূলতাজনিত কারণ

কোমরের ভারসাম্যহীনতার কারণে ডিস্কজনিত সমস্যা। যেমন- ডিস্কের স্থানচ্যুতি, ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ
লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, পিএলআইডি ইত্যাদি কারণে
নারীদের ক্ষেত্রে উঁচু হিলের জুতা পরিধান, হাড়ক্ষয় এবং গর্ভাবস্থা
হাড়ক্ষয়, মেরুদণ্ডের বাত, অস্টিওপোরোসিস, ইনফেকশন, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, টিউমারজনিত সমস্যা ইত্যাদি কারণে কোমর ব্যথা হয়।


উপসর্গ

কোমর, নিতম্ব ব্যথা
কোমর হতে পায়ে ঝিঁঝি লাগা
ব্যথা পায়ের দিকে নামতে থাকা
পা ভার হয়ে আসা
পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়াতে কষ্ট অনুভব হওয়া
কোমরের মাংসপেশি শক্ত ও কামড়ানো ভাব
উঠতে ও বসতে পিঠে ব্যথা অনুভব হওয়া।

কারা ঝুঁকিতে

৪০ বছর বয়সের পর প্রায় সবাই
সারাক্ষণ বসে, দাঁড়িয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা
কোমর ব্যথা পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি হয়।

চিকিৎসা

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোমর ব্যথার মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসা ও ব্যায়াম করলেই সহজেই সমাধান করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে সহজে সুস্থ হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সারাক্ষণ ব্যথা থাকে, এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কোমর ব্যথায় বিভিন্ন ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

প্রতিরোধ

ব্যথা নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে
শক্ত, সমান বিছানা, পাতলা তোশক ও এক বালিশে শোয়া
বিছানা হতে ওঠার সময় এক পাশে কাত হয়ে উঠতে হবে
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা যাবে না
ভারী কোনো জিনিস উঠানো নিষেধ
কোমর সোজা করে চেয়ারে বসতে হবে
মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করা যাবে না
কোনো জিনিস তুলতে হলে হাঁটু ভাঁজ করে বসে তুলতে হবে

লেখক: চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্য নিবন্ধকার

গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
গরমের তপ্ত সময়ে শরীর ও ত্বকের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়।

গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহে আমাদের শরীর ও ত্বক– দুটোই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। অতিরিক্ত গরম আর ঘামের কারণে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেওয়া এই সময়ে খুবই সাধারণ বিষয়। তবে একটু সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণের মাধ্যমে এই গরমেও নিজেদের সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ত্বকের সঠিক যত্ন কীভাবে আমাদের তীব্র গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে পারে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় কেন?
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি।

দিনে কতটা পানি পান করা উচিত?
সাধারণভাবে দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা ভালো। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফলের রস শরীরকে ভেতর থেকে ঠাণ্ডা রাখে এবং শক্তি জোগায়।

গরমে টকজাতীয় ফল খাওয়া কি উপকারী?
হ্যাঁ, লেবু, কমলা, আমলকী ইত্যাদি টক ফল খুব উপকারী। এগুলোতে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর ঠাণ্ডা রাখে এবং ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

 

 

টক দই কি গরমে ভালো?
হ্যাঁ, টক দই খুব উপকারী। এতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায়, পেট ঠাণ্ডা রাখে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

চিয়া সিড কি উপকারী?
হ্যাঁ, চিয়া সিড গরমে খুব ভালো একটি খাবার। পানিতে ভেজালে এটি জেলির মতো হয়, যা শরীরকে দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড রাখে। এতে ফাইবার ও ওমেগা-৩ থাকে, যা হজম ও এনার্জি বাড়ায়।

গরমে দিনে কতবার গোসল করা উচিত?
সাধারণত দিনে ১-২ বার গোসল করা ভালো। বেশি ঘাম হলে দুবার গোসল করা আরামদায়ক। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ঘামজনিত সমস্যা কমে।

ত্বকে গরমে কী সমস্যা হয়?
গরমে অতিরিক্ত ঘাম, তেল ও ধুলো জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি ও স্কিন ইরিটেশন হতে পারে।

ত্বকের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?
দিনে অন্তত দুবার মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে তেল ও ময়লা দূর হয় এবং ব্রণ কমে।

রোদে বের হলে কী করা উচিত?
বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং দাগ পড়া কমায়।

