ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্ব সংগীত দিবসে প্রকাশিত হলো নজরুলের গান ‘বরষা ঋতু এলো এলো’ সৌদিতে শুটিংয়ের মাঝেই হলিউড অভিনেতার ইসলাম গ্রহণ দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন সিনেটে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প মেসিকে নিয়ে প্রশ্নে নাখোশ রোনালদো, আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে দিলেন বার্তা নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার শেরপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির টহল ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ইজিবাইকের যাত্রীর অপেক্ষা ফুরোচ্ছে নেইমারের নোয়াখালীতে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ বন্ধু নিহত সংসদীয় কমিটি গঠনে বিলম্ব নজরদারি প্রশ্নবিদ্ধ নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গ্রুপ এল: যেভাবে নকআউটে যেতে পারে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়া নকআউটের টিকিট পেতে কার সমীকরণ কেমন? পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে রপ্তানি বাড়বে ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় স্কটল্যান্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড পাবনায় ১৩ মাসে ৫৯ খুন, ৭১ ধর্ষণ নদীবন্দরে সতর্কতা, দেশের ১৬ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা সূচকের উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে ইমাম বদলে গেল গ্রুপ পর্বের টাইব্রেকার নিয়ম! ভাগ্য নির্ধারণ হবে যেভাবে মেম্বার থেকে এমপি, রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শোনালেন আবদুল গফুর বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: এক চেয়ারে নজর ৭ নেতার বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিতে চিঠি টানা জয়েও মেক্সিকোর পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট কোচ আগুয়েরে যুদ্ধের পর প্রথম বিদেশ সফরে পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট সিন্ডিকেটের কবলে চট্টগ্রাম বন্দর: প্রতিযোগিতা রুখতে সুপরিকল্পিত ‘খেলা’ ২৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৮তম জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৪২ এএম
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৮তম জন্মদিন আজ
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৮তম জন্মদিন আজ মঙ্গলবার। ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের অংশ ছিলেন তিনি।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রিধারী এই শিক্ষাবিদ গবেষণা করেছেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়েও। গবেষণা গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি অনুবাদ ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে কাজের জন্য ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পেয়েছেন তিনি।

শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে ভারত সরকার তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করে। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে। ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস
ময়মনসিংহ শহরের জুবিলী রোড এলাকায় অবস্থিত প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’/ খবরের কাগজ

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক ভবন ‘গৌরীপুর লজ’। একসময় এটি ছিল জমিদারি ঐতিহ্য, শাস্ত্রীয় সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক আভিজাত্যের কেন্দ্র। তবে ময়মনসিংহের জুবিলী রোড এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি আর আগের মতো নেই। এটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব ও ভবনটির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় ইতিহাস গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

দুই তলাবিশিষ্ট গৌরীপুর লজ নির্মিত হয়েছে কাঠ ও ঢেউটিন দিয়ে। এর কাঠের দেয়াল, দরজা-জানালা, চীনা কারিগরদের নির্মাণশৈলীর ছাপ, পাথর বসানো মেঝে, মজবুত স্তম্ভ ও বারান্দার নান্দনিক খিলান ভবনটির স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যকে আজও স্বতন্ত্র করে রেখেছে। সময়ের নানা ঝড়ঝাপটা পেরিয়েও ভবনটি তার অতীত গৌরবের স্মৃতি বহন করছে।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৮২৮ সালে গৌরীপুর জমিদার পরিবারের সদস্য ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী এই ভবনটি তৈরি করেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের জমিদারি ইতিহাসের সঙ্গে এই ভবনটির নাম জড়িয়ে আছে গভীরভাবে। দীর্ঘদিন এটি ছিল এই এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র।

দেশ ভাগের পর ১৯৪৭ সালে এই ভবনে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের শাখা কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত ব্যাংকটির কার্যক্রম সেখানেই চলত। স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ভবনটিতে সোনালী ব্যাংকের শাখার কার্যক্রম চলেছে। পরে ব্যাংক নতুন ভবনে চলে গেলে গৌরীপুর লজ একরকম পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভবনটির নিচতলার কয়েকটি ঘর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর দোতলার পাঁচটি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে।

ঐতিহ্যবাহী এই  স্থাপনার এমন ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী আলী ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘গৌরীপুর লজ এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটিকে গেস্ট হাউস ও রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়, এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণও। এতে ভবনের ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।’

