এডিস মশা মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়। ছবি এআই
❏ ডেঙ্গু এডিস মশা মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়। এই মশা সাধারণত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম দেয়। বর্ষাকালে এর প্রজনন বেশি হওয়ায় এ সময় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও বেড়ে যায়। ডেঙ্গু হলে সাধারণত তীব্র জ্বর হয় এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা দেখা দেয়। তীব্র পেটব্যথাও হতে পারে। বিশেষ করে মাংসপেশিতে ব্যথা বেশি হয়। জ্বরের ৪-৫ দিন পর শরীরজুড়ে র্যাশ বা ঘামাচির মতো লালচে দানা দেখা দিতে পারে।
❏ চিকুনগুনিয়া চিকুনগুনিয়া রোগটিও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই জ্বরের লক্ষণ অনেকটা সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো। তবে এতে মাথাব্যথা, বমিভাব, দুর্বলতা, সর্দি-কাশি এবং র্যাশের পাশাপাশি শরীরের হাড়ের সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা হয়।
❏ ম্যালেরিয়া ম্যালেরিয়া হয় প্লাজমোডিয়াম নামের এককোষী পরজীবীর কারণে, যা অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে কয়েক দিন ধরে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকে। অনেক সময় এ রোগ মারাত্মকও হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া।
প্রস্রাবের কারণে দেহের ভেতরের বর্জ্য পদার্থ বের হয়। এতে যেমন বর্জ্য পদার্থ দেহ হতে বের হয়, তেমনি অনেক রোগের নীরব বার্তাও প্রদান করে। প্রস্রাব নিঃসরণে ফেনা দেখা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ফেনা কখনো কখনো কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়। প্রস্রাব নিঃসরণের পর জমা প্রস্রাবের ওপর সাদা, ঘন ও স্থায়ী বুদবুদ দেখা যায়। একে আমরা ফেনা বলি। সাধারণত স্বাভাবিক প্রস্রাবেও অল্প সময়ের জন্য ফেনা দেখা যায়। যদি ফেনা বারবার হয় এবং অনেকক্ষণ স্থায়ী হয়, তা কিডনি রোগের সংকেত হিসেবে ধরা যায়।
সাধারণ কারণ
• দ্রুত বা জোরে প্রস্রাব বের হলে পানিতে বাতাস মিশে ফেনা তৈরি হয়, যা অল্প সময়েই মিলিয়ে যায়। • সারা রাত জমে থাকা প্রস্রাব নিঃসরণের পর সামান্য ফেনা দেখা দিতে পারে। • শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়। ঘন প্রস্রাব হলে ফেনা দেখা দিতে পারে। • টয়লেটে জমে থাকা সাবান বা ডিটারজেন্টের ফলেও ফেনা তৈরি হতে পারে।
প্রধান রোগজনিত কারণ
• প্রস্রাবে ফেনার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো প্রোটিন বের হওয়া। কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাব বের করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে রাখে। কোনো কারণে কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে। আর এ প্রোটিনের কারণে প্রস্রাব ঘন, সাবানের মতো ফেনা তৈরি হয়– যা কিডনি রোগের প্রধান কারণ। • কিডনির ছাঁকনিতে প্রদাহ হলেও ফেনা তৈরি হয়। কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হয় এবং শরীর ফুলে যায়। • নেফ্রোটিক সিনড্রোম রোগের কারণেও প্রস্রাবে ফেনা হয়। • প্রস্রাবের প্রদাহের ফলে ফেনা, দুর্গন্ধময় প্রস্রাব, জ্বালা ও জ্বর দেখা দিতে পারে। • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালি নষ্ট করে। শুরুতে লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে ফেনা ও প্রোটিন দেখা দেয়। আমাদের দেশে কিডনি বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে ধরা হয়। • উচ্চ রক্তচাপ নীরবে কিডনির রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা কমে যায়। প্রস্রাবে প্রোটিন বের হয় এবং ফেনা দেখা দেয়। • পুরুষদের ক্ষেত্রে রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন বা বীর্যজনিত সমস্যার কারণে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়।
কখন ঝুঁকিপূর্ণ?