গরমে পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
হালকা, ঢিলা ও সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং ঘাম সহজে শুকাতে সাহায্য করে।

খাবারের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা দরকার?
অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। এতে শরীর হালকা ও সুস্থ থাকে।

গরমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কী?
পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা–এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার
গরমের এই সময়ে একটু সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত গোসল এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার–এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬, ঢাকা

চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান
রক্তদান করছেন চীনা নাগরিকরা।

চীনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আওতায় প্রতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ রক্তদান করেন। দেশটির সরকারি তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রোববার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) এবং আরও আটটি সরকারি বিভাগ যৌথভাবে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের আহ্বান জানিয়ে জনসাধারণের উদ্দেশে একটি আবেদন প্রকাশ করে।

আবেদনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সদস্য, চীনের কমিউনিস্ট যুবলীগ (সিওয়াইএলসি) সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সুস্থ থাকলে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বর্তমানে চীনে চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত সব রক্তই সুস্থ নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে দেওয়া রক্তদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। মোট রক্তদানের পরিমাণ, রক্তদাতার সংখ্যা এবং রক্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর অন্যতম।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার বিভিন্ন উৎসাহমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশেষ প্রণোদনা চালু করা হয়েছে। কয়েকটি প্রদেশে সম্মাননাপ্রাপ্ত রক্তদাতারা বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবহার, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশ এবং সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগের নিবন্ধন ফি মওকুফসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সূত্র: সিএমজি

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে
চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে গবেষকরা।

চীনের মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকংয়ে পরিচালিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত। গবেষকরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে যকৃতের কোষের (হেপাটোসাইট) চর্বি বিপাক নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া সাত দিনের কক্ষপথভিত্তিক পরীক্ষার লক্ষ্য ছিল অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ (মাইক্রোগ্রাভিটি) পরিবেশে কোষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়া কীভাবে চর্বি বিপাককে প্রভাবিত করে, তা শনাক্ত করা।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির মেকানিক্স ইনস্টিটিউটের সহযোগী গবেষক লি নিং বলেন, মহাকাশের মাইক্রোগ্রাভিটি এমন বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে, যা যকৃতের কোষের বিপাকীয় কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
তিনি বলেন, যকৃত একটি জটিল যান্ত্রিক পরিবেশে কাজ করে। লিভার ফাইব্রোসিস বা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগে এই পরিবেশে টিস্যুর দৃঢ়তা বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহের ধরন বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যকৃতে অস্বাভাবিক চর্বি জমার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ফ্লুইড শিয়ার স্ট্রেস বা রক্তপ্রবাহের ঘর্ষণজনিত বল। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত যখন যকৃতের রক্তনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কোষগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট চাপ তৈরি করে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু মহাকাশে অল্প মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের তরল ওপরের দিকে সরে যায়। ফলে হৃদযন্ত্রের ওপরের অংশে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় এবং নিচের অংশে কমে যায়। এতে যকৃতে প্রবেশকারী রক্তের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ। ফলে যকৃতের ওপর রক্তপ্রবাহের যান্ত্রিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রক্তপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা কমে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমার হার বাড়তে শুরু করে।
এর আগে চীনের শেনচৌ-১৬ মহাকাশ মিশনের গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে এসআরইবিপি নামের একটি প্রোটিন সক্রিয় হয়ে কোষের ভেতরে চর্বির কণিকা (লিপিড ড্রপলেট) বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ এর কার্যক্রম দমন করে এবং কোষে চর্বি জমা কমাতে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় হেপাটোসাইটকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তিন ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হয়— স্থির কোষ সংস্কৃতি, কৃত্রিম রক্তপ্রবাহ পরিবেশ এবং ওষুধ-উদ্দীপিত রক্তপ্রবাহ পরিবেশ। মোট ছয়টি কোষ নমুনা নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়।
পুরো পরীক্ষাটি পৃথিবী থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত নির্দেশনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকরা প্রতিদিন মাইক্রোস্কোপিক চিত্র ধারণ করে কোষের বৃদ্ধি ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।
সপ্তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সংরক্ষণকারী রাসায়নিক পদার্থ কোষে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সেই সময়কার কোষীয় অবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর নমুনাগুলো মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। 

সূত্র: সিএমজি