হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি ভালোভাবে কাজ করছে কি না, তা বুঝতে গেলে শরীরের কিছু লক্ষণ খেয়াল করা দরকার। নিচে হৃদপিণ্ড ভালো থাকার ১০টি লক্ষণ তুলে ধরা হলো—
শ্বাসকষ্ট না হওয়া
স্বাভাবিক হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা হালকা ব্যায়াম করার পর যদি অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট না হয়, তবে বুঝতে হবে হৃদপিণ্ড রক্ত ও অক্সিজেন সঠিকভাবে সারা শরীরে পৌঁছে দিচ্ছে।
সহজে ক্লান্ত না হওয়া
হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকলে দৈনন্দিন কাজ যেমন হাঁটা, বাজার করা বা গৃহস্থালি কাজ করার সময় দ্রুত ক্লান্তি আসে না। অতিরিক্ত ক্লান্তি হৃদরোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
বুকের ব্যথা না থাকা
হৃদপিণ্ড ভালো থাকলে বুকের মধ্যে হঠাৎ চাপ, ভারী লাগা বা জ্বালাপোড়া হয় না। এসব হলে হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহে সমস্যা থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।
রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকা
স্বাভাবিক রক্তচাপ (প্রায় ১২০/৮০ mmHg এর আশেপাশে) হৃদপিণ্ডের সুস্থতার অন্যতম লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপ বেশি বা কম থাকা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন না থাকা
হৃদস্পন্দন যদি সবসময় নিয়মিত হয় এবং অতিরিক্ত দ্রুত বা ধীর না হয়, তবে এটি হৃদপিণ্ড ভালো থাকার ইঙ্গিত দেয়। অনিয়মিত স্পন্দন (arrhythmia) হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।
শরীরে ফোলা না থাকা
সুস্থ হৃদপিণ্ড শরীরের রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে বজায় রাখে। ফলে হাত-পা, গোড়ালি বা চোখের নিচে অস্বাভাবিক পানি জমে ফোলা দেখা দেয় না।
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান না হওয়া
হৃদপিণ্ড যদি ভালোভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে, তবে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ঠিকভাবে পৌঁছায়। এতে হঠাৎ মাথা ঘোরা, ঝিমুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা হয় না।
স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা
সুস্থ হৃদপিণ্ডের মানুষ হাঁটা, দৌড়ানো, খেলাধুলা বা সাইকেল চালানোর মতো কাজে সহজেই অংশ নিতে পারে। ব্যায়াম সহ্যশক্তি হৃদপিণ্ড ভালো থাকার প্রমাণ।
ঠান্ডা ঘাম না হওয়া
অকারণে ঘাম, বিশেষ করে ঠান্ডা ঘাম, অনেক সময় হৃদরোগের লক্ষণ। কিন্তু যদি এ ধরনের সমস্যা না থাকে, তবে বুঝতে হবে হৃদপিণ্ড ঠিক আছে।
ঘুম স্বাভাবিক থাকা
হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকলে ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অতিরিক্ত নাক ডাকার মতো সমস্যা দেখা দেয় না। আর ভালো ঘুম মানে হৃদপিণ্ডও ভালো কাজ করছে।
সূত্র: হেলথ লাইন