প্রস্রাবে প্রতিদিন ফেনা হয়, সাদা, ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। চোখ, মুখ, পা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি। খাবারে অরুচি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া কমানো। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা। নিয়মিত ব্যায়াম করা। প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ চেপে না রাখা। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত চিকিৎসা করানো। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং শরীর হঠাৎ ফুলে গেলে, প্রস্রাব বন্ধ হলে, ফেনার সঙ্গে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হলে ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে ফেনা দেখা দিলে অতিদ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
বিড়াল কামড় দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
বিড়ালের কামড় বিপজ্জনক এবং এতে ত্বকের গভীরে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। যেহেতু বিড়ালের দাঁত খুব ধারালো ও সূক্ষ্ম, তাই এগুলো সুচের মতো কাজ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। অর্ধেকেরও বেশি বিড়ালের কামড়ে সংক্রমণ হয়।
তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার পদক্ষেপ
১. ভালোভাবে ধুয়ে নিন: উষ্ণ, চলমান জলের নিচে মৃদু সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি কমপক্ষে ৫ মিনিট ধরে ধুয়ে ফেলুন। ২. রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করুন: একটি পরিষ্কার, শুকনো কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে সরাসরি ও দৃঢ়ভাবে চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধে পদক্ষেপ নিন। ৩. ব্যান্ডেজ: সম্ভব হলে একটি জীবাণুমুক্ত ও আঠালো নয় এমন ড্রেসিং দিয়ে ক্ষতস্থানটি ঢেকে দিন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিড়ালের কামড়ের জন্য গভীর টিস্যু বা জয়েন্টের সংক্রমণ রোধ করতে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জোরালোভাবে বাঞ্ছনীয়– ১. কামড়ে চামড়া ছিঁড়ে গেছে (ছিদ্রজনিত ক্ষত)। ২. কামড়টি হাত, পা, মুখ বা কোনো অস্থিসন্ধির কাছাকাছি হলে । ৩. কামড়টি একটি ভবঘুরে বা বন্য বিড়ালের। ৪. আপনি গত ৫-১০ বছরে টিটেনাসের টিকা নেননি। ৫. বিড়ালটি আক্রমণাত্মক আচরণ করছিল অথবা জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখাচ্ছিল (যেমন- মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া, বিনা উসকানিতে আক্রমণ)।
সংক্রমণের সতর্কীকরণ লক্ষণ
পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কামড়ের স্থানে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন– ১. ক্ষতের চারপাশে লালচে ভাব, ফোলা ভাব বা উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া। ২. কামড়ের স্থান থেকে পুঁজ বা তরল বের হওয়া। ৩. কামড়ের স্থান থেকে লাল দাগগুলো বাইরের দিকে চলে যাওয়া। ৪. জ্বর বা শরীরে ব্যথা।
প্রতিরোধ
বিড়ালের কামড় প্রতিরোধ করা যায়– ১. বিড়াল থেকে দূরে থাকা। ২. শিশুদের বিড়াল অথবা অন্য পশু থেকে দূরে রাখা। ৩. অপরিচিত বিড়ালকে সাবধানতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা। ৪.পরিচিত বিড়ালকেও সাবধানতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা। ৫. বিড়াল এবং বিড়ালছানার সঙ্গে খুব এলোমেলোভাবে খেলা না করা।
শ্বেতী রোগ বা ধবল রোগ হলো ত্বকের একটি অটোইমিউন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা।
আজ ২৫ জুন বিশ্ব শ্বেতী দিবস। বিশ্বজুড়ে এ দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্বেতী বা ভিটিলিগো সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং সঠিক চিকিৎসা বিষয়ে মানুষকে অবহিত করা। শ্বেতী একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ, যেখানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ বা ছোপ দেখা যায়। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না। তবু অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ভুল ধারণার কারণে অনেক রোগী সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হন এবং মানসিক কষ্টে ভোগেন। এই রোগে ত্বকের রং তৈরিকারী মেলানোসাইট কোষ ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে মেলানিন উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ ধীরে ধীরে সাদা হয়ে যায়।
শ্বেতী রোগ কী?
শ্বেতী রোগ বা ধবল রোগ হলো ত্বকের একটি অটোইমিউন সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের মেলানোসাইট কোষকে আক্রমণ করে। এই কোষগুলো ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বকের কিছু অংশ রং হারিয়ে ফেলে। শ্বেতী সাধারণত যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে ১০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিসংখ্যান
বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা যায়, শ্বেতী রোগ তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ত্বকের সমস্যা। আনুমানিকভাবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৩ থেকে ০.৭ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত। এ রোগে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় সমান। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০-১৮ বছর বয়সে শুরু হওয়ার প্রবণতা বেশি।
বৈশ্বিক তথ্য • বিশ্বে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষ শ্বেতী রোগে আক্রান্ত • সব বর্ণ, জাতি ও অঞ্চলে রোগটি দেখা যায় • দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক হার কিছুটা বেশি
শ্বেতী রোগের কারণ
শ্বেতীর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে– • অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া (শরীর নিজের কোষকে আক্রমণ করে) • বংশগত বা জিনগত প্রভাব • দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ • ত্বকে আঘাত বা ঘর্ষণ • কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শ • থাইরয়েডসহ অন্যান্য অটোইমিউন রোগ
শ্বেতী প্রাণঘাতী রোগ নয়।
লক্ষণ ও উপসর্গ
শ্বেতীর প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকে দুধ-সাদা দাগ দেখা দেওয়া। সাধারণত মুখ, ঠোঁট, চোখের চারপাশে দাগ থাকে। পাশাপাশি হাত, আঙুল, কনুই, হাঁটু ও পায়েও ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যান্য লক্ষণ