আলী ইউসুফের অভিযোগ, দেশ-বিদেশের গবেষক ও দর্শনার্থীরা এসেও অনেক সময় এই ভবনে ঢোকার সুযোগ পান না। তিনি দাবি জানান, ব্যাংক কর্মকর্তাদের থাকার জন্য অন্য ব্যবস্থা করে গৌরীপুর লজ যেন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রত্নতত্ত্ব অনুরাগী সজল কোরাইশী জানান, ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন বড় পৃষ্ঠপোষক। ওই সময়ে তার উদ্যোগে গৌরীপুর লজে নিয়মিত গানের আসর বসত। আসরে উপমহাদেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ওস্তাদ এনায়েত খান, ওস্তাদ মোহাম্মদ আলী খান, ওস্তাদ ওয়াজির খান, ওস্তাদ হাফিজ আলী খান এবং ওস্তাদ মোহাম্মদ দবির খানসহ আরও অনেকে।

স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরাও এখন লজটি সংরক্ষণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্যসচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে গৌরীপুর লজ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ইতিহাসের এক মূল্যবান অংশ। ভবনটিকে গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার বন্ধের দাবিতে গত ৯ জুন সোনালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি টিকিয়ে রাখা খুব দরকার।

তবে সোনালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন এই সমালোচনা মানতে নারাজ। তার দাবি–গৌরীপুর লজ ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তি এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চেয়েও ব্যাংক এটি ভালো দেখভাল করছে। গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ভবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, গৌরীপুর লজ এখনো অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা নয়। তবে চলতি বছরের জরিপ প্রতিবেদনে ভবনটির নাম অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, গৌরীপুর লজ আমাদের অতীত গৌরবের স্মৃতি ধরে রেখেছে। ভবনটির স্বার্থে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: খবরের কাগজ

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড. নীলিমা ইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী নীলিমা ইব্রাহিম আমৃত্যু মানবকল্যাণে নিবেদিত ছিলেন। তার জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্মে উদার মানবিকতাবোধের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, একুশে পদকসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাটের ফকিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন নীলিমা ইব্রাহিম। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী নীলিমা ইব্রাহিম ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির অবৈতনিক মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

সাহিত্যচর্চায় তিনি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ, উপন্যাস, নাটক ও অনুবাদকর্মে অবদান রেখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ–‘ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক’, ‘বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা’; উপন্যাস: ‘বিশ শতকের মেয়ে’ এবং বহুল আলোচিত কথানাট্য ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’।

শিক্ষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি নারী উন্নয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। 

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম কচ্ছপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং এর সংরক্ষণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’। বিশ্বজুড়ে কচ্ছপ ও তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

সরীসৃপ শ্রেণির উভচর প্রাণী কচ্ছপ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জীব হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই প্রাণীর আয়ু মানুষের চেয়েও বেশি। তবে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির কচ্ছপ। নদী, খাল-বিল, ডোবা, গভীর সমুদ্র, মাটির গর্ত, গাছের গুড়ি কিংবা বালুময় স্থানে এদের বসবাস। একসময় দেশের নদী-নালা, পুকুর-ডোবা ও গ্রামীণ পরিবেশে সহজেই কচ্ছপ দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও জলাশয় ভরাট, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পানি দূষণ, খাদ্যাভাব এবং মানুষের নির্বিচার আক্রমণের কারণে কচ্ছপ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে প্রায় একশ’ প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কচ্ছপ সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম পাড়ার পর সেগুলো মাটি, বালি বা জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে রেখে যায়। এরপর ডিমগুলো প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল থাকে। প্রজাতিভেদে ৬০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

দীর্ঘায়ুর জন্যও কচ্ছপ বিশেষভাবে পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের নাম ‘জোনাথন’। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯০ বছর বলে ধারণা করা হয়। সত্য হলে এটি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু জীবিত প্রাণীদের অন্যতম।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/

গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (আর কে হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরীপুরের ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ১৫৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

এসিক অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি, ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে ছিল, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) কেক কাটা হয়। এরপর বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় ধানমহালে ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক খায়রুল আলম তুহিন, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এর সহসভাপতি ও এসিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সদস্য হিউবার্ড চক্রবর্তী, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিলসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা।

সমাপনী বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, গবেষক ও  ইতিহাস সন্ধানী মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার। 

আলোচনা সভায় গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কর্মময় জীবন, গৌরীপুরে উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা, ১৯১২-১৮ সালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি গঠনে তার অবদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অবদান তুলে ধরা হয়।

অমিয়/