দাগ ধীরে ধীরে বড় হওয়া, নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়া, চুল, ভ্রু বা দাড়ি সাদা হয়ে যাওয়া। এসব দাগে সাধারণত ব্যথা বা চুলকানি থাকে না।
শ্বেতী রোগের প্রকারভেদ
১. ফোকাল ভিটিলিগো: শরীরের এক বা কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ দাগ। ২. সেগমেন্টাল ভিটিলিগো: শরীরের একপাশে বা নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে। ৩. অ্যাক্রোফেসিয়াল ভিটিলিগো: হাত-পা, আঙুল, ঠোঁট ও মুখে বেশি দেখা যায়। ৪. ভিটিলিগো ভালগারিস: সবচেয়ে সাধারণ ধরন, শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ৫. ইউনিভার্সাল ভিটিলিগো: বিরল ধরনের, যেখানে শরীরের অধিকাংশ ত্বক রং হারায়।
রোগ নির্ণয়
শ্বেতী নির্ণয়ে সাধারণত ত্বকের পর্যবেক্ষণ, উডস ল্যাম্প পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষা (থাইরয়েডসহ) করা হয়। প্রয়োজনে বায়োপসি করা হতে পারে।
জটিলতা
শ্বেতী প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া। এ ছাড়া মানসিক চাপ ও হতাশা, সামাজিক সংকোচ, সূর্যের আলোয় ত্বক সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যান্য অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
ঘরোয়া ও দৈনন্দিন করণীয়
• সানস্ক্রিন ব্যবহার করা • অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা • ত্বককে আঘাত থেকে রক্ষা করা • সুষম খাদ্য গ্রহণ • পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক শান্তি বজায় রাখা • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ ব্যবহার না করা
সামাজিক সচেতনতা
শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং এটি কুষ্ঠ রোগও নয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবহেলা করা বা আলাদা করে দেখা উচিত নয়। সচেতনতা, মানবিক আচরণ এবং সঠিক তথ্য রোগীর জীবনকে সহজ করে। পরিশেষে বলা যায়, শ্বেতী একটি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগ হলেও প্রাণঘাতী কোনো রোগ নয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, সচেতনতা এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর মালেকপাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) ও সাতক্ষীরা এসডি হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
এই মানবিক কর্মসূচির মিডিয়া পার্টনার দৈনিক খবরের কাগজ।
দিনব্যাপী পরিচালিত এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে নারী-শিশুসহ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের পাশাপাশি পুষ্টি পরামর্শ দেওয়া হয়।
ক্যাম্পে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন সাতক্ষীরা এসডি হাসপাতালের আরএমও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপন কুমার।
বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ অভিঘাতে এসব নিম্ন আয়ের মানুষ গ্রাম থেকে সবকিছু হারিয়ে শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। শহরে এসেও তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নগরের নানা সংকটের মধ্যে তাপপ্রবাহ বস্তিবাসী মানুষের জীবন এবং জীবিকাতে ভীষণভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। একই সঙ্গে এই তাপপ্রবাহের কারণে তারা নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তারা দরিদ্র থেকে দারিদ্র্যের প্রান্তসীমায় পৌঁছে যাচ্ছেন। এই সংকটের মুহূর্তে ‘খবরের কাগজ’ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে এগিয়ে আসায় এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আনোয়ারা খাতুন বলেন, আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। তারা ঠিকমত ডাক্তার দেখাতে পারেন না। বিশেষ করে মহিলারা রোগাক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে ডাক্তার দেখান না। আয়োজকদের এই উদ্যোগ আমাদের অনেক উপকারে আসবে।
ক্যাম্প পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা করেন এসডি হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম, বারসিকের যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের ফরিদ গাজী, সদস্য রাফিদ রাহী, মাসুদ হাসান প্রমুখ।
রসুনে অ্যালিসিন, ডায়ালাইল ডিসালফাইড ও এস-অ্যালাইল সিস্টেইনের মতো যৌগ রয়েছে।
রসুন শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে থাকা সালফারজাতীয় যৌগ, বিশেষ করে অ্যালিসিন মানবদেহে নানা উপকারী প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে। আসুন দেখে নিই, রসুনের ১০টি উপকারিতা–
১. ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ রসুনে অ্যালিসিন, ডায়ালাইল ডিসালফাইড ও এস-অ্যালাইল সিস্টেইনের মতো যৌগ রয়েছে, যা শরীরে নানা ইতিবাচক জৈবিক প্রভাব সৃষ্টি করে।
২. পুষ্টিকর কিন্তু কম ক্যালরিযুক্ত এক কোয়া রসুনে খুব কম ক্যালরি থাকলেও এতে ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম ও খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের নির্যাস সর্দি-কাশি ও ফ্লুর উপসর্গের তীব্রতা কমাতে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক রসুন রক্তনালি শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ সহজ করতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমতে পারে।
৫. কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে নিয়মিত রসুন খাওয়া এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
৬. মস্তিষ্ক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
৭. দীর্ঘায়ুতে সহায়তা করতে পারে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে রসুন মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
৮. শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে পারে প্রাচীনকাল থেকেই ক্লান্তি কমাতে রসুন ব্যবহৃত হতো। কিছু গবেষণায় এটি ব্যায়ামজনিত চাপ ও পেশির ক্ষতি কমাতে সহায়ক বলে দেখা গেছে।
৯. ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে রসুনে থাকা সালফার যৌগ শরীর থেকে সিসার মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু অপসারণে সহায়তা করতে পারে।
১০. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে রসুন অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে হাড়ের ক্ষয় ও অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করতে পারে।